Skip to main content

মিশন সান্দাকফু - অষ্টম পর্ব


মিশন সান্দাকফু - অষ্টম পর্ব

একটু উষ্ণতার জন্য

টিমটিম করে একটা বাতি জ্বলছে ঘরের মধ্যে। আবছা আবছা আলো সেখানে। অন্ধকারটা আমাদের প্রত্যেককে গ্রাস করে রয়েছে। তাতে একে অপরের মুখটা ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে না। একটা বড় ডাইনিং টেবিলের চারপাশে বসে রয়েছি আমি,সঞ্জীব,তন্ময়, সর্বাশীষ শতদল। ঘরের মধ্যে আলো ছায়ার খেলা চলছে। আমাদের হাতে দস্তানা, পায়ে মোজা, কানে মাফলার বা টুপি। শীতে জবুথবু আমরা সবাই। আমাদের সাথে রয়েছে বুদ্ধ, যোগেন এবং আরও দু চারজন। তারা অন্য একটা ট্রেকিং টিমের। চা চাউমিনের অর্ডার দিয়ে আমরা হাল্কা আড্ডা মারছি
- এই শুধু শুধু বসে না থেকে ওই পাঁপড়ের প্যাকেটটা খোল। প্রেম পাঁপড়টা নিয়ে আন্টিকে দে তো। শুকনো করে উনুনে সেঁকে দিক। খেতে ভালোই লাগবে শুকনো পাঁপড়। কি বল? - শতদল বলল।
আমি আমাদের সাথে আনা পাঁপড়ের প্যাকেটটা নিয়ে গেলাম উনুনের কাছে। কাঠের জ্বালানির উনুন। এই সময় আগুনের গরম আঁচটা নিতে দারুণ লাগছে।
- দিজিয়ে মুঝে দিজিয়ে। এই বলে যোগেন এগিয়ে এসে পাঁপড়ের প্যাকেটটা আমার হাত থেকে নিল উনুনে পাঁপড় সেঁকতে লাগল। আমিও ওর সাথে হাত লাগালাম।
- তুমহারা ইয়ে নেচার মুঝে বহুত আচ্ছা লগতা হ্যায়। তুম কভি ভি বৈঠে নেহি রহেতে হো।
- হা, হর টাইম বিজি রহেনা পসন্দ করতা হু। উসসে শরীর কা যো দর্দ হ্যায় না সব চলে যাতা হ্যায়। আপ যাদা বৈঠে রহেঙ্গে তো শরীর মে যাদা দর্দ পকর লেগা। - যোগেন বলল।
- তুমকো হামেশা কাম করনা আচ্ছা লগতা হ্যায় না?
- জী হা। আপলোগ ভী বৈঠিয়ে মত। থোরাসা চলিয়ে ফিরিয়ে। বাহারসে চন্দা মামা কা সুন্দর রোশনী রহী হ্যায় ওহ যাকে দেখিয়ে। থোরাসা ইধর উধর ভাগিয়ে।
- সহী কাহা তুমনে। হমলোগ তো বহুত কামচোর হ্যায়। ইসলিয়ে হমলোগকা তবিয়ত ইতনা বিগড়তা হ্যায়
কালাপোখরীর যে TREKKERS HUT টাতে উঠেছি সেটার ঘরগুলো একটু ছোট ছোট হওয়ায় ঠাণ্ডা টোংলু অপেক্ষা কম। এখানে একজন মধ্যবয়সী মহিলা যাকে আমরা আন্টি বলে সম্বোধন করছি, উনি এবং ওনার মেয়ে আমাদের জন্য রাতের রান্না করছেন। মেয়েটিকে দেখতে বেশ সুন্দর। বয়স আন্দাজ 25 এর মধ্যেই বোধহয়। পরিধেয় বস্ত্র বেশ চিত্তাকর্ষক। হেয়ার কাটিং ভীষণ স্টাইলিশ, বেশ লম্বা ইউ আকৃতির কেশ। পরনে একটা কালো কোট হাঁটু পর্যন্ত লম্বা। কোমরে কটি বন্ধ। চোখে একটা বেশ বড়ো কালো ফ্রেমের চশমা। মুখশ্রীর মধ্যে একটা বুদ্ধিদীপ্ত ছাপ থাকায় খুব স্মার্ট দেখাচ্ছে ওকে। যেখানে দাঁড়িয়ে রান্নার কাজে ওর মাকে সাহায্য করছে তার পাশেই একটা টেবিলে দেখলাম চেতন ভগতের " FIVE POINT SOMEONE " বইটি। সুতরাং এই ফ্যামিলিতে যে একটা আধুনিকতা আভিজাত্যের ছাপ রয়েছে তা বেশ ভালরকম বোঝা গেল
সন্ধ্যা 6টা বেজে 5 মিনিটে আমরা চা সহযোগে পাঁপড় ভাজা খেলাম। সঙ্গে জোরদার আড্ডা। হঠাত্ করে শতদল জিজ্ঞাসা করল আমায় --------
কি রে ভাই, তুই ওখানে হঠাত্ পাঁপড় ভাজতে চলে গেলি যে?
- একটু উষ্ণতার জন্য। আমি বললাম।
- যে ডাবল মিনিং প্রেম ভাই। - সঞ্জীব বলল।
- হ্যাঁ ভাই। যে যেভাবে নেবে। আমি গেলাম তোমাদের জন্য পাঁপড় সেঁকতে আর তোমরা তো ভাবলে অন্য কিছু। ভালো ভালো।
