Skip to main content

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব


তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব
-   

   দেবু বাবু শুনছেন!

দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন যিনি তিরুপতি মন্দিরের এই স্পেশাল দর্শনের টিকিট ও লজে থাকার বন্দোবস্ত করে দেবেন। কিন্তু মিস্টার সুব্রমনিয়াম নিজে আসবেন না। কোন এক ব্যক্তির মাধ্যমে টিকিট পাঠিয়ে দেবেন। তাই আপাতত সেই লজের দিকে ওরা বেশ জোরের সাথে হেঁটে চলেছে। কিছুক্ষণ পর যখন ওরা সেই লজের সামনে মানে তিরুমালা লজের সামনে পৌঁছল তখন মিস্টার সুব্রমনিয়াম ফোন করলেন চকু দা’র মোবাইলে। মিনিট পাঁচেক ধরে কথা বলার সময় দেবু হঠাৎ করে লক্ষ্য করল ওদের দিকে একজোড়া চোখ ওপারের ফুটপাথ থেকে নজর রাখছে। দেবুর এবার আর সহ্য হল না। এক মুহূর্তের মধ্যে প্রায় লাফিয়ে সেই অচেনা অজানা লোকটির কাছে চলে গেল এবং ওনার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করল – ‘ক্যায়া বাত হ্যায় ভাইসাব? আপ হামারে পিছা কিউ কর রহা হ্যায়? হুম? ট্রেন সে দেখ রহা হু আপকো’। ভদ্রলোক বেশ ঘাবড়ে গেলেন। কেমন একটা আমতা আমতা করতে থাকলেন। ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে বললেন – ‘আপকে লিয়ে আতা, টিকিট কে লিয়ে, মন্দির দর্শন করাতা’।
‘ক্যায়া টিকিট, আতা যাতা, সব বোল রহা হ্যায়? বুরবক সমঝকে রখা হ্যায় ক্যায়া হামকো? পিছা কিউ কর রহা থা, পহেলে ও বতাও’। এমন সময় চকু দা পিছন থেকে সেই লোকটির উদ্দ্যেশে বলল – ‘ ও তো আপ হি হ্যায় মিস্টার রেড্ডি? সুব্রমনিয়াম নে আপকো হি ভেজা হ্যায় টিকিট দেকর’? এই প্রশ্ন শুনে মিস্টার রেড্ডি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কোনরকমে বলল – ‘টিকিট লেকে আতা, মন্দির দর্শন কড়তা’। চকু দা তখন হাসতে হাসতে বলল – ‘ হা হা ঠিক হ্যায় সমঝ গয়া, দিজিয়ে কাহা হ্যায় টিকিট’? এরপর টিকিট হাতে নিয়ে ওরা মিস্টার রেড্ডিকে বিদায় জানাল। মিস্টার রেড্ডি হিন্দিটা একদমই বলতে পারেন না। টিকিট লেকার আয়া বলতে গিয়ে টিকিট লেকে আতা, যাতা, কড়তা এইসব বলতে থাকে। যাই হোক ওরা তিনটে স্পেশাল দর্শনের টিকিট ও তিরুমালা লজের টিকিট পেয়ে গেল। মিস্টার সুব্রমনিয়ামের সঙ্গে চকু দা’র আগে থেকেই বেশ ভাল জানাশোনা ছিল। উনিই রেড্ডিকে পাঠিয়েছিলেন। ট্রেনে থাকাকালীন রেড্ডির অনেকবার মনে হয়েছিল যে এই তিনজনই বোধহয় সেই তিনজন যাদের টিকিট দিতে হবে, কিন্তু মুখ চেনা না থাকায় এবং হিন্দি ও ইংরাজি ঠিক ঠাক বলতে না পারার জন্য ঠিক সাহস করে ওদের কাছে আসতে পারেনি। তাছাড়া লোকটা একটু ভিতু টাইপেরও।
                                        
                                    (৩)

