Skip to main content

সম্বন্ধ


সম্বন্ধ

আজ মেয়ের বাড়ির থেকে আসার কথা। রমিতের বিয়ের সমন্ধ চলছে অনেকদিন ধরেই। কোনওটাই ঠিক কার্যকরী হচ্ছে না। দেখা যাক আজ কি হয়। মেয়ের বাড়ি চুঁচুড়ায়। কোলকাতার কাছাকাছি এক মফঃস্বল শহরে। মেয়ের বাবা একবার এসে দেখে গিয়েছেন রমিতকে। পাত্র পছন্দ হয়েছে তার। তাই কাল ফোন করে জানালেন আবার সপরিবারে আসবেন আজ। সঙ্গে পাত্রীও আসতে চায়। বর্তমান সময়ের কথা ভেবে রমিত ও তার পরিবার পাত্রীকে আসার জন্য বরং স্বাগতমই জানায়। রমিতের বয়স বত্রিশ। হাইট পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বিগত ছয় বছর ধরে। নয় নয় করে প্রায় ন’বার পাত্রীপক্ষের সামনে বসেছে রমিত, কিন্তু কোনও সম্বন্ধই টেকে নি। না এতে রমিতের বা তার পরিবারের কোনও হাত নেই। একমাত্র দুটি পাত্রী ছাড়া বাকি সবকটি সম্বন্ধেই রমিতের মত ছিল। কিন্তু পাত্রীপক্ষই বরং রমিত ও তার পরিবারকে নাকচ করে দেয় প্রতিবার। রমিত কিন্তু দেখতে খারাপ নয়। বরং হ্যান্ডসামই বলা চলে। অন্তত ওর বন্ধুবান্ধবেরা সেরকমই বলে থাকে ওর সম্পর্কে। রমিত ফর্সা, চেহারা স্লিম না হলেও একটা না রোগা না মোটা ভাব আছে। অত্যধিক পুরুষালী বা পেটাই চেহারা বলতে যা বোঝায় রমিতের চেহারা সেরকম নয়, বরং শরীরে একটা লালিত্য এবং গোলগাল ভাব আছে। যা তথাকথিত ভাবে রমিতকে একটা ‘ভালো ছেলে’র তকমা দেয়। জিন্স, টিশার্ট, ফর্মাল বা পাঞ্জাবী কোনটাতেই কিন্তু রমিত বেমানান নয় বরং আর পাঁচটা ছেলের তুলনায় একটু বেশিই ভাল দেখায় ওকে। চোখে একটা সরু কালো ফ্রেমের চশমায় বেশ ইন্টেলেকচুয়াল ভাবটাও লক্ষ্য করা যায় ওর মধ্যে। এমনিতে রমিত বুদ্ধিদীপ্ত, হাসিখুশি, তবে একটু চাঁপা স্বভাবের। মনের কথা মুখে আনতে সময়টা যেন একটু বেশিই লাগে। তথাকথিত ভাবে স্মার্ট বলতে যা বোঝায় রমিত বোধহয় তা নয়। আসলে একটু চুপচাপ ছেলেদের তুলনায় টকিটিভ ছেলেদের প্রাধান্য বোধহয় মানুষ বেশি দেয় আজকাল। রমিত হলো গিয়ে আজকের যুগের গুডি গুডি বয়, অথবা বলা ভাল বাবা মায়ের ভালো ছেলে। ও যে চাকরিটা করে সেটাও খুব আহামরি কিছু নয়। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এলাকায় একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জুনিয়র ক্লার্ক হিসাবে পোস্টেড আছে রমিত। মাসিক মাইনে পনের হাজার টাকা পি এফ, ই এস আই সব মিলিয়ে। কোলকাতার বুকে নিজস্ব বাড়ি ওদের। ছোট্ট তিনকামরার টালির বাড়ি। একটি সরু ঘিঞ্জি গলির ভিতর। রমিতের বাবার একটা ছোটখাটো ব্যবসা ছিল। অর্ডার সাপ্লাইয়ের। ভদ্রলোক শারীরিকভাবে বেশ খানিকটা উইক হয়ে পড়ায় আপাতত ব্যবসার কাজ স্থগিত আছে। রমিতের মা বেশ কিছু ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের টিউশানি করেন বাড়িতেই একসঙ্গে বসিয়ে। সংসারে লোক বলতে এই তিনজন এবং ওর ঠাকুমা যিনি বিগত তিন বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। ছোট্ট সংসার, ছিমছাম ও পরিপাটি করে সাজানো ওদের ঘরগুলো। সংসারে সবাই যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিজেদের মধ্যে কথাবার্তাও ওদের কম হয়। ছোটবেলা থেকেই এইভাবে মানুষ হওয়ার জন্য রমিতের মধ্যে একটা একাকিত্ব কাজ করে, একজন ভাবুক মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ওর মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। পাড়াতেও ও খুব একটা পপুলার নয়। জাস্ট অমুক বাড়ির ছেলে।

