আত্মজ ও আমিত্ব
স্ব হতে সৃষ্ট এক প্রাণ।
কিংবা বলা যেতে পারে আমার হতে সৃষ্ট। ভাবলেই শরীরের মধ্যে একধরণের শিহরণ অনুভূত
হয়। আত্মজ বা আত্মজা যাই হোক না কেন তা নিজ রক্ত হতে সৃষ্টি হবে এটা ভেবেই এক পরমআশ্চর্য
ভাব অনুভূত হচ্ছে। মনের মধ্যে কিঞ্চিৎ রঙে রসে জাল বোনাও শুরু হয়েছে ইতমধ্যে।
মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও বংশবিস্তার। এই শেষ পর্যায়টাও শেষমেশ
রূপায়িত হতে চলেছে। মানুষ হিসাবে আমি সত্যি ভাগ্যবান। জীবন সম্পূর্ণ হতে চলেছে। মাঝে
মাঝে ভাবি যদি আমার অপূর্ণ থেকে যাওয়া শিক্ষা বা শিল্পপ্রতিভা ওর মধ্যে বিকশিত হয়,
তাহলে তো বেশ হয়, তাই না? মানুষ হিসাবে প্রত্যেকেই হয়ত তাই চায়। সময় যতই বদলাচ্ছে,
ততই মনে হচ্ছে এই পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব রাখবার সাক্ষী থাকবে একজন। আসলে নিজেকে,
নিজের জীবন, নিজের মন, শরীর, নিজেকে নিয়ে ভাবা দুনিয়াকে বড্ড ভালবাসি। মাঝে মাঝে
নিজেকে ভীষণ স্বার্থপর মনে হয়। মনে হয় সবসময় শুধুমাত্র আমিত্ব বহন করেই চলেছি।
কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেকে ছাড়িয়ে নিজের সাক্ষর বহন করে চলার বাহনকে উজ্জীবিত
করবার। ক্রমাগত নিজস্ব সত্তা খুঁজে চলেছি, প্রতিনিয়ত। কি চাই জীবনে প্রকৃতপক্ষে?
এটা ভাবতে ভাবতেই কত দিন, মাস, বছর বেরিয়ে চলে গেল জীবন হতে। এখনও যেন ঠিকমত চেনা
হয়ে উঠল না। খুঁজে চলেছি। মাঝে মাঝে দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ি এই আমিত্ব
খুঁজতে গিয়ে। কিছু বুঝে ওঠবার আগেই আত্মজ এসে ধরা দিল আমার দোসরের জঠরে। চিন্তা,
ভাবনা, স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে কেমন যেন আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে আমাকে। সত্যিকারের
আয়নাটা বোধহয় আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই আয়নায় নিজেকে দেখবার, চেনবার সময়
এসেছে। বাস্তব বড়ই রুঢ়, কঠিন, কঠোর, অমসৃণ। এতই ধারালো যে তা যখন তখন হৃদয় থেকে
ফিনকি দিয়ে রক্ত বার করে দিতে পারে। আয়না কি পথ দেখায়? নাকি শুধুমাত্রই জীবনের
হিসাবনিকাশ নিয়ে কাটাছেঁড়া করে? আত্মজ যদি আয়না হয় আর প্রতিনিয়ত সে যদি আমার ভুল,
ত্রুটি, দোষ, অপদার্থতা, ভীরুতা, কাপুরুষতাগুলোকে আঙুল তুলে দেখায় যে ‘দ্যাখ বাপ
দ্যাখ, জীবনের এতগুলো সময় পার করবার পরও তুই এই ভুলগুলো করে যাচ্ছিস, আর তার
খেসারত এখন থেকে তোকে দিয়ে চলতে হবে। মেনে নিতে পারব কি সেই বজ্র কঠিন বাস্তব কে।
জানিনা। উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ারথ বলেছিলেন “CHILD
IS THE FATHER OF A MAN” অর্থাৎ কিনা বাপেরও বাপ আছে। বাবা হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে এ
যেন এক আত্ম উপলব্ধি। স্বপ্নের মধ্যে আস্তে থাকে এক নরম তুলতুলে শরীর, ছোট ছোট
আঙুলের স্পর্শ, যেন একতাল কাঁচা মাটি, যা কিনা একান্তই আমার, স্বকীয়। সে যেন কানে
কানে বলে ওঠে ‘কচি দুই হাত, একপাশে মা আর একপাশে বাপ’। মনে মনে ভাবি একে আমি আমার
মতো করে গড়ে পিঠে নেব। পরক্ষনেই মনে হয় স্বার্থপরের মতো করে কেন ভাবছি? ভুলে যাই
যে এ সত্যি কোনও কাঁচা মাটি নয়, এরও এক সত্তা আছে, এক আমিত্ব আছে। যা হয়ত আমার
চিন্তাভাবনার সাথে বিস্তর পার্থক্য গড়বে। তাই মুঠো শক্ত করে ধরবার পর সঠিক সময়ে
মুঠো আলগা করতে যেন ভুল না করি।
প্রেমাংশু.........
Comments
Post a Comment