Skip to main content

মিশন সান্দাকফু - ষষ্ট পর্ব


মিশন সান্দাকফু - ষষ্ঠ পর্ব

টোংলুর রাতের অভিজ্ঞতা



চারিদিক কেমন যেন ঘোলাটে, বর্ণহীন। খুব জোরে সোঁ সোঁ করে হাওয়া বইছে। তার মধ্যে দিয়েই শুনতে পেলাম বহুদূর থেকে আসা তন্ময়ের ডাক।
- এই অঅতঅঅ, অত জোরে ছুটিস না।
- অঅঅতঅঅঅ------------- এই অঅঅতঅঅঅ-------------
শতদল প্রাণপণে ছুটে চলেছে চড়াই রাস্তাটার উপর দিয়ে। পিঠে ব্যাগ। হাতের লাঠিটাকে মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে। আমরা সবাই ওর সাথে তাল মেলানোর জন্য জোরে জোরে ছুটে চলেছি। কিন্তু কিছুতেই পেরে উঠছি না। ওর জীবনীশক্তি অফুরন্ত।
- অঅঅতঅঅঅ------ দাঁড়াআআআ---------- অত জোরে যাসনেএএএএ------- মুখ থুবড়ে পড়বিইইইই।
- দুর শালা, শালা ল্যাদখোরের দল, তোরা কি এখানে দাড়িয়ে আড্ডা মারতে এসেছিস। তাড়াতাড়ি চল সব। আমাকে এই সিঙ্গালীলা রেঞ্জটা কভার করতেই হবে
লক্ষ করলাম শতদলের চোখ, মুখ সব আগুনের মতো লাল হয়ে আছে। রাগে ফেটে পড়ছে যেন। কোনও কিছুকেই আর তোয়াক্কা করছে না ও। ওকে থামানোর চেষ্টা করে সঞ্জীব, তন্ময়, সর্বাশীষ সবশেষে আমি, আমরা চারজনে পাগলের মতো খাঁড়াই রাস্তার উপর দিয়ে ছুটে চলেছি। হঠাত্ দেখলাম সামনে একটা বিশালাকার পাথরের চাঁই, প্রায় এক মানুষ লম্বা, আমাদের দিকে গড়িয়ে আসছে ওপরের পাহাড়ী পথ বেয়ে। সেই বিশাল গোলাকার পাথরের একদম সামনে শতদল পৌছে যাচ্ছে। পাথরটা শতদলের দিকে। আর শতদল চোখ গুলো বড় বড় করে চেল্লাতে চেল্লাতে পাথরটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দুজনের ধাক্কা লাগবার মুহূর্তে শতদলের বিশাল এক লাফ। ঠিক যেমন করে গুলাম সিনেমায় আমীর খান সামনের দিকে ধেয়ে আসা ট্রেনটাকে ক্রস করে লাফিয়েছিল ঠিক সেইরকম ভাবে। আমি ভীষণ রকম চমকে উঠলাম। দেখলাম পাথরটা তীব্রবেগে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। তন্ময়, সঞ্জীব সর্বাশীষের কি অবস্থা দেখতে যাব হঠাত্ করে আমার পা ফসকে গেল। আমি পাহাড়ী রাস্তার পাশের খাদটায় পড়ে গেলাম




