Skip to main content

Posts

Showing posts from 2018

বেনীমাধব

বেনীমাধব – কেবলমাত্র প্রাপ্তমনস্কদের জন্য। হঠাৎ করেই মাঝরাত্রে ফোনটা আসে অপুর কাছে। নার্সিংহোম থেকে। হন্তদন্ত হয়ে কোনোরকমে একটা বন্ধুর বাইক জোগাড় করে নার্সিং হোমে পৌঁছায় অপু। রাত দেড়টা। নার্সিং হোমে ছোট্ট রিসেপ্সন কাম ভিজিটরস রুমে লোকজন এখন অনেকটাই কম। রিসেপ্সনে পেশেন্টের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবার জন্য অপু জাস্ট একটু এগিয়েছে এমন সময় ওদের চারজনকে দেখল ও। হ্যাঁ মুখগুলো চেনা চেনা লাগছে অপুর। ওরা এক এক করে অপুর দিকে এগিয়ে এল। এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম তন্ময়। তন্ময়ই পুরো ঘটনাটা অপুকে বুঝিয়ে বলল। রাত সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে কোনও এক সময়ে বেনীমাধব অত্যধিক পরিমাণে ড্রিংক করে মেসবাড়ির চারতলার ছাদে যায় ও সেখান থেকে নীচে পাশের বাগানটায় ঝাঁপ মারে। আত্মহত্যার চেষ্টা। মেসের বেশ কিছু ছেলে জেগে থাকায় ওরাই পাশের বাগানটায় দৌড়ে আসে ও বেনীমাধবকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পায়। তারপর তড়িঘড়ি করে কাছাকাছি এই নার্সিং হোমে ভর্তি করে ওকে। তন্ময় ছেলেটিই উদ্যোগ নিয়ে এই কাজগুলো করেছে। এছাড়া ফোন করে বেনীমাধবের বাড়ির লোকজন ও কাছাকাছি বন্ধুবান্ধবকে জানায় এই খবরটা। অপু জিজ্ঞাসা করে – “কাকু কাকিমাকে...

সম্বন্ধ

সম্বন্ধ আজ মেয়ের বাড়ির থেকে আসার কথা। রমিতের বিয়ের সমন্ধ চলছে অনেকদিন ধরেই। কোনওটাই ঠিক কার্যকরী হচ্ছে না। দেখা যাক আজ কি হয়। মেয়ের বাড়ি চুঁচুড়ায়। কোলকাতার কাছাকাছি এক মফঃস্বল শহরে। মেয়ের বাবা একবার এসে দেখে গিয়েছেন রমিতকে। পাত্র পছন্দ হয়েছে তার। তাই কাল ফোন করে জানালেন আবার সপরিবারে আসবেন আজ। সঙ্গে পাত্রীও আসতে চায়। বর্তমান সময়ের কথা ভেবে রমিত ও তার পরিবার পাত্রীকে আসার জন্য বরং স্বাগতমই জানায়। রমিতের বয়স বত্রিশ। হাইট পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বিগত ছয় বছর ধরে। নয় নয় করে প্রায় ন’বার পাত্রীপক্ষের সামনে বসেছে রমিত, কিন্তু কোনও সম্বন্ধই টেকে নি। না এতে রমিতের বা তার পরিবারের কোনও হাত নেই। একমাত্র দুটি পাত্রী ছাড়া বাকি সবকটি সম্বন্ধেই রমিতের মত ছিল। কিন্তু পাত্রীপক্ষই বরং রমিত ও তার পরিবারকে নাকচ করে দেয় প্রতিবার। রমিত কিন্তু দেখতে খারাপ নয়। বরং হ্যান্ডসামই বলা চলে। অন্তত ওর বন্ধুবান্ধবেরা সেরকমই বলে থাকে ওর সম্পর্কে। রমিত ফর্সা, চেহারা স্লিম না হলেও একটা না রোগা না মোটা ভাব আছে। অত্যধিক পুরুষালী বা পেটাই চেহারা বলতে যা বোঝায় রমিতের চেহারা সেরকম নয়, বর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মাংস পোলাউ

