ভগবান ও শয়তানের লড়াই
ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন
ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে
প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে
তোর এই লীলা খেলা?
শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি
ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে
চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে
সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই
ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব।
তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস
দেখি ধ্বংসকে রুখতে।
ভগবানঃ- ভুল বলছিস।
সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির
কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে
প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই
সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের পাশে
দাঁড়াক, গরীবদের পাশে দাঁড়াক। হাতে হাত মিলিয়ে নিত্য নতুন উদ্ভাবনী কার্য়কলাপের
মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলুক।
শয়তানঃ- আলো দেখাবি? বাহ
ভালো। তাহলে অন্ধকারটা কে দেখাবে? তোর বাবা? আচ্ছা তুই যে ঘরে বসবাস করিস সেখানে
যদি সারাদিন ও সারারাত আলো জ্বালিয়ে রাখিস, তাহলে রাতে তোর ঘুম আসবে! আসবে না তো?
কেন অস্বীকার করছিস বে, যে অন্ধকারেরও প্রয়োজন আছে। এই যে অন্ধকার থেকে আলোর পথ
দেখিয়ে ভগবান হিসাবে খুব নাম ও টু পাইস কামাবি সেটার পরোক্ষ কৃতিত্ব কিন্তু আমারই
বর্তায়। ঠিকাছে!
ভগবানঃ- টু পাইস। আমি?
আমার অর্থের প্রয়োজন আছে কি আদৌ? কি সব বলছিস?
শয়তানঃ- ঠিক বলেছি। তোর
পোষা ভণ্ড সাধুগুলো পৃথিবীতে তো রাসলীলা লাগিয়ে রেখেছে সারাক্ষণ, আর যাকে পাচ্ছে
বারা তার মাথা খাচ্ছে। এক একটার কি সম্পত্তি বে! তার ওপর আবার সেবাদাসীতে ভরা। যে
সে নয়, পুরো কচি মাল, ডবকা একেকটা। সারাক্ষণ শুধু ভণ্ডগুলোর পাশে ঘুরঘুর ঘুরঘুর করেই
চলেছে। এসি গাড়ি, এসি বাড়ি। বারা এগুলোকে স্পন্সর করে কে! কি বেশ যেন নামটা? হ্যাঁ
রাম ও রহিম। শালা ও তো আমার থেকেও বড় শয়তান।
ভগবানঃ- ওর মধ্যে এই
অতিরিক্ত কামভাব তো তুইই ঢুকিয়েছিলিস?
শয়তানঃ- বাল বেশ করেছি,
একশবার করব। আমার কথা কজন ভাবে বে? শালা ভয় না পেলে ভাবেই না। সেই জন্য আমি
মানুষের মধ্যে ঢুকে ধর্ম বিভাজন এনেছি ও ভবিষ্যতে আরও আনব। জাত পাতের বিভাজন
এনেছি। দেখছিস না এখন কেমন ‘জয় শ্রী রাম’ বলে কিছু মানুষ অপর মানুষকে খেপিয়ে
তুলছে। ‘জয় মা কালী’, ‘আল্লাহ আকবর’ এইসব আলাদা আলাদা বিভাজন নিয়ে এসেছি। যুদ্ধ
লাগল বলে! সবসময় একটা সাম্প্রদায়িকতার হাওয়া চলতেই থাকবে। পাবলিক টিভির সামনে বসে
চায়ের কাপে কত ঝড় তোলে এসব নিয়ে! আর তুই এসব নিয়ে ভেবে মরছিস। শোন, সাধারণ পাবলিক
হচ্ছে সবচেয়ে বড় বোকাচোদা।
ভগবানঃ- মুখে লাগাম দে।
ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে ভেতরে ভেতরে এখন আগুন জ্বলছে। কে যে কখন
কি করে বসে কোনও ঠিক নেই। কেন যে তুই ওদের মধ্যে ষড়রিপুর ইনজেকশনটা করতে গেলি!
