Skip to main content

শুভেচ্ছা’র শৈশব ১


শুভেচ্ছা’র শৈশব ১

“ম্যাওবুড়ি ও ম্যাওবুড়ি, ছোট্ট ম্যাওটা কই রে, কই ছোট্ট ম্যাওটা? ও সোনাবুড়ি, ছোট্ট ম্যাওটা কই, সোনাবুড়ি, ও সনটাবুড়ি?”

আপাতত এরকম সব আদুরে নাম দিয়েই সম্ভাষণ করা হয় শুভেচ্ছা কে। বিশেষত আমার স্ত্রী মানে শুভেচ্ছা’র মা’ই ওকে আদর করে এই নামে ডেকে থাকে। আমি তো ওদের দুজনের থেকে অনেক দূরে থাকি। মন থেকে নয় শরীর থেকে। তাই মাঝে মাঝে ভিডিও কল’ই ভরসা। এই ভিডিও কলের মাধ্যমেই দেখছি ওর হাত পা নেড়ে খেলা করা, কথা বলা ইত্যাদি। তো সেদিন এরকম ভাবেই কিছু কথা বললাম ছোট্ট শুভেচ্ছা’র সঙ্গে।
আমিঃ- কি রে ম্যাওবুড়ি, তোর মা বলছে, তুই নাকি আমাদের ছোট্ট ম্যাও?
শুভেচ্ছাঃ- আমি ম্যাও? আমি কি ম্যাও নাকি? ও বুঝেছি আমি শুধু দুধ খাই বলে তোমরা আমাকে ম্যাও বলছ।
আমিঃ- অ্যা, ঠিক ধরেছিস। তা মা, রাতে ঘুমোসনা কেন? তুই কি নিশাচর হলি নাকি?
শুভেচ্ছাঃ- ঘুমোই তো। কিন্তু রাতে হোক বা দিনে তিনচার ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারিনা একটানা। মায়ের কোলে উঠতে ইচ্ছে করে খুব। মা’কে তখন কেঁদে কেঁদে ডেকে জাগিয়ে দি। মা তখন আমায় নিয়ে দোল দোল খেলে। বাবা তুমি যখন এখানে আসবে তখন আমিও তোমার সাথে দোল দোল খেলব। খেলবে তো? ও বাবা বলো না, খেলবে তো?
আমিঃ- হ্যাঁ মা নিশ্চয়ই খেলব। দোল দোল দুলুনি, রাঙা মাথায় চিরুনি, বর আসবে এখুনি, নিয়ে যাবে তখুনি।
শুভেচ্ছাঃ- কে নিয়ে যাবে? কোথায় নিয়ে যাবে?
আমিঃ- বর নিয়ে যাবে তোকে বিয়ে করে।
শুভেচ্ছাঃ- না আমি তোমাকে আর মা’কে ছেড়ে কোথাও যাব না।
আমিঃ- হা হা হা হা।
শুভেচ্ছাঃ- বাবা নিশাচর মানে কি?
আমিঃ- নিশাচর অর্থাৎ যে রাত জেগে থাকে। নিশি মানে রাত। সেই থেকে নিশাচর কথাটা এসেছে।
শুভেচ্ছাঃ- রাতে কে জেগে থাকে বাবা?
আমিঃ- এই পৃথিবীতে সমস্ত জীবজগৎ অর্থাৎ মানুষ, পশুপাখি সবাই দিনে জেগে থাকে, কাজকর্ম করে আর রাতে মন দিয়ে ঘুমোয়। রাতে জেগে থাকে একমাত্র প্যাঁচা।
শুভেচ্ছাঃ- প্যাঁচা, প্যাঁচা কি বাবা?
আমিঃ- প্যাঁচা হল লক্ষ্মীদেবীর বাহন।
শুভেচ্ছাঃ- লক্ষ্মীদেবী কে? বাহন কি?
আমিঃ- লক্ষ্মীদেবী মা দুর্গার মেয়ে। ওনারা দেবী, ঠাকুর, ভগবান। রোজ সকাল বেলা উঠে ঠাকুর নমো করবে কিন্তু মা, ঠিক আছে?
শুভেচ্ছাঃ- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। ঠাকুরকে নমো করলে কি হয়?
আমিঃ- ঠাকুরকে নমো করলে ঠাকুর আমাদের আশীর্বাদ দেন। তাতে আমাদের সকলের মঙ্গল হয়।
শুভেচ্ছাঃ- মঙ্গল কি বাবা? আর বাহন মানে কি বললে না তো?
আমিঃ- আচ্ছা মা ঠিক আছে, আজ তো অনেক রাত হলো, কাল আবার তোকে সব বুঝিয়ে বলবখন। এখন একটু ঘুমু ঘুমু করে নাও দেখি।
ছোট্ট শুভেচ্ছা’র ছোট্ট জিজ্ঞাসা এখন আমায় বড় করে ভাবিয়ে তোলে।