তা এহেন ছেলের কি পাত্রীর অভাব হওয়া উচিত? আসুন একটু দেখে নি।

ওদের বাড়ি থেকে কোনও দাবিদাওয়া নেই। মেয়ে শুধুমাত্র ঘরোয়া ও সুশ্রী হলেই হবে। বয়স ২৬-২৭ এর মধ্যে হলেই ভাল এরকম লিখে বর্তমান কাগজে ছেলের জন্য একটি বিজ্ঞাপন দেন রমিতের বাবা। সেই বিজ্ঞাপনের দৌলতে ও জানাশোনা কিছু লোকের মাধ্যমে সম্বন্ধগুলো আসতে থাকে। সম্প্রতি একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছে রমিতপাত্রীর বাড়ির লোক আজকাল প্রথমেই পাত্রপক্ষকে নিমন্ত্রণ করে না মেয়ে দেখে যাওয়ার জন্য। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উল্টোটাই ঘটে। পাত্রীপক্ষই আগে এসে সবকিছু দেখে, বুঝে ও জেনে যেতে চায়। এভাবেই দেখা সাক্ষাৎ চলতেই থাকছিল নতুন নতুন পাত্রীর সন্ধানে। কিন্তু বিয়ের জন্য পাকা কথা পর্যন্ত এগোল না কিছুতেই। চুঁচুড়া থেকে কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করেছিলেন মেয়ের বাবা। প্রথমেই ছেলেকে এসে দেখতে চেয়েছিলেন। দেখলেন, কথা বললেন এবং পছন্দ করলেন। বলে গেলেন যে বাড়ির লোকজনকে নিয়ে আরও একবার আসবেন। পাত্রী স্নাতক, বাংলায় অনার্স, ফর্সা, সুশ্রী। আপাতত বছর দুই হল স্নাতক হয়েছেন ও বর্তমানে একটি নাচের স্কুলে জয়েন করেছেন। পাত্রী ভাল নাচিয়ে। ছোটবেলা থেকেই নাচের খুব শখ। এই কথা জেনে রমিতের একটা কথা মনে পড়ে যায়। ওর অফিসের রায়বাবু একবার মজার ছলে বলেছিলেন যে, ‘পাত্রী যদি ভাল নাচিয়ে হয় তবে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করে নেবে যে মেয়ে কি শুধু নাচতেই জানে, নাকি ভাল নাচাতেও জানে?’ – কথাটা মনে পড়ায় একটু হাসি আসল রমিতের মুখে। কিন্তু এ হাসি যে কখনোই একটি দীর্ঘস্থায়ী হাসিতে পরিণত হতে পারে না রমিত ও তার পরিবারের কাছে। মাঝে মাঝে রমিতের মনে হতে থাকে এ যেন এক সামাজিক সমস্যা বা অবক্ষয়। আসলে দাবার গুটিগুলোই বোধহয় পারস্পরিক পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সমস্যাটা বোধহয় থেকেই গেছে। কিছু বছর আগেও ছেলের বাড়ি বা পাত্রপক্ষ নানারকম দাবীদাওয়া ও ধানাইপানাই করত একটি বিয়ের সম্বন্ধ হলে। এখন সেটা পাত্রীপক্ষের বাড়ি থেকেই প্রথমে শুরু হচ্ছে। মেয়েপক্ষই যেন আগেভাগে সব কিছু চেয়ে বসছে পাত্রপক্ষের কাছে। আগে যেমন পাত্রপক্ষ দেনাপাওনার ব্যাপারে সব কিছু কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নিত, এখন ঠিক সেইরকমভাবেই পাত্রীপক্ষ ছেলের বাড়ির ও চাকরির ব্যাপারে খুব ভালো করে আগেভাগেই বুঝে নেয়। ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ার মার্কেট ও এস আই পির ব্যাপারেও পাত্রী সরাসরি পাত্রের কাছে খোলাখুলি জানতে চায়। জেনে বুঝে নিতে চায় টাকাপয়সার পাই টু পাই হিসেবনিকেশ। রমিত একজন কমার্স গ্র্যাজুয়েট হয়েও এইসব হিসেবনিকেশে খুব কাঁচা থেকে গিয়েছে। ভালোবাসা শব্দটার সঙ্গে দেনাপাওনা ও ব্যাংক ব্যালান্স যে একপ্রকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা ও আজ বেশ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। নারী ও পুরুষের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক যা কিনা বিবাহের  মাধ্যমে শুরু হয়। কিন্তু সেই সম্পর্কের শুরুতেই চলে আসে দেনাপাওনা, মিথ্যাচার, কড়ায়গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়ার লড়াই। যা হয়ত কোনোদিনও বন্ধ হবার নয়। সামাজিক অবক্ষয়টা বোধহয় এখানেই। রমিতের প্রায়শই মনে হতে থাকে যে সেই রবিঠাকুরের দেনাপাওনার সময় থেকে আজও সমস্যাটা একইরকম বোধহয় থেকেই গেছে। শুধুমাত্র সময়কাল ও পরিবেশটা হয়ত বদলেছে। পৃথিবীর একটি শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক যা কিনা প্রথমেই শুরু হয় দেনাপাওনার হিসাব দিয়ে। এই চিন্তাই মাঝে মাঝে রমিতকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। মনে পড়ে যায় ওর সেই বয়সন্ধিকালের গোপন প্রেমের কথা। যা কিনা কেউ বুঝবে না, জানবে না। যা একেবারেই একান্ত ব্যক্তিগত, নিষ্পাপ একটি ফুলের কুঁড়ির মতো। ওদের পাশের বাড়ির মনীষাদি। যে কিনা রমিতেরই কিরকম দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় হয়। মনীষাদির বাড়িতে ও একসময় রোজ সকালবেলা শিউলি ফুল কুঁড়াতে যেত। রমিত মনীষার বাবা ও মাকে জেঠু ও জেঠিমা বলে সম্বোধন করত। রমিতের বাবার পিসির দেওরের ছেলে এই মনীষার বাবা। ঘটনাচক্রে একই পাড়ায় বসবাস ওদের। সেই সুত্রে প্রায় ছোটবেলা থেকেই একইসঙ্গে বেড়ে ওঠা ওদের। মনীষা রমিতের থেকে দুবছরের বড়। তাই ছোটবেলা থেকে রমিত মনীষাকে ‘মনীষাদি’ বলেই ডাকত। একদিন ভোরবেলায় রমিত গেছে ওদের বাড়িতে শিউলি ফুল আনতে। তখন রমিত ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। এক আষাঢ় মাসের ভোরবেলা। হঠাৎ করেই কালো করে আসল সারা আকাশ। ঘন কালো মেঘে পুরো ছেঁয়ে এসেছে। উঠোন থেকে একটা একটা করে ফুল কুঁড়োতে থাকে ও। মনীষাও কুঁড়োতে