হঠাত্ করে শুনতে পেলাম কাঠের মেঝের উপর কারওর হেঁটে চলার আওয়াজ। কেউ যেন একজন তীব্রভাবে পায়চারি করছে
- কি রে, সর্বা, কি হয়েছে তোর?
- দম নিতে পারছি না, খুব কষ্ট হচ্ছে। সেই মুহূর্তে আমি ধড়ফড় করে উঠলাম বিছানা ছেড়ে। দেখলাম সর্বাশীষ সাড়া ঘরময় হেঁটে বেড়াচ্ছে। ছটফট করছে। সঞ্জীব আবারও ওকে এক ডোজ COCA 30 খাওয়ালো। আমি বিছানার উপর উঠে বসেছি। আসলে স্বপ্ন দেখছিলাম। পাহাড়, গোলাকার পাথরের চাঁই, শতদলের পাগলের মতো দৌড়ানো এইসব।
- তুই এক কাজ কর ভাই। এই ঘরের দরজাটা খুলে বারান্দার সামনেটা গিয়ে দাঁড়া। বাইরে যাস না। Temperature এখন কিন্তু মাইনাসে। তন্ময় কটা বাজে রে এখন? - শতদল জিজ্ঞাসা করল।
- রাত সাড়ে বারোটা।
- কি রে প্রেম তুই এখন ঠিক আছিস তো? যা খেল দেখাচ্ছিলি গুরু।
- হ্যাঁ ঠিক আছি। সর্বার কি শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে? আসলে ঘরটাতো একদম বদ্ধ। সাফোকেশন তৈরি হয়েছে। দরজাটা না হয় হাল্কা করে কিছুক্ষণ খোলাই থাক।
- হ্যাঁ সে না হয় হোল। কিন্তু ঘুমের মধ্যে চিত্কার করছিলিস কেন?
- স্বপ্ন দেখছিলাম।
- কিসের? ক্যাটরিনা কাইফকে জড়িয়ে ধরে আদর করার স্বপ্ন?
-তাহলে কি আর চিত্কার করি। পাহাড়ের থেকে খাদে পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
- যাচ্চলে। তুই ওই খাদেই পড়বি যা মনে হচ্ছে। চল চল শুয়ে পড় সবাই। সর্বা ঠিক হলে আপনিই চলে আসবে।- এই বলে শতদল ওরা শুয়ে পড়ল।
আমি একটু জল খেয়ে লাইটটা নিভিয়ে আবার এসে শুলাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকলাম এই কয়েক ঘন্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো
লামেডুরা থেকে প্রায় 4 কিমি পথ অতিক্রম করে যখন আমরা টোংলু এসে পৌছলাম তখন বিকেল সাড়ে চারটে হবে। আমরা GTA এর তৈরি করা TREKKERS HUT উঠলাম। দেখতে খুব সুন্দর। কাঠের তৈরি ঘর। যে ঘরটিতে আমাদেরকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল সেটাতে মোট সাতটা বেড ছিল।কিন্তু ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা কম হওয়ার দরুন ভীষণ ঠাণ্ডা লাগছিল। একদম সহ্য হচ্ছিল না। ঘরেতে একটাই 5 WATT এর CFL বাল্ব লাগানো। তাতে একে অপরের মুখটাই স্পষ্ট দেখা যায় না। আসলে এখানে ইলেকট্রিক নেই। সব কিছু সোলার পাওয়ারের উপর নির্ভরশীল। তাই লাইটের এত অভাব। ইলেকট্রিক না থাকার কারণে আমাদের প্রত্যেকের মোবাইলগুলো মাঝে মাঝে সুইচ অফ করে রাখতে হয়েছিল। অত্যধিক ঠাণ্ডা থাকার জন্য এখানে রাত 7টা থেকে 7:30 এর মধ্যে ডিনার কমপ্লিট করে নিতে হয়েছিল। এরপরে না খাবার পাওয়া যায়, না কেউ জেগে থাকে। সেই সময় সেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমরা সন্ধ্যা 6 টার পর বিছানায় বসে বসে বেশ খানিকক্ষণ ধরে আড্ডা মারছিলাম। ঘন্টাখানেক আড্ডা হওয়ার পর হঠাত্ করেই আমার কাঁপুনি দিয়ে শীত ওঠে। শীতের চোটে দাঁতে দাঁত লেগে যায়। একদম ঠকঠক করে কাঁপতে থাকি সেই সময়। কোনও রকমে ডিনার কমপ্লিট করে এসে একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাই এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিছানায় শুয়ে পড়ি। কিন্তু লেপ কম্বলে আমার শীত না কমার জন্য শতদল ওর SLEEPING BAG টা খুলে তার মধ্যে ঢুকতে বলল। আমিও তাই করেছিলাম। যার ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই শীত একদম গায়ের হয়ে গেল। উল্টে পেটগরম হয়ে গেল। আর পেটগরম হলে ভুলভাল স্বপ্ন দেখাটা অস্বাভাবিক নয়। ডাক্তারদের সেইরকমই মত
কিছুক্ষণ পর সর্বাশীষ ফিরে আসল। জিজ্ঞাসা করতে বলল যে ওর সমস্যাটা ঠিক হয়ে গেছে। আসলে পাহাড়ী এলাকায় অক্সিজেনের পরিমাণ কম হওয়ার জন্য অনেককেই এই ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়

