Skip to main content

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION



মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব
টোংলুর পথে
ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো?
- দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল।
- ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল।
- জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল।
ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় ।
- তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম ।
এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু করলাম । আমাদের পাঁচ জনের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হাঁটে শতদল । ওকে দেখলাম দুটো পাহাড়ী বাঁক টপকে একটা ছোট পাহাড়ী টিলার কাছে গিয়ে পৌছিয়েছে ও আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছে । উদ্দেশ্য যাতে আমরা আরও তাড়াতাড়ি হাঁটি।
- এই সঞ্জীব তোর কাছে COCA 30 টা আছে না? একটু দে তো। - সর্বাশীষ বলল।
সঞ্জীব ব্যাগ থেকে COCA 30 বার করল ও আমাদের হাতে দিল। আমি, তন্ময় ও সর্বা দুই ফোটা করে COCA 30 খেয়ে নিলাম । যদিও আমার বা তন্ময়ের কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি । তবুও ওই PREVENTION IS BETTER THAN CURE এই ভাবনা থেকেই ওষুধ টি মুখে দেওয়া । সর্বাশীষের সামান্য একটু শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে আমরা চলতে থাকলাম পাহাড়ী বাঁক গুলো ধরে ধরে । কাছাকাছির মধ্যে শতদল কে আর দেখতে পেলাম না। ওর স্পিড বেশি থাকায় ও অনেকটা ওপরে চলে গেছে ততক্ষণে । এই চিত্রে পর্যন্ত রাস্তাটা বেশ চড়াই । আমাদের প্রত্যেকেরই প্রায় ঘন ঘন নিশ্বাস প্রশ্বাস চলছে । আমি ফিল করলাম আমার জ্যাকেটের ভেতর ফুলহাতা টি শার্ট আর মাথার চুল ভিজে চপচপে হয়ে গেছে । আমি ঘামতে শুরু করেছি বেশ ভালো রকম । ঘাম জিনিসটা বরাবরই আমার একটু বেশি । এক্ষেত্রেও তাই হল। তার উপর আবার চড়াই রাস্তা। একে চড়াই তার উপর আমার পিত্ত চড়া ধাত। ঘাম তো হবেই । বেশ কিছুক্ষণ চলবার পর দেখতে পেলাম পাহাড়ী রাস্তাটি ধীরে ধীরে অনেকটা জায়গা নিয়ে সমতলে পরিণত হয়েছে। মনে হতে লাগল যেন আমরা পাঁচজনে একটা পাহাড়ের ছাদে এসে উঠেছি। দূরে অস্পষ্ট ভাবে দেখতে পেলাম শতদলকে । সবুজ ঘাসের উপর বসে জিরোচ্ছে। পাশে বসে জিভ নাড়াচাড়া করছে লাইকা । মাথার উপর দিয়ে কুয়াশা ও মেঘ একসাথে খেলা করছে। অপূর্ব সে দৃশ্য । একে একে আমরা সবাই সেই ঘাসের জমির উপর এসে বসলাম । আবার শুরু হল আরও এক খেপ ফটো সেশন। যেখানে বসলাম সেখান থেকে বাঁদিকে চড়াই রাস্তা দিয়ে আমরা উঠে এসেছি। সেই রাস্তার পাশেই গভীর খাদ। আর তার পাশেই আরেকটি পাহাড়ের কোল। সেই পাহাড়ের গায়ে দারুণ মেঘের খেলা চলতে থাকল। মাঝে মাঝে সুয্যিমামা লুকোচুরি করতে থাকায় পাহাড়ের গায়ের রংটাও অনবরত বদলাতে থাকল।সে দৃশ্য কখনওই ভোলবার নয়। ইতিমধ্যেই হঠাত্ দেখতে পেলাম প্রায় 300-350 মিটার দূরে ডানদিকে বেশ কয়েকটি চিনা প্যাটার্নের বাড়ি । দেখলাম সেখান থেকে একটা কমবয়সী ছেলে আমাদেরকে হাত নেড়ে ডাকছে । কে ও।
- সঞ্জীব, কে ঐ ছেলেটা? হাইলি সাশপিশিয়াস। - মজা করে আমি বললাম।
পাশ থেকে শতদল বলল - আরে ও বুদ্ধ । আমাদের পোর্টার। নিশ্চয়ই চায়ের বন্দোবস্ত করেছে । তোর চশমাটা কি কাজ করছে না?
আমি চশমাটা চোখ থেকে খুললাম । চশমাতে বিন্দু বিন্দু জলকণা জমেছে কুয়াশার জন্য । সাথে আমার দরদর করে গড়িয়ে পড়া মাথার ঘাম তো আছেই । ট্রেকিং করাটাতো আর কোন লাক্সারি নয়। একেবারে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তবেই এ যাত্রা চলছে আমাদের । যাইহোক দেখলাম বুদ্ধ ও যোগেন আমাদেরকে ডাকছে সেদিকে যাওয়ার জন্য ।
- বাঃ চায়ের টেস্ট টা অসাধারণ ।
