Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2019

কিছু স্মৃতিমেদুরতা

অনেককাল বাংলার বাইরে এক বাঙ্গালী। তার মনেরই কিছু সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ভাবনা আজ বয়ে চলবে এই পাতায়। কিছু না পাওয়া বেদনা বা শূন্যতা এখন বয়ে চলেছি অনেকদিন ধরে। বাংলার বাইরে বাঙালির সুখানুভুতির সাথে সাথে কিছু দুঃখানুভুতিও আছে। বাঙালি বন্ধু রয়েছে আশেপাশে, কিন্তু সেই চায়ের দোকানের বাঙালি আড্ডা! টানে মনটাকে ভীষণরকম। এক খুব সুন্দর সকাল। ফুরফুরে মিঠে হাওয়া সাথে সোনালী রোদ। দোকানী মাটির উনুনে হাওয়া করে যাচ্ছে ক্রমাগত। গরম ধোঁয়া আস্তে আস্তে মিলে যাচ্ছে রাস্তায়, শহরে, আকাশে, বাতাসে, আশেপাশের গলিতে, বাড়িতে। মনে পড়ে মিঠে সকালের রাস্তায় আঙ্গুলের সাথে আঙ্গুল ছুঁয়ে লম্বা হেঁটে চলা। দুধের দোকান। হরিণঘাটার দুধ, কার্ড দেখিয়ে সকাল সকাল ঘুম ঘুম চোখে নিয়ে আসা। কখনও পড়ন্ত বিকেলে আলতো কাঁধে হাত ও ঠোঁটে নিকোটিন। গরম পোড়া ভাঁড়ে চায়েতে আলতো চুমুক। চা, ঠোঁট, নিকোটিন সব যেন কেমন ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকত একসময়। আষাঢ় মাসের হঠাৎ আসা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক ছুটে বাড়ি ফিরে আসা পাশের পাড়ার ফুটবল মাঠটা থেকে। ‘ছাতা নিয়ে যাস না কেন’? এই বাক্য প্রায় বেদ বাক্য হয়ে যাওয়া জীবনে, যদিও ছাতা সঙ্গী হয়েই ছিল বেশ কিছুকাল। শ্যামবাজার,...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

‘কণ্ঠ’ নিয়ে শিবুদা’কে আমার এই চিঠি

শিবুদা এ কি ছবি দেখালে তুমি আমায়! কি বলব বা কি লিখব তোমায় ঠিক বুঝতে পারছি না। ‘কণ্ঠ’ দেখবার পর কণ্ঠরুদ্ধ মানে বাকরোধ হয়ে গেছে আমার। জানো এ ছবি দেখবার পর যখনই কেউ আমায় জিজ্ঞাসা করে যে কেমন আছো, আমি তার উত্তরে বলি ‘লড়ে যাচ্ছি’। প্রকৃতি ও ঈশ্বরের কৃপায় কোনরকম শারীরিক বা মানসিক বাধা আমার জীবনে নেই। তবুও জীবন যুদ্ধে মাঝে মাঝে যখনই মনে হয় এই বোধহয় হেরে গেলাম, আমার দ্বারা আর বোধহয় কিছু হবে না, তখনই তোমার অর্থাৎ অর্জুন মল্লিকের কথা মনে পড়ে। বাচিক শিল্পী অর্জুন মল্লিক। পেশায় রেডিও জকি। বউ বাচ্চা নিয়ে এক সুন্দর মিষ্টি সংসার। কোন একদিন গলা থেকে রক্তক্ষরণের পর জানতে পারল যে গলায় ক্যান্সার হয়েছে। কণ্ঠস্বর যার সম্পদ, সম্মান ও সম্বল তার ভয়েস বক্সটাই নাকি বাদ দিতে হবে। ভয়েস বক্স বাদ যাওয়ার পর একজন বাচিক শিল্পীর বেঁচে থাকাটা অন্তরায় হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়াকেই যদি বেঁচে থাকা বলা যেত তাহলে যে জীবনটাই অন্যরকম হতো। শুনেছি তুমি এবং নন্দিতাদি এ ছবিটি তৈরি করেছ বিভূতি চক্রবর্তী বলে একজন ক্যান্সার রোগীর কথা ভেবে। যার ভোকাল কর্ড ল্যারিঞ্জেকটমি অপারেশনের মাধ্যমে ডাক্তার বাদ দিয়ে ছিলেন। ...