Skip to main content

কাল রাতে এক পেত্নীর সাথে


কাল রাতে এক পেত্নীর সাথে

চেন্নুর মেসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কাল রাত সাড়ে ন’টার পর নিচের তলায় মেসের ক্যান্টিনে খেতে গিয়েছিলাম। হাতে একটা তিন ইঞ্চি মাপের কম পাওয়ারের টর্চ লাইট। মোবাইলের চার্জ কম থাকায় সেটিতে আর কোনও কাজ হচ্ছিল না। সেই টর্চ লাইটের আলোয় কোনোরকমে খাওয়া শেষ করলাম। সন্ধ্যে নাগাদ ঝড়ো হাওয়া ও সাথে সামান্য বৃষ্টির কারণে লোডশেডিং। আমাদের মেসের মূল ফটকের সোজাসুজি একটি করিডর লম্বা ভাবে মেসের শেষ বরাবর চলে গিয়েছে। করিডর এর পাশাপাশি ঘর। লোকজন এখন বেশ কম। বেশিরভাগ ঘরই খালি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। খাওয়া শেষ হবার পর করিডরের দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি। সাথে পুলক দা ও শুভম। পাশেই মুখার্জিদা’র ঘর। পুলক দা ও মুখার্জিদা’র ঘর একে অপরের মুখোমুখি। এই দুই ঘরের পাশেই খানিক অংশ ফাঁকা অবস্থায় পরে আছে। এই দুই ঘরের জানালার ভেতর থেকে মূল প্রবেশদ্বার পর্যন্ত দেখা যায়। পুলক দা’ই হঠাৎ করে শুরু করল – ‘জানতো একদিন রাতের বেলা শুয়ে আছি, পাশে জানালাটা খোলা। দেখি একটা লোক। অন্ধকারে ওই মেন গেটের মধ্যে দিয়ে এসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি মোবাইলে সিনেমা দেখছিলাম। পাশে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কে কে আপনি? দেখলাম লোকটাকে ফিরে যেতে। অন্ধকারে একটা কালো অবয়ব, চেহারা কিছুই ঠাহর করতে পারলাম না। এই কুকেদের কতবার বলেছি, রাতের বেলা মেন গেটটা বন্ধ করবার জন্য। এরা কিছুতেই কোনও কথা কানে তুলবে না’।
‘কোনও চোর ছ্যাঁচোড় এসেছিল নিশ্চয়ই’। আমি বললাম।
‘এখানে কোনও চোর ছ্যাঁচোড় পাবে না তুমি’।
‘তাহলে? কি বলতে চাইছেন?’
‘এই চেন্নুর মেসে ওপরে একা কোনোদিন থেকেছ? মানে আমি বলছি একদম একা। বাকি সবকটা ঘর ফাঁকা, মানে খালি। থেকেছ কখনও?’
‘না সেই সৌভাগ্য হয়নি কোনোদিন’।
‘ভগবান না করুন, এরকম দিন যেন না আসে তোমার জীবনে’।
আমি বললাম ‘সময়টাকে ভালোই উপভোগ করছেন, এরকম এক লোডশেডিং এর রাতে, মৃদু চাঁদের আলোয়, লম্বা নিমগাছটার আলো আঁধারের ছায়ায় গাঁজা খুড়ি গল্পের আসর ভালোই বানাচ্ছেন’।
‘তুমি আমার কথা মানছ না? তুমি জানো এখানে কত অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে? আরে এটা তো পুরো জঙ্গল ছিল। মাওবাদীরা এখানে ঘাঁটি গেড়েছিল কতদিন তার খবর তুমি জান? ওই যে কি নাম কিষান জি, ওর সাঙ্গপাঙ্গরা তো এখানে মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি টুরতি করতে আসত। এই এই এখানে যেখানে তুমি দাড়িয়ে আছো, এখানেই হয়তো মাটির তলায় কারোর লাশ পোঁতা আছে। রেপ এবং মার্ডার এর কেস এখানে একসময় অনেক হয়েছে’।
শুভম, পুলক দা কিন্তু দারুণ দিচ্ছে, প্রথমে অপঘাত, তারপর কিষান জি, তারপর মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি, রেপ, মাটির তলায় লাশ, আরও কত কি ছাড়বেন বলুন দেখি?’
