মিশন
সান্দাকফু - সপ্তম
পর্ব
সাসপিশিয়াস কালাপোখরী
টোংলুতে চড়াই
পথটাই
বেশি
ছিল।
সমতল
পথও
ছিল।
কিন্তু
উতরাই
পথটা
ছিল
না
বললেই
চলে।
চড়াই
রাস্তায় চলতে
চলতে
পায়ের
বেশ
কিছু
মাসল্
ব্যাথা
হয়েছিল। যেটা
আমরা
মোটামুটি সবাই
টের
পেলাম
20/12/16 তারিখে
সকালবেলা। অর্থাত্ দ্বিতীয় দিনে।
দ্বিতীয় দিনে
হাঁটা
শুরু
করবার
পর
মনে
হল
দুপায়ের কাপ
মাসল্
অর্থাত্ GASTROCNOMEOUS ঊরুর মাসল্
QUADRICEPS ও
HAMSTRING এ
যেন
অল্প
অল্প
টান
লাগছে।
ডানহাতের বুড়ো
আঙুল
ও
তর্জনীর মাঝামাঝি অংশে
বেশ
ভালরকম
ব্যাথা
অনুভূত
হল।
কারণ
টা
ধরতে
পেরেছেন কি?
কারণ
টা
আর
কিছুই
নয়,
গতকাল
অর্থাত্ প্রথমদিন সকাল
থেকে
বিকেল
পর্যন্ত বাঁশের
লাঠিটাকে মুঠো
করে
ধরে
চলছিলাম। সারাদিনে একনাগাড়ে ধরে
থাকায়
হাতটা
ব্যাথা
ব্যাথা
অনুভব
করলাম।
আঙুলের
পাশে
থাকা
হাঁড়ে
লাগছিল
লাঠিটাকে শক্ত
করে
ধরার
সময়।
টোংলু থেকে প্রথম 2/3 কিমি পথ অতিক্রম করে যেতে হবে টামলিং। এই টামলিং বা টুমলিং জায়গাটা নেপালের অন্তর্গত। হাল্কা হাল্কা ঝোপঝাড়, ছোট ছোট প্রায় দু তিন হাত লম্বা কাঁটাগাছ, কখনও কখনও এক দু হাত উচ্চতার পাথর ডিঙিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। ঠিক মালভূমি অঞ্চলগুলি যেরকম হয় ঠিক সেইরকম লাগছে এই অঞ্চল টা। নির্দিষ্ট কোনও একটি রাস্তা এখানে নেই। কখনও ছোট টিলা পেরিয়ে, কখনও ছোট ছোট চারাগাছ ডিঙিয়ে তো কখনও হাতের লাঠির উপর ভর করে সামান্য লাফিয়ে আমরা আমাদের গন্তব্যে এগিয়ে চলেছি। দুরের দিকে চাইলে শুধু সবুজ আর সবুজ। মাথার উপর নীল আকাশ। মাঝে মাঝে মেঘ আর কুয়াশার হাতছানি। এই পথ দিয়ে বুদ্ধ এবং যোগেন এত তাড়াতাড়ি চলতে লাগল যে দুরে ওদের দেখে মনে হল দুটো পিঁপড়ে অথবা ছোট কোন পোকা পিঠের উপর খাবার বয়ে নিয়ে চলেছে। ওদের নীচে নেমে যেতে দেখলাম। মাঝে মাঝে হাঁটার সময় মনে হল যেন এই বোধহয় গর্তে পড়ে যাব। আসলে নামার সময় চোখ খুব সতর্ক ও পুরো শরীরটাকে খুব সন্তর্পণে ব্যালান্স করে চলতে হয়। নইলে পা ফসকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাঁটুতে বেশ ভালরকম চাপ অনুভব করলাম। পায়ের পাতা, গোড়ালি ও হাঁটু এই তিন বিশেষ স্থানে বেশ ভালরকম জোর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে আমাদের। এখানকার পথ আগের মতো মসৃণ নয়। যদিও ঘাস রয়েছে অনেক। তবুও মাঝে মাঝে চকচকে পাথর, কখনও গোটা, কখনও অর্ধেক সেগুলোকে ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে চলতে থাকলাম আমরা।
