Skip to main content

সত্যজিৎ – এক প্রতিষ্ঠান


#আমার চোখে সত্যজিৎ – এক প্রতিষ্ঠান – কিছু কোলাজ

তিনি শিখিয়েছেন সাসপেন্স কিভাবে সৃষ্টি করতে হয়। দু জোড়া পায়ের দিকে ক্লোজ করা ক্যামেরা। সেই দু জোড়া পা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে একটি বাচ্চা ছেলের কাছে। তারপর শুরু হয় কিছু কথোপকথন। সিনেমার পর্দার সামনে বসা দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখেন সেই দৃশ্য। ক্যামেরা তখনও তাক করে রাখা সেই দু জোড়া পায়ের দিকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয় এইভাবে “এই খোকা, খোকা, শোন, মুকুলদের বাড়িটা আমাদের একটু দেখিয়ে দিতে পারবে?” কতকটা এইভাবেই সত্যজিৎ সাসপেন্স সৃষ্টি করেছিলেন। সোনার কেল্লা গল্পে এই দুই দুষ্টু লোককে অনেক পরে ক্যামেরার সামনে এনে দেখিয়েছেন। কিন্তু এই দুই দুষ্টু লোক সম্পর্কে খুব সচেতন ভাবে দর্শকের মনে এক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন। এতক্ষণে মনে পড়ছে নিশ্চয়ই মন্দার বোস এবং বর্মণের নাম। একজন ভূ-পর্যটক ও একজন নকল ডঃ হাজরা। বাঙালির মধ্যে সত্যজিৎ সৃষ্টি করলেন প্যারাসাইকোলজি সম্পর্কে আগ্রহ। মানুষের মনে আনলেন কিছু প্রশ্ন জাতিস্বর সম্পর্কে। সেইসময় ছোটদের কাছে বড়দিনের বড় উপহার এনেছিলেন সত্যজিৎ। যার নাম সোনার কেল্লা। ১৯৭৫ সালের ৩রা জানুয়ারি আনন্দবাজারে প্রকাশিত চিত্রসমালোচনার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরলাম।

“রঙিন সোনার কেল্লা’র প্রথম এবং শেষ কথা তার উপভোগ্যতা। ছোটরা যদি এ ছবি দেখে কখনও রোমাঞ্চিত, কখনও কৌতূহলে উদ্দীপিত হয়, তবে ওদের আনন্দ-উৎসাহের শরিক হতে পারবেন ওদের অভিভাবকরাও। ছবির স্নিগ্ধ, সরস কৌতুক আর বহিরঙ্গের লাবণ্যে তারা পরিতৃপ্ত হবেন। এই লাবণ্যকে পরিচালকের প্রকাশভঙ্গীর প্রসাদগুণ বলা যায়”।

“মুকুল এবং ডঃ হাজরা বিপদের মুখে পরতে পারেন, এই আশঙ্কা ক্রমে দানা বাঁধে। ফেলুদা কেমন করে মুকুলকে বাঁচান, সেটাই অতঃপর দ্রষ্টব্য। ফেলুদার একান্ত ভক্ত তোপসের মতো দর্শকরাও যেন তখন ওই গোয়েন্দার সঙ্গী। নাট্য-কৌতূহল রচিত যোধপুর পর্বে, যেখানে সার্কিট হাউসের পাশাপাশি কামরায় এবং কাছাকাছি মুকুল, ছদ্ম পরিচয়ে দুই খলনায়ক এবং ফেলুদা সহ সব কয়েকটি প্রধান চরিত্রের অবস্থান”।

“ছবিতে অবশ্য টেনশন অথবা উত্তেজনার চেয়েও কৌতুকের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে যে কারণে কিছু অংশে রহস্য উপন্যাসের লেখক চরিত্রটির প্রাধান্য। এই কমিক চরিত্রের আচরণ এবং সংলাপ আগাগোড়া উপভোগ্য (সন্তোষ দত্তের অভিনয় চমৎকার) ট্রেনের কামরায় ফেলুদাকে অবাঙালী ভেবে তার হিন্দিতে অনর্গল কথা বলে যাওয়ার দৃশ্যটি তো খুবই মজাদার”।