থাকে। ঝমঝম করে বৃষ্টি নামতে শুরু করল সেইসময়। মেঘ কালো করে এসে সব অন্ধকার করে দিল। বর্শার ফলার মতো করে এসে গাঁয়ে বিঁধতে লাগল বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা। মনীষা খপ করে রমিতের ডান হাতটা ধরে টানতে টানতে উঠোনের পাশের পরিত্যক্ত ভাঙ্গা ঘরটায় উঠে এল। হঠাৎ করে তীব্র ভাবে বৃষ্টি আসার কারণে ওরা দুজনেই বেশ ভালরকম ভিজে গেল। মনীষা নিজের বুকের ওড়নাটা সরিয়ে চেপে চেপে বৃষ্টির জল নিংড়োতে থাকে। ঘরটাতে পুরনো আসবাবপত্র এবং পরিত্যক্ত জিনিস একসঙ্গে মজুত করে রাখার কারণে ওদের দুজনের সেখানে একসঙ্গে দাড়াতে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল। মনীষার শরীরের উষ্ণ স্পর্শ রমিত মাঝে মধ্যে অনুভব করছিলযদিও মনীষার সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজের ওড়নাটা দিয়ে মাথার চুল মুছতে থাকে ও। রমিত খুব জড়সড় হয়েই চুপটি করে দাড়িয়ে থাকে। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি অনবরত হয়েই চলেছে। সঙ্গে বজ্রপাতের আওয়াজ। জোরাল বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরটিতে আলো খুব কম। প্রায় অন্ধকারই বলা চলে। সেসময় এক বিকট আওয়াজে প্রচণ্ড জোরে বজ্রপাত হওয়ায় মনীষা ভয়ে কেঁপে ওঠে ও রমিতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। সেই প্রথম এক সদ্য যৌবনা মেয়ের শরীরের স্পর্শ রমিত অনুভব করে। দুটো সিক্ত শরীর মুহূর্তের মধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে যেন এক বিদ্যুৎ খেলে যায় রমিতের শরীরে ও মনে। মনীষার ভেজা ঠোঁটের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ও। দুজন দুজনের শরীরের প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ অনুভব করে সেই বিশেষ মুহূর্তে। রমিত আলতো করে কিছুটা ভয়ে নিজের ঠোঁট রাখে মনীষার ঠোঁটের উপর। এক আবেগঘন মুহূর্তে নিজের ডান হাতটা মনীষার বুকের উপর রাখে রমিত। চমকে ওঠে মনীষা। ঝটিতি সিদ্ধান্ত নেয় ও হাল্কা করে ধাক্কা মারে রমিতকে। এক লজ্জামিশ্রিত ভয়ে কুঁকড়ে ওঠে রমিত। বুঝে উঠতে পারে না কি করা উচিত ওর সেই সময়ে। মনীষা রমিতের কানের কাছে এসে বলে ওঠে ‘কাকিমাকে কিন্তু আমি আজকের ঘটনা নালিশ করব’ – বলেই খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে ও এক ছুঁটে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। মনীষার ওড়নাটা তখনও রমিতের হাতের মধ্যে ধরা।

