Skip to main content

ভগবান ও শয়তানের লড়াই


ভগবান ও শয়তানের লড়াই


ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা?

শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে।

ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের পাশে দাঁড়াক, গরীবদের পাশে দাঁড়াক। হাতে হাত মিলিয়ে নিত্য নতুন উদ্ভাবনী কার্য়কলাপের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলুক।

শয়তানঃ- আলো দেখাবি? বাহ ভালো। তাহলে অন্ধকারটা কে দেখাবে? তোর বাবা? আচ্ছা তুই যে ঘরে বসবাস করিস সেখানে যদি সারাদিন ও সারারাত আলো জ্বালিয়ে রাখিস, তাহলে রাতে তোর ঘুম আসবে! আসবে না তো? কেন অস্বীকার করছিস বে, যে অন্ধকারেরও প্রয়োজন আছে। এই যে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখিয়ে ভগবান হিসাবে খুব নাম ও টু পাইস কামাবি সেটার পরোক্ষ কৃতিত্ব কিন্তু আমারই বর্তায়। ঠিকাছে!

ভগবানঃ- টু পাইস। আমি? আমার অর্থের প্রয়োজন আছে কি আদৌ? কি সব বলছিস?

শয়তানঃ- ঠিক বলেছি। তোর পোষা ভণ্ড সাধুগুলো পৃথিবীতে তো রাসলীলা লাগিয়ে রেখেছে সারাক্ষণ, আর যাকে পাচ্ছে বারা তার মাথা খাচ্ছে। এক একটার কি সম্পত্তি বে! তার ওপর আবার সেবাদাসীতে ভরা। যে সে নয়, পুরো কচি মাল, ডবকা একেকটা। সারাক্ষণ শুধু ভণ্ডগুলোর পাশে ঘুরঘুর ঘুরঘুর করেই চলেছে। এসি গাড়ি, এসি বাড়ি। বারা এগুলোকে স্পন্সর করে কে! কি বেশ যেন নামটা? হ্যাঁ রাম ও রহিম। শালা ও তো আমার থেকেও বড় শয়তান।

ভগবানঃ- ওর মধ্যে এই অতিরিক্ত কামভাব তো তুইই ঢুকিয়েছিলিস?

শয়তানঃ- বাল বেশ করেছি, একশবার করব। আমার কথা কজন ভাবে বে? শালা ভয় না পেলে ভাবেই না। সেই জন্য আমি মানুষের মধ্যে ঢুকে ধর্ম বিভাজন এনেছি ও ভবিষ্যতে আরও আনব। জাত পাতের বিভাজন এনেছি। দেখছিস না এখন কেমন ‘জয় শ্রী রাম’ বলে কিছু মানুষ অপর মানুষকে খেপিয়ে তুলছে। ‘জয় মা কালী’, ‘আল্লাহ আকবর’ এইসব আলাদা আলাদা বিভাজন নিয়ে এসেছি। যুদ্ধ লাগল বলে! সবসময় একটা সাম্প্রদায়িকতার হাওয়া চলতেই থাকবে। পাবলিক টিভির সামনে বসে চায়ের কাপে কত ঝড় তোলে এসব নিয়ে! আর তুই এসব নিয়ে ভেবে মরছিস। শোন, সাধারণ পাবলিক হচ্ছে সবচেয়ে বড় বোকাচোদা।

ভগবানঃ- মুখে লাগাম দে। ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ভেতরে ভেতরে এখন আগুন জ্বলছে। কে যে কখন কি করে বসে কোনও ঠিক নেই। কেন যে তুই ওদের মধ্যে ষড়রিপুর ইনজেকশনটা করতে গেলি! ডোজটাও মনে হচ্ছে ঠিক ঠাক দিসনি। সবসময়তেই যেন একটা হিংসার আগুন জ্বলছে। তোর জন্য এই আগুন হয়তো কোনোদিনও নিভবে না।

শয়তানঃ- তুই তো সৃষ্টিকর্তা, তুই ওদের কন্ট্রোল কর! জ্বলুক, এই যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবটা যত চলবে ততই না মজা। মানুষের ধ্বংস বা মৃত্যুর জন্য আমাকে ষড়রিপুর প্রয়োগ করতেই হতো। ষড়রিপু, I just love it.  কি ভালো না শব্দগুলো! ‘কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎষর্‍্য। কাম শব্দটা শুনলেই তো আমার কেমন কাম কাম ভাব জেগে উঠছে। শাসক, বিরোধী দু দলেই এখন বেশ ডবকা ডবকা মাগী এসেছে। ভাবছি ওদের সাথে চরম লেভেলে সেক্স করব। সঙ্গমের তীব্র মুহূর্তে সেই মাগীটা চিৎকার করে বলবে ‘আমি তোমার কাছে এত দূর থেকে কেন এসেছি বলো, বলো কেন এসেছি আমি’।