- তুই সত্যি করে বলতো তুই কি ওখানে শুধু পাঁপড় সেঁকতেই গিয়েছিলি?
- বললাম তো একটু উষ্ণতার জন্য গিয়েছিলাম। ডবল মিনিং করে নিলে তো আর কোন সন্দেহ থাকে না তাই না।
- তা উষ্ণতা পেলি?
- হ্যাঁ পেলাম তো। উনুনের কাছে শারীরিক উষ্ণতা আর ওর কাছে চাক্ষুষ উষ্ণতা।
- জিও জিও প্রেম ভাই চালিয়ে যাও।
- তা যাই হোক। তুই কিন্তু সাবধানে চলাফেরা করিস।
- কেন কি হল?
- কেন আবার। কালাপোখরীর লেকে আরেকটু হলে ডুবতে যাচ্ছিলিস। তন্ময় তোকে হঠাত্ করে না দেখলে তো আজ একটা কেলেঙ্কারি বাঁধিয়েছিলিস আর কি। এখন আবার পাঁপড় সেঁকতে সেঁকতে অন্য কোথাও চলে যাসনা যেন।
- বলি কা বখড়া বনা রহা হ্যায় কা? হা? চল চল জলদি জলদি চায়ে কে সাথ পাঁপড় খতম কর
আমরা সেই রাতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় ডিনার শেষ করলাম। তারপর স্বচ্ছ আকাশে সুন্দর চাঁদের দৃশ্য দেখলাম। বুঝলাম আকাশ পরিস্কার হয়েছে। অর্থাত্ কুয়াশা মেঘের ঘনঘটা এখন আর নেই। মনে মনে বলতে লাগলাম যে আগামী কালও যেন আকাশ এইরকম পরিস্কার থাকে। তাহলে সকাল সকাল স্নো ফল এবং সান্দাকফুতে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য খুব লাভজনক হবে। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তাই আর বাইরে থাকলাম না ঘরে এসে বসলাম। ট্রেকিং শেষ করে আসার পর হাতে পায়ে বুকে পিঠে আমি খুব ভালো করে সরষের তেল মেখে নিয়েছিলাম। তাই এত ঠাণ্ডাতেও সেদিন আমি অতটা কাবু হইনি। সেইসময় সঞ্জীব আমায় জিজ্ঞাসা করেছিল
- কোথায় কোথায় তেল লাগালে প্রেম ভাই?
- বললে বুঝতে পারবে তো?
- এতে না বোঝার কি আছে?
- GASTROCNOMEOUS, HAMSTRING, QUADRICEPS, GLUTEOUS MAXIMUS & MINIMUS in lower part of human body. & DELTOID, BICEPS, TRICEPS, PRONATOR TERES, TEAPEZOID IN UPPER. ......
- ঠিক আছে থাম থাম। বাইসেপস্, ট্রাইসেপস্ আর ডেলটয়েড এই তিনটে চিনি। বাকিগুলো জাস্ট মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে গেল।
- মাধ্যমিকের সাঁতরার বইয়ে দেওয়া আছে ছবি সমেত। দেখে নিও।
- তোমার এখনও এইসব মনে আছে?
- মনে রাখতে হয় বস্। নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়। তাছাড়া ট্রেকিং করব বলে এসেছি। কোন কোন মাসল্ ব্যাথা হচ্ছে সেগুলো যদি নাই বুঝলাম তাহলে আর কিসের ট্রেকিং করলাম
রাতের বেলা আমরা কেউ COCA 30 কেউ SPONGIA 30 কেউ PARACETAMOL খেয়ে নিলাম ঠাণ্ডা গা হাতপা ব্যাথা থেকে বাঁচতে। তারপর আরও কিছুক্ষণ গল্পগুজব করবার পর সটান লেপের তলায় বডি চালান করলাম। কালাপোখরীতে আমরা দুটো রুম পেয়েছিলাম। একটায় আমি আর সর্বাশীষ আর অপরটায় তন্ময়,সঞ্জীব আর শতদল। পাশের ঘর থেকে তন্ময় আমায় জিজ্ঞাসা করল -
" প্রেমাংশু এই লেপের ভেতর একসাথে সবার ঢুকে যাওয়াকে এক কথায় কি বলবে?
- আমি চেঁচিয়ে বললাম " একটু উষ্ণতার জন্য।"
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
- তা উষ্ণতার জন্য একটা গান হয়ে যাক। - শতদল বলল।
- আমি শুরু করলাম
" কৌন হ্যায় যো সপনো মে আয়া
কৌন হ্যায় যো দিল মে সমায়া
ওহ্ ঝুক গয়া আসমা ভী
ইশক নে মেরা রঙ্গ লায়া।
প্রিয়া আআআআআ আআআ---------------
চলবে -------------

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...