টোংলু থেকে প্রথম 2/3 কিমি পথ অতিক্রম করে যেতে হবে টামলিং। এই টামলিং বা টুমলিং জায়গাটা নেপালের অন্তর্গত। হাল্কা হাল্কা ঝোপঝাড়, ছোট ছোট প্রায় দু তিন হাত লম্বা কাঁটাগাছ, কখনও কখনও এক দু হাত উচ্চতার পাথর ডিঙিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। ঠিক মালভূমি অঞ্চলগুলি যেরকম হয় ঠিক সেইরকম লাগছে এই অঞ্চল টা। নির্দিষ্ট কোনও একটি রাস্তা এখানে নেই। কখনও ছোট টিলা পেরিয়ে, কখনও ছোট ছোট চারাগাছ ডিঙিয়ে তো কখনও হাতের লাঠির উপর ভর করে সামান্য লাফিয়ে আমরা আমাদের গন্তব্যে এগিয়ে চলেছি। দুরের দিকে চাইলে শুধু সবুজ আর সবুজ। মাথার উপর নীল আকাশ। মাঝে মাঝে মেঘ আর কুয়াশার হাতছানি। এই পথ দিয়ে বুদ্ধ এবং যোগেন এত তাড়াতাড়ি চলতে লাগল যে দুরে ওদের দেখে মনে হল দুটো পিঁপড়ে অথবা ছোট কোন পোকা পিঠের উপর খাবার বয়ে নিয়ে চলেছে। ওদের নীচে নেমে যেতে দেখলাম। মাঝে মাঝে হাঁটার সময় মনে হল যেন এই বোধহয় গর্তে পড়ে যাব। আসলে নামার সময় চোখ খুব সতর্ক ও পুরো শরীরটাকে খুব সন্তর্পণে ব্যালান্স করে চলতে হয়। নইলে পা ফসকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাঁটুতে বেশ ভালরকম চাপ অনুভব করলাম। পায়ের পাতা, গোড়ালি ও হাঁটু এই তিন বিশেষ স্থানে বেশ ভালরকম জোর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে আমাদের। এখানকার পথ আগের মতো মসৃণ নয়। যদিও ঘাস রয়েছে অনেক। তবুও মাঝে মাঝে চকচকে পাথর, কখনও গোটা, কখনও অর্ধেক সেগুলোকে ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে চলতে থাকলাম আমরা।
বেশ
কিছুক্ষণ চলবার
পর
একবার
চোখের
মধ্যে
একটা
আলোর
ঝলকানি
এসে
লাগল।
আমি
নিচের
দিকে
তাকিয়ে হাঁটছিলাম। দেখলাম
রাস্তার এক
সাইডে
সামান্য ঢালু
অংশটায় সাদা
সাদা
দাগ
হয়ে
রয়েছে
বেশ
অনেকখানি অংশ
জুড়ে।
আমি
ওই
সাদা
দাগের
উপর
গিয়ে
দাড়াতেই কাঁচ
ভাঙার
মতো
আওয়াজ
আমার
কানে
এসে
পৌছল
আর
তার
সাথে
সাথে
আমি
একটু
পিছলে
গেলাম।
তবে
হাল্কা
ভাবে।
আর
তাছাড়া হাতে
লাঠি
থাকায়
বডি
ব্যালান্সটাও হয়ে
গেল।
নইলে
হয়েছিল আর
কি।
পাশেই
গভীর
খাদ।
পড়লে
এই
বিশ্বচরাচরে আর
কেউ
খুঁজে
পাবে
বলে
তো
মনে
হয়
না।
তা
আপনারা
কি
ধরতে
পারলেন
সাদা
দাগের
রহস্য?
ও
কিছুই
নয়।
পাহাড়ী রাস্তায় ভোরের
দিকে
খুব
ঠাণ্ডা
থাকার
জন্য
বরফ
জমে
থাকে।
যার
মধ্যে
সূর্যের আলো
পড়ে
চোখে
ঠিকরে
এসেছিল। আর
ঐ
বরফের
উপর
গিয়ে
দাড়াতেই ওটা
কাঁচ
ভাঙার
মতো
টুকরো
টুকরো
হয়ে
ভেঙে
গিয়েছিল। সেই
জন্য
কানে
শুনেছিলাম বরফ
ভাঙার
আওয়াজ।
"ঐ তো বুদ্ধ এবং যোগেন " সঞ্জীব বলল।
" ওরা তো একদম তরতর করে এগিয়ে চলেছে"। আমি বললাম। তখন তন্ময় আমায় বলল " ও ঠিক আছে অত চাপ নেওয়ার কিছু নেই। আস্তে আস্তে সাবধানে চল। এমনিতে তুমি যেরকম ঘামছ তাতে শরীর টরীর আবার খারাপ লাগছে নাতো"?