ভগবানঃ- ওটা ভুলেও করিস না। ওর দলের নেত্রী যখন তখন গাড়ি থেকে নেমে পড়ে ‘আয় কে আছিস, সামনে এসে কথা বল’ বলে ঝগড়া করে। আচ্ছা একটা কথা বল, ইদানিং দেখছি প্রযুক্তির উপর তোর খুব লোভ জন্মেছে। আর এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র করেই তুই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মাথা খাচ্ছিস। বিশ্বায়নের যুগে হাতে হাতে মুঠোফোন আশায় ছেলেমেয়েগুলোর মগজে শুধুই ভিডিও গেম, পর্ণোগ্রাফি, মোমো, ব্লু হোয়েলের মতো নারকীয় খেলা। খেলা না বলে হত্যালীলা বলাই ভালো। প্রযুক্তির এ কোন অভিশাপে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কে জানে! গানবাজনা, সাহিত্য, কবিতা, খেলাধূলা এসবের দিকে ওদের কোনও আগ্রহই নেই। সব কেমন জানি অন্তঃসারশূন্য। নিজেকে সবাই আসতে আসতে ঘরবন্দি করে নিচ্ছে, ভার্চুআল জগৎকে বাস্তবিক মনে করছে। প্রকৃত বিকাশ হচ্ছে কোথায়? আর এর পেছনে তুই ক্রমাগত ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছিস। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এখন অবাধ যৌনতা, পর্ণোগ্রাফি, মাদক ও তার ব্যবহার। পণ্য হয়ে বিকোচ্ছে এসব অনলাইন মারফত। মানুষ যেগুলোকে সত্যি বলে ভাবছে আসলে তা সত্যি নয়। সবকিছুর মধ্যেই এক অতিরিক্ত দেখনদারিত্বের ঝলকানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই যে ছেলেমেয়েগুলো আত্মহত্যা করে ফেলছে এইসব নারকীয়, পিশাচ ঘটনায় তোর খুব আনন্দ হয়, তাই না?

শয়তানঃ- তুই ভগবান হয়েও একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছিস যে এগুলোই আমার ধর্ম, কর্ম। যতদিন সত্য আছে ততদিন মিথ্যা থাকবে, যতদিন আলো আছে ততদিন অন্ধকার থাকবে। যতদিন ভগবান থাকবে ততদিন শয়তানেরও দাপট চলবে। হা হা হা হা। তুই তো নিজের কর্ম করে যাচ্ছিস, তাহলে তোকে এত বিচলিত দেখাচ্ছে কেন? নির্লিপ্ত ভাবে, নিরাসক্ত ভাবে নিজের কাজ করে যা। প্রকৃতির কথা, মানুষের কথা ভেবে কেন শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছিস? মরতে দে ওদের। শালা! সব নরকের কীট।