#শুভেচ্ছা’র শৈশব ২                                          

দেখতে দেখতে ম্যাওবুড়ির একমাস বয়স হয়ে গেল। এখন হাত পা ছুড়ে খেলতেও শিখেছে বেশ। মাঝে মাঝে পা ঠেলে ঠেলে নিজের বিছানা ছেড়ে অন্যদিকে যাওয়ার তাল করে। কখনও কখনও বড়দের মতো একদিকে কাত হয়ে একটা হাতের উপর আর একটা হাত রেখে শোয়। বেশ লাগে দেখতে তখন। নতুন আর একটা বদভ্যাসও তৈরি হয়েছে। মুখের মধ্যে বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে খাওয়া। ওর মা বেশ কয়েকবার মুখ থেকে বুড়ো আঙুল টেনে বার করে দিলেও ঘুরে ফিরে সেই আঙুল আবারও মুখে। ভীষণ অনুভুতিপ্রবণ হয়েছে। যে কোনো কথা খুব মন দিয়ে শোনে। একদম বড়দের মতো। মনে হয় যেন কত বোঝে সেইসব কথার অন্তর্নিহিত অর্থ।


এই অন্তরজালের যাত্রায় ম্যাওবুড়ির এই একটু একটু করে বেড়ে ওঠা আমি আমার জন্মশহর থেকে ২০০০ কিমি দূরে থেকেও প্রত্যক্ষ করতে পারছি খুব সাবলীল ভাবে। ঠিক বোঝা গেল না তো? বুঝিয়ে বলছি। অন্তরজাল অর্থাৎ ইন্টারনেটের সুবাদে ভিডিও কলের মাধ্যমে বাপ-বেটিতে বেশ খানিক কথাবার্তা চলতেই থাকে। আসলে যেকোনো সন্তানকে চোখের সামনে বড় হয়ে ওঠা বা বেড়ে ওঠা তার বাবা মা’কে ভীষণ আনন্দ দেয়। আমি সেই দৃশ্য থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছি না। অন্তরজাল আমাকে রোজ সকালে ও রাতে ওর কাছে যাওয়ার, ওকে দেখবার একটা সুযোগ করে দেয়। 


#শুভেচ্ছা’র শৈশব 3
এই চুপ চুপ এটা বাবা না আমি , আমি তোমাদের শুভেচ্ছা লিখছি বাবার প্রোফাইল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে আমি তো এখন একটু বড় হয়েছি তাই একটু দুষ্টু দুষ্টু করি মাঝে মাঝে মুখের মধ্যে দুধ নিয়ে জমিয়ে রাখি, আঙুল চুষি, মাঝে মাঝে সবসময় নয় হি হি তোমরা হাসছ? আমার কথা শুনে? মায়ের কোলে, দিদার কোলে, উমম তারপরে মামারও কোলে দোল দোল খাই যেই আমাকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয় তখনই ইচ্ছে করে চেঁচিয়ে কান্না শুরু করি মা রোজ বাবার কাছে নালিশ করে জানো বলে ম্যাওবুড়িটা খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন কোল ছাড়া শুতেই চায় না একটু দুষ্টু দুষ্টু না করলে হয় বলো! আমি বড়ো হচ্ছি না! রোজ বলি দেখো আমি বাড়ছি মামি বোঝেইনা
আমার শুধু বাবার জন্য কষ্ট হয়। বাবা আমাকে শুধু মোবাইলের মধ্যে থেকে আদর করে। বাবা তুমি কবে এসে আমার সাথে দোল দোল খেলবে? বাবা বলো না!

#শুভেচ্ছা’র শৈশব 8
আমি- কি রে মা, শুনলাম সেদিন আমার প্রোফাইলে ঢুকে কিসব যেন লিখেছিস!
শুভেচ্ছা- হ্যাঁ তো। আমার তো ইচ্ছে করে লোকে আমার কথা জানুক,শুনুক, বুঝুক। তুমি তো অনেক দিন আমাকে নিয়ে কিছু লেখোই নি। তাই আমি নিজে নিজেই লিখেছি। তোমার ভালো লেগেছে বাবা?
আমি- হ্যাঁ রে মা। খুব ভালো লেগেছে। ভীষন ভীষন ভালো লেগেছে তোর লেখাটা। শুধু আমি নই আমার সব বন্ধুরা সবাই খুব অ্যপ্রিশিয়েট করেছে
শুভেচ্ছা- তুমি কবে আমার একটা প্রোফাইল খুলে দেবে বাবা?
আমি- দাড়াও। আগে আরেকটু বড়ো হয়ে নাও। তারপর নিশ্চয়ই খুলে দেব। প্রোফাইল খুলে দিলে তারপর আমায় ভুলে যাবি নাতো? তখন তো শুধু বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা মারবি, আমাকে আর মাকে কি মনে পড়বে তখন?
শুভেচ্ছা- না এরকম করে কেন বলছ বাবা। আমি তো তোমাদেরই থাকবো
আমি- আচ্ছা ঠিকাছে। দেখি কেমন থাকিস! শুনেছি আজকালকার মেয়েরা বয়ফ্রেন্ড পেলে বাবাকে মাকে ভুলে যায়
শুভেচ্ছা- না আমি তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না। এরকম করে বলবে না
আমি- আচ্ছা বেশ। এবার বল মাকে সারারাত ঘুমাতে দিচ্ছিস না কেন? সারাক্ষণ যদি তোকে কোলে করে নিয়ে থাকে তাহলে মায়ের কষ্ট হয় না! কোমরে ব্যাথা হয় জানিস। এবার তো তুমি বড়ো হচ্ছো মা। একা একা ঘুমানো অভ্যাস করতে হবে যে!
শুভেচ্ছা- না আমার কোলে দোল দোল না করলে ঘুম আসে না
আমি- তার মানে তুই আমার কথা শুনবি না?
শুভেচ্ছা- না। আমি কোলে শোব
আমি- শোনো মায়ের উপর করে নাও বাবা কিন্তু সহ্য করবে না
শুভেচ্ছা- তুমিও আমাকে কোলে না নিয়ে পারবেই না। আমি জানি

