Skip to main content

LET'S GO অজন্তা ইলোরা...............অন্তিম পর্ব

LET'S GO অজন্তা ইলোরা...............
পর্ব ৭

ঔরঙ্গাবাদ শহরটা বেশ ভালোই। একটা শহরের ভাল মন্দ বিচার করতে গেলে প্রথমেই অচেনা শহরের রাস্তাঘাটগুলো দেখে তবেই তার বিচার শুরু হয়। বলা ভাল যখনই আপনি কোন নতুন শহরের রাস্তায় ঘোরাঘুরি শুরু করেন রাস্তার গড়ন ও স্বচ্ছতার উপর দৃষ্টি রেখেই আপনি শহরটাকে 'ভাল' তকমা বা আখ্যা দিয়ে থাকেন। ঠিক সেইভাবেই ভোদলু দা এন্ড কোং ঔরঙ্গাবাদ শহরটাকে বেশ ভাল আখ্যা দিয়ে দিল। ওরা তিনজনে একটা অটো ভাঁড়া করে ঘুরে বেরাচ্ছে ঔরঙ্গাবাদে। কিছুক্ষণ পরেই ওরা ইলোরা পৌঁছবে। সবচেয়ে চনমনে দেখাচ্ছে ভোদলু দা' কে। ও ভাবছে কতক্ষণে পৌঁছবে কৈলাসনাথ মন্দির যেটা কিনা ইলোরার ১৬ নম্বর গুহাতে অবস্থিত। বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওরা চলেছে অটোয় করে। চারদিক থেকে বেশ একটা হিমেল বাতাস বইছে। অটো চড়বার জন্য সেই বাতাসটা আরও তীব্রভাবে চোখে মুখে এসে লাগছে। ওরা ঔরঙ্গাবাদের যেই হোটেলে এসে উঠেছে সেখান থেকে ইলোরার দুরত্ব হবে ৭/৮ কিমি। তাই অটোতে করে সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবার কথা নয়। কিন্তু অটোওয়ালা প্রথমে ঘুরনেস্বর মন্দির নিয়ে গেল। বাবার মন্দির অর্থাৎ শিব ঠাকুরের মন্দির। সেই মন্দির দর্শন করবার পর মাঝরাস্তায় জলখাবার খেয়ে ওরা আবার রওনা দিল। সকাল সকাল জলখাবারটা বেশ ভালোই পেয়ে গেল ওরা। ভোদলু দা এবং উজ্জ্বল খেল উত্থপম। সাউথ ইন্ডিয়ান ডিশ। যাদব খেল ইডলি উইথ সাম্বার। সেম সাউথ ইন্ডিয়ান। খাওয়া দাওয়া সাঙ্গ করে ওরা সটান গিয়ে পৌঁছল ইলোরার প্রবেশদ্বারে। প্রবেশদ্বারের কাছে যেতেই ভোদলু দা এক কাণ্ড শুরু করল। দ্বাররক্ষীর কাছে গিয়ে একদম লালমোহনবাবুর মতো করে ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে বলতে লাগল - "ভাইসাব, ইয়ে ষোলা নাম্বার গুহাকা দরওয়াজা কিধর হ্যয়, বোল সকতা হ্যায়? হামকো বাবা কৈলাসনাথ কো দর্শন করনা হ্যায়। সুনা হ্যায় বাবা বহুত প্রসিদ্ধ হ্যাঁয়। জানে সে বহুত আশীর্বাদ মিলতা হ্যাঁয়।"
-"আপ পহেলে টিকিট করবাইয়ে। বিনা টিকিটসে অন্দর জানা মানা হ্যাঁয়।" দ্বাররক্ষী বলল ভোদলু দা'কে।
-"হা হা জরুর করায়েগা। ওই তো হামারা দোস্ত উজ্জ্বল টিকিট কাট রাহা হ্যাঁয়। ওহ দেখো আ গয়া। অভি হামকো ঘুস্নে দিজিয়ে" বলেই ভোদলু দা সজোরে বলে উঠলেন "ব্যোম ভোলে, জয় বাবা কৈলাসনাথ"।

