LET'S GO অজন্তা ইলোরা...............
পর্ব ৭
ঔরঙ্গাবাদ শহরটা বেশ ভালোই। একটা শহরের ভাল মন্দ বিচার করতে গেলে প্রথমেই অচেনা শহরের রাস্তাঘাটগুলো দেখে তবেই তার বিচার শুরু হয়। বলা ভাল যখনই আপনি কোন নতুন শহরের রাস্তায় ঘোরাঘুরি শুরু করেন রাস্তার গড়ন ও স্বচ্ছতার উপর দৃষ্টি রেখেই আপনি শহরটাকে 'ভাল' তকমা বা আখ্যা দিয়ে থাকেন। ঠিক সেইভাবেই ভোদলু দা এন্ড কোং ঔরঙ্গাবাদ শহরটাকে বেশ ভাল আখ্যা দিয়ে দিল। ওরা তিনজনে একটা অটো ভাঁড়া করে ঘুরে বেরাচ্ছে ঔরঙ্গাবাদে। কিছুক্ষণ পরেই ওরা ইলোরা পৌঁছবে। সবচেয়ে চনমনে দেখাচ্ছে ভোদলু দা' কে। ও ভাবছে কতক্ষণে পৌঁছবে কৈলাসনাথ মন্দির যেটা কিনা ইলোরার ১৬ নম্বর গুহাতে অবস্থিত। বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওরা চলেছে অটোয় করে। চারদিক থেকে বেশ একটা হিমেল বাতাস বইছে। অটো চড়বার জন্য সেই বাতাসটা আরও তীব্রভাবে চোখে মুখে এসে লাগছে। ওরা ঔরঙ্গাবাদের যেই হোটেলে এসে উঠেছে সেখান থেকে ইলোরার দুরত্ব হবে ৭/৮ কিমি। তাই অটোতে করে সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবার কথা নয়। কিন্তু অটোওয়ালা প্রথমে ঘুরনেস্বর মন্দির নিয়ে গেল। বাবার মন্দির অর্থাৎ শিব ঠাকুরের মন্দির। সেই মন্দির দর্শন করবার পর মাঝরাস্তায় জলখাবার খেয়ে ওরা আবার রওনা দিল। সকাল সকাল জলখাবারটা বেশ ভালোই পেয়ে গেল ওরা। ভোদলু দা এবং উজ্জ্বল খেল উত্থপম। সাউথ ইন্ডিয়ান ডিশ। যাদব খেল ইডলি উইথ সাম্বার। সেম সাউথ ইন্ডিয়ান। খাওয়া দাওয়া সাঙ্গ করে ওরা সটান গিয়ে পৌঁছল ইলোরার প্রবেশদ্বারে। প্রবেশদ্বারের কাছে যেতেই ভোদলু দা এক কাণ্ড শুরু করল। দ্বাররক্ষীর কাছে গিয়ে একদম লালমোহনবাবুর মতো করে ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে বলতে লাগল - "ভাইসাব, ইয়ে ষোলা নাম্বার গুহাকা দরওয়াজা কিধর হ্যয়, বোল সকতা হ্যায়? হামকো বাবা কৈলাসনাথ কো দর্শন করনা হ্যায়। সুনা হ্যায় বাবা বহুত প্রসিদ্ধ হ্যাঁয়। জানে সে বহুত আশীর্বাদ মিলতা হ্যাঁয়।"
-"আপ পহেলে টিকিট করবাইয়ে। বিনা টিকিটসে অন্দর জানা মানা হ্যাঁয়।" দ্বাররক্ষী বলল ভোদলু দা'কে।
-"হা হা জরুর করায়েগা। ওই তো হামারা দোস্ত উজ্জ্বল টিকিট কাট রাহা হ্যাঁয়। ওহ দেখো আ গয়া। অভি হামকো ঘুস্নে দিজিয়ে" বলেই ভোদলু দা সজোরে বলে উঠলেন "ব্যোম ভোলে, জয় বাবা কৈলাসনাথ"।
প্রবেশদ্বার দিয়ে কিছুটা যাওয়ার পর যাদব এবার ভোদলু দা'কে জিজ্ঞাসা করল যে প্রথমেই ১৬ নম্বর গুহায় যাবে নাকি আগের গুহাগুলো দেখে তারপর যাবে। কিন্তু এ যাত্রায় ভোদলু দা'ই শেষ কথা। তাই যাদব ও উজ্জ্বলকে বগলদাবা করে টানতে টানতে ১৬ নম্বর গুহার দিকে যেতে থাকল আর মুখ দিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগল "কৈ লাশ, লাশ কৈ? কৈ লাশ, লাশ কৈ?"
