Skip to main content

সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন


সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন


আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ‘জাদু কি ঝাপ্পি, আল ইজ ওয়েল, গেট ওয়েল সুন এবং রাঙ নাম্বার’। মনে থাকারই কথা। কে ভুলতে পারে মুন্নাভাই এম বি বি এস, থ্রি ইডিয়টস, লগে রহো মুন্নাভাই এবং পিকে সিনেমার কথা। ঠিক সেরকমই এবারের মুভি ‘সঞ্জু’ তে ‘ঘপাঘপ’। এই ঘপাঘপ কি জিনিস সেটা না হয় সিনেমা দেখে বুঝে নেবেন। বাজারে সঞ্জুবাবা রমরমিয়ে চলছে। পরিচালক রাজু হিরানি ও চিত্রনাট্যকার অভিজাত জোশির নেতৃত্বে সঞ্জয় দত্ত’র বাওপিক ‘সঞ্জু’ প্রায় প্রত্যেকেরই মনে দাগ কেটেছে এমনই মনে করা হচ্ছে সিনেমহল থেকে।

সম্প্রতি আমিও ছবিটি দেখলাম। ছবিটির দুটো দিক মূলত আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেটা নিয়েই আমার এই প্রতিবেদন ‘সঞ্জু – কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন’। এবার প্রশ্নচিহ্নগুলো কোথায়, কিভাবে বসবে সেটা আলোচনার আগে হিরানিবাবুর সম্পর্কে বরং কিছু বলি। রাজকুমার হিরানি হলেন এই ছবির জাদুকর। ওনার হাতে একটি অদৃশ্য জাদুকাঠি রয়েছে যা দিয়ে উনি দর্শকদের মগজধোলাই করে গেলেন পুরো ছবিতে। এ ছবির প্রথম চমক সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে রণবীর কাপুর। অসামান্য অভিনয় করেছেন রণবীর এই ছবিতে। দর্শকের মনে অনেকদিন পর্যন্ত জায়গা করে থাকবেন এই অভিনীত চরিত্রের জন্য। রাজু হিরানির প্রথম চমক বা প্রথম ম্যাজিকটাই হলো সঞ্জয়ের চরিত্রে রণবীরকে নির্বাচন করা। দ্বিতীয় ম্যাজিকটা যেটা হিরানি দেখিয়েছেন ছবিটিতে সেটা হল একটা টানটান চিত্রনাট্য এবং সচল গতির এক গল্প। যে গল্প দর্শকদের মনকে ব্যাথিত করে, হাসায়, কাঁদায় এবং মোহিত করে রাখে। প্রায় প্রতিটি দর্শকের মনের মধ্যেই বেশ একটা দয়াপরবশ ভাব লক্ষ্য করা যায়। দর্শকগণ সঞ্জয়ের কষ্টে কষ্ট পায়, সঞ্জয়ের আনন্দে আনন্দ উপভোগ করে, সঞ্জয়ের প্রতি সরকারী আইনকানুনের প্রয়োগ দেখে কখনও সখনও দর্শকের একাংশ আইনের বিরুদ্ধে গিয়েও কথা বলতে থাকে। সেই মুহূর্তে মনে হয় সঞ্জয়ের দ্বারা অবৈধ কর্মগুলো বোধহয় সঞ্জয় ভুলবশত করে ফেলেছে। যেন যে কেউ এরকম ভুল করতেই পারেন। বেচারা সঞ্জু। এতটাও খারাপ ছেলে নয়। ভাল মনের একটা ছেলে। জাস্ট ফেঁসে গেছে। উঠতি বয়েসে হয়তো অনেকেই এরকম করে থাকে। সিগারেট, মদ, গাঞ্জা থেকে শুরু করে চরস, LSD, হেরোইন আরও নানা ধরণের ড্রাগস ব্যবহার করাকেও যেন দর্শক অনেকটা ক্ষমার চোখ দিয়ে দেখে। আহা রে বেচারা ছেলেটা তো আর ইচ্ছে করে নেশা ধরেনি, হঠাৎ করেই করে ফেলেছে। তাছাড়া মনের দুঃখটাও কি কম। প্রথম গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে চলে গেল, ক্যান্সারে ভুগতে থাকা মা প্রথম সিনেমা ‘রকি’ রিলিজ করবার আগেই চলে গেলেন। একটা ওইটুকু একরত্তি ছেলে কি পারে এত চাপ নিতে? তাহলে উপায়? উপায় আছে। গাঞ্জার ধোঁয়ায় বা চরসের টানে নিজেকে যুক্ত করলে এই সব মানসিক কষ্ট থেকে তো ভাল থাকা যায়। এখানেই প্রশ্নচিহ্ন আমাকে তাড়া করে বেরাচ্ছে হিরানি বাবু। কষ্টের থেকে মুক্তি পেতেই কি নেশার আশ্রয়? এই প্রশ্নটা যখনই মনের মধ্যে কিড়কিড় করতে শুরু করল ঠিক তখনই হিরানিবাবু আবার একটা নতুন ঢঙে চাল দিলেন। সঞ্জু ড্রাগের নেশা থেকে মুক্তি খুঁজতে লাগল সেই সময়। নেশার ঘোরে বাস্তব ও কল্পনার জগৎকে এক করে ফেলছিল ও সেসময়। আমেরিকায় গিয়ে অনেক কষ্ট করে ধীরে ধীরে এই নেশার কবল থেকে বেরিয়ে আসলো সঞ্জু। এখানে রাজু হিরানি কি যুবসমাজকে একটি মেসেজ দিলেন যে এভাবেও নেশার কবল থেকে ফিরে আশা যায়?