ডোজটাও মনে হচ্ছে ঠিক ঠাক দিসনি। সবসময়তেই যেন একটা হিংসার আগুন জ্বলছে। তোর জন্য
এই আগুন হয়তো কোনোদিনও নিভবে না।
শয়তানঃ- তুই তো
সৃষ্টিকর্তা, তুই ওদের কন্ট্রোল কর! জ্বলুক, এই যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবটা যত চলবে ততই না
মজা। মানুষের ধ্বংস বা মৃত্যুর জন্য আমাকে ষড়রিপুর প্রয়োগ করতেই হতো। ষড়রিপু, I just love it. কি ভালো না শব্দগুলো! ‘কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ
ও মাৎষর্্য। কাম শব্দটা শুনলেই তো আমার কেমন কাম কাম ভাব জেগে উঠছে। শাসক, বিরোধী
দু দলেই এখন বেশ ডবকা ডবকা মাগী এসেছে। ভাবছি ওদের সাথে চরম লেভেলে সেক্স করব।
সঙ্গমের তীব্র মুহূর্তে সেই মাগীটা চিৎকার করে বলবে ‘আমি তোমার কাছে এত দূর থেকে
কেন এসেছি বলো, বলো কেন এসেছি আমি’।
ভগবানঃ- ওটা ভুলেও করিস
না। ওর দলের নেত্রী যখন তখন গাড়ি থেকে নেমে পড়ে ‘আয় কে আছিস, সামনে এসে কথা বল’
বলে ঝগড়া করে। আচ্ছা একটা কথা বল, ইদানিং দেখছি প্রযুক্তির উপর তোর খুব লোভ
জন্মেছে। আর এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র করেই তুই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মাথা খাচ্ছিস।
বিশ্বায়নের যুগে হাতে হাতে মুঠোফোন আশায় ছেলেমেয়েগুলোর মগজে শুধুই ভিডিও গেম,
পর্ণোগ্রাফি, মোমো, ব্লু হোয়েলের মতো নারকীয় খেলা। খেলা না বলে হত্যালীলা বলাই
ভালো। প্রযুক্তির এ কোন অভিশাপে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে কে জানে! গানবাজনা, সাহিত্য, কবিতা, খেলাধূলা এসবের দিকে ওদের কোনও আগ্রহই
নেই। সব কেমন জানি অন্তঃসারশূন্য। নিজেকে সবাই আসতে আসতে ঘরবন্দি করে নিচ্ছে,
ভার্চুআল জগৎকে বাস্তবিক মনে করছে। প্রকৃত বিকাশ হচ্ছে কোথায়? আর এর পেছনে তুই
ক্রমাগত ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছিস। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এখন অবাধ যৌনতা,
পর্ণোগ্রাফি, মাদক ও তার ব্যবহার। পণ্য হয়ে বিকোচ্ছে এসব অনলাইন মারফত। মানুষ
যেগুলোকে সত্যি বলে ভাবছে আসলে তা সত্যি নয়। সবকিছুর মধ্যেই এক অতিরিক্ত
দেখনদারিত্বের ঝলকানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই যে ছেলেমেয়েগুলো আত্মহত্যা করে ফেলছে
এইসব নারকীয়, পিশাচ ঘটনায় তোর খুব আনন্দ হয়, তাই না?
শয়তানঃ- তুই ভগবান হয়েও
একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছিস যে এগুলোই আমার ধর্ম, কর্ম। যতদিন সত্য আছে ততদিন মিথ্যা
থাকবে, যতদিন আলো আছে ততদিন অন্ধকার থাকবে। যতদিন ভগবান থাকবে ততদিন শয়তানেরও দাপট
চলবে। হা হা হা হা। তুই তো নিজের কর্ম করে যাচ্ছিস, তাহলে তোকে এত বিচলিত দেখাচ্ছে
কেন? নির্লিপ্ত ভাবে, নিরাসক্ত ভাবে নিজের কাজ করে যা। প্রকৃতির কথা, মানুষের কথা
ভেবে কেন শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছিস? মরতে দে ওদের। শালা! সব নরকের কীট।
ভগবানঃ- চুপ কর! প্রকৃতি,
মানুষ, সমস্ত জীবজগৎ আমার সৃষ্টি। আমার সন্তান এরা।
শয়তানঃ- দূর বাল। রাখ তোর
সন্তান। কটা প্রকৃত মানুষ আছে বে যে তোকে মন থেকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে? কটা আছে
যারা অন্তর থেকে পূজা করে? শুধু আরও চাই মা, বাবা আরও দাও। হাতে গোনা কয়েকটা আছে
তাই তুই টিকে আছিস এই ঘোর কলিতেও। আর আমার প্রতি? পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক জীব ভয়
পায় আমায়। সেবার যখন নেপালে ভূমিকম্প হলো বা ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি তখন বেশ বড় বড়