#শুভেচ্ছা'র শৈশব (৫)
আঙুল খাওয়া, রাতে জেগে থাকা, বিছানা ছেড়ে কোলে উঠে দোল দোল করা এগুলো তো ছিলই, এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে ঘাড় কাত করে শুয়ে ঘুমের ভান, হঠাৎ হঠাৎ এক চোখ বন্ধ করে এক চোখ খুলে তাকানো, কেউ দেখে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে দুই চোখ বন্ধ। আরো আছে। এক হাত মুঠো করে পেটের উপর রেখে আরেক হাত গালে দিয়ে গভীর কোনো বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা।
আর কি কি আছে মা তোর নতুন নতুন কায়দা?
আমার সাথে সবসময় কথা বলতে হবে। খেলতে হবে। আমাকে দুধভাত বলতে হবে। দাদাই বলে। আমাকে মানাই বলতে হবে। দিদুন বলে। আমাকে ম্যাওবুড়ি বলতে হবে। মা বলে। আমাকে মামনি বলতে হবে। তুমি বলো। আমার সাথে সবসময় কথা বলতে হবে তো নাকি! আমি যে তোমাদের একজন।
কিন্তু বাড়ির লোকজনের আরো কাজকর্ম আছে তো নাকি! শুধু তোমায় নিয়ে থাকলে চলবে?
এমা তুমি কি বলছো বাবা আমি তো এখন সব। আমার ন্যাপি পাল্টানো,দুদু খাওয়ানো, মাথায় হাত বোলানো, গরম লাগলে মাথায় হাওয়া করা এগুলো সব কাজ তো করতেই হবে। আমার জন্যেই তো সব কাজ করতে হবে সবাইকে। আমি না তোমাদের ঘরের লক্ষ্মী।
হুমম গৃহলক্ষ্মীর নিত্যপূজো চলছে।

#শুভেচ্ছা’র শৈশব (৬)

‘কি হয়েছে রে মা? না না কাঁদে না মা! ব্যাথা করছে না খুব! ঠিক হয়ে যাবে সোনা, খুব শিগগিরই ঠিক হয়ে যাবে। ও বাবা! এ যে খুব জ্বর এসেছে। ঠিক হয়ে যাবে মা আস্তে আস্তে ঠিক সেরে যাবে। না না কাঁদে না মা। তুমি তো খুব সাহসী মেয়ে, ভালো মেয়ে! ব্যাথা ঠিক আস্তে আস্তে সেরে যাবে দেখো। না না কাঁদে না। ও ও’।
গত দুদিন ধরে শুভেচ্ছা’র মা এবং আমরা সবাই ওকে এই কথা গুলোই বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা সবাইয়ের মধ্যে আমিও সুদূর দুই হাজার কিমি দূরে বসেও ভিডিও কলের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি অনবরত। দূরে বসে যতটুকু সম্ভব আর কি!
গতকাল ছিল ভ্যাকসিন দেওয়ার দিন। আশাকরি এবারে বোঝানো গেছে ওর কান্নার কারণ। বেশ হাসিখুশি হয়ে গিয়েছিল মা আমার। সবার সাথে হাসি ও পূজার শুভেচ্ছা বিলাচ্ছিল। কিন্তু তারপর সিরিঞ্জ। সেই সিরিঞ্জ, যা আরও আরও অনেকবার ওর শরীরে প্রবেশ করবে। কষ্ট সহ্য করতেই হবে। পৃথিবীতে আসার মুখ্য কারণ বোধহয় এটাই। শুধুমাত্র কষ্ট সহ্য করে চলা। বাবা মা হয়ে ওর কষ্টে কষ্ট পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু তা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাদের দেন নি। আমরা মানুষেরা, বিশেষ করে বাবা মায়েরা খুব সীমাবদ্ধ শক্তির অধিকারী। আমরা ওদের আনন্দে, কষ্টে সমপরিমাণ আনন্দ ও কষ্ট পাই ঠিকই, কিন্তু তা ভাগ করে নিতে কিছুতেই পারি না। আমাদের বাবা মায়েরাও পারেননি। যদিও অনবরত কষ্ট লাঘব করবার চেষ্টা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। ঠিক এই মুহূর্তে যেমন আমরা শুভেচ্ছা’র জন্য করে চলেছি। আপনাদের শুভকামনা প্রার্থনীয়।
এই মুহূর্তে শুভেচ্ছা’র গায়ে খুব জ্বর ও ব্যাথা। ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণেই হয়েছে। আপাতত ডাক্তার দু তিনদিন ধৈর্য ধরতে বলেছেন।
শৈশব শুধুমাত্র আনন্দের নয় রে মা, জন্ম থেকেই শুরু হয় লড়াই। আরও কত কি আছে জীবনে! ঈশ্বর তোমাকে আরও সহনশীল করুক সেটাই চাই।
মন ভালো নেই তাই। গতকাল থেকে। আমার থেকেও বেশি কষ্ট পাচ্ছে ওর মা। ওর দিদা। যারা প্রতিনিয়ত ওকে আগলে রাখছে। কিন্তু চোখের সামনে বাচ্ছার অসহনীয় কষ্ট ও চিৎকার যেকোনো মানুষকেই বিচলিত করে। আমি তো সবটা দেখতে পাইনা কাছে না থাকার ফলে। তাই শুধু চিন্তা আমায় বিচলিত করে। কল্পনা আমায় বিচলিত করে। বাস্তবে বিচলিত হচ্ছেন ওরা। আশাকরি সময়ই সবকিছুর অবসান ঘটাবে। পৃথিবীতে সময়ের চেয়ে শক্তিশালী আর কেই বা আছে!  


