Skip to main content

প্রসঙ্গ প্যাডম্যান - একটি আলোর দিশা


প্রসঙ্গ প্যাডম্যান

তাহলে এভাবেও ফিরে আসা যায়? আর শুধু ফিরে আসা নয় একেবারে দেশ শুদ্ধু মানুষের বিশেষত মহিলাদের হৃদয় জয় করে ফিরে আসা। ফিরে আসলেন প্যাডম্যান ওরফে লক্ষ্মী কান্ত চৌহান ওরফে আমাদের প্রিয় খিলাড়ী অক্ষয় কুমার। দারুণ খেল দেখিয়েছেন তিনি এই ছবিতে। না আমি কোনও কাঁটা ছেড়াতে বসছি না এই ছবিটাকে নিয়ে। সেসব কাজ সিনে বিশেষজ্ঞদের। আমি শুধু ছবিটার পজিটিভ দিকটা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একটা অসম্ভব লড়াইয়ের কথা বলতে চাই। যে লড়াই নিজের সাথে, নিজের পরিবারের সাথে, যে লড়াই আশেপাশের প্রতিবেশী তথা সমাজের সাথে, যে লড়াই নিজের দেশের সাথে, যে লড়াই কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণার সাথে। এমনই এক লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন ছবির মুখ্য চরিত্র লক্ষ্মী কান্ত চৌহান।
মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করে লক্ষ্মী কান্ত এবং ওর স্ত্রী গায়ত্রী। সদ্য বিবাহিত। ঘরে বুড়ি মা এবং অনেকগুলো বোন রয়েছে লক্ষ্মীর। লক্ষ্মী একটি কারখানায় কাজ করে। অভাবের সংসার হলেও বর বউয়ের মধ্যে প্রেম ভালবাসা ও শান্তি বেশ ভালরকম বিরাজমান। এরকম এক সময়ে গায়ত্রী ঋতুমতী হয়। লক্ষ্মী দেখে গায়ত্রী কিছু অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে যা কিনা শারীরিক দিক দিয়ে অস্বাস্থ্যকর। ওতে যেকোনোরকম সংক্রমণ ঘটতে পারে শরীরে। পাঠককে এখানে বলে রাখি এই ছবির মুখ্য বিষয় ঋতুমতী মহিলা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন। সমাজে যে বিষয়টাকে এখনও এই একবিংশ শতাব্দীতেও 'ছি ছি' সহকারে দেখা হয়। কেমন একটা ঢাক ঢাক গুড় গুড় ভাব। একদিন গায়ত্রীর স্বামী লক্ষ্মী 55টাকা ব্যয় করে গায়ত্রীর জন্য একটি স্যানিটারি প্যাড এনে দেয় যেটা ওদের মতো গরীব পরিবারের কাছে অত্যধিক ব্যয়বহুল। গরীব পরিবারে সেই অতি দামি প্যাড ব্রাত্য হয়ে যায় গায়ত্রীর জোড়াজুড়িতে। এদিকে লক্ষ্মীও নাছোড়বান্দা। ও কখনওই স্ত্রী এর এই অস্বাস্থ্যকর কাপড় চোপড় ব্যবহার করাকে সমর্থন করতে পারে না। বাজার থেকে তুলো কিনে , তাকে প্লাস্টিকের মধ্যে মুড়িয়ে, কখনও গাছের পাতার সাহায্যে, আরও বিবিধ উপায়ে গায়ত্রীর জন্য প্যাড তৈরি করার চেষ্টা করে লক্ষ্মী। কিন্তু প্রত্যেকবার ও ব্যর্থ হয় প্যাড তৈরি করার ক্ষেত্রে। এখান থেকেই শুরু হয় লক্ষ্মীর সংগ্রাম। শুরু হয় এক অবাস্তব (আমাদের মতো শিক্ষিত অবুঝদের জন্য ) স্বপ্নময় জীবন। চলতে থাকে কঠিন থেকে কঠিনতর পরীক্ষা। দিতে হয় একের পর এক ভুলের মাশুল। কখনও চরম অপমান স্ত্রী এর কাছে, কখনও তীব্র লাঞ্ছনা, গঞ্জনা মা বোনেদের কাছে। কখনও আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব ও সর্বোপরি সমাজের কাছে। ধীরে ধীরে ওদের কাছে লক্ষ্মী হয়ে যায় এক বদ্ধ উন্মাদ, দুশ্চারিত্রিক ব্যক্তিত্ব। আসে এক চরম সংকটের দিন। যখন লক্ষ্মীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গায়ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। লক্ষ্মীও তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দেয় নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে। কিন্তু দুচোখে স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। নিঃসঙ্গ হয়েও মনের মধ্যে এক অটুট স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে থাকে লক্ষ্মী। ওর বিশ্বাস ওর স্ত্রী, আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব ও সমাজ ওর এই চিন্তা ভাবনার কদর করবে। সেই আশা নিয়েই ও কঠোর অমানুষিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে। অভীষ্ট লক্ষের দিকে লক্ষ্মী কিভাবে পৌছায় সেটা আমি এখানে আর লিখছি না। কারণ সেই সংগ্রামটাই আমাদের সবার দেখা উচিত পাঠক। শুন্য থেকে শুরু করে একজন কিভাবে সমাজের এক উচ্চপর্যায়ে বিচরণ করে সেটাই দেখার।