‘আমি ছাড়ছি না, আমাদের মেসের অনেকেই দেখেছে। পরিস্কার নয়, অস্পষ্ট শরীর, বাংলায় যাকে বলে অশরীরী। শ্রীবাস্তব, জহর দা এদের জিজ্ঞাসা করে দেখছ কোনোদিন? ওরাও বলেছে’।
এই শুনে শুভম আবার বলে উঠল ‘আমি কিন্তু একা ঘরে দরজায় ধাক্কা দেওয়ার আওয়াজ পেয়েছি। মনে হল দরজায় কেউ নক করছে। কে কে বলে চিৎকার করাতে আর কোনও সারা শব্দ পেলাম না’।
‘তখন ঝাঁট টা আরও জ্বলে যায় না, হ্যাঁ? কি বল?’ এই বলে আমি টর্চ জ্বালিয়ে ওপরে সিঁড়ির দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। পেছন থেকে পুলক দা বলে উঠল  ‘গা ছম ছম করছে নাকি ভাই? ভয় পেলে?’
‘আপাতত সবাই নীচে খাওয়া দাওয়া করছে, একমাত্র অনির্বাণ ছাড়া। ও এবার খেতে এল বলে। ও নীচে এলে ওপরে কিন্তু তখন ফাঁকা। যাই এই সুযোগে যদি কিষান জির প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে মানে অপঘাতে মরা কোনও পেত্নীর সাথে যদি দেখা পাই!’
‘সিঁড়ি দিয়ে কিন্তু সাবধানে যেও, না সত্যি বলছি এই সব নয়, লতা পাতা বোঝ তো সে গুলো অন্তত দেখে যাও’।
‘ওকে বস’। এই বলে আমি সিঁড়ির উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিলাম। পুলক দা শেষ কথাটা ঠিকই বলেছে। লতা অর্থাৎ সাপের উপদ্রব আমাদের এই মেসে রয়েছে অনেকদিন ধরে। সেটা অবশ্য আমি নিজে চোখে দেখেওছি অনেকবার।
সিঁড়ি দিয়ে উঠছি আর স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি পায়ের আওয়াজ। কেউ যেন নেমে আসছে। এক পুরুষালী পায়ের শব্দ। আওয়াজে মনে হল ব্যক্তিটি বেশ লম্বা চওড়া। আরেকটু উঠতেই অনির্বাণের মুখোমুখি। খাওয়া হলো জিজ্ঞাসা করতে করতে অনির্বাণ তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল। আমি যেন প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই সিরিয়াস হয়ে গেলাম। আমার অনুভুতি যেন অনেক গুন বেড়ে গেল। নীরবতার শব্দগুলো যেন আমাকে গ্রাস করতে লাগল। ওপরে উঠে এলাম। সামনে পেছনে, চারধারে তাকালাম। যুক্তি বোধ আমায় জিজ্ঞাসা করল আমি কেন এতটা সচেতন হয়ে পড়লাম হঠাৎ করে। আমার মধ্যে কি হঠাৎ করে সংশয় বোধ কাজ করতে শুরু করেছে। ঘরে ঢোকবার আগে বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইলাম বাইরের বারান্দায়। অর্ধেক চাঁদের আলোয় বেশ একটা আলো আঁধারীর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাইরে হাওয়া বইছে সড়সড় করে। শুকনো পাতার খসখস শব্দ এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে যেন। দড়াম করে পাশের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। ছ্যাঁত করে উঠল বুকের ভেতর। এক চাঁপা দমবন্ধ করা উত্তেজনা শুরু হল আমার মধ্যে। এক অদ্ভুত ক্যা শব্দ করে দরজাটা আবার আসতে আসতে খুলতে লাগল। ধীরে ধীরে ঘরের ভেতর প্রবেশ করলাম আমি। মনে হল সত্যিই বোধয় আমাকে ঘরের ভেতর থেকে কেউ দেখছে। আমি টর্চ দিয়ে সামনে আলো ফেললাম।
................................................................................................