মাংস পোলাউ পোলাউ মাংস নাকি মাংস পোলাউ? কোনটা? কি নাম দেবেন এটাকে? আমার তো মাংস পোলাউ শব্দটা বেশ লাগল। আচ্ছা বেশ, এত ভণিতা করবার আর কোন দরকার নেই। একটা সিনেমা হয়েছিল ঋত্বিক চক্রবর্তীর। মাছের ঝোল। মনে আছে? আজ আমার সিনেমা। নামটা, ওই মাংস পোলাউই থাক। কি বলেন! গতকাল সিনেমাটার কাজ শেষ হয়েছে। আজ রিভিউ বেরোবে সিনেমার। তা সিনেমার কাস্ট অ্যান্ড ক্রু সম্মন্ধে একটু বলি। পরিচালনায় নন্দিনী সাহা চৌধুরী, আমার বউ। এক্সপার্ট ইন মাংস পোলাউ। সুদূর কোলকাতা থেকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে (কখনও ভিডিও ও কখনও অডিও)এই নির্দেশনার কাজটি সম্পন্ন করেছেন। অভিনয়ে আমি। আর নামটা বলার বোধহয় দরকার নেই। আমি শুধু অক্ষরে অক্ষরে তার কথা মত অভিনয়টা করে গেছি। উনি কখনও বলছেন – “অ্যাকশন, টকদইটা এবারে ভালো করে মাংসের সাথে মাখিয়ে ম্যারিনেট করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখো”। আবার কখনও বলছেন “মাংসের সাথে আলুগুলোকে এবার তাড়াতাড়ি নাড়াচাড়া করতে থাকো, দেখ যেন কড়াইয়ের গাঁয়ে লেগে না যায়”। এছাড়া অনান্য চরিত্রেঃ- ৩০০ গ্রাম চিকেন, চার হাতা সর্ষের তেল, হাফ চামচ গরম মশলা গুড়ো, হাফ চামচ শুকনো লঙ্কার গুড়ো, এক চামচ জিরে ও ধনে গুড়ো, এক চামচ নুন, এক...

#‘থাগস’ ইন তেলেঙ্গানা

#‘থাগস’ ইন তেলেঙ্গানা -       -পাবলিক যে কখন কি ভাবে আর বলে কে জানে! যতটা খারাপ বলল আর রিভিউ দিল এ সিনেমা তো ততটা খারাপ নয়। কি তোর কি মনে হয়? -     -     - আমি একটা কথা এখানে বলতে চাই। সেটা হল এটা ঠিক আমীর খান মার্কা সিনেমা নয়। আসলে মনে হচ্ছে দর্শকের এক্সপেকটেশন এই ছবিটা থেকে আরও বেশি ছিল। তাই হয়ত এরকম রি অ্যাকশন। অমিতাভ বচ্চন ও আমীর খান দুজনে এক ছবিতে কাজ করবে, আরও অনেক বেশি কিছু সোশ্যাল মেসেজ দেবে। এরকম কিছু হয়ত দর্শক ভেবে নিয়েছে।  -       -না এটা তো ঠিক নয়। আমীর কি সোশ্যাল মেসেজই দিয়ে যাবে নাকি সবসময়? একটা খুব সাধারণ মানের বাণিজ্যিক ছবি কি উনি দর্শকদের উপহার দিতে পারেন না? তাও ছবিটা যখন দিওয়ালী তে রিলিজ করছে। ভালো করে ছবিটা দেখলে বুঝবি যে এটা একটা ধামাকাদার ছবি। গোলা, গুলি, বারুদ, জলদস্যু ও মেইন যেটা জিনিস সেটা হল ঠগি। ইয়েস, থাগস। -      -তা ঠগিদের কথাই যখন উঠল তখন অরিজিনাল ঠগি আর দেখাল কতক্ষণের জন্য? ওই তো সেই লাল কাপড় ঘুরিয়ে পেছন দিক থেকে গলার মধ্যে ফাঁস দিয়ে খুন করবার দৃশ...

অদ্ভুতুড়ে অনুভূতি

দুদিন আগে ছিল ভূতচতুর্দশী। তা আমার এক বন্ধু বলছিল ভূত নিয়ে কিছু লেখালেখি করতে। সত্যি বলতে ভূত সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ কোনও অভিজ্ঞতা এ জীবনে এখনও ঘটেনি। কিন্তু সিকিম থ...