যাইহোক গল্পের গতির সাথে সাথে আমরা দর্শকেরা দেখি সঞ্জুর ভাগ্যটাই খুব খারাপ। নেশার কবল থেকে ছাড়া পেলেও ঘরেতে বেআইনি অস্ত্র ও আর ডি এক্স মজুত করে রাখার অপরাধে জেল হল ওর। দর্শকেরা আবারও বললেন বেচারা। ভাল ছেলেটা আবারও গেল ফেঁসে। রাজু হিরানি সঞ্জুকে বার বার ভাল ছেলে প্রমাণ করবার জন্য কমলেশ নামক এক বন্ধুকে আমদানি করেন। দর্শকগণ ও পাঠকগণ আমাকে মাফ করবেন। সঞ্জয় দত্তের ‘কমলেশ’ বলে খুব ভাল বন্ধু ছিল কিনা আমার জানা নেই। তাই ‘আমদানি’ শব্দটা ব্যবহার করলাম। হিরানি পারিবারিক দিকটাতেও বেশ ভাল চমক দিয়েছেন দর্শককে। খুব সুনিপুণভাবে দেখিয়েছেন বাবা সুনীল দত্তের সঙ্গে ছেলে সঞ্জয়ের সম্পর্ক, দেখিয়েছেন বন্ধুত্বের সম্পর্ক। খুব ভাল ভাবে দেখিয়েছেন অপরাধী তকমা মুছে ফেলার জন্য এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প। যে গল্প সিনেমাটির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত দর্শককে অভিভূত করেছে। ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে তো করেইছে। রণবীর ছাড়াও এ ছবিতে কমলেশের চরিত্রে ভিকি কৌশল অসাধারণ। কখনও কখনও যেন রণবীরকে ছাপিয়ে ক্যমেরার লেন্সকে নিজের দিকে টেনে ধরেছেন। পিতা সুনীল দত্তের ভূমিকায় পরেশ রাওয়াল উতরে গিয়েছেন। কিছু কিছু দৃশ্যে বেশ নজরকাড়া অভিনয় করলেও ওনার নিজস্ব ম্যানারিজম থেকে কখনও কখনও যেন বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না। ওনাকে সুনীল দত্ত কম বরং পরেশ রাওয়াল বেশি মনে হচ্ছিল কিছু দৃশ্যে। নার্গিস ওরফে মনীষা কইরালা ছোট চরিত্রে ঠিকঠাক। বাকিরা ঠিক ঠাক টাইমে পর্দায় এসেছেন এবং গেছেন।

