Let's Go অজন্তা ইলোরা
পর্ব ২
উজ্জ্বল একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আচ্ছা আপনি QA বোঝেন? বোঝেন না তো? QA মানে Quality Assurance. Construction সাইট গুলোতে গিয়ে কাজের গুনগত মানটা ঠিক আছে কিনা তার তদারকি করাটাই ওর কাজ। ওই কিছুটা Inspection করবার মত। এ তো গেল পেশা। কিন্তু নেশায় ভ্রমণবিলাসী। ঘুরতে যেতে খুব পছন্দ করে। তা এহেন ছেলের সঙ্গে ভোদলু দা যে ভিড়বে তা বলাইবাহুল্য। সাথে যদি হয় আবার পুরুলিয়ার গড়াই তাহলে তো ট্রিপের মজাই আলাদা। তাই সে যাত্রায় তিনজনের মাথায় একটাই ডায়লগ ঘুরপাক খেতে থাকল। "উঠল বাই তো কটক যাই"।
ও যাদবের পরিচয়টা তো দেওয়াই হল না। যাদবও পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। একটু চুপি চাপে দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে। সেন্স অফ হিউমারটা এক কথায় অসাধারণ। মুখে সবসময় একটা মিটমিটে হাসি যেন লেগেই আছে। আর সর্বোপরি ওর সাথে ট্যুর করতে যাওয়া মানে ইতিহাস বই সঙ্গে করে যাওয়া। ভোদলুদার বেশ সুবিধাই হয়েছিল। অজন্তা ইলোরার গুহাগুলোতে ঢুকছে আর ইতিহাস বইটাকে একটু নেড়ে চেড়ে দেখছে।
খুব বোর হচ্ছেন বলুন? ভাবছেন পরিচয় পর্বটা কি চলতেই থাকবে? যাত্রা টা কি শুরু হবে না? আলবাত হবে। বরং অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কি ভাবে? আসুন দেখা যাক এই তিন হুজুগে পাবলিকের যাত্রার কাহিনী।
-"এই নাম নাম চেন্নুর গেস্ট হাউস ঢুকছে"।
-"কি কবা দেখ দেখি। বৃষ্টিটা নামবার কি আর সময় পেল না"।
-"উজ্জ্বল চলো বৌদির দোকানে গিয়ে বরং একটু বিস্কুট, চানাচুর আর চিপসের প্যাকেটটা নিয়েই নি। আর সাথে যদি একটু সুখটান দিয়ে নাও তাহলে মনে হয় বৃষ্টিটা একটু কমলেও কমতে পারে। বেকার ভিজব কেন? হাতে সামান্য সময় যখন রয়েইছে"।
ভাবছেন তো হঠাৎ করে এই সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো কি সব ভেসে উঠছে। আরে বুঝলেন না? তিন পাগলের ডায়লগ ডেলিভারি। ওরা অফিস থেকে বেরিয়েই চেন্নুরগামী একটা বাসে উঠে পড়ল। তেলেঙ্গানার চেন্নুর গ্রামেই ওদের বসবাস। কোম্পানির গেস্ট হাউস ওখানেই। বাস চেন্নুর গেস্ট হাউস আসতেই উজ্জ্বল সবাইকে নামতে বলেছিল। তার পরের কথাগুলো যাদব আর ভোদলুদার সেটা নিশ্চয়ই আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না।
ওরা তিনজন গেস্ট হাউসের সামনে অবস্থিত বৌদির দোকান থেকে চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, কেক এই সব কিনে টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে হাঁটা লাগাল। ভোদলু দা ও উজ্জ্বল দুজনে একটা একটা করে সিগারেট ধরিয়ে সুখটান দিচ্ছে আর বেশ হেলে দুলে চলছে। যাদব একটু তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে যেতে লাগল। ও সিগারেট খায় না। বৃষ্টির বেগটা কখনও কমছে কখনও বাড়ছে। ওদের তিনজনের মনের মধ্যেই তখন এক চিন্তা যে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে না বাড়বে। অল্প অল্প করে টেনশন বাড়তেই থাকল। এদিকে ঘড়িতে সময় ৫ টা ১৫ হবে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক হল যে সন্ধ্যা সাড়ে ছটা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে উজ্জ্বলের রুমের সামনে বাকি দুজন অর্থাৎ ভোদলু দা ও যাদব এসে অপেক্ষা করবে। হলও তাই। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঠিক সময়ে তিনজনেই হাজির গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সামান্য সময় ব্যয় হল রাঁধুনি জগাদার অনুরোধে। সেদিন সেই মেসের রাঁধুনি জগাদা খুব সুন্দর করে দেশী চিকেন রান্না করেছিল। ওদের তিনজনেরই তখন পেটে খিদে। তাই উজ্জ্বল এবং যাদব টপাটপ করে মুখে পুড়তে লাগল চিকেনগুলো। একদম গোগ্রাসে গরম গরম চিকেন শেষ। যদিও তখন চিকেন পুরোপুরি কষেনি। কি করে হবে বলুন। তখন তো সবে সন্ধ্যা সাতটা। তাই সেই গরম গরম সামান্য ঝোল রাখা চিকেনে ফুঁ দিতে লাগলেন ভোদলু দা। যাদব ও উজ্জ্বল যখন ভোদলুদাকে তাড়াতাড়ি খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে লাগল তখন ভোদলুদার জবাব ছিল অনেকটা এইরকম -----
"I am an accountant. ধীরে সুস্থে হিসেব নিকেশ করে যেমন চলি ঠিক তেমন হিসেব নিকেশ করেই খাই। তোমরা মেলা বকো না। ভালো করে চিকেনটা খেতে দাও দেখি"।
এই বলে ভোদলু দা একদম চুষে চুষে লেগ পিসের অংশটা বেশ আয়েশ করে খেতে থাকল।
তারপর নিয়ে আসছি পরের পর্বে।
পর্ব ২
উজ্জ্বল একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আচ্ছা আপনি QA বোঝেন? বোঝেন না তো? QA মানে Quality Assurance. Construction সাইট গুলোতে গিয়ে কাজের গুনগত মানটা ঠিক আছে কিনা তার তদারকি করাটাই ওর কাজ। ওই কিছুটা Inspection করবার মত। এ তো গেল পেশা। কিন্তু নেশায় ভ্রমণবিলাসী। ঘুরতে যেতে খুব পছন্দ করে। তা এহেন ছেলের সঙ্গে ভোদলু দা যে ভিড়বে তা বলাইবাহুল্য। সাথে যদি হয় আবার পুরুলিয়ার গড়াই তাহলে তো ট্রিপের মজাই আলাদা। তাই সে যাত্রায় তিনজনের মাথায় একটাই ডায়লগ ঘুরপাক খেতে থাকল। "উঠল বাই তো কটক যাই"।
ও যাদবের পরিচয়টা তো দেওয়াই হল না। যাদবও পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। একটু চুপি চাপে দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে। সেন্স অফ হিউমারটা এক কথায় অসাধারণ। মুখে সবসময় একটা মিটমিটে হাসি যেন লেগেই আছে। আর সর্বোপরি ওর সাথে ট্যুর করতে যাওয়া মানে ইতিহাস বই সঙ্গে করে যাওয়া। ভোদলুদার বেশ সুবিধাই হয়েছিল। অজন্তা ইলোরার গুহাগুলোতে ঢুকছে আর ইতিহাস বইটাকে একটু নেড়ে চেড়ে দেখছে।
খুব বোর হচ্ছেন বলুন? ভাবছেন পরিচয় পর্বটা কি চলতেই থাকবে? যাত্রা টা কি শুরু হবে না? আলবাত হবে। বরং অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কি ভাবে? আসুন দেখা যাক এই তিন হুজুগে পাবলিকের যাত্রার কাহিনী।
-"এই নাম নাম চেন্নুর গেস্ট হাউস ঢুকছে"।
-"কি কবা দেখ দেখি। বৃষ্টিটা নামবার কি আর সময় পেল না"।
-"উজ্জ্বল চলো বৌদির দোকানে গিয়ে বরং একটু বিস্কুট, চানাচুর আর চিপসের প্যাকেটটা নিয়েই নি। আর সাথে যদি একটু সুখটান দিয়ে নাও তাহলে মনে হয় বৃষ্টিটা একটু কমলেও কমতে পারে। বেকার ভিজব কেন? হাতে সামান্য সময় যখন রয়েইছে"।
ভাবছেন তো হঠাৎ করে এই সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো কি সব ভেসে উঠছে। আরে বুঝলেন না? তিন পাগলের ডায়লগ ডেলিভারি। ওরা অফিস থেকে বেরিয়েই চেন্নুরগামী একটা বাসে উঠে পড়ল। তেলেঙ্গানার চেন্নুর গ্রামেই ওদের বসবাস। কোম্পানির গেস্ট হাউস ওখানেই। বাস চেন্নুর গেস্ট হাউস আসতেই উজ্জ্বল সবাইকে নামতে বলেছিল। তার পরের কথাগুলো যাদব আর ভোদলুদার সেটা নিশ্চয়ই আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না।
ওরা তিনজন গেস্ট হাউসের সামনে অবস্থিত বৌদির দোকান থেকে চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, কেক এই সব কিনে টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে হাঁটা লাগাল। ভোদলু দা ও উজ্জ্বল দুজনে একটা একটা করে সিগারেট ধরিয়ে সুখটান দিচ্ছে আর বেশ হেলে দুলে চলছে। যাদব একটু তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে যেতে লাগল। ও সিগারেট খায় না। বৃষ্টির বেগটা কখনও কমছে কখনও বাড়ছে। ওদের তিনজনের মনের মধ্যেই তখন এক চিন্তা যে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে না বাড়বে। অল্প অল্প করে টেনশন বাড়তেই থাকল। এদিকে ঘড়িতে সময় ৫ টা ১৫ হবে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক হল যে সন্ধ্যা সাড়ে ছটা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে উজ্জ্বলের রুমের সামনে বাকি দুজন অর্থাৎ ভোদলু দা ও যাদব এসে অপেক্ষা করবে। হলও তাই। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঠিক সময়ে তিনজনেই হাজির গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সামান্য সময় ব্যয় হল রাঁধুনি জগাদার অনুরোধে। সেদিন সেই মেসের রাঁধুনি জগাদা খুব সুন্দর করে দেশী চিকেন রান্না করেছিল। ওদের তিনজনেরই তখন পেটে খিদে। তাই উজ্জ্বল এবং যাদব টপাটপ করে মুখে পুড়তে লাগল চিকেনগুলো। একদম গোগ্রাসে গরম গরম চিকেন শেষ। যদিও তখন চিকেন পুরোপুরি কষেনি। কি করে হবে বলুন। তখন তো সবে সন্ধ্যা সাতটা। তাই সেই গরম গরম সামান্য ঝোল রাখা চিকেনে ফুঁ দিতে লাগলেন ভোদলু দা। যাদব ও উজ্জ্বল যখন ভোদলুদাকে তাড়াতাড়ি খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে লাগল তখন ভোদলুদার জবাব ছিল অনেকটা এইরকম -----
"I am an accountant. ধীরে সুস্থে হিসেব নিকেশ করে যেমন চলি ঠিক তেমন হিসেব নিকেশ করেই খাই। তোমরা মেলা বকো না। ভালো করে চিকেনটা খেতে দাও দেখি"।
এই বলে ভোদলু দা একদম চুষে চুষে লেগ পিসের অংশটা বেশ আয়েশ করে খেতে থাকল।
তারপর নিয়ে আসছি পরের পর্বে।

Comments
Post a Comment