Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2018

স্মার্টফোন ব্যবহারের মূল্যায়ণ

স্মার্টফোন ব্যবহারের মূল্যায়ণ বাচ্চাদের জন্য স্মার্টফোন কতখানি যথোপযুক্ত? এরকম একটা প্রশ্ন এখন অনেক বাবা মায়ের মনেই ঘুরপাক খায়। আমার এক পিসিমণি ফেসবুকে আমার কিঞ্চিত লেখালেখি পড়বার পর আমাকে এ বিষয়ে কিছু লিখতে অনুরোধ করেছেন। বিষয়টা যথেষ্ট তর্কসাপেক্ষ। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাচ্চাদের দিক বা তাদের অভিভাবকদের দিক থেকে না ভেবে বর্তমান সময় ও বাচ্চা এবং তাদের অভিভাবকদের মানসিকতা নিয়েও ভাবা উচিত। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে আসে বাচ্চাটা কিরকম, তার বয়স কত, সে চৌবাচ্চা নাকি ইঁচড়ে পাকা, জেদি নাকি বুদ্ধিদীপ্ত? আরও আছে। যেমন, যে কোন বাচ্চা যে কিনা মুঠোফোন ব্যবহার করছে সেটা কি হিসাবে সে ব্যবহার করছে বা তাকে তার অভিভাবকেরা কি কি দেখবার জন্য ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। সেগুলো অবশ্যই লাখ টাকার প্রশ্ন বলে আমার মনে হয়। বিষয়ের গভীরে আসার আগে দুটো ঘটনা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই। বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকেতেই একটা ভোটিং দেখেছিলাম। সেখানে প্রশ্ন ছিল, বাচ্চারা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে কিনা। “হ্যাঁ” বা “না” উত্তরে সপক্ষে যুক্তি দেবার কথাও প্রকাশ করেছিলেন সেই পোস্টের মালিক। উত্তরে দেখেছিলাম আধুনিক অভিভাব...

Let's Go অজন্তা ইলোরা - দ্বিতীয় পর্ব

Let's Go অজন্তা ইলোরা  পর্ব ২ উজ্জ্বল একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আচ্ছা আপনি QA বোঝেন? বোঝেন না তো? QA মানে Quality Assurance. Construction সাইট গুলোতে গিয়ে কাজের গুনগত মানটা ঠিক আছে কিনা তার তদারকি করাটাই ওর কাজ। ওই কিছুটা Inspection করবার মত। এ তো গেল পেশা। কিন্তু নেশায় ভ্রমণবিলাসী। ঘুরতে যেতে খুব পছন্দ করে। তা এহেন ছেলের সঙ্গে ভোদলু দা যে ভিড়বে তা বলাইবাহুল্য। সাথে যদি হয় আবার পুরুলিয়ার গড়াই তাহলে তো ট্রিপের মজাই আলাদা। তাই সে যাত্রায় তিনজনের মাথায় একটাই ডায়লগ ঘুরপাক খেতে থাকল। "উঠল বাই তো কটক যাই"। ও যাদবের পরিচয়টা তো দেওয়াই হল না। যাদবও পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। একটু চুপি চাপে দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে। সেন্স অফ হিউমারটা এক কথায় অসাধারণ। মুখে সবসময় একটা মিটমিটে হাসি যেন লেগেই আছে। আর সর্বোপরি ওর সাথে ট্যুর করতে যাওয়া মানে ইতিহাস বই সঙ্গে করে যাওয়া। ভোদলুদার বেশ সুবিধাই হয়েছিল। অজন্তা ইলোরার গুহাগুলোতে ঢুকছে আর ইতিহাস বইটাকে একটু নেড়ে চেড়ে দেখছে। খুব বোর হচ্ছেন বলুন? ভাবছেন পরিচয় পর্বটা কি চলতেই থাকবে? যাত্রা টা কি শুরু হবে না? আলবাত হবে। বরং অলরেডি শুরু ...