- স্যার জী ইয়ে দার্জিলিং টি হ্যায় ।
- লা জবাব । আজ সারাদিন এই চায়ের স্বাদ আমি জিভে করে বয়ে বেড়াব ।
- সত্যিই অতুলনীয় ।
আমরা সবাই সেই চায়ের প্রশংসা না করে পারলাম না। সাথে খেলাম শুকনো বান পাউরুটি ও বিস্কুট । কিন্তু আমাদের সঙ্গে লাইকাকে আর দেখতে পেলাম না । জিজ্ঞাসা করায় যোগেন বলল যে ও এরপর থেকে আর উপরে উঠবে না । ওর এলাকার বাইরে আর যাবে না । লাইকাকে সান্দাকফু নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন আমার অধরাই থেকে গেল ।
ঘড়িতে দেখলাম এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট। এখান থেকে মোটামুটি আরও এক দেড় ঘন্টা হেঁটে লামেডুরা পৌছতে হবে । লামেডুরাতে গিয়ে আমাদের লাঞ্চ সারতে হবে । আমরা পাঁচ জনে আবার ধীরে ধীরে চলা শুরু করলাম ।কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দশ বারো হাত দূরে কি আছে, তা ঠাহর করতে পারছিলাম না । হাতে লাঠি, পিঠে ব্যাগ,মাথায় টুপি সমেত কাঁপতে কাঁপতে চলেছি আমরা । এই জায়গায় হাওয়াটাও খুব বেশি ।কারণ এই জায়গাটা পাহাড়ের উপর বিস্তৃত একটা সমতল এলাকা । আস্তে আস্তে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌছে গেলাম লামেডুরা।
লামেডুরাতে গিয়ে দেখলাম দুটো ছোট কুঁড়েঘরের মতো ঘর। কাঠের তৈরি ওপরে টিনের শেড । বেশ অনেকরকম কারুকাজ করা। আমরা একটা ঘরের মধ্যে গিয়ে বসলাম । ঘরের মাঝখানে একটা গোলটেবিল । আমরা পাঁচ জনে সেই টেবিলটাকে ঘিরে বসলাম । হাওয়ার তীব্রতা বেড়ে যাওয়াতে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম । ঘরটির একটি দেওয়ালে কাঠের ফ্রেমের মধ্যে এক হাত বাই এক হাত মাপের একটা কাঁচ লাগানো রয়েছে। একদম স্বচ্ছ । ওখান দিয়েই ঘরটাতে আলো ঢুকছে । কিন্তু হাওয়া ঢুকতে পারছে না। ঘরটির সামনে দোকান করার জায়গা। নিত্যসামগ্রী কিছু কৌটতে সাজানো রয়েছে। সাজানো গোছানো জিনিস গুলোকে ভালভাবে লক্ষ করলে এই পাহাড়ী মানুষদের শৌখিনতার ছাপ স্পষ্ট চোখে পড়ে । খাওয়ার টেবিলে যে টেবিলক্লথ টা বিছানো রয়েছে তাতে দেখলাম বেশ সুন্দর ফুল ফুল ছাপা কারুকাজ । আমাদের শহরাঞ্চলে এই ধরনের কাজ চোখে পড়ে নি আমার । বাইরে এসে দেখলাম বেশ কিছু গাছের গুঁড়ি এবং ডাল সমান সাইজ মত কেটে সুন্দর করে একটা মাচায় মজুত করে রাখা । সামনে ফাঁকা জায়গাটায় একটা বছর পাঁচেকের বাচ্চা আমাদের পোর্টার যোগেনের সাথে ফুটবল খেলছে । যোগেন এতটা চড়াই পথ উঠে এসেও কি করে যে আবার দৌড়াদৌড়ি শুরু করল সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না । আমরা যে ঘরে বসেছিলাম তার সামনের ঘরটাতে কিচেন। আমি সেই ঘরে গিয়ে দেখলাম বড়ো বড়ো কাঠের জ্বালানিতে রান্না হচ্ছে। একটি বছর বিশ বাইশের মেয়ে রান্না করছে। সম্ভবত সেই বাচ্চাটির মা। পাশে বুদ্ধকে দেখলাম স্যালাড কাটছে আমাদের জন্য। যোগেন খেলা ছেড়ে এসে খাওয়ার প্লেটগুলো সাজাতে লাগল। এই পাহাড়ী মানুষদের মধ্যে একটা জিনিস লক্ষ করলাম যে ওরা কখনও বসে থেকে সময় নষ্ট করে না। সবসময়ই কিছু না কিছু কাজে নিজেদেরকে যুক্ত রাখে। আমাদের মতো ল্যাদখোরদের কাছে এটা অবশ্যই একটা শিক্ষণীয় বিষয়।
এখান থেকে আমাদের আরও 3-4 কিমি পথ হাঁটতে হবে টোংলু পৌঁছানোর জন্য। পথ অবশ্য চড়াই, উতরাই মিলিয়ে মিশিয়ে থাকবে এমনই শুনেছি। মাঝে মাঝে সমতল পথও আছে। রাস্তায় যখন নেমেছি চলতে তো হবেই। এর পরের পথ কিরকম ------------জানাব --------
পরের পর্বে ।

Comments

  1. Bapok interesting series. Valo laglo pore.

    ReplyDelete
  2. খুব ভালো!!! এর পরেরটা কি পোষ্ট করেছ?

    ReplyDelete
    Replies
    1. সবকটি পর্বই পোস্ট করেছি। প্রথম থেকে দশম পর্ব পর্যন্ত। দেখো।

      Delete

Post a Comment

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...