ঘরে বাইরে সম্পর্কে সত্যজিৎ বলেছিলেন ‘একটা খাঁটি ট্র্যাজেডি করা গেল’। এই ছবির চিত্রনাট্য লিখতে গিয়ে সত্যজিৎ চল্লিশটা বই পড়েছিলেন। স্বদেশী আন্দোলনের ব্যাকগ্রাউন্ড ভাল করে জানার জন্য, আন্দোলনের ইতিহাস খুঁটিয়ে দেখার জন্য। তিনজনের সম্পর্ক এবং রাজনীতির মেলবন্ধন ছবিটাকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেয়। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস নিয়ে সত্যিকারের সিনেমা, যা ছিল কঠিনতম কাজ সত্যজিতের কাছে। উপন্যাসটি যেভাবে লেখা তা থেকে একটি নিটোল চিত্রনাট্য করা যে সম্ভব তা তিনি দেখিয়েছিলেন। পরিচালকের অনেকদিনের পরিকল্পনা অনেক পরে রুপ পেয়েছিল বলেই ছবিটি এত ভালো হয়েছে বলে মনে করেন চিত্র সমালোচকেরা। কারণ সেসময় সত্যজিতের অভিজ্ঞতার সঞ্চয় বেড়েছে অনেক। ‘ঘরে বাইরে’ রিলিজ করবার পর চুম্বন নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছিল সেইসময়। এ বিষয়ে সত্যজিতের মন্তব্য ছিল “চুম্বনের দরকার ছিল, এটা খুবই প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে আমার কাছে। এছাড়া বিমলার ‘সারেন্ডার’ সম্পূর্ণ হতে পারে না”। সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে চুম্বনদৃশ্য বেশ সাহসিকতার পরিচয় দেয়। তার সম্পর্কে আকিরা কুরোসাওয়া যা বলেছিলেন - "The quiet but deep observation, understanding and love of the human race, which are characteristic of all his films, have impressed me greatly. ...I feel that he is a "giant" of the movie industry." 

বুদ্ধিমত্তা ও আবেগ দিয়ে মিলিয়ে মিশিয়ে ছবি করতেন সত্যজিৎ। অত্যন্ত অনুভূতিপ্রবণ কিন্তু মেলোড্রামাবিহীন বাংলা ছবি তৈরিতে তার মুন্সিয়ানা অনবদ্য। তার প্রথম নির্মিত ছবি ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট পায় কান চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৫৬ সালে এবং ১৯৫৮ সালে বেস্ট ফিল্ম (ভ্যাঙ্কুভার) হিসাবে স্বীকৃতি পায়। কাহিনী, চিত্রনাট্য, আবহ এবং সঙ্গীত নিজেই তৈরি করতেন সত্যজিৎ এবং নিজের ছবিতে ব্যবহার করেছেন বহুবার, সম্ভবত ১৯৬১ সালের পর থেকে। নিজের ছবির পোস্টার তৈরির কাজ নিজেই করতেন তিনি। চিত্র পরিচালনা ছাড়াও সত্যজিৎ একাধারে ছিলেন সঙ্গীতকার, লেখক এবং একজন প্রচ্ছদ শিল্পী। নতুন আঙ্গিকে টাইপো গ্রাফির প্রচলন করেন তিনি। বাংলা শিশু সাহিত্য পত্রিকা ‘সন্দেশ’ ১৯৬১ সালে নতুন করে প্রকাশনার কাজ শুরু করেন, যা কিনা ওনার দাদু উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। ১৯৯২ সালে অস্কার – সারাজীবনের জন্য অর্জিত সম্মান লাভ করেন, এছাড়া ফ্রান্স থেকে লিজিও ডি অনার, আমাদের দেশের থেকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয় ওনাকে। এছাড়াও দেশ বিদেশের আরও অনেক সম্মানে ভূষিত হন তিনি।