উজ্জ্বল বিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল "দাদা এবার তুমি থামবে? পাবলিক দেখছে তো নাকি?" ভোদলু দা ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলে উঠল "জো দেখ রাহা হ্যাঁয় উসে দেখনে দো, জো জ্বল রাহা হ্যাঁয় উসে জ্বলনে দো। আমার মধ্যে এখন লালমোহনবাবুর আত্মা ভর করেছে। রাষ্ট্রপূট থুড়ি রাষ্ট্রকূট বংশের ইতিহাস আমি এখন গুলে খাব।"
-"কি সব বলছ বলো তো? লালমোহন, রাষ্ট্রপূট না রাষ্ট্রকূট, আত্মা এগুলো কি?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"আরে রাষ্ট্রকূট বংশ। ইতিহাসে পড়োনি? রাষ্ট্রকূট, বাতাপির চালুক্য বংশ, নন্দ বংশ ইত্যাদি।" যাদব বলল।
-" আর লালমোহন বাবুকে তুমি বুঝতে পারছ না? সোনার কেল্লা দেখনি টিভিতে? জয়বাবা ফেলুনাথ, কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়নি? কৈলাসে কেলেঙ্কারিতেই তো লালমোহনবাবু রাষ্ট্রকূট শব্দটাকে রাষ্ট্রপূট উচ্চারণ করে কেলেঙ্কারিটা বাঁধিয়েছিলেন।" ভোদলু দা বেশ জোরের সাথে বলতে লাগল। ও আরও বলল "যে বাঙালি ফেলুদা, তোপসে ও লালমোহনকে চেনেনা সে বাঙ্গালিই নয়।"
যাদব একটু মজার সুরে বলল -" ভোদলু দা'র এখন লালম্যানিয়ায় ধরেছে মনে হচ্চে?"
-"হ্যাঁ তা বলতে পার। লালমোহন, মোহনলাল, মগনলাল, সব লালে লাল, হা হা হা হা।" বলেই বেশ উচ্চস্বরে হেসে উঠল ভোদলু দা।
-" তাহলে রাষ্ট্রকূট বংশের রাজারাই এই গুহার কারুকাজ করেছে?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। রাষ্ট্রকূট এবং সাতবাহন বংশের কিছু রাজারা।" যাদব বলল। "তবে ভোদলু দা, বাঙালি কিন্তু এখন লাল ছেঁড়ে সবুজ ধরেছে। কেউ কেউ আবার গেরুয়াও।" বেশ মজার সাথে যাদব বলে উঠল।
-" উহু নো পলিটিকাল ম্যাটার। ওটা থেকে আমরা সহস্র যোজন দূরে। এখন শুধু শিল্পকলা, ভাস্কর্য এইসব দেখ আর নিজেকে সমৃদ্ধ কর।" ভোদলু দা বলে উঠল।
ইলোরার ১৬ নম্বর গুহায় প্রবেশ করবার পর ভোদলু দা এন্ড কোং ধীরে ধীরে প্রতিটি কারুকাজ বেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে লাগল। ভোদলু দা'ও বেশ মন দিয়ে পাথরের কাজ দেখছে। ও যেন কিছু একটা খুঁজছে। আসলে কৈলাসে কেলেঙ্কারি ছবিটাতে এই গুহাটিকে যেভাবে দেখানো হয়েছে ও ঠিক সেই সেই ঘটনা ও দৃশ্যগুলোকে মনে করে মিলিয়ে নিচ্ছে। এই মুহূর্তে ওরা তিনজনেই আলাদা আলাদা ভাবে ঘুরছে আর পাহাড়ের গায়ের কারুকাজ দেখে অভিভূত হচ্ছে। ওদের তিনজনের মতেই অজন্তার গুহাগুলির কাজের তুলনায় ইলোরার পাথুরে