Let's Go অজন্তা ইলোরা - প্রথম পর্ব

Let's Go অজন্তা ইলোরা - প্রথম পর্ব 'দাদা যাবে নাকি অজন্তা ইলোরা??' 'দাদা যাবে নাকি অজন্তা ইলোরা??' 'দাদা যাবে নাকি অজন্তা ইলোরা???' আজ অনেকদিন পর এই কথাটা ভোদলুদার মনে পড়তে লাগল। গতবছর অক্টোবর মাসে পুজোর সময় হঠাৎ করেই অজন্তা,ইলোরা,বিবি কা মকবরা, সিঁড়িডি সাঁই ইত্যাদি জায়গা ট্রিপ করবার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলো ও। কবে বেশ ছিল দিনটা? হ্যাঁ মনে পড়েছে। গত নবমীর বিকেল। বেলা চারটে পাঁচ দশ হবে। উজ্জ্বল হঠাৎ করেই অ্যাকাউন্টস অফিসে হাজির। হাল্কা হাতের ইশারায় ভোদলু দা কে ডেকে নিল বাইরে আর তারপরেই এই প্রস্তাবটা দিয়েছিল ও ভোদলু দা কে। ভোদলু দা করিৎকর্মা লোক। অফিসে খুব পাঞ্চুয়াল। এক construction কোম্পানিতে site accountant হিসাবে পোস্টেড আছেন। বর্তমানে তেলেঙ্গানায় থাকেন। এই বেলা ছোট্ট করে ওনার পরিচয়টা দিয়ে রাখি। সদা হাস্যময়। তবে সেটা ভেতরে ভেতরে। বাইরে থেকে লোকে মনে করে যে তিনি মানুষটা একটু গুরুগম্ভীর টাইপ। আদপে মোটেই তা নন। আসলে কাজের জায়গায় একটু গম্ভীর থাকবার অভিনয় তো কমবেশি সবাই করে থাকে। কল্পনাপ্রবণ। মাঝে মাঝে আকাশকুসুম কল্পনা মনের গভীরে চলতেই থাকে। আইডিওলজি তে ...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...

প্রসঙ্গ প্যাডম্যান - একটি আলোর দিশা

প্রসঙ্গ প্যাডম্যান তাহলে এভাবেও ফিরে আসা যায় ? আর শুধু ফিরে আসা নয় একেবারে দেশ শুদ্ধু মানুষের বিশেষত মহিলাদের হৃদয় জয় করে ফিরে আসা। ফিরে আসলেন প্যাডম্যান ওরফে লক্ষ্মী কান্ত চৌহান ওরফে আমাদের প্রিয় খিলাড়ী অক্ষয় কুমার। দারুণ খেল দেখিয়েছেন তিনি এই ছবিতে। না আমি কোনও কাঁটা ছেড়াতে বসছি না এই ছবিটাকে নিয়ে। সেসব কাজ সিনে বিশেষজ্ঞদের। আমি শুধু ছবিটার পজিটিভ দিকটা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একটা অসম্ভব লড়াইয়ের কথা বলতে চাই। যে লড়াই নিজের সাথে , নিজের পরিবারের সাথে , যে লড়াই আশেপাশের প্রতিবেশী তথা সমাজের সাথে , যে লড়াই নিজের দেশের সাথে , যে লড়াই কুসংস্কার , অন্ধবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণার সাথে। এমনই এক লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন ছবির মুখ্য চরিত্র লক্ষ্মী কান্ত চৌহান। মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করে লক্ষ্মী কান্ত এবং ওর স্ত্রী গায়ত্রী। সদ্য বিবাহিত। ঘরে বুড়ি মা এবং অনেকগুলো বোন রয়েছে লক্ষ্মীর। লক্ষ্মী একটি কারখানায় কাজ করে। অভাবের সংসার হলেও বর বউয়ের মধ্যে প্রেম ভালবাসা ও শান্তি বেশ ভালরকম বিরাজমান। এরকম এক সময়ে গায়ত্রী ঋতুমতী হয়। লক্ষ্মী দেখে গায়ত্রী কিছু অপরিষ্কার...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...