প্রবেশদ্বার দিয়ে কিছুটা যাওয়ার পর যাদব এবার ভোদলু দা'কে জিজ্ঞাসা করল যে প্রথমেই ১৬ নম্বর গুহায় যাবে নাকি আগের গুহাগুলো দেখে তারপর যাবে। কিন্তু এ যাত্রায় ভোদলু দা'ই শেষ কথা। তাই যাদব ও উজ্জ্বলকে বগলদাবা করে টানতে টানতে ১৬ নম্বর গুহার দিকে যেতে থাকল আর মুখ দিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগল "কৈ লাশ, লাশ কৈ? কৈ লাশ, লাশ কৈ?"
উজ্জ্বল বিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল "দাদা এবার তুমি থামবে? পাবলিক দেখছে তো নাকি?" ভোদলু দা ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলে উঠল "জো দেখ রাহা হ্যাঁয় উসে দেখনে দো, জো জ্বল রাহা হ্যাঁয় উসে জ্বলনে দো। আমার মধ্যে এখন লালমোহনবাবুর আত্মা ভর করেছে। রাষ্ট্রপূট থুড়ি রাষ্ট্রকূট বংশের ইতিহাস আমি এখন গুলে খাব।"
-"কি সব বলছ বলো তো? লালমোহন, রাষ্ট্রপূট না রাষ্ট্রকূট, আত্মা এগুলো কি?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"আরে রাষ্ট্রকূট বংশ। ইতিহাসে পড়োনি? রাষ্ট্রকূট, বাতাপির চালুক্য বংশ, নন্দ বংশ ইত্যাদি।" যাদব বলল।
-" আর লালমোহন বাবুকে তুমি বুঝতে পারছ না? সোনার কেল্লা দেখনি টিভিতে? জয়বাবা ফেলুনাথ, কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়নি? কৈলাসে কেলেঙ্কারিতেই তো লালমোহনবাবু রাষ্ট্রকূট শব্দটাকে রাষ্ট্রপূট উচ্চারণ করে কেলেঙ্কারিটা বাঁধিয়েছিলেন।" ভোদলু দা বেশ জোরের সাথে বলতে লাগল। ও আরও বলল "যে বাঙালি ফেলুদা, তোপসে ও লালমোহনকে চেনেনা সে বাঙ্গালিই নয়।"
যাদব একটু মজার সুরে বলল -" ভোদলু দা'র এখন লালম্যানিয়ায় ধরেছে মনে হচ্চে?"
-"হ্যাঁ তা বলতে পার। লালমোহন, মোহনলাল, মগনলাল, সব লালে লাল, হা হা হা হা।" বলেই বেশ উচ্চস্বরে হেসে উঠল ভোদলু দা।
-" তাহলে রাষ্ট্রকূট বংশের রাজারাই এই গুহার কারুকাজ করেছে?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। রাষ্ট্রকূট এবং সাতবাহন বংশের কিছু রাজারা।" যাদব বলল। "তবে ভোদলু দা, বাঙালি কিন্তু এখন লাল ছেঁড়ে সবুজ ধরেছে। কেউ কেউ আবার গেরুয়াও।" বেশ মজার সাথে যাদব বলে উঠল।
-" উহু নো পলিটিকাল ম্যাটার। ওটা থেকে আমরা সহস্র যোজন দূরে। এখন শুধু শিল্পকলা, ভাস্কর্য এইসব দেখ আর নিজেকে সমৃদ্ধ কর।" ভোদলু দা বলে উঠল।
ইলোরার ১৬ নম্বর গুহায় প্রবেশ করবার পর ভোদলু দা এন্ড কোং ধীরে ধীরে প্রতিটি কারুকাজ বেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে লাগল। ভোদলু দা'ও বেশ মন দিয়ে পাথরের কাজ দেখছে। ও যেন কিছু একটা খুঁজছে। আসলে কৈলাসে কেলেঙ্কারি ছবিটাতে এই গুহাটিকে যেভাবে দেখানো হয়েছে ও ঠিক সেই সেই ঘটনা ও দৃশ্যগুলোকে মনে করে মিলিয়ে নিচ্ছে। এই মুহূর্তে ওরা তিনজনেই আলাদা আলাদা ভাবে ঘুরছে আর পাহাড়ের গায়ের কারুকাজ দেখে অভিভূত হচ্ছে। ওদের তিনজনের মতেই অজন্তার গুহাগুলির কাজের তুলনায় ইলোরার পাথুরে কারুকাজ অনেক উন্নত মানের। অনেক বেশি জীবন্ত এখানকার শিল্পকলা। এভাবেই ওরা পৌঁছে গেল কৈলাসনাথ মন্দিরের ফটকের সামনে। মন্দিরের ভেতরটা পুরো অন্ধকার। খালি চোখে খুব ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। সব কিছুই কেমন যেন আবছা। তবুও তার মধ্যে দিয়েই ভোদলু দা দর্শন করলেন বাবা কৈলাসনাথকে। ভক্তি ভরে প্রণাম করলেন। খুশিতে ডগমগ করে উঠল ওর মন। আসলে ও যতটা ইতিহাস বই পড়ে অজন্তা, ইলোরা ও এই মন্দিরকে জেনেছে তার থেকে বেশি করে জেনেছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা গল্প কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়ে ও সিনেমাটি দেখে। ও সত্যজিৎ রায়ের এক গুণমুগ্ধ ভক্ত। আর সত্যজিতের গুণমুগ্ধ ভক্তরা যে ফেলু, তোপসে, লালমোহনকে পছন্দ করবে এতো বলাইবাহুল্য। তাই মন্দির দর্শন করবার পর ভোদলু দা আবারও সজোরে বলতে লাগল "জয় বাবা কৈলাসনাথ, ব্যোম ভোলে।"  

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...