"না না I am perfectly alright. তাছাড়া আমার ঘাম বরাবরই খুব বেশি। আর শরীরের মধ্যে মাথায় ঘাম খুব বেশি হয়। যার ফলে দেখছো না চুল কেমন পাতলা হয়ে যাচ্ছে।" আমি বললাম ওকে।
" তা তোমার প্রেশার টেশার নেই তো?" সঞ্জীব জিজ্ঞাসা করল।
" 120/70 এটাকে তো নর্মাল বলেই মনে হয়। তাই না।বরং একটু নীচের দিকে। তবে আমার যেটা মনে হয় ক্যালসিয়ামের অভাবে অনেক সময় কায়িক পরিশ্রম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে ঘামের পরিমাণও বেশি হয়।" আমি ওদের বললাম।
"So you have calcium deficiency."
"Yes I think I have." আমি বললাম।
"ঐ তো বুদ্ধ এবং যোগেন " সঞ্জীব বলল।
" ওরা তো একদম তরতর করে এগিয়ে চলেছে"। আমি বললাম। তখন তন্ময় আমায় বলল " ও ঠিক আছে অত চাপ নেওয়ার কিছু নেই। আস্তে আস্তে সাবধানে চল। এমনিতে তুমি যেরকম ঘামছ তাতে শরীর টরীর আবার খারাপ লাগছে নাতো"?
"না না I am perfectly alright. তাছাড়া আমার ঘাম বরাবরই খুব বেশি। আর শরীরের মধ্যে মাথায় ঘাম খুব বেশি হয়। যার ফলে দেখছো না চুল কেমন পাতলা হয়ে যাচ্ছে।" আমি বললাম ওকে।
" তা তোমার প্রেশার টেশার নেই তো?" সঞ্জীব জিজ্ঞাসা করল।
" 120/70 এটাকে তো নর্মাল বলেই মনে হয়। তাই না।বরং একটু নীচের দিকে। তবে আমার যেটা মনে হয় ক্যালসিয়ামের অভাবে অনেক সময় কায়িক পরিশ্রম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে ঘামের পরিমাণও বেশি হয়।" আমি ওদের বললাম।
"So you have calcium deficiency."
"Yes I think I have." আমি বললাম।
কিছুটা
এগিয়ে
চলতে
চলতে
হঠাত্
করে
নীচের
দিকে
দেখতে
পেলাম
অনেক
টিনের
চালার
ঘরবাড়ি। এখান
থেকে
দূরত্ব
এখনও
প্রায়
দেড়
কিমি
হবে।
এতটা
দূরত্ব
থাকার
জন্য
ঘরবাড়িগুলো বেশ
ছোট
ছোট
আর
খুব
সুন্দর
লাগছিল। সূর্যের কিরণ
সেই
ঘরবাড়িগুলোর উপর
এসে
পড়েছে। একটা
মিঠে
রোদের
খেলা
চলছে
গাছপালার ফাঁক
দিয়ে।
হঠাত্
করে
তন্ময়
পেছন
থেকে
চিত্কার করে
বলল
- " এই
সঞ্জীব
দেখে"। দেখলাম পা
স্লিপ
করে
সঞ্জীব
হড়কে
বেশ
খানিকটা নীচে
চলে
গেছে।
কিন্তু
ওর
হাতে
ট্রেকিং স্টিকটা থাকায়
আর
বডি
ওয়েটটা
কম
হওয়ায় ও
নিজেকে
সামলে
নিল।
আসলে
প্রকৃতিকে অনুভব
করতে
গিয়ে
নিজেদের অনুভূতিগুলো মাঝে
মাঝে
বোধহয়
হারিয়ে যায়।
তাছাড়া এখানকার রাস্তাটাতো আর
স্বাভাবিক নয়।
কেমন
যেন
ভাঙা
ভাঙা।
নুড়ি
পাথর
গুলি
কেমন
একটা
এদিক
ওদিক
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দেখে
মনে
হয়
যেন
রাস্তাটা ভাঙা
হয়েছে
বেশ
কিছুদিন আগে।
বেশ
কয়েকবার ভাঙা
পাথরের
উপর
পা
পরে
মচকেছে
আমার।
তাই
সাবধানে চলবার
চেষ্টা
করছি।
-------------------