কারুকাজ অনেক উন্নত মানের। অনেক বেশি জীবন্ত এখানকার শিল্পকলা। এভাবেই ওরা পৌঁছে গেল কৈলাসনাথ মন্দিরের ফটকের সামনে। মন্দিরের ভেতরটা পুরো অন্ধকার। খালি চোখে খুব ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। সব কিছুই কেমন যেন আবছা। তবুও তার মধ্যে দিয়েই ভোদলু দা দর্শন করলেন বাবা কৈলাসনাথকে। ভক্তি ভরে প্রণাম করলেন। খুশিতে ডগমগ করে উঠল ওর মন। আসলে ও যতটা ইতিহাস বই পড়ে অজন্তা, ইলোরা ও এই মন্দিরকে জেনেছে তার থেকে বেশি করে জেনেছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা গল্প কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়ে ও সিনেমাটি দেখে। ও সত্যজিৎ রায়ের এক গুণমুগ্ধ ভক্ত। আর সত্যজিতের গুণমুগ্ধ ভক্তরা যে ফেলু, তোপসে, লালমোহনকে পছন্দ করবে এতো বলাইবাহুল্য। তাই মন্দির দর্শন করবার পর ভোদলু দা আবারও সজোরে বলতে লাগল "জয় বাবা কৈলাসনাথ, ব্যোম ভোলে।"
পর্ব ৭
ঔরঙ্গাবাদ শহরটা বেশ ভালোই। একটা শহরের ভাল মন্দ বিচার করতে গেলে প্রথমেই অচেনা শহরের রাস্তাঘাটগুলো দেখে তবেই তার বিচার শুরু হয়। বলা ভাল যখনই আপনি কোন নতুন শহরের রাস্তায় ঘোরাঘুরি শুরু করেন রাস্তার গড়ন ও স্বচ্ছতার উপর দৃষ্টি রেখেই আপনি শহরটাকে 'ভাল' তকমা বা আখ্যা দিয়ে থাকেন। ঠিক সেইভাবেই ভোদলু দা এন্ড কোং ঔরঙ্গাবাদ শহরটাকে বেশ ভাল আখ্যা দিয়ে দিল। ওরা তিনজনে একটা অটো ভাঁড়া করে ঘুরে বেরাচ্ছে ঔরঙ্গাবাদে। কিছুক্ষণ পরেই ওরা ইলোরা পৌঁছবে। সবচেয়ে চনমনে দেখাচ্ছে ভোদলু দা' কে। ও ভাবছে কতক্ষণে পৌঁছবে কৈলাসনাথ মন্দির যেটা কিনা ইলোরার ১৬ নম্বর গুহাতে অবস্থিত। বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওরা চলেছে অটোয় করে। চারদিক থেকে বেশ একটা হিমেল বাতাস বইছে। অটো চড়বার জন্য সেই বাতাসটা আরও তীব্রভাবে চোখে মুখে এসে লাগছে। ওরা ঔরঙ্গাবাদের যেই হোটেলে এসে উঠেছে সেখান থেকে ইলোরার দুরত্ব হবে ৭/৮ কিমি। তাই অটোতে করে সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় লাগবার কথা নয়। কিন্তু অটোওয়ালা প্রথমে ঘুরনেস্বর মন্দির নিয়ে গেল। বাবার মন্দির অর্থাৎ শিব ঠাকুরের মন্দির। সেই মন্দির দর্শন করবার পর মাঝরাস্তায় জলখাবার খেয়ে ওরা আবার রওনা দিল। সকাল সকাল জলখাবারটা বেশ ভালোই পেয়ে গেল ওরা। ভোদলু দা এবং উজ্জ্বল খেল উত্থপম। সাউথ ইন্ডিয়ান ডিশ। যাদব খেল ইডলি উইথ সাম্বার। সেম সাউথ ইন্ডিয়ান। খাওয়া দাওয়া সাঙ্গ করে ওরা সটান গিয়ে