মাংস পোলাউ
পোলাউ মাংস নাকি মাংস
পোলাউ? কোনটা? কি নাম দেবেন এটাকে? আমার তো মাংস পোলাউ শব্দটা বেশ লাগল। আচ্ছা
বেশ, এত ভণিতা করবার আর কোন দরকার নেই। একটা সিনেমা হয়েছিল ঋত্বিক চক্রবর্তীর।
মাছের ঝোল। মনে আছে? আজ আমার সিনেমা। নামটা, ওই মাংস পোলাউই থাক। কি বলেন! গতকাল
সিনেমাটার কাজ শেষ হয়েছে। আজ রিভিউ বেরোবে সিনেমার। তা সিনেমার কাস্ট অ্যান্ড ক্রু
সম্মন্ধে একটু বলি। পরিচালনায় নন্দিনী সাহা চৌধুরী, আমার বউ। এক্সপার্ট ইন মাংস
পোলাউ। সুদূর কোলকাতা থেকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে (কখনও ভিডিও ও কখনও অডিও)এই
নির্দেশনার কাজটি সম্পন্ন করেছেন। অভিনয়ে আমি। আর নামটা বলার বোধহয় দরকার নেই। আমি
শুধু অক্ষরে অক্ষরে তার কথা মত অভিনয়টা করে গেছি। উনি কখনও বলছেন – “অ্যাকশন,
টকদইটা এবারে ভালো করে মাংসের সাথে মাখিয়ে ম্যারিনেট করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখো”।
আবার কখনও বলছেন “মাংসের সাথে আলুগুলোকে এবার তাড়াতাড়ি নাড়াচাড়া করতে থাকো, দেখ
যেন কড়াইয়ের গাঁয়ে লেগে না যায়”।
এছাড়া অনান্য চরিত্রেঃ-
৩০০ গ্রাম চিকেন, চার
হাতা সর্ষের তেল, হাফ চামচ গরম মশলা গুড়ো, হাফ চামচ শুকনো লঙ্কার গুড়ো, এক চামচ
জিরে ও ধনে গুড়ো, এক চামচ নুন, এক চামচের একটু বেশি হলুদ গুড়ো, পাঁচ পিস মাঝারি
সাইজের আলু হাফ করে কাটা, পাঁচ চামচ টক দই, হাফ চামচ চিনি। এছাড়া অতিথি শিল্পী
হিসাবে তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ ও দারচিনি আছেন।
পোলাউকে সমৃদ্ধ করতে জান
লড়িয়ে দিয়েছেন দেড় কাপ বাসমতী চাল, এক চামচ হলুদ গুড়ো, এক চামচ লবণ, পাঁচ চা চামচ
ঘি, এলাচ এক টুকরো, একজন তেজপাতা, লবঙ্গ এক টুকরো। ও হ্যাঁ বলা হয়নি এই সমস্ত
ক্ষেত্রে জলবাবুর ভূমিকা অনবদ্য। পোলাউএ তিন কাপ জান লড়িয়েছেন, মাংসে যখন যেরকম
পেরেছেন নিজের ভূমিকা পালন করে গেছেন, সাধে কি আর কেউ বলে জলই জীবন।
এছাড়া সিনেমাতে
টেকনিক্যাল লোকজনের কথা আলাদা করে আর কি বলব। হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তি, সসপ্যান, বাটি,
ছুঁড়ি কে নেই সেখানে। থাক সেগুলো তো আপনারা ঠিক জানেন। নতুন করে বলার কিছু নেই।
পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের অভিনয় তো আলাদা করে বলতেই হয়। নিজেদেরকে বেটে, কষে, থেঁতো
করে অভিনয় করেছেন। এমনকি আমার মতো নায়কের চোখ দিয়ে তো জলও বার করে দিয়েছেন আপনাদের
সবার প্রিয় কাঁচা পেঁয়াজ। সে আমার কি কান্না, কি কান্না। থামতেই চায় না। তারপর যখন
পেঁয়াজ, লঙ্কা আর সরষের তেলের মেলবন্ধনে অভিনয় শুরু হল, ওহ কি বলব, অভিনয়ের ঝাঁঝেই
পুরো মরে গেলাম। সব মিলেমিশে একাকার। কোথায় সেই হলুদ গুড়ো, জিরের গুড়ো, ধোনের
গুড়ো, সব তো মিলেমিশে জাপ্টাজাপটি করে তুমুল অভিনয় করে চলেছে। যেন প্রেমের দৃশ্য
চলছে নিজেদের মধ্যে। তার মাঝে আবার শুরু হল তেল ও জলের খেলা, এ বলে আমায় দেখ তো ও
বলে আমায়। তাই মাঝে মধ্যে জল দিয়ে দিয়ে একটু আধটু তোয়াজ আমাকে করতেই হচ্ছিল।
এভাবেই অভিনয় করতে করতে পুরো সিনেমাটা বানিয়েই ফেললাম। হ্যাঁ, মাংস পোলাউ, আমার
সিনেমার নাম। আপাতত সিনেমাটি চলছে আমারই বাড়ির প্রেক্ষাগৃহে (রান্নাঘরে)। আসতে হলে
অগ্রিম টিকিট কেটে আসুন, নইলে কিচেনে চিকেন আর পাবেন না।

Comments
Post a Comment