ভগবানঃ- চুপ কর! প্রকৃতি, মানুষ, সমস্ত জীবজগৎ আমার সৃষ্টি। আমার সন্তান এরা।

শয়তানঃ- দূর বাল। রাখ তোর সন্তান। কটা প্রকৃত মানুষ আছে বে যে তোকে মন থেকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে? কটা আছে যারা অন্তর থেকে পূজা করে? শুধু আরও চাই মা, বাবা আরও দাও। হাতে গোনা কয়েকটা আছে তাই তুই টিকে আছিস এই ঘোর কলিতেও। আর আমার প্রতি? পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক জীব ভয় পায় আমায়। সেবার যখন নেপালে ভূমিকম্প হলো বা ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি তখন বেশ বড় বড় বুলি কপচানো বুদ্ধিজীবীগুলোও টপাটপ পটল তুললো। আমার অবশ্য কষ্ট দিয়ে, জ্বালাতন করে মারতে দারুণ লাগে। ঠিক যেমন করে একটা দুষ্টু বাচ্চা ফরিং বা মশা বা পিঁপড়ে ধরে একটা একটা করে ঠ্যাং ছিরে মারে। সেরকম মৃত্যু দেখলে আমার যে কিরকম আনন্দ হয় কি বলব! ধর, রাস্তায় এক্সিডেন্টে কারোর মাথাটা থেঁতলে গেছে। বেচারা তখনও হয়ত বেঁচে আছে। রাস্তার একপাশে পড়ে পুরো দেহটা কাতরাচ্ছে। ভয়ে শালা কেউ এগিয়েও আসছে না। তোর সন্তানদের ৮০/৮৫ ভাগ শালা ভীতু, মেরুদণ্ডহীন, কৃমি কোথাকার। কেউ হয়ত বাবাগো মাগো বলে চিৎকার করছে, কিন্তু বাঁচাবার কেউ নেই। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা রাস্তা। আমার এইরকম পৈশাচিক দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগে। এগুলো তো খুব তুচ্ছ ঘটনা। ভাবছি এমন একটা দেশ তৈরি করব যেখানে কোন বিরোধিতা হবেই না। সর্বত্র সাম্যতা বজায় থাকবে। বিরোধিতার নামমাত্র থাকলে তার গর্দান দেব। লেখক, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, ধর্মগুরু, ইমাম, বিপ্লবী এদের ঢুকতেই দেব না সেই দেশে। শালা বুদ্ধিজীবীর দল, কেউ কনডোমে ত্রিশূল থুড়ি ত্রিশূলে কনডোম পড়াচ্ছে তো কেউ সমকাম নিপাত যাক বলে চেল্লাচ্ছে, কেউ কাকের ও হাওয়াই চটির ছবি এঁকে আলবাল বকে যাচ্ছে। সারাদিন ধরে শুধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টিভিতে বুলি কপচিয়ে যাবে। বোকাচোদাগুলোর আর কোনও কাজ নেই। সবকটাকে ল্যাংটো করে পোঁদে গরম শিক ঢুকিয়ে দেব। পাগলের মতো চিৎকার করবে। আমি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করব। ওদের প্রত্যেকের বেশি বুদ্ধি বলে সবকটাকে যন্তরমন্তর ঘরে ঢুকিয়ে দেব। তারপর কড়া কড়া ডোজের ট্যাবলেট গুঁজে দেব মুখে। আমি যা বলব ওরা তাই করবে। সেই রাষ্ট্রের আমিই হব একমাত্র রাজা। সব ব্যাটাকে নজরবন্দী করে রাখব সিসিটিভির মাধ্যমে। সিসিটিভি হল আজকের যুগের মডার্ন গুপ্তচর। দেখছিস তো এখন সিসিটিভির কি রমরমা বাজার। একবার কোনও এক শপিং মলের ট্রায়াল রুমের ভেতর এক মহিলা মন্ত্রী পোশাক পরিবর্তন করছিলেন। সে খবরও তো ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। নেহাত মন্ত্রীর ক্ষমতা সাধারণ মানুষের থেকে বেশি তাই সেই ট্রায়াল রুমের ভেতরের গোপন দৃশ্য সাধারণ জনগণের মধ্যে ফাঁস হয়নি। নাহলে কেলো করেছিল। আমি এরকম একটা দেশ তৈরি করব যেখানে ব্যক্তিগত বলে কিছু থাকবে না। মানুষ কি ভাবছে কি চিন্তা করছে সেটা সবসময় জানা দরকার। সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে শুধু একটিই সম্পর্ক থাকবে। আর সেটা হবে যৌনতার। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখতে পারবে। নারীর কোনও পরিচয় থাকবে না। সে হবে যৌনদাসী। যদি কোন রুগ্ন শিশু জন্মায় তবে কোনও পিডোফিলিক জানোয়ার তাকে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। ওদের মরে যাওয়াই ভালো। কি হবে দেশে জনসংখ্যা বাড়িয়ে। কোনও বাঁধা থাকবে না। তবেই না দেশে সাম্যতা আসবে। মন দেওয়া নেওয়া, চাওয়া পাওয়া, অধিকারবোধ কিছুই থাকবে না। আর আমি এগুলো তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করব। সমস্ত কিছুই হবে সিসিটিভির নজরে। ফলে আমি রিয়েল পর্ণোগ্রাফি দেখব রাজ সিংহাসনে বসে। হা হা হা হা। আমি শয়তানের রাজা, আমি পিশাচ, আমি লোভী, আমিই হব সর্বশক্তিমান। এই পৃথিবী হবে আমার, একমাত্র আমার।

ভগবানঃ- ছিঃ ছিঃ, কি নোংরা বিকৃত মানসিকতা তোর। এ কানে শোনাও যে মহাপাপ। আমি থাকতে এ আমি কোনোদিন হতে দেব না।

