Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2018

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

তিরুপতিতে তিনজন – প্রথম পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – প্রথম পর্ব হাতে সময় খুব কম। তাই রুদ্ধশ্বাসে মাঞ্চেরিয়াল স্টেশনের দিকে এগোচ্ছে ওরা তিনজনে। বিকেল পাঁচটা কুড়ি মিনিটের দানাপুর পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেনটা না মিস হয়ে যায়। এই ট্রেনে করে যেতে হবে কাজিপেট স্টেশন। এই স্টেশনগুলো সব দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে অবস্থিত। কাজিপেট স্টেশন থেকে পরের ট্রেন আবার পদ্মাবতী এক্সপ্রেস রাত আটটা কুড়ি মিনিটে। এখন যদি ট্রেন মিস হয় বা ট্রেন লেট করে তাহলে আর যাওয়া হচ্ছে না তিরুপতি। এরকমই মনে হচ্ছে এখন ওদের তিনজনের। এই পদ্মাবতী এক্সপ্রেসে করে ওরা তিনজনে যাবে তিরুপতি। গত দুবছর আগে ১৬.০৯.১৬ তারিখে ওরা তিনজনে তড়িঘড়ি করে একপ্রকার না খেয়ে না দেয়ে বেরিয়ে পড়েছিল রুদ্ধশ্বাসে। সেই দিনটা ছিল বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন। সময় রাত আঁটটা। দেবু খুব মন দিয়ে তেলেগু ভাষায় ট্রেন আসবার সময় সারণী ও প্রচার শুনতে লাগল। অকুটি, রেন্ডু, এরু, আরু, নাল্গু শব্দগুলো। হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক। ওই নম্বরের ট্রেনটাই তো আসছে। দেবু চেঁচিয়ে চকু দা’কে বলল – চকু দা রেডি হয়ে নাও। ট্রেন কিন্তু আসছে। নম্বরটা ভাল করে খেয়াল কর। ট্রেন নম্বর ১২৭৬৪। ভাগ্যিস ১ থেকে ১০ সংখ্যাগুলো তেলেগুতে আয়ত্...

LET'S GO অজন্তা ইলোরা...............অন্তিম পর্ব

LET'S GO অজন্তা ইলোরা............... পর্ব ৭ ঔরঙ্গাবাদ শহরটা বেশ ভালোই। একটা শহরের ভাল মন্দ বিচার করতে গেলে প্রথমেই অচেনা শহরের রাস্তাঘাটগুলো দেখে তবেই তার বিচার শুরু হয়। বলা ভাল যখনই আপনি কোন নতুন শহরের রাস্তায় ঘোরাঘুরি শুরু করেন রাস্তার গড়ন ও স্বচ্ছতার উপর দৃষ্টি রেখেই আপনি শহরটাকে 'ভাল' তকমা বা আখ্যা দিয়ে থাকেন। ঠিক সেইভাবেই ভোদলু দা এন্ড কোং ঔরঙ্গাবাদ শহরটাকে বেশ ভাল আখ্যা দিয়ে দিল। ওরা তিনজনে একটা অটো ভাঁড়া করে ঘুরে বেরাচ্ছে ঔরঙ্গাবাদে। কিছুক্ষণ পরেই ওরা ইলোরা পৌঁছবে। সবচেয়ে চনমনে দেখাচ্ছে ভোদলু দা' কে। ও ভাবছে কতক্ষণে পৌঁছবে কৈলাসনাথ মন্দির যেটা কিনা ইলোরার ১৬ নম্বর গুহাতে অবস্থিত। বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওরা চলেছে অটোয় করে। চারদিক থেকে বেশ একটা হিমেল বাতাস বইছে। অটো চড়বার জন্য সেই বাতাসটা আরও তীব্রভাবে চোখে মুখে এসে লাগছে। ওরা ঔরঙ্গাবাদের যেই হোটেলে এসে উঠেছে সেখান থেকে ইলোরার দুরত্ব হবে ৭/৮ কিমি। তাই অটোতে করে সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবার কথা নয়। কিন্তু অটোওয়ালা প্রথমে ঘুরনেস্বর মন্দির নিয়ে গেল। বাবার মন্দির অর্থাৎ শিব ঠাকুরের মন্দির। সেই মন্দির দর্শন করবার পর ...