বুলি কপচানো বুদ্ধিজীবীগুলোও টপাটপ পটল তুললো। আমার অবশ্য কষ্ট দিয়ে, জ্বালাতন করে
মারতে দারুণ লাগে। ঠিক যেমন করে একটা দুষ্টু বাচ্চা ফরিং বা মশা বা পিঁপড়ে ধরে
একটা একটা করে ঠ্যাং ছিরে মারে। সেরকম মৃত্যু দেখলে আমার যে কিরকম আনন্দ হয় কি
বলব! ধর, রাস্তায় এক্সিডেন্টে কারোর মাথাটা থেঁতলে গেছে। বেচারা তখনও হয়ত বেঁচে
আছে। রাস্তার একপাশে পড়ে পুরো দেহটা কাতরাচ্ছে। ভয়ে শালা কেউ এগিয়েও আসছে না। তোর
সন্তানদের ৮০/৮৫ ভাগ শালা ভীতু, মেরুদণ্ডহীন, কৃমি কোথাকার। কেউ হয়ত বাবাগো মাগো
বলে চিৎকার করছে, কিন্তু বাঁচাবার কেউ নেই। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা রাস্তা। আমার
এইরকম পৈশাচিক দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগে। এগুলো তো খুব তুচ্ছ ঘটনা। ভাবছি এমন একটা
দেশ তৈরি করব যেখানে কোন বিরোধিতা হবেই না। সর্বত্র সাম্যতা বজায় থাকবে। বিরোধিতার
নামমাত্র থাকলে তার গর্দান দেব। লেখক, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ,
সমাজসেবক, ধর্মগুরু, ইমাম, বিপ্লবী এদের ঢুকতেই দেব না সেই দেশে। শালা বুদ্ধিজীবীর
দল, কেউ কনডোমে ত্রিশূল থুড়ি ত্রিশূলে কনডোম পড়াচ্ছে তো কেউ সমকাম নিপাত যাক বলে
চেল্লাচ্ছে, কেউ কাকের ও হাওয়াই চটির ছবি এঁকে আলবাল বকে যাচ্ছে। সারাদিন ধরে শুধু
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টিভিতে বুলি কপচিয়ে যাবে। বোকাচোদাগুলোর আর কোনও কাজ নেই। সবকটাকে
ল্যাংটো করে পোঁদে গরম শিক ঢুকিয়ে দেব। পাগলের মতো চিৎকার করবে। আমি তাড়িয়ে তাড়িয়ে
উপভোগ করব। ওদের প্রত্যেকের বেশি বুদ্ধি বলে সবকটাকে যন্তরমন্তর ঘরে ঢুকিয়ে দেব।
তারপর কড়া কড়া ডোজের ট্যাবলেট গুঁজে দেব মুখে। আমি যা বলব ওরা তাই করবে। সেই
রাষ্ট্রের আমিই হব একমাত্র রাজা। সব ব্যাটাকে নজরবন্দী করে রাখব সিসিটিভির
মাধ্যমে। সিসিটিভি হল আজকের যুগের মডার্ন গুপ্তচর। দেখছিস তো এখন সিসিটিভির কি
রমরমা বাজার। একবার কোনও এক শপিং মলের ট্রায়াল রুমের ভেতর এক মহিলা মন্ত্রী পোশাক
পরিবর্তন করছিলেন। সে খবরও তো ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। নেহাত মন্ত্রীর ক্ষমতা সাধারণ
মানুষের থেকে বেশি তাই সেই ট্রায়াল রুমের ভেতরের গোপন দৃশ্য সাধারণ জনগণের মধ্যে
ফাঁস হয়নি। নাহলে কেলো করেছিল। আমি এরকম একটা দেশ তৈরি করব যেখানে ব্যক্তিগত বলে
কিছু থাকবে না। মানুষ কি ভাবছে কি চিন্তা করছে সেটা সবসময় জানা দরকার। সমাজে নারী
ও পুরুষের মধ্যে শুধু একটিই সম্পর্ক থাকবে। আর সেটা হবে যৌনতার। প্রত্যেকে
প্রত্যেকের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখতে পারবে। নারীর কোনও পরিচয় থাকবে না। সে হবে যৌনদাসী।
যদি কোন রুগ্ন শিশু জন্মায় তবে কোনও পিডোফিলিক জানোয়ার তাকে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। ওদের
মরে যাওয়াই ভালো। কি হবে দেশে জনসংখ্যা বাড়িয়ে। কোনও বাঁধা থাকবে না। তবেই না দেশে
সাম্যতা আসবে। মন দেওয়া নেওয়া, চাওয়া পাওয়া, অধিকারবোধ কিছুই থাকবে না। আর আমি
এগুলো তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করব। সমস্ত কিছুই হবে সিসিটিভির নজরে। ফলে আমি রিয়েল
পর্ণোগ্রাফি দেখব রাজ সিংহাসনে বসে। হা হা হা হা। আমি শয়তানের রাজা, আমি পিশাচ,
আমি লোভী, আমিই হব সর্বশক্তিমান। এই পৃথিবী হবে আমার, একমাত্র আমার।
ভগবানঃ- ছিঃ ছিঃ, কি
নোংরা বিকৃত মানসিকতা তোর। এ কানে শোনাও যে মহাপাপ। আমি থাকতে এ আমি কোনোদিন হতে