পৌঁছল ইলোরার প্রবেশদ্বারে। প্রবেশদ্বারের কাছে যেতেই ভোদলু দা এক কাণ্ড শুরু করল। দ্বাররক্ষীর কাছে গিয়ে একদম লালমোহনবাবুর মতো করে ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে বলতে লাগল - "ভাইসাব, ইয়ে ষোলা নাম্বার গুহাকা দরওয়াজা কিধর হ্যয়, বোল সকতা হ্যায়? হামকো বাবা কৈলাসনাথ কো দর্শন করনা হ্যায়। সুনা হ্যায় বাবা বহুত প্রসিদ্ধ হ্যাঁয়। জানে সে বহুত আশীর্বাদ মিলতা হ্যাঁয়।"
-"আপ পহেলে টিকিট করবাইয়ে। বিনা টিকিটসে অন্দর জানা মানা হ্যাঁয়।" দ্বাররক্ষী বলল ভোদলু দা'কে।
-"হা হা জরুর করায়েগা। ওই তো হামারা দোস্ত উজ্জ্বল টিকিট কাট রাহা হ্যাঁয়। ওহ দেখো আ গয়া। অভি হামকো ঘুস্নে দিজিয়ে" বলেই ভোদলু দা সজোরে বলে উঠলেন "ব্যোম ভোলে, জয় বাবা কৈলাসনাথ"।
প্রবেশদ্বার দিয়ে কিছুটা যাওয়ার পর যাদব এবার ভোদলু দা'কে জিজ্ঞাসা করল যে প্রথমেই ১৬ নম্বর গুহায় যাবে নাকি আগের গুহাগুলো দেখে তারপর যাবে। কিন্তু এ যাত্রায় ভোদলু দা'ই শেষ কথা। তাই যাদব ও উজ্জ্বলকে বগলদাবা করে টানতে টানতে ১৬ নম্বর গুহার দিকে যেতে থাকল আর মুখ দিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগল "কৈ লাশ, লাশ কৈ? কৈ লাশ, লাশ কৈ?"
উজ্জ্বল বিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল "দাদা এবার তুমি থামবে? পাবলিক দেখছে তো নাকি?" ভোদলু দা ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলে উঠল "জো দেখ রাহা হ্যাঁয় উসে দেখনে দো, জো জ্বল রাহা হ্যাঁয় উসে জ্বলনে দো। আমার মধ্যে এখন লালমোহনবাবুর আত্মা ভর করেছে। রাষ্ট্রপূট থুড়ি রাষ্ট্রকূট বংশের ইতিহাস আমি এখন গুলে খাব।"
-"কি সব বলছ বলো তো? লালমোহন, রাষ্ট্রপূট না রাষ্ট্রকূট, আত্মা এগুলো কি?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"আরে রাষ্ট্রকূট বংশ। ইতিহাসে পড়োনি? রাষ্ট্রকূট, বাতাপির চালুক্য বংশ, নন্দ বংশ ইত্যাদি।" যাদব বলল।
-" আর লালমোহন বাবুকে তুমি বুঝতে পারছ না? সোনার কেল্লা দেখনি টিভিতে? জয়বাবা ফেলুনাথ, কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়নি? কৈলাসে কেলেঙ্কারিতেই তো লালমোহনবাবু রাষ্ট্রকূট শব্দটাকে রাষ্ট্রপূট উচ্চারণ করে কেলেঙ্কারিটা বাঁধিয়েছিলেন।" ভোদলু দা বেশ জোরের সাথে বলতে লাগল। ও আরও বলল "যে বাঙালি ফেলুদা, তোপসে ও লালমোহনকে চেনেনা সে বাঙ্গালিই নয়।"
যাদব একটু মজার সুরে বলল -" ভোদলু দা'র এখন লালম্যানিয়ায় ধরেছে মনে হচ্চে?"
