Skip to main content

যাযাবর জীবন


যাযাবর জীবন

ভুপেন হাজারিকার একটা গান আছে না ‘আমি এক যাযাবর’। মাঝে মাঝে ভাবি আমি বোধহয় সত্যি যাযাবরে পরিণত হয়েছি। ছোটবেলায় একটা আক্ষেপ ছিল যে বন্ধুরা প্রতিবছর তাদের মা বাবার সাথে ঘুরতে যায় কত না কত জায়গায়। কিন্তু আমি দু একবার পুরী ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মা বাবার সাথে কোথাও যেতে পারিনি। হয়ে ওঠেনি যেকোনো কারণেই হোক। পুরী সুত্রে চিল্কা লেকে গিয়েছিলাম। তাও খুব ছোটবেলায় তাই মনে সেরকম দাগ কাটেনি। কিন্তু ছোটবেলার সেই আক্ষেপ যে এমন ভাবে আঘাত হানবে বর্তমান জীবনে তা কে জানত! বড় হবার পর অনেক কিছুই করলাম। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য প্রথম জীবনে ফ্রি ল্যান্সিং ও পরবর্তী এই জীবনে চাকরিটাকেই বেছে নিলাম। খুবই সাধারণ মানের ছাত্র হবার কারণে যা চাকরি পেলাম সেটাকেই নিয়ে চললাম জীবনে। পেলাম চাকরি এক কন্সট্রাকসন কোম্পানিতে। কিন্তু বাইরে বাইরে। ট্রান্সফারের চাকরি। প্রথম প্রথম বেশ লাগত। মনে হত এই তো বেশ, অনেক জায়গায় ঘুরতে পারব, যেতে পারব, কত জায়গার নতুন নতুন আদব কায়দা, খাবার, বেশভূষা সম্পর্কে জানতে পারব। ওই জীবনটা সম্পর্কে মনে মনে এক রোমাঞ্চ অনুভব করতাম। এখনও যে করিনা তা নয়, কিন্তু পাখী বড়ই ক্লান্ত। ঘরে ফেরার ইচ্ছেটা মাঝে মাঝে ভীষণ প্রকট হয়ে ওঠে। ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে এ গাছের ডাল ও গাছের ডাল যেতে যেতে পাখিও নিজের বাসায় একসময় ঠিক ফিরতেই চায়। আমার অবস্থাও এখন ঠিক তাই। কিন্তু কবে যে নিজের বাসায় থিতু হব জানিনা।

‘থিতু হবি কি রে বেটা, এটাই তো বেশ ভালো। ঘরে ফিরলেই যে নাগপাশে জড়াবি, মায়ার বাঁধনে পড়বি। তখন কিন্তু আলাদা জ্বালা। আর তাছাড়া কত অভিজ্ঞতা তোর এই রোমাঞ্চকর জীবনে। নতুন জায়গার নতুন বাসস্থান, নতুন লোকজন, নতুন নতুন খাবার। ভালো করে চেখে দেখতে ভালো লাগছে না! হ্যাঁ, কি বলিস রে শালা? জীবনকে যত অন্যরকম ভাবে দেখবি ততই না তার মজা। উপভোগ কর শুধুই উপভোগ। যেমন যেমন জীবন তোকে নিয়ে চলে তেমন তেমন করে চলতে থাক। এক জীবনে একজন মানুষ কটা বাড়িতে থাকতে পারে বল! আর তুই নিজেকে দেখ। এখনও পর্যন্ত কতগুলো শহরে, মফস্বলে কত ভালো ভালো বাড়িতেই না থাকলি’।

নিজের মন মাঝে মাঝে নিজেকেই এরকম ধরণের কথা বলে। কখনও ভাবি এই যে এত লিখছি এও তো বাইরে এসে একা থাকার ফল। একাকিত্ব কাটাতে কিছু একটা করতে হত। কিছু বন্ধুর পরামর্শে ও নিজের সুপ্ত ইচ্ছে চরিতার্থ করতে শুরু করলাম লেখালেখি। বেশিরভাগটাই শুরু করলাম ভ্রমণকাহিনী দিয়ে। একথা সত্যি যে বাইরে থাকার কারণে লেখালেখিটাকে বেশ আপন করে নিতে শুরু করলাম। অনেকে আমার লেখা ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করেন। তারা জানিয়েওছেন। তাদের কাছে আমি চিরঋণী। এই তো সেদিন আমার এক মামা বললেন ‘লেখালেখির জন্য নতুন নতুন প্লট কোথায় পাবে বল তুমি! লালমোহন বাবু কেন ফেলুদা’র সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত! শুধু লালমোহন নয়, অজিতবাবুও তো ব্যোমকেশের সাথে ঝুলে থাকত সবসময়। কেন? বল কেন? আরে তুমি এই জীবন পেয়েছ। তোমার লেখার হাত রয়েছে। তাকে কাজে লাগাও’। কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে সাথীহারা হয়ে, আত্মীয় ও সন্তান-সন্ততি থেকে দূরে থাকতে থাকতে খুব খারাপ লাগে। যতই হোক রক্ত মাংসের শরীর তো। মন বিচলিত হয়।