#শুভেচ্ছার শৈশব ()
- বাবা বাবা, দেখ আমি এসেছি। তোমার মন খারাপ করছে বাবা?
-
তোকে দেখবার পর মন ভালো হয়ে যায় রে মা। কিন্তু কি জানিস, দেশে এত মিথ্যাচার, ঘরে ঘরে এত মিথ্যাচার দেখতে দেখতে মনটা সত্যিই খুব খারাপ লাগে রে মা। মানুষের খুব কষ্ট রে মা। অনেক অনেক মানুষ খুব কষ্টে আছে রে মা। আজ ঘরে ঘরে অরাজকতা। মানুষ নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মিথ্যাচার করে চলেছে প্রতিনিয়ত, অনবরত। তুই কিন্তু মা একটু বড়ো হলে সত্যের পথেই থাকিস।
-
বাবা তুমি এত কি বলছো। আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না। শুধু টুকু বুঝছি যে যারা মিথ্যাচার করে তারা খুব তাড়াতাড়ি সাফল্য পায়। শর্টকাট রাস্তায় সাফল্য ভালো নয় কি? একটু কম পরিশ্রম করে, একটু মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে যদি নিজের স্বার্থ সিদ্ধি হয় তাতে আখেরে লাভ তো নিজেদেরই হয়। তাই না বাবা?
- তুই কি চাস! সাফল্য পেতে নাকি তাকে জীবনভর ধরে রাখতে?
- উমম, সবসময়ের জন্য ধরে রাখতে
- তাহলে মা সত্য, ন্যায় পরিশ্রম ছাড়া আর কোনো পথ নেই। সত্যের পথ বড়ই কঠিন। রুঢ়। অমসৃণ। হয়তো এই পথে চলতে গেলে সাময়িক অনেক বাধা আসে। প্রথম দিকে হয়তো তোমার সপক্ষে কেউ একজন না থাকতে পারে। অন্ধকার, কন্টকাকীর্ণ অনেক অনেক পথ অতিক্রম করতে হতে পারে। কিন্তু একদিন তোমার সপক্ষে তুমি অনেককে পাবে। তোমার জয়লাভ নিশ্চিত হবে জেনে রেখো। শোন মা, মানুষ অপরের কথায় নাচতে খুব ভালোবাসে। বেশিরভাগ মানুষ তা সে ঘরেরই হোক বা দেশের তালে তাল দিয়ে নাচতে থাকে অনবরত। তুমি কারোর কথায় নাচতে যেও না। তুমি বরং তোমার জ্ঞানের মাধ্যমে, তোমার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষ কে সঠিক রাস্তা দেখিও। মানুষ তখন তোমার কথায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে নাচবে। বাঁদর নাচের মতো নয়।
- বাবা আমার চলার পথে তুমি আমার পাশে থাকবে না? মা যে সবসময় বলে তুমি আমাদের ফেলে রেখে চলে গেছ?
- তোমার মা তো আমাকে খুব ভালোবাসে তাই রাগের মাথায় অনেক কিছুই বলে ফেলে। তুমি বড়ো হলে মা কে বুঝিয়ে বোলো আমার কথা। ওকে ভালোভাবে একমাত্র তুমিই বোঝাতে পারবে। আমি সবসময় তোদের পাশে আছি রে মা। তা সে যত দূরেই থাকিনা কেন। মনটা তোদের জন্য সদাই ভাবে। কথাগুলো বলছি একটাই কারণে। মানুষের নিঃশ্বাসের বিশ্বাস নেই। আমি তোমাদের কাছে পাইনা সবসময়। যদি আমার অবর্তমানে আমার এই কথাগুলো তোমাকে কোনো রাস্তা দেখায় কখনো তাই।
- বাবা এরকম ভাবে বোলো না। আমরা সবসময় একসাথে থাকবো।
- একসাথেই তো আছি রে মা। একসাথেই থাকব
Top of Form
Bottom of Form