ঘড়িতে দেখলাম সকাল এগারোটা বেজে দশ। আমরা গৈরিবাস এসে গেছি। একটা ফাঁকা ঘাসের জমি দেখে পাঁচজনে একসঙ্গে এসে বসলাম। শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে আজ। আজকে উতরাই পথ কিন্তু তবুও আমাদের হাঁটবার গতি খুব কম। আসলে সারা শরীরে একটা ব্যাথা অনুভব করছি। আমাদের রুকস্যাক ব্যাগগুলোকে নামিয়ে রেখে বুদ্ধ ও যোগেন কাছেই একটা ট্রেকিং টিমের সাথে ফুটবল খেলছে। সর্বাশীষ ওদের হাত নেড়ে ডাকাতে বুদ্ধ বলল যে একটু পরেই চা আর মোমো নিয়ে আসবে। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে।
আমরা যেখানে বসে আছি তার ঠিক সামনেই দেখলাম SASHASTRA SIMA BALL এর মিলিটারি ক্যাম্প। যোগেন সেখানে গেল ট্রেকিং পাস নিয়ে। এই গৈরিবাস থেকে রাস্তাটা আবার চড়াই। সামুদ্রিক তল থেকে গৈরিবাসের উচ্চতা 2625 মিটার। কালাপোখরীর উচ্চতা 3186 মিটার। সুতরাং খুব স্বাভাবিক কারণেই আবার চড়াই রাস্তা অতিক্রম করতে হবে। কিছুক্ষণ বসবার পর চা ও মোমো খেলাম। তারপর আবার যাত্রা শুরু হল। চড়াই রাস্তা হলেও আগের মতো ভাঙাচোরা নয়। আর এই এলাকা থেকে আরও অনেক ট্রেকিং টিমের দল সব একজোট হয়ে চলেছে। আমরাও চলেছি। অনেক যুবতী মহিলা অংশগ্রহণ করেছে ওই সব টিমে। কথাবার্তায় মনে হল বেশিরভাগই উত্তরভারত থেকে আসা মহিলা। বাঙালি দু একজন ছাড়া দেখতে পেলাম না। পাহাড়ী বাঁক টপকে চলেছি তো চলেইছি। এ রাস্তা আর শেষ হওয়ার নয়। গলা শুকিয়ে কাঠ। মাঝে মাঝে এক ঢোক কি দু ঢোক জলপান করে,কখনও লজেন্স বা বাবুলগাম মুখে রেখে চলেছি। সারা শরীর অবশ। আমার সারা শরীরে ঘাম চপচপ করছে। আবহাওয়া মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়ার দরুন শরীরে থাকা জামাকাপড় ভিজে একসার।পকেটের রুমালটি ঘাম মুছে মুছে এমন অবস্থা যে সেটাকে ব্যাগের বেল্টের সাথে বেঁধে রাখতে হয়েছে। যাতে হাওয়া লেগে খানিকটা শুকায়। আরও খানিক ওপরে ওঠার পর কুয়াশা অত্যধিক ঘন হওয়ার কারণে সামনে সাত আট হাত দূরের বস্তু দেখতে পাচ্ছিলাম না। রাস্তার মাঝবরাবর টুকটুক করে হাঁটছি। একধারে গভীর খাদ আর একধারে কাঁটাগাছ নুড়ি পাথর ও পাহাড়ের এবড়ো খেবড়ো দেওয়াল যা কিনা কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আমার হাঁটার গতিবেগ এতটাই শ্লথ হয়ে গেল যে আমি সেই রাস্তায় একদম একা হয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে সেই রাস্তার উচ্চতা আরও বাড়তে থাকল। যতই উচ্চতা বাড়ছে ততই আমার গতি মন্থর হচ্ছে। কেমন যেন একটা ভয় ভয় পেয়ে বসল আমার মধ্যে। অস্পষ্ট একটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ ক্রমশ আমার কানে বাজতে থাকল। দু একবার পিছনে তাকালাম। কিন্তু কই, কেউ তো পিছনে নেই। তাহলে আওয়াজটা কিসের? কানে ঠাণ্ডা লাগার জন্য পকেটে করে তুলো নিয়ে গিয়েছিলাম। সেইসময় তুলো বার করে কানে গুঁজে দিলাম। এখন শব্দটা কিছুটা হলেও কম আসছে। কিন্তু কিছুতেই পুরোপুরি যাচ্ছে না। ব্যাপারটা কি? একজায়গায় স্থির হয়ে দাড়ালাম। না কোনও শব্দ নেই। আবার চলা শুরু করলাম। আবার শব্দটি শুরু হল। আসলে আমার পায়ের জুতোর শব্দ পাহাড়ের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে বারবার আমার কানকে জাগ্রত করছে। যাইহোক বুঝতে পেরে খানিক স্বস্তি বোধ করলাম। আবার সমস্ত শরীর,মন প্রাণ একত্র করে জোরে জোরে হাঁটা লাগালাম। মনে মনে ভাবলাম কোথায় শত, কোথায় সর্বা, সঞ্জীব আর কোথায় বা তন্ময়। চারদিকে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। শুধু এটুকু বুঝতে পারছি যে চড়াই পথটা আমি হয়তো পেরিয়ে গেছি। কারণ এখন সমতলে হাঁটলে যেরকম লাগে আমার সেরকমই বোধ হচ্ছে। অনেকেরই কন্ঠস্বর কানে আসছে কিন্তু কাউকেই কুয়াশার কারণে দেখতে পাচ্ছি না। সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাত্ করেই অনুভব করলাম যে আমি কিছুটা রাস্তা নীচের দিকে নেমে গেছি। ঠিক ছোটখাটো জলাশয় বা পুকুরপাড়ে নামতে গেলে যেরকম অনুভব হয় আমারও ঠিক সেইরকম অনুভব হল। কেমন যেন সন্দেহ হল যে আমি ঠিকমতো হাঁটছি তো? হঠাত্ আমার জ্যাকেটের পিঠের অংশের দিকটা কেউ একজন টেনে ধরল। আর বেশ জোরালো গলায় বলল - আরে কোথায় চলেছ? আরে এটা তো কালাপোখরী লেক। সামনে এগোলেই বিপদ।
------------তারপর---------ট্যানট্যান্যান----------------পরের পর্বে ।
-------------------
ঘড়িতে দেখলাম সকাল এগারোটা বেজে দশ। আমরা গৈরিবাস এসে গেছি। একটা ফাঁকা ঘাসের জমি দেখে পাঁচজনে একসঙ্গে এসে বসলাম। শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে আজ। আজকে উতরাই পথ কিন্তু তবুও আমাদের হাঁটবার গতি খুব কম। আসলে সারা শরীরে একটা ব্যাথা অনুভব করছি। আমাদের রুকস্যাক ব্যাগগুলোকে নামিয়ে রেখে বুদ্ধ ও যোগেন কাছেই একটা ট্রেকিং টিমের সাথে ফুটবল খেলছে। সর্বাশীষ ওদের হাত নেড়ে ডাকাতে বুদ্ধ বলল যে একটু পরেই চা আর মোমো নিয়ে আসবে। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে।
আমরা যেখানে বসে আছি তার ঠিক সামনেই দেখলাম SASHASTRA SIMA BALL এর মিলিটারি ক্যাম্প। যোগেন সেখানে গেল ট্রেকিং পাস নিয়ে। এই গৈরিবাস থেকে রাস্তাটা আবার চড়াই। সামুদ্রিক তল থেকে গৈরিবাসের উচ্চতা 2625 মিটার। কালাপোখরীর উচ্চতা 3186 মিটার। সুতরাং খুব স্বাভাবিক কারণেই আবার চড়াই রাস্তা অতিক্রম করতে হবে। কিছুক্ষণ বসবার পর চা ও মোমো খেলাম। তারপর আবার যাত্রা শুরু হল। চড়াই রাস্তা হলেও আগের মতো ভাঙাচোরা নয়। আর এই এলাকা থেকে আরও অনেক ট্রেকিং টিমের দল সব একজোট হয়ে চলেছে। আমরাও চলেছি। অনেক যুবতী মহিলা অংশগ্রহণ করেছে ওই সব টিমে। কথাবার্তায় মনে হল বেশিরভাগই উত্তরভারত থেকে আসা মহিলা। বাঙালি দু একজন ছাড়া দেখতে পেলাম না। পাহাড়ী বাঁক টপকে চলেছি তো চলেইছি। এ রাস্তা আর শেষ হওয়ার নয়। গলা শুকিয়ে কাঠ। মাঝে মাঝে এক ঢোক কি দু ঢোক জলপান করে,কখনও লজেন্স বা বাবুলগাম মুখে রেখে চলেছি। সারা শরীর অবশ। আমার সারা শরীরে ঘাম চপচপ করছে। আবহাওয়া মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়ার দরুন শরীরে থাকা জামাকাপড় ভিজে একসার।