Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2018

Let's Go অজন্তা ইলোরা - ষষ্ট পর্ব

Let's Go অজন্তা ইলোরা পর্ব ৬ কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর ভোদলু দা'র অবস্থা কাহিল। একে সারাদিনে প্রায় না খেয়ে থাকা। সম্বল বলতে বোতলে জল তাও প্রায় শেষ। তাই কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর ভোদলু দা চেঁচিয়ে বলতে থাকল "জল দাও, জল দাও কে কোথায় আছো, আমায় একটু জল দাও।" আশেপাশের লোকজন ভোদলু দা'র এরকম পাগলের মতো চেঁচানো দেখে যারপরনাই বিরক্ত ও একটু অবাক হল। ভাবল এ ভদ্রলোকটা এরকম কেন করছে। ও কি গরমে পাগল হয়ে গেল। সবচেয়ে হতবাক হয়ে গেল যাদব এবং উজ্জ্বল। ওরা হঠাৎ করে দৌড়ানও বন্ধ করে দিল। মনে মনে ভাবল এ এ তো শালা হেবি সেয়ানা পাগল। যাতে আমরা গিয়ে ওকে না ধরতে পারি সেই জন্য নাটকবাজি শুরু করেছে। যাদব তখন দূর থেকে চেঁচিয়ে ভোদলু দা'কে বলল - "এই যে শুধু জল নয়, আমাদের কাছে ফলটলও আছে। খাবে তো জলদী এস না হলে এ যাত্রায় তুমি বি এ ডি বাদ হয়ে যাবে।" -"আপ লোগ যাইয়ে যাইয়ে, ম্যায় বিলকুল ঠিক হু" বলতে বলতে ভোদলু দা সুড় সুড় করে যাদব এবং উজ্জ্বলের দিকে হাঁটা লাগাল। যাদব বিড়বিড় করে উজ্জ্বলকে বলল "একদম দাঁড়াবে না। ব্যাটা আমাদের ভেল্কি দেখাল এবার আমরাও একটু ভেল্কি দেখাই। ওই দেখ ওই গুহাটা...

Let's Go অজন্তা ইলোরা......পঞ্চম পর্ব

Let's Go অজন্তা ইলোরা...... ..... পর্ব ৫ অক্টোবর মাসে রোদ বেশ ঝলমলে এবং প্রখর। তাই বাইরেটা বেশ গরম। কিন্তু গুহার ভেতরে বেশ ঠাণ্ডা। ওরা তিনজনে একে একে পরের পর গুহাগুলো দেখতে লাগল। কোনও কোনও লোককে দেখা গেল ভারী আগ্রহের সঙ্গে তারা গুহার বারান্দার থাম, সিলিং ইত্যাদি দেখছে ও খাতায় কি সব যেন নোট করে নিচ্ছে। কিছু কিছু গুহার মধ্যে অন্ধকার ভাবটা খুব বেশি। খালি চোখে কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। তাই ওরা তিনজনে মোবাইলের আলো জ্বেলে গুহার মধ্যে প্রবেশ করল। গুহার মেঝে খুব মসৃণ। আর ভেতরটা বেশ একটা বড় হল ঘরের মত লাগছে। গুহার প্রবেশ পথ থেকে সরাসরি একটা প্রকাণ্ড বুদ্ধমূর্তি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া চারপাশের চারদেওয়ালের মধ্যেও অত্যন্ত সুনিপুণভাবে আরও কিছু মূর্তি, পাথর কেটে কেটে বা দেওয়ালের গায়ে খোদাই করে বানানো হয়েছে। হাজার হাজার বছর আগের আর্ট বা শিল্প এখনকার তুলনায় যে অনেক উচ্চতায় এগিয়ে ছিল তা বলাইবাহুল্য। এছাড়া গুহার ভেতরের ছাদের উচ্চতা অনেক। এখনকার একজন গড় উচ্চতার মানুষের মত চারপাঁচজন মানুষের উচ্চতার সমান হয়ত হবে গুহার ভেতরের ছাদ। গুহার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কথা মাথায় রেখে গুহার সামনের প্রবেশ দ্বার...

