#‘থাগস’ ইন তেলেঙ্গানা
-
-পাবলিক যে কখন কি ভাবে আর
বলে কে জানে! যতটা খারাপ বলল আর রিভিউ দিল এ সিনেমা তো ততটা খারাপ নয়। কি তোর কি
মনে হয়?
-
- -আমি একটা কথা এখানে বলতে চাই। সেটা হল এটা ঠিক আমীর খান
মার্কা সিনেমা নয়। আসলে মনে হচ্ছে দর্শকের এক্সপেকটেশন এই ছবিটা থেকে আরও বেশি
ছিল। তাই হয়ত এরকম রি অ্যাকশন। অমিতাভ বচ্চন ও আমীর খান দুজনে এক ছবিতে কাজ করবে,
আরও অনেক বেশি কিছু সোশ্যাল মেসেজ দেবে। এরকম কিছু হয়ত দর্শক ভেবে নিয়েছে।
-
-না এটা তো ঠিক নয়। আমীর কি সোশ্যাল মেসেজই দিয়ে যাবে নাকি
সবসময়? একটা খুব সাধারণ মানের বাণিজ্যিক ছবি কি উনি দর্শকদের উপহার দিতে পারেন না?
তাও ছবিটা যখন দিওয়ালী তে রিলিজ করছে। ভালো করে ছবিটা দেখলে বুঝবি যে এটা একটা
ধামাকাদার ছবি। গোলা, গুলি, বারুদ, জলদস্যু ও মেইন যেটা জিনিস সেটা হল ঠগি। ইয়েস,
থাগস।
-
-তা ঠগিদের কথাই যখন উঠল তখন অরিজিনাল ঠগি আর দেখাল কতক্ষণের
জন্য? ওই তো সেই লাল কাপড় ঘুরিয়ে পেছন দিক থেকে গলার মধ্যে ফাঁস দিয়ে খুন করবার
দৃশ্যটা। ওই একটাই রিয়েল ঠগিদের দৃশ্য সিনেমাতে দেখিয়েছে। বাকি সব তো গাঁজাখুরি।
-
-বাণিজ্যিক ছবি দেখতে আসবি, আর তাতে যদি গল্পের গরু একটু
গাছে চড়ে তাহলেই দোষ? হা! আজব সব। বেশি ইন্টেলেক্ট চু*, থাক মুখ দিয়ে আর খারাপ কথা
বলতে চাই না।
-
-শোন, শোন মাথা গরম করে তো লাভ নেই। মোদ্দা কথাটা হল আমীর ও
অমিতাভ এই প্রথমবার একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করছে। আমরাও না হয় একসাথে সিনেমাটা
দেখলাম। আমরাও না হয় প্রথমবার মানে এই একবার সিনেমাটা দেখলাম। তবে সিনেমাটা হলে না
আসলে কিন্তু ভালো লাগত না।
-
-এ বিষয়ে আমি একমত। এই সিনেমা মোবাইলে বা টিভির পর্দায়
দেখবার নয়। গ্রাফিক্স, ভিএফএক্স এর কাজ কিন্তু বেশ ভাল।
-
-উউ ভিএফএক্স, ভিএফএক্স এর তুমি কি বোঝ চাঁদু? ট্রিপল এক্স
ছাড়া তো আর কিছুই বোঝ না। ভিএফএক্স এর ফুল ফর্ম কি বল তো?
-
-অত জানি না। লোকে বলে তাই বলছি। সিনেমাতে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো
আমার হেব্বি লেগেছে। গুরু অ্যাকশন করছে। ছিয়াত্তর বছরের যুবক অ্যাকশন করছে। শুধু
গুরুকে দেখতেই পাবলিক হলে আসছে আর কি চাই।
-
-তুই যেটা বলছিস সেটা একদম ঠিক। এই সুদূর তেলেঙ্গানা দেশে
যেখানে হিন্দির হ ও ইউজ হয় না, সেখানে সিনেমা হলে তেলেগুর পরিবর্তে হিন্দিতে ছবিটা
দেখতে পাচ্ছি। কেন? কারণ একটাই অমিতাভ বচ্চন। সাথে আমীর খান। এ ছবি নিয়ে বেশি
কাঁটাছেঁড়া করে কি লাভ বলত?
-
-সহমত।
-
-আমিও মানছি। কিন্তু চিত্রনাট্য, একদম জঘন্য। বড্ড বোরিং।
গল্পটাও তো সেরকম কিছু নেই। শুধু আমীরের কিছু চমক ছাড়া। ও যে কোন দলের হয়ে কাজ করে
গেল শেষমেশ, সেটাই তো বোঝা যাচ্ছিল না।
-
-আরে ওই তো অরিজিনাল ঠগি। যাকে বলে থাগ। একেবারে শেষ মুহূর্ত
পর্যন্ত দর্শকদের ঠকিয়ে গেল।
-
-তার মানে তো দর্শক ঠকে গেল। এখানেই তাহলে থাগস অফ হিন্দুস্তানের
জিত। কি বলিস তোরা?
এই ভাবেই আজ দুপুরে
আমাদের তর্ক বিতর্ক চলতেই থাকল। তেলেঙ্গানার এক তেলেগু সিনেমা হলে পাঁচ বন্ধু মিলে দেখলাম ‘থাগস অফ
হিন্দুস্তান’। কেমন লাগল, সেটা আর নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। একবার তো দেখাই যায়।
বেশ কিছু ভাল জিনিস চোখে পড়বেই। আছেন দুই দিকপাল। আসলে আমীর নিজের এক্সপেকটেশন
দর্শকদের কাছে এতটাই বাড়িয়ে ফেলেছেন যে উনি এখন সাধারণ মানের একটি বাণিজ্যিক ছবি
করলে দর্শকের মন ভরে না। তাই হয়তো এত কাদা ছোঁড়াছুড়ি। এই প্রথম দেখলাম আমীর খান
একটি ছবি করলেন যেখানে কোনও সোশ্যাল মেসেজ নেই। উহু বোধহয় একটু ভুল বললাম। একটি
ছোট্ট মেসেজ আছে। ইনসান বা মানুষ জীবনে দুটো সত্যি কোনও না কোনও সময় ভোগ করে। সেটা
হল ‘ধোখা আউর মৌত’। মানুষের চরিত্রের কি ‘ভরোসা’। যেকোনো সময় তা ‘ধোখা’ দিতেই
পারে। কিন্তু শেষমেশ আদপে কি হল? ‘ফিরাঙ্গি মাল্লা’(আমীর অভিনীত চরিত্র) কি
বদলালেন? নাকি ‘থাগস অফ হিন্দুস্তান’ ই রয়ে গেলেন? জয় শেষমেশ কার হয় সত্যের নাকি
মিথ্যার? কোনটা ভাল? ‘অচ্ছে হোকে রহেনা’ নাকি ‘বুরা হোকে রহেনা’ নাকি ‘জিন্দা রহেনা’?
জানতে হলে একবার অন্তত দেখতেই পারেন থাগস।

Well said.
ReplyDeleteThank You......
ReplyDelete