পথের পাঁচালী, অপরাজিত এবং অপুর সংসার। এই নিয়ে অপু ট্রিলজি। ভারতবর্ষে বোধহয় প্রথম এরকম একটা বিষয় নিয়ে ছবি হয়েছে যেখানে একজন বাচ্চার জন্ম থেকে তার বড় হয়ে ওঠা এবং সাংসারিক জীবনের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে  সুনিপুণ বর্ণনা করা হয়েছে এই তিনটি ছবির মাধ্যমে। হয়ত সত্যজিৎ নিজেকেই বর্ণনা করেছেন তার এই তিনটে সিনেমার মাধ্যমে। আশ্চর্যের কথা এটাই ‘সম্পর্ক’ এবং ‘মৃত্যু’ এই দুটো বিষয় তিনটি ছবিতেই প্রকট। প্রথম ছবি পথের পাঁচালীতে অপু এবং দুর্গা, অবশেষে দুর্গার মৃত্যু। অপরাজিত তে অপু এবং ওর মা সর্বজয়া। ছবির প্রায় শেষে সর্বজয়ার মৃত্যু। অপুর সংসারে অপু ও ওর স্ত্রী অপর্ণা। ছবির মাঝামাঝি অপর্ণার মৃত্যু। অবশ্য অপুর সংসারের শেষ দৃশ্যে সত্যজিৎ একটা পজিটিভ দিক দেখিয়েছেন যেখানে অপুর কাঁধে অপুর ছেলে ফিরে যাচ্ছে। এই তিন ছবির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির শিকড়ে পৌঁছতে পেরেছেন সত্যজিৎ।

Ray recounts in "My Years with Apu" on what finally led him to do another film about Apu was, "One single attitude of Apu in the second novel Aparajita ... After Sarbajaya's (mother) death Apu feels relief... he felt happy to be free of bondage. ... The idea of Apu growing up and away from his mother... and much stress is laid on Sarbajaya's slow realization of the fact."

১৯৫০ সালে সত্যজিৎ এবং ওর স্ত্রী বিজয়া ১৬দিনের জাহাজ যাত্রার মাধ্যমে লন্ডনে গিয়ে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে উনি দেখেন ‘বাইসাইকেল থিভস’ নামে একটি সিনেমা, যা থেকেই সিনেমা সম্পর্কে প্রচণ্ড আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। এ সম্পর্কে ওনার বক্তব্য - Bicycle Thieves made a profound impression on Ray. Later, in the introduction of 'Our Films, Their Films', he wrote- "All through my stay in London, the lessons of Bicycle Thieves and neo-realist cinema stayed with me".

বিভিন্ন তথ্যের থেকে জানতে পারি যে প্রথম দু বছর রায়বাবু পথের পাঁচালী তৈরি করবার জন্য কোনও প্রোডিউসার পান নি। তিনি চাইছিলেন তার এই ছবির শুটিং করতে আউটডোরে, কিন্তু সেই সময় তিনি কাউকেই পাশে পান নি। বিমা পলিসির টাকা এবং আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের থেকে কিছু টাকা ধার করে রায় শুরু করেছিলেন এই ছবির কাজ ১৯৫০ সাল থেকে। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করবার জন্য সত্যজিৎ প্রথম প্রথম শুটিং এর কাজ করা শুরু করেছিলেন রবিবার করে। ১৯৫২ সালের ২৭শে অক্টোবর প্রথম শুট হয় সেই ট্রেনের দৃশ্য। অপু এবং দুর্গার কাশ ফুলের বনের মধ্যে প্রথম ট্রেন দেখবার দৃশ্য। পরের রবিবারে পুরো ইউনিট টিম নিয়ে যখন সত্যজিৎ শুটিং স্পটে পৌঁছন তখন সেই কাশফুলগুলি আর নেই। বনের গবাদি পশু হয়ত খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। সত্যজিৎ অপেক্ষা করেছিলেন পরের ঋতুর জন্য।

১৯৫৩ সালে একজন প্রোডিউসার অ্যানা দত্ত সত্যজিৎ কে কিছু ফান্ডের ব্যবস্তা করবেন বলে ঠিক ছিল। কিন্তু তার আগের সিনেমা চূড়ান্ত ভাবে ফ্লপ করায় তিনি সত্যজিৎকে টাকা দিতে অস্বীকার করেন। সেইসময়ে মহা ফাঁপরে পরেন তিনি। এদিকে শুটিং এর সমস্ত কিছু তখন রেডি। সাহায্যে এগিয়ে আসেন স্ত্রী বিজয়া রায়। নিজের গয়না বন্ধক দিয়ে শুটিং এর কাজ শুরু করান। ধীরে ধীরে কাজ এগোতে থাকে এবং অবশেষে তৈরি হয় পথের পাঁচালী।