এবারে যেটা আলোচ্য বিষয় তা হল প্রশ্নচিহ্ন কোথায় এবং কেন? সঞ্জু, সিনেমায় নিজ মুখে কবুল করেছেন যে ও ৩৫০ এর থেকেও বেশি সংখ্যক মহিলার সাথে রাত কাটিয়েছেন বা শুয়েছেন। তা এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতেই পারে কোনও মহিলাকেই কি উনি জোর করেননি? সব মহিলাই কি ওনার কাছে স্বেচ্ছায় দেহ দান করতেন? ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয় দত্তের অনেক মহিলার সাথেই খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তা খবরে ও মিডিয়ায় উঠে এসেছে বারংবার। কিন্তু হিরানিবাবু এই ব্যাপারটা খুব সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি সঞ্জয় দত্তের প্রথম বিয়ের ব্যাপারটাও এই ছবিতে দেখান হয়নি। ছবিতে দেখানো হয়েছে বাবার সিকিওরিটির জন্য সঞ্জু বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র মজুত করে রেখেছে। আদপেই কি তাই হয়েছিল হিরানিবাবু? মানে একটা বাওপিক বানাতে গিয়ে বেশ কিছু সত্য গোপন করেছেন বা অর্ধসত্য দেখিয়েছেন। সিনেমাতে সঞ্জু ওর প্রিয় বন্ধু কমলেশের গার্লফ্রেন্ডের সাথে হঠাৎ করেই রাত কাটালেন। খুবই অবলীলাক্রমে মানে সব কিছু জেনেশুনেই। বন্ধু কমলেশ সবকিছু জানার পরেও কি করে খুব যৎসামান্য প্রতিবাদ করেই সঞ্জুর সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইলেন? ব্যাপারটা এরকম ঘটল, আজ তুই আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে শুয়েছিস, কাল দেখিস আমি তোর গার্লফ্রেন্ডের সাথে শোব। ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয়ের বন্ধু কুমার গৌরব ও বোন প্রিয়া দত্তের বেশ অনেকটাই ভূমিকা ছিল যা হিরানি এখানে উল্লেখই করেননি। কেন? বিতর্কিত কোন ব্যাপার ঘটতে পারে বলে? কিন্তু এটা তো একটা বাওপিক। আপনি নিজেই ক্লেম করেছেন হিরানিবাবু। তাহলে কেন এত সত্য গোপন? এই ছবিতে সঞ্জু চরিত্রটি তৈরি হয়েছে খুবই কোমল হৃদয়ের, বেচারা টাইপের, একটা ভালমানুষের মতন। আদপে এতটাই কি ভালমানুষ ছিলেন সঞ্জয়? ছবি শেষ হওয়ার পর মনে হতে থাকে গল্পটা যেন কেমন খাপে খাপ গোছের। একটা বেচারা ছেলে পাকে চক্রে ফেঁসে গিয়েছিল কিন্তু নিজের জীবনে লড়াই করে আবার মুলস্রোতে ফিরে এসেছে। হিরানি বাবু আপনাকে বলি এটা বায়োপিক কম ও বাণিজ্যিক মনোরঞ্জক ছবি হয়েছে অনেক বেশিমাত্রায়। ছবিটিকে সাধারণ দর্শকেরা খুব এঞ্জয় করেছেন, কিন্তু প্রকৃত বায়োপিক হলে হয়তো দর্শকেরা এতটা আনন্দ পেতেন না। সেই কারনেই কি সত্যগোপন? সেই কারণেই কি বিতর্কিত বিষয়গুলো সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া? এখানেই আমার প্রশ্নচিহ্ন। ফুলস্টপ নয়।      


Comments

  1. কেমন লাগল সঞ্জু ? সিনেমা এবং আমার লেখাটি দুটোই?

    ReplyDelete
  2. I Enjoyed the movie. I really don't know whether Sanjay dutt was a hooligan or not. I enjoyed the movie just like other movies.

    ReplyDelete
    Replies
    1. Certainly...........it's a enjoyable movie after all.......but it is not a real biopic which I mean in my article............

      Delete

Post a Comment

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...