তিরুপতি দর্শনের জন্য ওরা তিনজন খুব সুন্দর সাদা রঙের তিন তিনটে ধুতি কিনেছিল। বেশ লেগেছিল ধুতি পরে ওদের তিনজনকেই। ভারতবর্ষে যেকোনো ধর্মীয় স্থানে খুব ভিড় থাকে। এখানেও তাই। লোকে লোকারণ্য। স্পেশাল দর্শনের সুবিধার জন্য ওদের ঘণ্টা তিনেক লাইনে দাঁড়াবার পরপরই তিরুমল বাবাকে দর্শন পেল ওরা। এই লাইনে থাকাকালীন সমস্ত ভক্তগণ গোভিন্দা গোওওভিন্দা বলে হাক দিতে দিতে মন্দিরের মূল ফটকে প্রবেশ করছিল। পাল বাবু বেশ ভক্তিভরে গদগদ হয়ে দু হাত তুলে তিরুমল বাবাকে দর্শন করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাধ সাধলেন ওখানকার সিকিউরিটি গার্ড। ওদের তিনজনকেই প্রায় ধাক্কা মেরে বাইরে বার করে দিলেন মন্দির চত্বর থেকে। অবশ্য ওদের তিনজনই শুধু নয়, সমস্ত তীর্থযাত্রীদেরই প্রায় ঠেলে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হচ্ছিল মন্দির থেকে। নইলে এই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দর্শন হবার পর ভক্তবৃন্দগণ দলে দলে সেখানকার হুন্ডিতে কেউ টাকাপয়সা, কেউ সোনাদানা ইত্যাদি ভগবান তিরুমলের উদ্দ্যেশে দান করে। একজনকে দ্যাখা গেল ১০০ টাকার প্রায় ২০/২২ টা বাণ্ডিল একত্র করে সেই হুন্ডিতে দান করছেন ও সেই হুন্ডিকে জড়িয়ে ধরে নিজের মনস্কামনা করছেন। কথিত আছে তিরুমল, পদ্মাবতী অর্থাৎ লক্ষ্মীকে বিবাহ করবার অভিপ্রায় নিয়ে এই তিরুমালা শহরের পাহাড়ের উপর এসে কুবেরের কাছে টাকা ধার করেছিলেন। সেই ধার করা টাকা শোধ করবার জন্য তিরুমলকে তার ভক্তগণ অর্থ, সোনা, দানা দিয়ে তাকে সাহায্য করেন এই ভেবে যে তিরুপতি মহারাজ বা ভগবান তিরুমল সেই অর্থ অনেকগুন পরিমাণে ফিরিয়ে দেবেন। এই জন্যই এই হুন্ডিগুলোতে এত ভর্তি ভর্তি টাকা, সোনাদানা দ্যাখা যায়। তবে দেবুর একটা ব্যাপার ভেবে ভাল লাগে যে তিরুমল ও পদ্মাবতী যাদের কখনওই মিলন হল না, যাদের মধ্যে একজন পাহাড়ের উপর ও একজন পাহাড়ের নীচে অবস্থান করে আছেন আজও শুধুমাত্র মিলনের কাঙ্খিত আশায়। হ্যাঁ ঠিক তাই। পদ্মাবতী দেবীর মন্দির পাহাড়ের নীচে। এর মধ্যে কেন যেন দেবুর মনে হয় কোন স্বার্থত্যাগ ও মানসিক দর্শন লুকিয়ে আছে। যুগ যুগ ধরে এনারা পূজিত হয়ে আসছেন। কিন্তু না এদের মিলন হল না বিচ্ছেদ। ঠিক যেন পদ্মপাতার উপর এক বিন্দু জলের উপর, শুধু টলমল করতে থাকে কিন্তু পড়ে যায় না।
                                                                               
                                    (৪)

পরের দিন অর্থাৎ ১৮.০৯.১৬ তারিখে ওরা সেই বাসে করে তিরুমালা থেকে তিরুপতি ফিরে আসে। সেখানে অটোয় করে ওরা দেবী পদ্মাবতী দর্শনে যায়। সেখানেও ভক্তবৃন্দের ভিড় লেগেই রয়েছে।

ধর্মীয় স্থানে অধর্ম বেশি করে হয় এরকম একটা ধারণা দেবুর বদ্ধমূল ছিল। কিন্তু তিরুপতি যাবার পর ওর সেই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেল। তার প্রথম কারণ যখন ওরা লাড্ডু কাউন্টারে লাড্ডু নেবার জন্য গিয়েছিল তখন কিন্তু প্রাপ্য লাড্ডু সংখ্যার থেকে একটিও বেশি লাড্ডু ওরা পেল না অতিরিক্ত অর্থ দেবার আশ্বাস দিয়েও। সবার জন্যই সংখ্যাটা সীমাবদ্ধ। দ্বিতীয় কারণ হিসাবে সেই অটো চালকের কথা মনে হল দেবুর যে ওদের তিরুপতি স্টেশন থেকে পদ্মাবতী মন্দির পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। মন্দিরে যাবার পর সেই অটোতেই ওদের ব্যাগ, মোবাইল, জুতো, এমনকি টাকা পয়সাও গচ্ছিত রেখে যেতে হয়েছিল। একমাত্র অটোচালকের গাড়ির নম্বর ছাড়া ওদের কাছে আর কোনরকম ইনফরমেশন ছিল না। অটোচালকের নামটা পর্যন্ত ওরা জানত না। এতে দেবুর ঘোর আপত্তি ছিল কিন্তু চকু দা’র জোরাজুরিতে সেগুলো জানাও আর হয়ে ওঠেনি। আর পালবাবুতো পালবাবুই। কিছু বললেই বলে সব ভগবানের ইচ্ছে। কোন সমস্যাই হবে না। মন্দির দর্শন করবার সময়ে দেবুর মনে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যদি জিনিসগুলো আর ফিরে না পাওয়া যায় তাহলে কি হবে। কিন্তু ফিরে যাওয়ার পর সবকিছুই যথাযথভাবে ফিরে পেল ওরা।

দুপুর দুটো নাগাদ ওরা স্টেশনে এসে একটি হোটেলে লাঞ্চ সেরে নিল। এরপরের সময়টা ওরা ওয়েটিং রুমেই কাটিয়ে দিল। বিকেল ৫ টা নাগাদ তিরুপতি স্টেশন থেকেই ওদের ট্রেন। বিকেল হওয়ার কিছু আগে অনেক লোকজন স্টেশনে জড়ো হতে দ্যাখা গেল যাদের মস্তকমুণ্ডন করা হয়েছে সদ্য। অর্থাৎ বাচ্চা, বুড়ো, স্ত্রি, পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ন্যাড়া হয়েছে। তিরুপতি গেলে অনেকেই মানত টানত করে ও ন্যাড়া হয়। ওরা ট্রেনে উঠতে যাবে এমন সময় হঠাৎ দেবু দেখে সামনে মিস্টার রেড্ডি কিন্তু ন্যাড়া মাথা। দেবু পেছন থেকে গিয়ে রেড্ডির কানের কাছে গিয়ে বেশ জোরের সাথে জিজ্ঞাসা করে – ‘ক্যায়া বাত হ্যায় রেড্ডি সাব আপনা বাল ভগবানকো অর্পিত কর দিয়ে’? রেড্ডি আবারও একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওর গোলমুখে একটু মুচকি হাসি হেসে ওদের নমস্কার জানাল। দেবু ওর দিকে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল – “ Thank you Mr. Reddy & don’t mind for that day.”  

সমাপ্ত............  

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...