শয়তানঃ- গাঁড় মারি তোর পাপপুণ্যের। বাল নিজে স্বর্গের সিংহাসনে বসে বসে শুধু উর্বশী, মেনকার পতলি কোমর ও নিতম্ব দেখে এসেছ সেইবেলা! এইসব স্বর্গের অপ্সরাদের সাথে লটরপটর কি কম করেছিস তুই ও তোর সাঙ্গপাংগরা। আমরা করলেই যত দোষ না! শালা হিপোক্রিট।

ভগবানঃ- আমি হতে দেব না এসব। কিছুতেই না। এরকম অরাজতান্ত্রিক দেশ কখনোই সম্ভব নয়। তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পরবে তোর এই নোংরা রাষ্ট্র। যে দেশে মানবতা নেই, প্রেম নেই, ভালবাসা নেই সে দেশ কোনোভাবেই চলতে পারে না।

শয়তানঃ- আর রাজনীতি নেই সেকথা বললি না? পেটে রেখে দিলি। ওটা তো তোর আসল চাবিকাঠি। ওটা নিয়েই যে মহাভারত ও রামায়ণে কত খেলই না দেখালি। সৎ যুধিষ্ঠির ও তার চার ভাই মাথা নিচু করে দ্রৌপদির বস্ত্রহরণ দেখে গেল। আর তুই মাঝখান থেকে কেষ্ট ঠাকুর সেজে সেই সভায় এসে বস্ত্র প্রদান করে পৃথিবীতে মহান হয়ে গেলি। সেই থেকে কোনও মহিলার মোলেসস্টেশন হলেই হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলে মহিলারা তোকে ডাকতে থাকে। রামায়ণে রাম সেজে সীতা কে বার কয়েক অগ্নি পরীক্ষায় বসালি। তোর লজ্জা করে না, অমন সুন্দর সতী সাবিত্রী বউ কে.........
ছিঃ। তোর থেকে রাবণ অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ। প্রকৃত পুরুষের মত পুরুষ। সীতা কে তুলে নিয়ে গেলেও শরীর স্পর্শ করেনি একবারের জন্যেও। অথচ দেখ প্রত্যেক বছর ঘটা করে ওর মূর্তি পোরানো হয়। এগুলো নোংরামো নয়? শোন এটা ঘোর কলি। এই কলি যুগে তোর দিন শেষ। সমস্ত সত্যের পরাজয় ঘটিয়ে ছাড়ব আমি। আর তার জন্য আমার প্রথম ও প্রধান অস্ত্র হবে প্রযুক্তি। নিত্যনতুন টপ ক্লাস প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমেই বশ করব বুদ্ধিজীবী ও আমলাদের মাথা।

যার মাথায় অতিরিক্ত বুদ্ধি ধরে.........
তার মগজে দাও বেশি করে GB  ভরে.........
কি ঠিক কিনা? পাশ থেকে আমার প্রজারা বলে উঠবে ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।

মাথাগুলো হয়ে যাবে যান্ত্রিক............
প্রোগ্রামিং করে দেব ওতে............
রিমোট কন্ট্রোল থাকবে আমার হাতে............
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।

EROTIC  কাজ কারবার আরও দেব বাড়িয়ে.........
সানি লিওনের মতো ক্লোন হবে হাজারটা ছাড়িয়ে.........
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।

আমার দেশে যান্ত্রিক মানুষগুলো হবে দারুণ সুখী.........
মদ, মাংস আর মেয়েছেলের কল্যাণে থাকবে না কেউ দুঃখী.........
নারী হবে শুধুই দাসী আর ভোগ্যপণ্য.........
থাকবে না কোনও সম্পর্ক অন্য কারোর জন্য............
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।

যায় যদি যাক নারীর প্রাণ......
কলিযুগের রাজা শয়তান............

রুগ্ন শিশু হবে পশুর সমান.........
কলিযুগের রাজা শয়তান.........
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।

এমন সময় উঠল ত্রাহি ত্রাহি রব। শঙ্খ ফুঁ দিয়ে উঠলেন ভগবান স্বয়ং। দেশের কোনা কোনা থেকে ছুটে এল কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, কবি, শিক্ষক, আমলা, বিপ্লবী ও আপামর জনগণ। ছুটে এল ছোট ছোট শিশু ও নারীবাহিনী। এক বিশাল বড় দড়িতে ফাঁস লাগিয়ে শয়তানের গলায় পরান হল সেটা। তারপর............

দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান।।

দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান...............

প্রেমাংশু 
           

     

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...