-"হ্যাঁ তা বলতে পার। লালমোহন, মোহনলাল, মগনলাল, সব লালে লাল, হা হা হা হা।" বলেই বেশ উচ্চস্বরে হেসে উঠল ভোদলু দা।
-" তাহলে রাষ্ট্রকূট বংশের রাজারাই এই গুহার কারুকাজ করেছে?" উজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল।
-"হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। রাষ্ট্রকূট এবং সাতবাহন বংশের কিছু রাজারা।" যাদব বলল। "তবে ভোদলু দা, বাঙালি কিন্তু এখন লাল ছেঁড়ে সবুজ ধরেছে। কেউ কেউ আবার গেরুয়াও।" বেশ মজার সাথে যাদব বলে উঠল।
-" উহু নো পলিটিকাল ম্যাটার। ওটা থেকে আমরা সহস্র যোজন দূরে। এখন শুধু শিল্পকলা, ভাস্কর্য এইসব দেখ আর নিজেকে সমৃদ্ধ কর।" ভোদলু দা বলে উঠল।
ইলোরার ১৬ নম্বর গুহায় প্রবেশ করবার পর ভোদলু দা এন্ড কোং ধীরে ধীরে প্রতিটি কারুকাজ বেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে লাগল। ভোদলু দা'ও বেশ মন দিয়ে পাথরের কাজ দেখছে। ও যেন কিছু একটা খুঁজছে। আসলে কৈলাসে কেলেঙ্কারি ছবিটাতে এই গুহাটিকে যেভাবে দেখানো হয়েছে ও ঠিক সেই সেই ঘটনা ও দৃশ্যগুলোকে মনে করে মিলিয়ে নিচ্ছে। এই মুহূর্তে ওরা তিনজনেই আলাদা আলাদা ভাবে ঘুরছে আর পাহাড়ের গায়ের কারুকাজ দেখে অভিভূত হচ্ছে। ওদের তিনজনের মতেই অজন্তার গুহাগুলির কাজের তুলনায় ইলোরার পাথুরে কারুকাজ অনেক উন্নত মানের। অনেক বেশি জীবন্ত এখানকার শিল্পকলা। এভাবেই ওরা পৌঁছে গেল কৈলাসনাথ মন্দিরের ফটকের সামনে। মন্দিরের ভেতরটা পুরো অন্ধকার। খালি চোখে খুব ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। সব কিছুই কেমন যেন আবছা। তবুও তার মধ্যে দিয়েই ভোদলু দা দর্শন করলেন বাবা কৈলাসনাথকে। ভক্তি ভরে প্রণাম করলেন। খুশিতে ডগমগ করে উঠল ওর মন। আসলে ও যতটা ইতিহাস বই পড়ে অজন্তা, ইলোরা ও এই মন্দিরকে জেনেছে তার থেকে বেশি করে জেনেছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা গল্প কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়ে ও সিনেমাটি দেখে। ও সত্যজিৎ রায়ের এক গুণমুগ্ধ ভক্ত। আর সত্যজিতের গুণমুগ্ধ ভক্তরা যে ফেলু, তোপসে, লালমোহনকে পছন্দ করবে এতো বলাইবাহুল্য। তাই মন্দির দর্শন করবার পর ভোদলু দা আবারও সজোরে বলতে লাগল "জয় বাবা কৈলাসনাথ, ব্যোম ভোলে।"

Comments
Post a Comment