দেব না।
শয়তানঃ- গাঁড় মারি তোর
পাপপুণ্যের। বাল নিজে স্বর্গের সিংহাসনে বসে বসে শুধু উর্বশী, মেনকার পতলি কোমর ও
নিতম্ব দেখে এসেছ সেইবেলা! এইসব স্বর্গের অপ্সরাদের সাথে লটরপটর কি কম করেছিস তুই
ও তোর সাঙ্গপাংগরা। আমরা করলেই যত দোষ না! শালা হিপোক্রিট।
ভগবানঃ- আমি হতে দেব না
এসব। কিছুতেই না। এরকম অরাজতান্ত্রিক দেশ কখনোই সম্ভব নয়। তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে
পরবে তোর এই নোংরা রাষ্ট্র। যে দেশে মানবতা নেই, প্রেম নেই, ভালবাসা নেই সে দেশ
কোনোভাবেই চলতে পারে না।
শয়তানঃ- আর রাজনীতি নেই
সেকথা বললি না? পেটে রেখে দিলি। ওটা তো তোর আসল চাবিকাঠি। ওটা নিয়েই যে মহাভারত ও
রামায়ণে কত খেলই না দেখালি। সৎ যুধিষ্ঠির ও তার চার ভাই মাথা নিচু করে দ্রৌপদির
বস্ত্রহরণ দেখে গেল। আর তুই মাঝখান থেকে কেষ্ট ঠাকুর সেজে সেই সভায় এসে বস্ত্র
প্রদান করে পৃথিবীতে মহান হয়ে গেলি। সেই থেকে কোনও মহিলার মোলেসস্টেশন হলেই হা
কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলে মহিলারা তোকে ডাকতে থাকে। রামায়ণে রাম সেজে সীতা কে বার কয়েক
অগ্নি পরীক্ষায় বসালি। তোর লজ্জা করে না, অমন সুন্দর সতী সাবিত্রী বউ কে.........
ছিঃ। তোর থেকে রাবণ অনেক
গুণে শ্রেষ্ঠ। প্রকৃত পুরুষের মত পুরুষ। সীতা কে তুলে নিয়ে গেলেও শরীর স্পর্শ
করেনি একবারের জন্যেও। অথচ দেখ প্রত্যেক বছর ঘটা করে ওর মূর্তি পোরানো হয়। এগুলো
নোংরামো নয়? শোন এটা ঘোর কলি। এই কলি যুগে তোর দিন শেষ। সমস্ত সত্যের পরাজয় ঘটিয়ে
ছাড়ব আমি। আর তার জন্য আমার প্রথম ও প্রধান অস্ত্র হবে প্রযুক্তি। নিত্যনতুন টপ ক্লাস
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমেই বশ করব বুদ্ধিজীবী ও আমলাদের মাথা।
যার মাথায় অতিরিক্ত
বুদ্ধি ধরে.........
তার মগজে দাও বেশি করে GB ভরে.........
কি ঠিক কিনা? পাশ থেকে
আমার প্রজারা বলে উঠবে ‘ঠিক ঠিক ঠিক’।
মাথাগুলো হয়ে যাবে
যান্ত্রিক............
প্রোগ্রামিং করে দেব
ওতে............
রিমোট কন্ট্রোল থাকবে
আমার হাতে............
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক
ঠিক’।
EROTIC কাজ কারবার আরও দেব বাড়িয়ে.........
সানি লিওনের মতো ক্লোন
হবে হাজারটা ছাড়িয়ে.........
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক
ঠিক’।
আমার দেশে যান্ত্রিক
মানুষগুলো হবে দারুণ সুখী.........
মদ, মাংস আর মেয়েছেলের
কল্যাণে থাকবে না কেউ দুঃখী.........
নারী হবে শুধুই দাসী আর
ভোগ্যপণ্য.........
থাকবে না কোনও সম্পর্ক
অন্য কারোর জন্য............
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক
ঠিক’।
যায় যদি যাক নারীর
প্রাণ......
কলিযুগের রাজা
শয়তান............
রুগ্ন শিশু হবে পশুর
সমান.........
কলিযুগের রাজা
শয়তান.........
কি ঠিক কিনা? ‘ঠিক ঠিক
ঠিক’।
এমন সময় উঠল ত্রাহি
ত্রাহি রব। শঙ্খ ফুঁ দিয়ে উঠলেন ভগবান স্বয়ং। দেশের কোনা কোনা থেকে ছুটে এল কৃষক,
শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, কবি, শিক্ষক, আমলা, বিপ্লবী ও আপামর জনগণ। ছুটে এল ছোট ছোট
শিশু ও নারীবাহিনী। এক বিশাল বড় দড়িতে ফাঁস লাগিয়ে শয়তানের গলায় পরান হল সেটা।
তারপর............
দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান।।
দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান
খান...............
প্রেমাংশু

কেমন লাগল সবার জানিও।
ReplyDelete