#শুভেচ্ছার শৈশব
কি ! আমি তোমাদের কথা দিয়েছিলাম তো যে আসব বাবার প্রোফাইলে। দেখ আমি আবার এসে গেছি। এবারে বাবা বলেছে আমার ফটো গুলো আপলোড করবে এই লেখাটির সাথে। বাবা কালীপুজোতে বাড়ি এসেছিল। আমি এই প্রথমবার বাবার সাথে মা'কে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ি এলাম। এতদিন তো মামাবাড়ি ছিলাম। আমাকে পেয়ে আমার ঠাম্মি তো কি খুশি। আমাকে আমাদের বাড়ির মন্দিরে নিয়ে গেল। তুলসী গাছে আমার মাথা ছোঁয়ালো। ঠাকুরের কাছে আমার আশীর্বাদ চাইল। আমাদের বাড়ির মন্দিরটা খুব সুন্দর। সামনে একটা বড়ো চাতাল মতো আছে ওখানে আগে একসময় নাম সংকীর্তন হতো। অষ্টপ্রহর নাম সংকীর্তন হয়েছে একসময়। এখন নাকি আর হয় না। বাবা মাঝে মাঝে বলে সময়ের সাথে সাথে নাকি অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে যায়। কেন, কিভাবে পরিবর্তন হয় আমি অতশত বুঝি না বাপু। আমি তো ছোট্ট
যাইহোক তারপর ঠাম্মি আমায় নিয়ে গেল আমার বড়বাবা আর বড়মার ঘরে। ওরা তো এখন আর নেই। এই ঘরে এখন আমার ঠাকুরদা আর ঠাম্মা থাকে। আমাকে ওদের বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর সবাই মিলে কত কথা। আমি কি অত বুঝি ছাই! শুধু সবার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি স্মাইলি দিচ্ছিলাম। আমার তো আর কিছু করার ছিল না। বাবা মা দুজনেই বলে আমার হাসিটা নাকি খুব সুন্দর আমিও তাই মনে করি জানো! আমি তো খুব বেশি কান্নাকাটি করি না। শুধু খিদে পেলে আর ন্যাপিতে হিসু বা পটি করে ফেললে একটু একটু কেঁদে জানান দি। না হলে মা বুঝবে কেমন করে বলো। বাবা বলে জীবন একটাই। এই এক জীবনে কান্নাকাটি করে সময় নষ্ট করলে নিজে কখন হাসবো? মানুষকেই বা কখন হাসাবো! আর এখন তো আমায় কিছুই করতে হয়না। সামান্য একটু স্মাইলি দিলেই বাবা, মা, দাদু, ঠাম্মা, কাকাদাদু, কাকীঠাম্মী আরো কতো কতো লোক যে খুশি হয় কি বলব। বাবা বলে সুন্দর মিষ্টি হাসি ঈশ্বরের দান। তাই হাসি বর্ষিত হোক সবার মাঝে। আমি মাঝে মাঝে ভাবি আর অবাক হই। আমার কি অসীম ক্ষমতা এই আড়াই মাস বয়সে। সবার মন ভালো হয়ে যায় আমার হাসি দেখলে। আমাকে দেখলে। না না আমি কেউ নই। ঈশ্বর। আমি ঈশ্বরের দান
একটু ঠাম্মীর কথা বলে আজকের লেখা শেষ করছি। তোমরা সবাই তো 'বেলাশেষে' সিনেমাটা দেখেছো। সেখানে সেই মোটা মতো ঠাম্মীটা বলেছিল না যে নাতি নাতনীদের 'তেল মাখাবো, চান করাবো' সব ঠাম্মীরা এটাই চায়। এর বেশি ওরা আর কিছু চায়না। আমি তো ভাগ্যবতী এদের সবাইকে কাছে পেলাম। অনেকে তো এটাও পায় না। কিন্তু যারা দাদু,দিদা, ঠাকুরদা, ঠাম্মা থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয় তারা সত্যিই হতভাগ্য







#শুভেচ্ছার শৈশব ৯ (ছোট্‌দাদু কনসেপ্ট)