ট্রিলজির কথা উঠলে গুপী বাঘা’র কথা না উঠে কি পারে! গুপী বাঘা সিরিজের তিনটি ছবি এখনও আট থেকে আশি সবার পছন্দের। গুপী গায়েন-বাঘা বায়েন, হীরক রাজার দেশে ও গুপী বাঘা ফিরে এল। ভূতের রাজা’র সেই আকর্ষক কণ্ঠস্বর তাও তো সত্যজিৎ এরই সৃষ্টি। এক ইন্টারভিউ তে সন্দীপ রায় বলেছিলেন যে গুপী গায়েন-বাঘা বায়েন প্রথম এক সপ্তাহ দর্শকদের মধ্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তারা যেন প্রথম প্রথম রিলেট করতে পারছিলেন না। তারপর থেকে এই ছবি টানা ৫১ সপ্তাহ চলে ও বিভিন্ন রেকর্ড ব্রেক করে। শ্রেষ্ঠ ছবি ও শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে ১৬তম জাতীয় পুরস্কার পায় এই ছবি। চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও সঙ্গীত এই তিন বিভাগেই সমান দক্ষতা দেখান সত্যজিৎ। ১৯৬৯ সালের ৮ই মে রিলিজ করে গুপী বাঘা। তখনকার সময়ে এই ছবির বাজেট ছিল ৬ লক্ষ টাকা।

উইকি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সত্যজিৎ ১৯৬৭ সালে এই ছবি করতে চেয়ে ছিলেন কলম্বিয়া পিকচার্স এর সঙ্গে। মার্লোন ব্রান্ডো এবং পিটার সেলার্স এই ছবির জন্য প্রধান ভূমিকায় মনোনীতও হয়েছিলেন। তারপর বাজেট নিয়ে কোনও সমস্যা হওয়ার জন্য হলিউডে এই ছবি আর নির্মাণ করতে পারেননি সত্যজিৎ। পরবর্তী কালে পূর্ণিমা পিকচার্স এর নেপাল দত্ত এবং অসীম দত্ত সত্যজিৎ কে আর্থিক সাহায্য করেন এই ছবি নির্মানের জন্য। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণী বিভাগের বিষয়টাকে ভূতেদের নাচের মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি। চার রকম ভূতেদের শ্রেণী এই ছবিতে দেখিয়েছেন তিনি। মোটা ভূত, রাজা ভূত, সাহেব ভূত ও সাধারণ ভূত অর্থাৎ আমাদের মত আম আদমি। এই চার বিভাগের ভূতের পোশাক-আশাক ও চাররকম যা কিনা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ। পাক্কা সাড়ে ছয় মিনিটের নাচের দৃশ্য বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন রকম ভাবে ভাবতে সাহায্য করে। যদিও সত্যজিতের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মের শ্রেণী বৈষম্য কে তুলে ধরা ভূতেদের নাচের মাধ্যমে। হীরক রাজা, উদয়ন পণ্ডিত, গবেষক গোবুচন্দ্র, যন্তরমন্তর সবকিছুর মধ্যেই রাষ্ট্র, রাজতন্ত্র, রাষ্ট্র দোহিতা এইসবেরই পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ পাই আমরা।

কত বলব বা কত লিখব! আমার সাধ্য কি। মনমোহন মিত্র, শ্যামলেন্দু চ্যাটার্জি, সোমনাথ ব্যানার্জি এই সব চরিত্র গুলো তো চিরকালীন হয়ে রইল একমাত্র ওনার জন্যই। জনঅরণ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী ও অরণ্যের দিনরাত্রি এই তিন ছবি তো চিরকালীন আধুনিক ছবি। সত্যি এই জ্ঞান ভাণ্ডার খুঁজে খুঁজে বার করবার ক্ষমতা আমার নেই, তাই ওনার জন্মদিনে আমার এই সামান্য নিবেদন। যা কিনা কোলাজ হিসাবে দেখাবার বা জানাবার চেষ্টা করলাম।

তথ্যভাণ্ডারঃ- আনন্দবাজার পত্রিকা, উইকিপিডিয়া ও গুগল।  

২রা মে, ২০১৯
প্রেমাংশু..................       


Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...