পকেটের রুমালটি ঘাম মুছে মুছে এমন অবস্থা যে সেটাকে ব্যাগের বেল্টের সাথে বেঁধে রাখতে হয়েছে। যাতে হাওয়া লেগে খানিকটা শুকায়। আরও খানিক ওপরে ওঠার পর কুয়াশা অত্যধিক ঘন হওয়ার কারণে সামনে সাত আট হাত দূরের বস্তু দেখতে পাচ্ছিলাম না। রাস্তার মাঝবরাবর টুকটুক করে হাঁটছি। একধারে গভীর খাদ আর একধারে কাঁটাগাছ নুড়ি পাথর ও পাহাড়ের এবড়ো খেবড়ো দেওয়াল যা কিনা কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আমার হাঁটার গতিবেগ এতটাই শ্লথ হয়ে গেল যে আমি সেই রাস্তায় একদম একা হয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে সেই রাস্তার উচ্চতা আরও বাড়তে থাকল। যতই উচ্চতা বাড়ছে ততই আমার গতি মন্থর হচ্ছে। কেমন যেন একটা ভয় ভয় পেয়ে বসল আমার মধ্যে। অস্পষ্ট একটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ ক্রমশ আমার কানে বাজতে থাকল। দু একবার পিছনে তাকালাম। কিন্তু কই, কেউ তো পিছনে নেই। তাহলে আওয়াজটা কিসের? কানে ঠাণ্ডা লাগার জন্য পকেটে করে তুলো নিয়ে গিয়েছিলাম। সেইসময় তুলো বার করে কানে গুঁজে দিলাম। এখন শব্দটা কিছুটা হলেও কম আসছে। কিন্তু কিছুতেই পুরোপুরি যাচ্ছে না। ব্যাপারটা কি? একজায়গায় স্থির হয়ে দাড়ালাম। না কোনও শব্দ নেই। আবার চলা শুরু করলাম। আবার শব্দটি শুরু হল। আসলে আমার পায়ের জুতোর শব্দ পাহাড়ের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে বারবার আমার কানকে জাগ্রত করছে। যাইহোক বুঝতে পেরে খানিক স্বস্তি বোধ করলাম। আবার সমস্ত শরীর,মন প্রাণ একত্র করে জোরে জোরে হাঁটা লাগালাম। মনে মনে ভাবলাম কোথায় শত, কোথায় সর্বা, সঞ্জীব আর কোথায় বা তন্ময়। চারদিকে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। শুধু এটুকু বুঝতে পারছি যে চড়াই পথটা আমি হয়তো পেরিয়ে গেছি। কারণ এখন সমতলে হাঁটলে যেরকম লাগে আমার সেরকমই বোধ হচ্ছে। অনেকেরই কন্ঠস্বর কানে আসছে কিন্তু কাউকেই কুয়াশার কারণে দেখতে পাচ্ছি না। সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাত্ করেই অনুভব করলাম যে আমি কিছুটা রাস্তা নীচের দিকে নেমে গেছি। ঠিক ছোটখাটো জলাশয় বা পুকুরপাড়ে নামতে গেলে যেরকম অনুভব হয় আমারও ঠিক সেইরকম অনুভব হল। কেমন যেন সন্দেহ হল যে আমি ঠিকমতো হাঁটছি তো? হঠাত্ আমার জ্যাকেটের পিঠের অংশের দিকটা কেউ একজন টেনে ধরল। আর বেশ জোরালো গলায় বলল - আরে কোথায় চলেছ? আরে এটা তো কালাপোখরী লেক। সামনে এগোলেই বিপদ।
------------তারপর---------ট্যানট্যান্যান----------------পরের পর্বে ।
Comments
Post a Comment