-   বাবা ও বাবা, আমার মাথার উপর ওই যে খেলনাটা ঘুরছে ওটা কি তুমি আমায় কিনে দিয়েছ?
-   না ওটা তোমার কাকাদাদু অর্থাৎ তোমার ছোটদাদু কিনে দিয়েছে।
-   কাকাদাদু মানে কি?
-   কাকাদাদু মানে আমার কাকা তোমার ঠাকুরদা অর্থাৎ দাদু।
-   কাকাদাদু ছোটদাদু হয় কি করে?
-   উমম, কি করে হয়? দাড়া বলছি। দুভাবে হয়। প্রথম ভাবে হল আমার বাবা এবং কাকার মধ্যে কাকা ছোট বয়সে। তাই ছোটদাদু। আর দ্বিতীয় ভাবেটা একটু মজার। আমার কাকা তার দোকানে মানে কাজের জায়গায় সবসময় ছুটে বেড়ায়। সবসময় ছোটাছুটি করে। তাই ছোট্‌দাদু। ছোট্‌+দাদু।
-   আমি জানি তুমি এই ছোট্‌ দাদু কনসেপ্টটা কোথা থেকে নিয়েছ।
-   কোথা থেকে নিয়েছি?
-   সত্যজিৎ রায়ের ‘আগুন্তুক’ সিনেমা থেকে। ওখানে উৎপল দত্ত দেশ বিদেশে ছুটে বেড়াত। তাই তিনি ছিলেন সাত্যকির ছোট্‌দাদু। আমি জানি।
-   কি করে জানলিরে মা?
-   তোমার ল্যাপটপ এ দেখেছি। ওই আগুন্তুক সিনেমাটা তুমি মাঝে মধ্যেই দেখ। তোমার খুব প্রিয় ছবি ওটা। তুমি নিজে কখনও ‘কূপমণ্ডূক’ হয়ে থাকতে চাও না। ধর্মের মাধ্যমে মানুষের বিভাজন পছন্দ কর না। আমি তোমাকে একটু একটু বুঝি বাবা।
-   বাব্বা, তুই যে অনেক বড় হয়ে গেছিস রে মা। এখন তো দেখছি তুই আমার সত্যি সত্যি মা হয়ে গেলি। তোকেও বলছি রে মা, পাখীর মতো হয়ে যাস। কূপমণ্ডূক হয়ে থাকিস না। মন কে খুব উদার রাখিস। মন যেন সবসময় চলে নিজ নিকেতনে।  

#শুভেচ্ছার শৈশব ১০
২৬/১১/১৯
আপাতত তিনমাস বয়স অতিক্রান্ত। সেই কারণে দুষ্টুমিও বাড়বাড়ন্ত। মামনি আঙুল মুখে ছাড়া ঘুমোবেন না কিছুতেই। যতবার ওর মা মুখ থেকে আঙুল টেনে বার করে দেয় ঠিক ততবারই আবারও মুখে আঙুল দেবেই দেবে। ফিডিঙ বোতলের থেকে দুধ মুখে টেনে নিয়ে কিছুক্ষণ জমিয়ে রাখবেন, তারপর সেই দুধ ঠোঁট ফাঁক করে অল্প অল্প করে ফেলে দেবেন। এই হয়েছে এখন ওর নতুন খেলা। কোলকাতায় এখন হাল্কা ঠাণ্ডা পড়েছে। ফলত সিলিং ফ্যান চালাবার খুব একটা প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু দেবী মায়ের চোখের সামনে ফ্যান অনবরত ঘুরতে হবে। নইলে কাঁদুনি শুরু। মাঝে মাঝে আমি বলি ছিচকাঁদুনে। ফ্যান চলছে, ঘুম আসছে, একসময় দেবী ঘুমিয়ে পড়লেন। ওর মা ফ্যানটা বন্ধ করে দিল। যাক মেয়ে তো ঘুমিয়েছে, আশাকরি আর কোনও অসুবিধা হবে না। কিন্তু না, সে ভাবলে চলবে না। কটমট করে চোখ খুলে কিছুক্ষণ দেখবেন এবং আবারও শুরু করবেন কাঁদুনি। ফ্যান ছাড়া তার একমুহূর্ত চলবে না। মাথা, পিঠ নাকি ঘেমে নেয়ে একসার। সুতরাং বোঝ ঠ্যালা। বড়ই তোয়াজ করে চলতে হয় এই দেবীর সাথে। নইলে যখন তখন দেবী রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। কোলে উঠে ঘোরবার শখ খুব। আমি কোলকাতাতে থাকাকালীন ঘুরিয়েছি। এখন তো আমাকে পায় না। তাই বাড়ির সমস্ত সদস্যদের কাছে উম,উম, অ, অ করে গভীর আর্তি। আমাকে একটু কোলে করে ঘোরাও না তোমরা। ভিডিও কল চলাকালীন মোবাইলটার প্রতি এক অমোঘ টান অনুভব করে। হাত নেড়ে জানান দেয় আমাকে একবার কোলে নেওয়া হোক। দু হাত নাড়া দিয়ে আমার প্রতি সে ডাক আমাকে সত্যি খুব বিচলিত করে। যদি এই মুহূর্তটা কাছে থাকতে পারতাম!  