টর্চের আলো আমায় ঘরে নিয়ে গেল। মেসের ওপরতলায় এখন জনমানবশূন্য। শুধুমাত্র আমি একা। পুলক দা’র সেই কথাটা আমার মনে পড়ল। ‘এই চেন্নুর মেসে ওপরে একা কোনোদিন থেকেছ? মানে আমি বলছি একদম একা। বাকি সবকটা ঘর ফাঁকা, মানে খালি। থেকেছ কখনও?’ কথাটা বার কয়েক মনে করছি আর এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছি। ইংরিজিতে সাউন্ড অফ সাইলেন্স বলে একটা কথা আছে। অর্থাৎ নিঃশব্দেরও শব্দ আছে। আমি যেন তাই শুনতে পাচ্ছি এখন। তাহলে কি অদেখা কে দেখতে চলেছি? নিজের মনকে প্রশ্ন করলাম। টর্চের আলো নিভিয়ে দিলাম। অন্ধকারে আস্তে আস্তে পা ফেলে একটু এগোলাম। আমার বাঁ হাতটা কিসের সাথে যেন ঠেকল। পাশে থাকা চেয়ারটার সাথে। থপ করে চেয়ারটার উপর বসে পড়লাম আমি। মনে মনে কিছু একটা অবলম্বন যেন আমি চাইছিলাম। কিন্তু এই অন্ধকারেও আমার যেন বার বার মনে হতে লাগল কেউ একজন আমায় দেখছে। অনবরত। আমি স্থির হয়ে বসে রইলাম। আমার চলনশক্তি কেমন যেন হ্রাস পেতে লাগল। শরীরে যেন এক বিন্দু শক্তি আমার নেই। কেন এমন হচ্ছে, আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমার ঘরের জানালা দিয়ে চাঁদের মৃদু আলো এসে পড়েছে। আমি একভাবে ঘরের মেঝের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। স্পষ্ট দেখলাম এক নারী শরীরের ছায়া সেই মেঝেতে এসে মিলিয়ে গেল। আমার মানসিক শক্তি তখনও লোপ পায় নি। আমি আবারও সেই ছায়া দেখবার জন্য উদগ্রীব হয়ে রইলাম, কিন্তু শরীরে তখন কোনও সাড় নেই। তাই শুধু বসে বসেই অপেক্ষা করতে থাকলাম। মুখ দিয়ে যে কিছু কথা বলব সে সামর্থও তখন যেন লোপ পেয়েছে। এবারে আর মেঝেতে নয়। ঘরের দরজায় স্পষ্ট দেখলাম হাওয়ায় উড়ন্ত এক শাড়ির আঁচল। এক অদ্ভুত অনুভুতি হল আমার। আমি যেন জড়ভরতের মতো হয়ে গেছি। তিনি আমায় যা দেখাচ্ছেন, আমি যেন তাই দেখছি। আমার চোখ সেই উড়ন্ত আঁচলের দিকে। মেঝের দিকে আমি যেন আর তাকাতেই পারছি না। আমার দৃষ্টি এক দিকে নিবদ্ধ হয়ে রয়েছে। স্পষ্ট বুঝতে পারলাম আমার ডান কানের পাশ দিয়ে কেউ যেন হেঁটে আমার ঘরে প্রবেশ করল। আমার শিঁড়দাড়ার মধ্যে দিয়ে খেলে গেল এক ঠাণ্ডা স্রোত। এক স্পষ্ট ছায়ামূর্তি আমার বিছানায় গিয়ে বসল। এবারে মনে হল আমি তার দিকে তাকাতে পারলাম। বোবা দৃষ্টি নিয়ে আমি তাকালাম সেই রমণীর দিকে। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাবে তার দিকে তাকাতেই তিনি বিছানা ছেঁড়ে পাশেই দাড়িয়ে পড়লেন সঙ্গে সঙ্গে। অস্পষ্ট এক অবয়ব, কিন্তু মনে হল যেন খুব লাবন্যে ভরা এক মুখ। এক সদ্য যৌবনা যুবতীর মুখোমুখি আমি। আমি আমার প্রখর অনুভূতির মাধ্যমে ওকে বোঝবার চেষ্টা করে যাচ্ছি ক্রমাগত কিন্তু পারছি না। না মুখে কিছু বলতে পারছি, না চেয়ার ছেঁড়ে দাড়িয়ে ওর সামনে যেতে পারছি। নিজেকে এক চলতশক্তিহীন বৃদ্ধের মতো মনে হতে লাগল। সম্পূর্ণভাবে বাকরুদ্ধ হল আমার।   