এখানে একটি ঘটনা একটু উল্লেখ না করলেই নয় যে যখন লক্ষ্মী কান্ত চৌহান সেরা আবিষ্কারক হিসাবে শ্রী অমিতাভ বচ্চনের থেকে পুরস্কার পাচ্ছেন, প্যাডম্যান হিসাবে নির্বাচিত হচ্ছেন তার পরেও লক্ষ্মীর আবিষ্কৃত প্যাড সমাজ ব্রাত্য করে দিচ্ছে। লক্ষ্মী কান্ত এমনই এক প্যাড মেশিন তৈরি করে যেখানে প্রত্যেক প্যাডের দাম পড়ে মাত্র দু'টাকা। ও চায় গরীব ঘরগুলিতে মেয়েরা সেই প্যাড ব্যবহার করুক। সমাজের মধ্যে যে কুসংস্কার ও ছি ছি কার রয়েছে ও চায় সেইগুলো দূর করতে। কিন্তু পাঠক আমাদের সমাজ বড়ই জটিল। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মানুষের মনে এমনভাবেই দানা বেঁধে বসে আছে যে আজও সমাজে বাবা অথবা দাদা তাদের মেয়ে বা বোনকে ঋতুকালে প্যাড হাতে তুলে দিতে কুণ্ঠিত বোধ করে। যেন ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম মহিলাদের সমস্যা মহিলারাই বুঝবে, মহিলারাই শুনবে। এ বিষয়ে কোনও পুরুষ মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ আজও সমাজ মেনে নিতে চায় না।
এবার শেষ পর্যায়ে আসি। বিদেশে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির মেশিনের দাম দু কোটি টাকা সেখানে লক্ষ্মী কান্ত চৌহান মাত্র নব্বই হাজার টাকায় তৈরি করেছে সেই মেশিন। বিভিন্ন মহিলাদের দিয়ে সেই ন্যাপকিন বা প্যাড বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। ধীরে ধীরে লক্ষ্মী কান্ত হয়ে উঠেছে একজন ENTREPRENEUR. যে কোনওদিন স্কুলের গন্ডিই পেরোয় নি। একদিন সে ডাক পায় UNITED NATIONS থেকে। শোনায় তার SAD STORY তার প্যাড বানানোর গল্প। এই লক্ষ্মী কান্ত চৌহানের চরিত্রটি তৈরি হয়েছে যাকে নিয়ে তার নাম 'অরূনাচলম মুরুগুনাথম'কোয়েম্বাটুরের লোক। যিনি কিনা THE REAL PADMAN OF INDIA.
আপনি যখন নিঃস্ব রিক্ত হয়ে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন সেরকম সময়ে কোনও একজনকে ঠিক উপরওয়ালা আপনার কাজে সাহায্যের জন্য ঠিক করে দেন। সমমনোভাবাপন্ন ব্যক্তির সাহায্য বোধহয় তাই মানুষ সঠিক সময়ে পেয়েও যায়। সেরকমই এক বন্ধুর সাহায্য পেয়েছিল লক্ষ্মী কান্ত। সেই বন্ধুটির নাম পরী। পরীর চরিত্রে খুব সাবলীলভাবে অভিনয় করেছেন সোনম কাপূর। অক্ষয় কুমারকে নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি এই চরিত্রে অনবদ্য। গায়ত্রীর চরিত্রে রাধিকা আপ্তে যথাযথ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি পরিচালক R BALKI এক সুন্দর ছবি উপহার দিয়েছেন আমাদের, বিশেষত মহিলাদের। দেখুন এবং শিখুন। উপলব্ধি করুন যে এভাবেও ফিরে আসা যায়।

Comments

  1. খুব ভালো।।।পরের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।।😙😊

    ReplyDelete
  2. Sundor review. Intereste ta bariye dile movie ta dekhar. Ebar bhabchi time bar kore ei movie ta dekhe felte hobe. Amar akhono dekha hoyni movie ta.

    ReplyDelete
    Replies
    1. একদম দেখে ফেল। ভালো লাগবে।

      Delete

Post a Comment

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...