#শুভেচ্ছার শৈশব ১১
১৫/০১/২০২০

হ্যালো! কেমন আছো তোমরা? আমি আবারও চলে এলাম। তোমাদের সব্বাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছা’র শুভেচ্ছা। নামটা দিয়েছিল বেশ আমার মা বাবা। যত আমার নামটা তোমরা উচ্চারণ করবে ততই জগতের কল্যাণ হবে। তাই না, বল! যাক গে ছাড় ওসব কথা। আমি আবার এসে গেছি বাবার প্রোফাইল থেকে তোমাদের সাথে কিছু কথা বলতে। তোমরা সবাই নিউ ইয়ার পার্টি কেমন কাটালে? আর আজকের মকর সংক্রান্তি কেমন কাটাচ্ছ? সব ঠিকঠাক তো? আমার সব ঠিক আছে। পুরো বিন্দাস। জানো গতকাল আমার পুরো পাঁচ মাস বয়স সম্পূর্ণ হল। অনেকটা বড় হয়ে গেছি বল আমি! তাই জন্যই না এত পাকা পাকা কথা বলছি! শুধু তাই না। এখন আমি বালিশে, মায়ের কোলে, দাদু দিদার কোলে, কাকি ঠাম্মার কোলে বসে থাকতে পারি। একদম একা একা। তবে বেশীক্ষণ নয়। কিছুক্ষণ বাদেই টাল খেয়ে পরে যাই। মা হাসতে হাসতে আবার আমাকে সোজা করে বসিয়ে দেয়। সবই ভালো। শুধু বাবাকে খুব মিস করি। বাবার কোলেও যদি এরকম খেলতে পারতাম! কতই না ভালো হত বল! বাবার সাথে শুধু ভিডিও কলেই যা কথা হয়। বাবাও অনেক রকম মজা করে। আমিও খুনসুটি করি বাবার সাথে। বাবা বলে আমার হাসিটা নাকি খুব সুন্দর। একটা খুব সুন্দর ছবিও তুলেছে বাবা আমার হাসির। এই পোস্টে আমি আপলোড করছি ছবিটা। তোমরা দেখে বল কেমন হয়েছে ছবিটা। কি বলবে তো? ও আরেকটা ঘটনা বলি তোমাদের। চুপি চুপি বলছি হ্যাঁ। শুধু শুনবে আর নিজেরা হাসবে, কিন্তু কাউকে বলবে না। বলো প্রমিস কাউকে বলবে না। বলবে না তো? ঠিক আছে বলছি। আমি না এই দু তিনদিন আগে মামার মুখে বমি করে দিয়েছি। সেটা দেখে আমার মায়ের কি খিলখিলিয়ে হাসি। আমার মা আমার থেকে এত বড় কিন্তু কেমন বাচ্ছাদের মতো করে হাসছিল সেদিন। সাধে কি আর বাবা মাকে বলে যে তুমি চিরকাল বাচ্চাই থেকে যাবে! আর আমি মামার দিকে তাকিয়ে মিচকে মিচকে হাসছিলাম। কি করব বল মামার মুখটা দেখে তখন আমার হাসি না এসে কি পারে! কি করুণ অবস্থা তখন মামার।
আরেকটা কথা বলবো চুপি চুপি? শুনবে? কাউকে বোলো না কিন্তু। মা না আমার জন্য একটা পটি কিনে দিয়েছে। সেদিন আমি পটি তে বসেই .................. হা হা হা হা হা। তোমরা কিন্তু এই লেখাটা কেউ খাওয়ার সময় পড়ো না। হা হা হা হা...............     
     