Let's Go অজন্তা ইলোরা...........চতুর্থ পর্ব

জলগাঁও স্টেশনটি বেশ বড়সড়ই। বেলা সাড়ে নটা নাগাদ ওরা তিনজনে যখন ষ্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়াল তখন সেখানে জনঅরণ্যের আধিক্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুটা এগোলে সারি সারি দোকান, হোটেল, রিক্সা ও অটোস্ট্যান্ড। ষ্টেশনের ঠিক পাশেই বি আর আম্বেদকারের মূর্তি। তার ঠিক সামনের খালি জায়গাটায় বোধহয় কোন রাজনৈতিক দলের মিছিল জড়ো হয়ে আছে। সকাল বেলাতেই রোদের তেজ বেশ প্রখর। তিনজনের মধ্যে উজ্জ্বল এবং ভোদলু দা'র ব্যাগগুলো বেশ লম্বা লম্বা। আয়তনে বেশ খানিকটা বড়। ওই ট্রেকিংএর রুকস্যাক ব্যাগগুলো যেমন হয় আর কি। সেই ব্যাগ নিয়ে ভোদলু দা গরমের মধ্যে হাঁস ফাঁস করতে করতে একটি চায়ের দোকানে এসে বসল। উজ্জ্বল এবং যাদব চা সহযোগে মহারাষ্ট্রের পুরি অর্থাৎ লুচির অর্ডার দিল। লুচি ও আলুর তরকারি খেয়ে ভোদলু দা'র জিভের দফারফা। গলা,বুক ও পেট তিনটেই একদম জ্বলছে। ভোদলু দা উঃ আঃ করতে করতে নিজের সুপুষ্ট গোলগাল ভুঁড়িটিতে হাত বোলাতে লাগল। মহারাষ্ট্রের খাবারগুলোর মধ্যে অত্যধিক শুকনো লঙ্কার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তা সে পুরিসব্জি, পাওভাজি বা চাট যাই হোক না কেন। খাওয়া দাওয়া সাঙ্গ হবার পর একটি অটোয় করে সোজা বাস স্ট্যান্ড। জলগাঁও থেকে ঔরঙ্...

সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন

সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ‘জাদু কি ঝাপ্পি, আল ইজ ওয়েল, গেট ওয়েল সুন এবং রাঙ নাম্বার’। মনে থাকারই কথা। কে ভুলতে পারে মুন্নাভাই এম বি বি এস, থ্রি ইডিয়টস, লগে রহো মুন্নাভাই এবং পিকে সিনেমার কথা। ঠিক সেরকমই এবারের মুভি ‘সঞ্জু’ তে ‘ঘপাঘপ’। এই ঘপাঘপ কি জিনিস সেটা না হয় সিনেমা দেখে বুঝে নেবেন। বাজারে সঞ্জুবাবা রমরমিয়ে চলছে। পরিচালক রাজু হিরানি ও চিত্রনাট্যকার অভিজাত জোশির নেতৃত্বে সঞ্জয় দত্ত’র বাওপিক ‘সঞ্জু’ প্রায় প্রত্যেকেরই মনে দাগ কেটেছে এমনই মনে করা হচ্ছে সিনেমহল থেকে। সম্প্রতি আমিও ছবিটি দেখলাম। ছবিটির দুটো দিক মূলত আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেটা নিয়েই আমার এই প্রতিবেদন ‘সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন’। এবার প্রশ্নচিহ্নগুলো কোথায়, কিভাবে বসবে সেটা আলোচনার আগে হিরানিবাবুর সম্পর্কে বরং কিছু বলি। রাজকুমার হিরানি হলেন এই ছবির জাদুকর। ওনার হাতে একটি অদৃশ্য জাদুকাঠি রয়েছে যা দিয়ে উনি দর্শকদের মগজধোলাই করে গেলেন পুরো ছবিতে। এ ছবির প্রথম চমক সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে রণবীর কাপুর। অসামান্য অভিনয় করেছেন রণবীর এই ছবিতে। দর্শকের মনে অনেকদিন পর্যন্ত জায়গা করে থাকবেন এই অভ...

Let's Go অজন্তা ইলোরা - তৃতীয় পর্ব

Let's Go অজন্তা ইলোরা পর্ব ৩ সাঁ সাঁ করে চলছে ব্ল্যাক স্করপিওটা। ফুরফুরে মেজাজ এখন তিনজনের। ভোদলু দা গুনগুন করে গান শুরু করেছে ড্রাইভারের পাশের সিটটায় বসে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি চলছে। তাই সেই বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় ভোদলু দা গেয়ে চলেছেন ----- "আজি ঝড় ঝড় মুখর বাদর দিনে জানিনে জানিনে, কিছুতে কেন যে মন লাগেনা"------ পিছন সিট থেকে উজ্জ্বল বলে উঠল "লাগবে দাদা, আর কয়েকদিন পর যখন বৌদিকে নিয়ে এখানে এসে থাকবে, তখন বেশ ভাল লাগবে। সব কিছুতেই মন লাগবে।" উজ্জ্বলের পাশের সিটে বসা যাদব পাশ থেকে বেশ সুর করে বলে উঠল-"ভালোই আছ হ্যাঁ, চাকুম চুকুম করে চিকেনের পিস খাচ্ছ, বৃষ্টির মধ্যে গাড়িতে বসে গুনগুন করে গান গাইছ, আমরা আর কি করি বল উজ্জ্বল, আমাদের তো কেউ নাআআআআইই।" সেই মুহূর্তে ভোদলু দা বলে উঠলেন - "শুধু আমি ভালো আছি না, তোমরাও ভাল আছ। সত্যি কথা বলতে সময়টা ভালো যাচ্ছে, নইলে কেউ আমাদের মতো মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটা ডিসিশন নিয়ে এতবড়ো একটা ট্রিপের উদ্দ্যেশে বেরোতে পারে।" কথাগুলো ভোদলু দা ঠিকই বলেছিলেন। সেদিন হঠাৎ করেই কারেন্ট reservation-এ উজ্জ্বল তিন...