‘বাবু, কেমন আছেন?’ ছ্যাঁত করে উঠল আমার বুক। নিজের হৃদপিণ্ডের শব্দ আমি নিজেই অনুভব করতে লাগলাম। আমায় সে কি কিছু বলল? নাকি এটা আমার মতিভ্রম? নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি এমন সময় আবারও ‘বাবু কেমন আছেন?’
আমি কোনওমতে ‘কেক-কে তততুমি? জিজ্ঞাসা করলাম।
‘আমি ফুলমণি বাবু। আপনেরা নীচে গল্প করতে ছিলেন, আমি সব শুনেছি বটে। উহাতে একটুক ভুল বলিছিল ও লম্বা মতন বাবুটা। আমি তাই সুধরাতে আইলাম। আমাদের দলের কিষাণজী মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি টুরতি করতক নাই বাবু। উ বাবুটা ভুল বলিছিল। আমরা মাওবাদীরাও তো মানুষ ছিলুম। নিজেদের হকের জন্য লড়াই চালায়ে ছিলুম। উহাতে কিছু ভুল ছিল না বাবু। ফুর্তি তো করেক ছিল ইখানকার পুলিশ ও পার্টির নেতা গুলা। মেয়েমানুষ ও মদ নিয়া পড়ে থাকত পুলিসগুলা। আমার মরদটারে ফাঁসায়ে আমার ইজ্জতটারে নিয়া খেলা করছিল ও হারামিরা। এই, এই ঘরের ঠিক নিচেই আমার গলায় ফাঁস লেগে মরণ হইছিল। ওই যে আপনেরা কইতেছিলেন না অপঘাতে মৃত্যু নিয়ে। আমিও ওইভাবেই জান দিয়া ছিলাম। জানেন বাবু, আমার মরদটা আমায় খুব ভালবাসত। কিষাণজী আমাদের দুজনের বিয়া দিছিল। আমার মরদটা অনেক গুলা বদমাশ পুলিশকে খুন করছিল। সেই রাগে উহারে ফাঁসায় ওরা। আমি আমার নিজের ইজ্জত ওদের হাতে দিই নাই বাবু। শয়তানগুলার হাত হইতে পলাইয়া এই জঙ্গলে আইসা পড়ি। কিন্তু কপালটা বড়ই মন্দ ছিল রে বাবু। উহারা আমার পিছু নিল ও এখানে আইসা পড়ল। নেকড়ের মত পশুগুলা আমারে লইয়া টানাহিঁচড়া করতে লাগল। আমার পরনের শাড়িটারে আমার শরীর হইতে খুইলা ফেলাইল। আমি চিৎকার কইরা কান্নাকাটি করতে থাকলাম। আমার শরীরের উপর তখন তিনটা নেকড়ে লাফালাফি শুরু কড়ছে। কাঁটাঝোপ ও ঘাসের আঁচড়ে আমার বুক ও পিঠ ক্ষতবিক্ষত হইতে লাগল। কোনরকমে হাতে একটা ভাঙ্গা ডালের নাগাল পাইয়া একটার চোখে ঢুকাইয়া দিলাম খোঁচা। একটার মাথায় দিলাম এক বারি। তারপর লাগাইলাম দৌড়। তখন আর একটা শয়তান পিছন থেইক্যা আমার শাড়ির আঁচলটা দিয়া গলায় লাগাইল এক প্যাঁচ। আমারে টাইন্যা হিঁচড়া একটা গাছের ডালের সাথে বাইন্ধ্যা দিল। আমি আবারও প্রাণপণ পলাইতে চেষ্টা করিলাম কিন্তু পারি নাই। গলায় ফাঁস লাইগ্যা আমার মরণ হইল’।
.......................................................................................