     
#শুভেচ্ছার শৈশব ১২
২৪.০৩.২০২০

পাক্কা দুমাস পর আবারও এলাম। আমি শুভেচ্ছা। বাবার প্রোফাইল থেকে লিখছি। আজ তোমাদের সাথে একটু বড় বড় কথা বলব। শুনবে কিন্তু। আর একটু মেনেও চলবে। তোমরা তো সবাই জানো ঐ বিষাক্ত করোনা সম্পর্কে। সারা দেশ খুব ভয়ে আছে। শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্ব। বাড়িতে সবাই বলাবলি করছে এই রোগের নাকি কোন ওষুধ নেই। শুধুই সাবধানতা ছাড়া আর নাকি কিছুই করবার নেই। আপাতত মোদী দাদু সবাইকে ঘরে বন্দী থাকবার নির্দেশ দিয়েছে। ঘরে থাকলে এই বদমাশটা কাউকে ধরতে পারবে না। আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভালো করে হাত ধোবে সাবান দিয়ে। বাড়িতে থাকলে স্যানিটাইজার না ইউজ করলেও হবে। রাস্তায় তো সব জায়গায় জল পাওয়া যায় না, তাই স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলছে ডাক্তারবাবুরা। মুখে মাস্ক পরবে। না থাকলে দুটো করে রুমাল মুখে বেঁধে তবেই রাস্তায় বেড়িও। শুধু শুধু রাস্তায় যেও না কিন্তু। বাজার অথবা ওষুধ কেনবার হলে তবেই যেও। এগুলো তো আমরা মেনে চলতেই পারি, তাই না? এগুলো মেনে চললে ঐ রাক্ষসটা আর আমাদের ধরতে পারবে না। বাড়িতে সবাই এগুলো মেনে চলছে। মা, মামা ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত মুখ ধুচ্ছে। বাজারে গেলে বাড়ি এসে জামা কাপড় বদলাচ্ছে। আমি তো এখন শুধুই সেরেলাক আর গুড়ো দুধ খাই, তাই কখনও মা কখনও মামা ওষুধের দোকান থেকে দুধের প্যাকেট কিনে আনছে। বাবা বলে এই সময় নাকি বেবি ফুডের খুব আকাল হয়। খাবার দাবার খুব একটা পাওয়া যায় না। এটা তো প্যানডেমিক অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে মহামারী তাই এই সমস্যা গুলো হচ্ছে। তবে আমাদের রাজ্য ও দেশের সরকার শক্ত হাতে এই রাক্ষসটার সাথে মোকাবিলা করছে। শুধু দরকার আমাদের সবার সাহায্য। মিলিত সাহায্য। এতদিন কোনও সমস্যা হলে হাতে হাত মিলিয়ে আমরা সমস্যার মোকাবিলা করেছি। এবারে হাতে হাত নয়, কিন্তু মনের সাথে মন মিলিয়ে অর্থাৎ সবাই মিলে একসাথে নিজের নিজের বাড়িতে ঘরে বন্দী হয়ে থাকলে তবেই এই বদমাশটাকে হারাতে পারব আমরা। তাই আমার তোমাদের সবার কাছে অনুরোধ তোমরা যে যার নিজের নিজের ঘরে থাকো একটু কষ্ট করে। তোমরা জানো বাবা মধ্যপ্রদেশের একটা গ্রামে একা একা রয়েছে। ঘরে বন্দী হয়ে। আমার সাথে কথা বলে ফোনে আর ভিডিও কলে। বাবা আমাকে বলেছে কিচ্ছু চিন্তা না করতে। বাবা ভালো আছে। আমি জানি বাবা আমার জন্য ভালোই থাকবে। মা খুব চিন্তা করে আমার বাবা আর দাদুর জন্য। বাবা বলে ‘বেশি চিন্তা করো না ঝুম, তাহলে রাতে কমে যাবে ঘুম’। এই শুনে আমি খুব হাসি। বাবা এত দূরে থাকলেও আমার সাথে খুব মজা করে। মায়ের সাথেও করে। কিন্তু তবুও মা মাঝে মাঝে রেগে যায়, চিন্তা করে। আমি আর একটু বড় হলে মায়ের চিন্তা কমিয়ে দেবো।

আমার অন্নপ্রাশনের সময় বাবা বাড়িতে এসেছিল। তারপর থেকে বাবা বাড়ির বাইরে। তাই এই সময়টায় সবার খুব চিন্তা হয়, বিশেষ করে মায়ের। আমি এখন নিজে নিজে বিছানায় উল্টে পাল্টে গড়াগড়ি খাই, একা একা বসে থাকতে পারি অনেকক্ষণ। একটু একটু কথা বলা শিখেছি। মা বলি, বাবা বলি, নে না নে না বলি, ব্বু প্পি বলি, ম্মা ম্মমা বলি। আমি তো আবার খুব মুডি তাই বাবা যখন ভিডিও কল করে তখন আমি শুধু বাবাকে দেখে হাসি কিন্তু কোনও কথা বলি না। বাবা বলে ‘কিরে মামনি, আমাকে বাবা বলে ডাকবি না?’ আমি দু এক দিন আমার ইচ্ছেমত ব্বা ব্বাবা বলে ডেকেছি। তাই দেখে বাবার কি যে আনন্দ তোমরা জানো না। বাবা আনন্দে নাচছিল। যাক গে ছাড় ওসব কথা। জীবন তো চলতেই থাকবে। তোমরা কিন্তু সবাই খুব ভালো থেক। বাড়িতে থেকো, ঘরের কাজ করো, বাড়ির পুরুষ মানুষেরা এই সময় রান্নার কাজ করতে পারো। বাগানে গাছ লাগাতে পারো, জমিতে সার দিতে পারো। ঘরদোর পরিস্কার করতে পারো, বই পড়তে পারো, লিখতে ভালো লাগলে আমার মতো লিখতে পারো। যদি ইচ্ছে হয় গান গাইতে পারো, মোবাইলের ভিডিও মোড অন করে তার সামনে নাচ ও অভিনয় করতে পারো। আমার থেকে একটু বড় বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখাতে পারো। বাবা বলে মানুষের একটাই জীবন। মানুষ চাইলে যখন খুশি যা খুশি কাজ করতে পারে। কারোর ক্ষতি না করে। নতুন কিছু শিখতে পারে। শেখবার কোনও বয়স হয় না। তাই বাবা এখনও শিখে চলেছে সাথে আমিও বাবার থেকে শিখছি মায়ের থেকে শিখছি।   


    

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...