এই ঘটনার এখানেই পরিসমাপ্তি ঘটে। রমিতের দুরুদুরু বুক ও চক্ষুলজ্জা আর মনীষার দিকে এগোতে দেয়নি। মনীষাও সামনাসামনি দেখা হলে ‘কেমন আছিস রমিত’ বলে মাথার চুলের মধ্যে হাল্কা বিলি কেটে চলে যেত। যেন সেদিনকার ঘটনাটা কিছুই নয়। কেমন এক তীব্র অপমানকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল রমিত সেসময়। এই তীব্র অবহেলা দগ্ধে দগ্ধে যেন শেষ করে দিচ্ছিল ওকে।
                        ....................................

মায়ের ডাকে সম্বিত ফিরে পায় রমিত। ওনারা নাকি এসে গিয়েছেন। এবার পাত্রীপক্ষের লোকসংখ্যা গণনা করে সেই মতো মিষ্টি আনতে হবে ওকে। মেয়ের বাড়ি থেকে মোট সাতজন এসেছেন। সেই মতো মিষ্টি আনতে হবে। প্রতিবারের মতো এবারেও। রমিত জানে এই সময়টায় বাবা ও মায়ের সাথেই বেশি কথা হবে পাত্রীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে। মেয়ের সঙ্গে মামা, মামী, মাসি, মেসো, মেয়ের বাবা এবং ওনার এক বন্ধু এসেছেন। রমিত তৈরি হয়েই আছে। এবারে যে ইন্টারভিউয়ে বসতে হবে। তাড়াতাড়ি মিষ্টি কিনতে গেল ও। রাস্তায় যেতে যেতে ভাবতে থাকে ও যে এত লোক যদি ছেলে ও তার বাড়ির লোককে বিচার করতে আসে তাহলে নানা মুনির নানা মত হবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। সুতরাং এ সম্বন্ধও যে একটা পজিটিভ দিকে এগোচ্ছে এমনটা তো নাও হতে পারে, বরং উল্টোটাই হওয়ার চান্স বেশি। মিষ্টি কিনে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে রমিত। রান্নাঘরে এসে মায়ের সাথে কাজে হাত লাগায়। প্লেটে সাজাতে থাকে মিষ্টিগুলো। ওর মা নিচু স্বরে রমিতকে জানায় যে পাত্রী নাকি আর এক মুহূর্তও বসতে চাইছে না। একটা ফোন এসেছিল বাড়ি থেকে। নাচের কি একটা প্রোগ্রাম পড়েছে। এখুনি নাকি যেতেই হবে। মিষ্টি নিয়ে ঘরে ঢোকার পর রমিতের সাথে দু’চার কথার আলাপ হয় পাত্রীপক্ষের সবার সঙ্গেই। রমিত লক্ষ্য করে পাত্রীর বাবা কেমন যেন একটু মাথা নিচু করে বসে আছেন। বাকি মেম্বাররা মিষ্টিগুলো গোগ্রাসে গিলেই বাড়ি থেকে বেরোনোর জন্য শশব্যস্ত হয়ে পড়ল। তাই সেইমতো তড়িঘড়ি করেই ওনারা বেরোবার জন্য প্রস্তুত হলেন। রমিতের বাবা ও মা বুঝতে পারলেন না যে হঠাৎ কি হল। এতগুলো লোক এলেন, বসলেন আর চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন! রমিত কিঞ্চিত সাহস সঞ্চয় করে মেয়েকে একান্তে পেয়ে প্রশ্নটা করেই বসল – ‘সত্যি করে বলুন তো, আমাদের বাড়ি বা আমাদের মানুষজনকে আপনার বোধহয় ঠিক পছন্দ হয় নি, তাই না?’

‘হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন। সরাসরি কথা বলতেই আমি পছন্দ করি। নিজে এরকম পরিবেশে বড় হয়েছি ঠিকই, কিন্তু I need a change. একটা ক্লাস মেনটেন করতে হবে তো। চিরকাল তো আর এরকম থাকতে পারে না। এরকম সবার সাথে কমন বাথরুম শেয়ার করা, টালির বাড়িতে একসঙ্গে থাকা এ সব আমার পক্ষে সম্ভব নয়। I need extra space. আর আপনার যা মাইনে তাতে করে আগামি দিনে কোনও ফ্ল্যাট ট্যাট করা মনে হয় সম্ভব হবে না আপনার দ্বারা। সো.........’

‘এ সব কথাগুলো এতদূর থেকে বাড়ি বয়ে এসে না বললেই কি চলছিল না? আশাকরি আপনি সবকিছুই জানতেন। আপনার বাবা নিশ্চয়ই সবকিছু বলেই আপনাদের নিয়ে এসেছেন। জাস্ট একটা ফোন করে জানিয়ে দিলেই তো হতো। আর হ্যাঁ আমি মনে করি বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য ফ্ল্যাটের থেকে অনেক বেশি জরুরী দুটো মানুষের মনের মিল, তাদের একে অপরের ভালোলাগা। ভালোই হল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার জীবনে না আসার জন্য। আপনারা আসতে পারেন’।

রমিতের সামনে দিয়ে প্রায় তিনচার ইঞ্চি হিল জুতো পড়ে গটগট করে হেঁটে চলে গেল মেয়েটি। রাগে, অপমানে জ্বলছিল রমিত। কিন্তু তবুও আজ কেমন যেন এক অপার ভালোলাগা কাজ করছে রমিতের মধ্যে। মনের মধ্যে জমে থাকা এই কথাগুলো বলতে পেরে। যা এতদিন ধরে পুষে রেখেছিল। কোনোদিন যে মুখফুটে কাউকে কিছু বলেনি। আজ যেন নিজের কাছে একটু হলেও জিতে গিয়েছে ও নিজে।     


                                            

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...