আমি কি কোনও গর্তের ভেতর পড়ে আছি? ঠিক বুঝতে পারছি না। আকাশ দেখতে পাচ্ছি। এ আকাশ রাতের না দিনের, কালো না সাদা ঠিক বুঝতে পারছি না। এই আকাশে না আছে কোনও তারা না আছে কোন চাঁদ, সূর্য। তবে কি এ আকাশ মরণের পূর্বাভাষ? এখন আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার শরীরের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পুলক দা, শুভম, অনির্বাণ। ওদের প্রত্যেকের হাতে একটা করে জ্বলন্ত মোমবাতি। আমার বুকের উপর দিয়ে ওরা তিনজন হেঁটে চলেছে। কিন্তু আশ্চর্য, আমার কোনও কষ্ট হচ্ছে না। আমি শুধু দেখছি। না আছে কোনও স্পর্শ, না আছে কোনও শব্দ, না আছে কোনও গন্ধ। তবে কি আমার দেহটা কফিনে বন্দি হয়ে আছে? কাঁচের ভেতর থেকে দেখছি এই পৃথিবীকে? পুলক দা, শুভম ও অনির্বাণ তিনজনে যেন এক সাথে বলছে ‘মেসে তো কারেন্ট নেই, মোমবাতি জ্বালিয়ে খেতে চল সবাই’। মনে হল কথাগুলো একসাথে এক গম্ভীর কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে উচ্চারিত হচ্ছে আমার দু কানে।
‘এ রমিত দা, চোখ বুজে জঙ্গলের দিকে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি? হ্যাঁ?’ শুভমের শব্দে সম্বিত ফিরে পেলাম আমি। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলাম ওর দিকে। পুলক দা’ও ছুটে এল আমার দিকে। বলল - ‘তুমি কি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটছ নাকি বলতো? সেই কখন থেকে ডাকছি তোমায় আমরা। আর এই ঘন জঙ্গলের দিকে এই রাতের বেলা কোথায় যাচ্ছ শুনি? নিশি ডেকেছে নাকি তোমাকে রাতের বেলা?’ দেখলাম পাশে দাঁড়িয়ে মুখার্জিদা ও অনির্বাণ।
আমি বললাম ‘আমি তো ঘরে ছিলাম, চেয়ারে বসে, এখানে কি করে এলাম, সত্যি বুঝতে পারছি না’।
‘দেখি মুখে দারুর গন্ধ আছে কিনা, না তুমি তো দারু খাওনি, তবে, এসব ভুলভাল বকছ কেন?’ পুলক দা বলল।
অভিজ্ঞ মুখার্জিদা আমার দিকে তাকালেন। আমার দু কাঁধে হাত রেখে শরীরটা সামান্য ঝাঁকালেন। জিজ্ঞাসা করলেন ‘এখন কেমন বোধ হচ্ছে? তোমার কি somnambulism  আছে নাকি? রাতের বেলা ঘুমের ঘরে হেঁটে বেড়ানোর রোগ?’
পড়েছিলাম বটে চাকরীর পরীক্ষায় ‘A PERSON WHO WALKS IN SLEEP IS CALLED SOMNAMBULIST’ তবে আমার তো এ রোগ কোনদিন ছিল না। আমি তবে কি করে ঘুমের মধ্যে হেঁটে হেঁটে দোতলা থেকে নীচে নেমে জঙ্গলের রাস্তায় চলে যাচ্ছিলাম। আর কেনই বা যাচ্ছিলাম? ফুলমণিই বা কে? কথাগুলো ভাবতে ভাবতে বাকি রাতটা কোনোরকমে কাটালাম।

পরের দিন সকাল বেলা...............

আমার ঘরের দরজার সামনে একটি বেশ পুরনো খবরের কাগজের টুকরো যাতে লেখা মাওবাদী কর্মী ফুলমণি ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের মৃত্যুর খবর।  

সমাপ্ত......

প্রেমাংশু......21/04/19
        

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...