পরের দিন সকালে (20/12/16)
- এই সঞ্জীব ওঠ ভাই। সাতটা বেজে গেছে। রেডি হয়ে আটটার মধ্যে বেরোতেই হবে।
- কি; পেটের মধ্যে থেকে কিছু বেরোল? আমি শতদলকে জিজ্ঞাসা করলাম।
-হ্যাঁ, তবে খুব সামান্যই। শোন, ভাল কথা। এখানে কিন্তু জল খুব কম। একটাই মগ। তাতে করেই জল নিয়ে যেতে হবে বাইরে রাখা বড়ো বড়ো ড্রাম থেকে। পটি হয়ে গেলে এক মগ এক মগ করে জল নিয়ে দিয়ে দিস। ভেতরে কিন্তু কোনও বালতির ব্যবস্থা নেই।
সেইসময় তন্ময় উঃআঃ কি ঠাণ্ডা বলতে বলতে ঘরের ভেতরে এসে ঢুকল। আমাকে বলল - ভাই প্রেমাংশু ঠান্ডায় বাঁ হাতটাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না বস।
- আর সোনা পোনার কি অবস্থা?
- আরে ভাই সোনা পোনার চামড়া তো মোটা হয়ে গেছে। তাই সেরকম সমস্যা হয় নি। কিন্তু হাতের কোনও সার নেই।
- এক কাজ কর না। হাতটা প্রথমে কিছুক্ষণ লেপের ভেতর রাখ, তারপর একটু গরম অনুভব করলে হ্যান্ডগ্লাভসটা পড়ে নিও
সকালের কাজকর্ম সাড়া হলে আমরা কিচেনে গিয়ে গরম গরম রুটি,আলু,ক্যাপসিকাম গাজরের সবজি চা সহযোগে খেলাম। সকালের 1/2 ডিগ্রি তাপমাত্রায় গরম রুটি খেতে বেশ ভালো লাগছিল। তবে এই TREKKERS HUT টাতে খাওয়া দাওয়া সেরকম ভালো হয়নি। গতরাতে তো শুধু ভাত,ডাল,পাপড় ভাজা, একটা সবজি( কি দিয়ে খেয়েছিলাম মনে নেই ) ওমলেট দিয়ে ডিনার শেষ করেছিলাম। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবারও নতুন উদ্যমে শুরু করলাম ব্যাগপত্তর গুছোনো। সেই দুটো দুটো করে চারখানা রুকস্যাক ব্যাগ বুদ্ধ এবং যোগেনকে দেওয়া হল। চেষ্টা করলাম এবারে যাতে ওদের ব্যাগের ওজন গুলোকে একটু কম করা যায়। টোংলুর TREKKERS HUT থেকে বেরোলাম সকাল সাড়ে আটটা কি নটা নাগাদ। আমাদের এর পরের গন্তব্য টামলিং হয়ে গৈরিবাস গৈরিবাস থেকে কালীপোখারী। মোট 13কিমি পথ অতিক্রম করতে হবে আজকে। আজকের পথে উতরাই রাস্তা অনেক বেশি। আর সবচেয়ে বড়ো চমক আমরা এখন যাব নেপালের মধ্যে দিয়ে। কারণ কালীপোখারী জায়গাটা নেপালের অন্তর্গত।--------------কি আছে সেখানে ------------ আসবে সপ্তম পর্বে

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...