বাঞ্জারা জীবনে অনেক রকমের খেদ, আক্ষেপ তৈরি হয় বিশেষত পরিবারের তরফ থেকে। আমি তো এখন আর জীবিত নই, বিবাহিত। তাই এই বিবাহিত জীবনে পরিবার ছাড়া কাটানো খুব কষ্টকর বটে। এই কেউ অন্যরকম ভেবো না আবার। আমার থেকেও বেশি কষ্টে আছে আমার পরিবারের লোকজন। তারা আমায় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে খুব চিন্তিত থাকে। যেহেতু আমি দূরে থাকি, বাইরে একা। আমিও মাঝে মধ্যে খুব বিচলিত হয়ে পড়ি আমার সন্তান, স্ত্রী ও বাবা মায়ের কথা ভেবে।

এ তো গেল খেদ ও আক্ষেপের কথা। এর একটা পজিটিভ দিকও আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি। কখনও এরকম ভাবি যে আমার জীবনের মোড়গুলো আমায় কেমন নতুন নতুন রাস্তা দেখাচ্ছে, চেনাচ্ছে। জীবনে এক নতুন মানচিত্র তৈরি হচ্ছে আমার। জীবনের প্রতিটা পলকে পলকে রোমাঞ্চ। মাঝে মাঝে বেশ লাগে।
বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের শেওপুর বলে একটি জায়গায় পোস্টিং হয়েছে আমার। একদম নতুন জায়গা। নতুন কোম্পানি, নতুন লোকজন, নতুন ম্যানেজমেন্ট। সবকিছুই নতুন তাই নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি এখন। আমাদের অফিসটা শেওপুর জেলার অন্তর্গত ধোটি বলে একটি গ্রামে। একদম অজপাড়াগাঁ বলা যেতে পারে। মাঝখান দিয়ে সরু রাস্তা, দুপাশে শুধুই ধান অথবা গম ক্ষেত। বিঘা বিঘা জমি পরে আছে এই অঞ্চলে। বেশিরভাগটাই সরকারী জমি। এই পুরো অঞ্চলটাই চম্বল উপত্যকার মধ্যে। চম্বল দস্যুদের কথা হয়ত অনেকেরই জানা আছে। আমি সবে নতুন। তাই কিছুই সেরকম জানিনা এখনও। শুধু চোখের সামনে দেখতে পাই বড় বড় পাইপ। ইয়া বড় বড়। ইঞ্জিনিয়াররা তাদের মাপঝোঁক করে বলে কত ডায়া, কত মিটার ইত্যাদি ইত্যাদি। তার আবার কত রকম নাম। MS PIPE, DI PIPE, HDPE etc. নামগুলোর সাথে যে পরিচিত ছিলাম না তেমন নয়। কিন্তু এতটাও নয়। সরকারী ফাঁকা জমিতে জল সংশোধন বিভাগ আমাদের কোম্পানিকে পাইপ রাখবার অনুমতি দিয়েছে। বড় বড় ট্রাক, লরিতে করে সেই পাইপ এসে পড়ছে আমাদের অফিসের সামনে ধোটি গ্রামে। আপাতত সেই ফাঁকা জমিগুলোই ব্যবহৃত হচ্ছে পাইপ রাখবার কাজে। সরকারী অফিস থেকে অনুমতি দিয়েছে আমাদের কোম্পানিকে সেই জমি ব্যবহার করবার। আমাদের কোম্পানি এখানকার গ্রামে পাইপ লাইনের কাজ ও জল সরবরাহের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কখনও কখনও ফেন্সিং এর কাজ কিভাবে করে সেগুলোও
দেখছি। ধীরে ধীরে একটা সাইট কিভাবে গড়ে উঠছে তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে উঠছি আমি। এত কিছু বলার বা লেখার উদ্দেশ্য একটাই। নতুন অভিজ্ঞতা পাঠকের সাথে ভাগ করে নেওয়া। আমার সহকর্মী বা বন্ধুদের অনেকেই এই বাইরে থাকার বিষয় নিয়ে লিখতে বলত মাঝে মধ্যে। বিশেষত এই কন্সট্রাকসন কোম্পানির সাইট লাইফ সম্পর্কে। তাই এই সামান্য কিছু। আরও অনেক কিছুই বলার বা লেখার আছে। নিয়ে আসব না হয় আবার অন্য কোনও লেখাতে।

@ প্রেমাংশু.........                 

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...