Skip to main content

মিশন সান্দাকফু - দশম ও শেষ পর্ব


মিশন সান্দাকফু - দশম শেষ পর্ব

সান্দাকফু জয় কাঞ্চনজঙ্ঘা


একটা পাহাড়ী টিলার পাশে বসে রয়েছে সর্বাশীষ সঞ্জীব। একটু দূরে ক্যামেরা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে তন্ময়। ক্যামেরাটা আমার দিকে তাক করা। আমার কয়েকটা বিধ্বস্ত মুহূর্তকে আটক করেছে বুঝতে পারলাম। ওদের কাছে গিয়ে হাতের লাঠিটাকে রাস্তার এক পাশে শুইয়ে রেখে পাহাড়ী পাঁচিলটার উপর হেলান দিয়ে দাড়ালাম। পাশ থেকে সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল যে আমি কেন বিড়বিড় করছিলাম। কার সাথে কথা বলছিলাম আমি। আসলে ওরা অনেকক্ষণ ধরে বোধহয় আমাকে লক্ষ করছিল। আমি কোনো জবাব না দিয়ে মেঘের সমুদ্র দেখতে থাকলাম। ওপরে নীল আকাশ একদম ঝকঝকে। তার ঠিক নীচে মেঘের স্তর। পাহাড়ের গায়ে এসে এমনভাবে ধাক্কা মারছে যাতে দেখে মনে হচ্ছে যেন সমুদ্র তীরে এসে আছড়ে পড়ছে। সেই দৃশ্য আমি জীবনে ভুলব না। আরও কিছুক্ষণ চলবার পর ----------
- প্রেম ভাই কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিচ্ছে। সঞ্জীব বলল। পাশ থেকে তন্ময় বলল ' যাক তাহলে কাঞ্চন বাবু দয়া করেছেন।'
-
এই প্রেমাংশু ওই দিকটা ঘুরে দাড়া। হ্যাঁ হ্যাঁ পাহাড়ের দিকটা পিঠ দিয়ে আকাশের দিকটা মুখ করে। হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে। সর্বাশীষ বলল আমাকে।
আসলে স্বর্গীয় মুহূর্তগুলি আমরা আর ছাড়তে পারছিলাম না। কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘের খেলা, পাহাড়ী বাঁক, মনাস্ট্রী যা যা সেইসময় চোখের সামনে দেখছিলাম সবই ক্যামেরা বন্দি করা হচ্ছিল। একসময় চলতে চলতে হঠাত্ করে ওপরের দিকে চাইতে দেখতে পেলাম কটেজের মতো কিছু একটা দৃশ্যমান হচ্ছে। আমাদের গন্তব্য এখন ওটাই। ওটাই পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থান, সান্দাকফু। ওখানে পৌছে কটেজগুলোতে আমাদের থাকতে হবে। GORKHALAND TERRITORIAL ADMINISTRATION দ্বারা গঠিত ওই কটেজগুলো। সান্দাকফু দার্জিলিং সাব ডিভিশনের আন্ডারে।
হাঁটার স্পিড যেন একটু বেড়ে গেল। আসলে গন্তব্যস্থলকে চোখের সামনে দেখার পর মানুষের মধ্যে সেটাকে জয় করবার একটা অদম্য ইচ্ছে বোধহয় সেই মুহূর্তে জেগে ওঠে। আমরা আবার নতুন উদ্যমে হাঁটতে লাগলাম। শতদল বোধহয় এতক্ষণে সান্দাকফুর কটেজে পৌছে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমরা চারজনে চলেছি একা একা। আশে পাশে আরও ট্রেকিং টিমের ছেলে মেয়েরা চলছে আমাদের সাথে সাথে। কেউ কেউ শর্টরুটগুলো ধরে নিচ্ছে আরও তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর জন্য। গাইড বা পোর্টারগুলো ভারি ভারি ব্যাগ নিয়ে শর্টরুটেই বেশি যাতায়াত করে। যার জন্য বুদ্ধ এবং যোগেনকে আর দেখা গেল না। মেন রাস্তাটা আরও খাঁড়াই হতে থাকছে। আর রাস্তার মধ্যে এখন দেখতে পাচ্ছি শুধুই পাথরের বোল্ডার আর বোল্ডার। সেইজন্য আরও কষ্টকর হচ্ছিল আমাদের উপরে উঠতে। হাতে লাঠি থাকায় বোল্ডারগুলোর খাঁজে খাঁজে সেটিকে আটকে আটকে আমরা এগোচ্ছি। একমুহূর্তে মনে হচ্ছে আর বোধহয় এগোতে পারব না আবার পরমুহূর্তে যখনই মাথার উপরে সেই GTA এর কটেজটাকে দেখছি তখনই হাঁটার গতিবেগ বাড়িয়ে এগিয়ে চলছি। হাঁফ ধরে আসছে, শরীর ক্লান্ত, অবসন্ন, জিভটা শুকিয়ে রয়েছে। মুখের ভেতরটা কেমন টকটক, বিস্বাদ লাগছে। পকেটে হাত দিলাম, না লজেন্স বা বাবুলগাম কিছু নেই। সব শেষ। আছে শুধু চোখের সামনে সেই কটেজটা। আমাদের লক্ষ্যবস্তু। অভীষ্ট লাভের ইচ্ছায় এগিয়ে চলেছি। আরও একটা পাহাড়ী বাঁক অতিক্রম করবার পর দেখতে পেলাম সেই ফলকটা। যাতে "সান্দাকফু" শব্দটি লেখা। যাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম লেখা সমেত পাথরের খোদাই করা ফলকটিকে ধরে আমি ছবি তুলছি। হলও তাই। আমি এবং সর্বাশীষ একবার একবার করে সেই ফলকটাকে ছুঁয়ে ফটো তুললাম। সেই মুহূর্তে যে আনন্দটা পেয়েছিলাম তা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করবার মতো নয়। মনে হচ্ছিল কোন রাজ্য জয় করে ফেলেছি। অনুভব করলাম কেন ছন্দা গায়েন, বসন্ত সিংহরায়ের মতো শৃঙ্গজয়ীরা বারবার পাহাড়ে ছুটে আসেন। পৃথিবীর যে কোনো শৃঙ্গই বোধহয় ট্রেকারদের এরকমভাবে এক অমোঘ আকর্ষণের মাধ্যমে নিজের কাছে টেনে নিয়ে যায়। ভেবে অবাক হচ্ছিলাম এই পাহাড়, শৃঙ্গ,প্রকৃতি এদের কি অসম্ভব সম্মোহনী ক্ষমতা। আমরা মানুষেরা বোধহয় শৃঙ্গ জয় করিনা, শৃঙ্গই আসলে আমাদের পরাজিত করে ওদের কাছে আকর্ষণ করে। আমরাই ওদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করি
দুপুর 1:30 মিনিট
স্থান:- সান্দাকফু, GTA COTTAGE
- শরীর একদম ছেড়ে দিয়েছে। আজ আর কোথাও নড়ছি না। সর্বাশীষ বলল।
-
সে ঠিক আছে। ভাল করে রেস্ট করে নে। কাল কিন্তু অনেকটা পথ। 21কিমি তবে ফালুটের রাস্তাটা বেশিরভাগটাই সমতল। গাছপালা কম। হাওয়াটা একটু বেশি। শতদল বলল।
-
আমাকে কি পাগলা কুত্তায় কামড়েছে? আমি আর নড়ছি না। সর্বাশীষ বলল।
-
তার মানে? বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল শতদল।
-
তার মানে আমি, সর্বা সঞ্জীব আমাদের দম শেষ। আমাদের মিশন সান্দাকফু সাকসেসফুল। আমরা এবার ল্যান্ড রোভারে করে ব্যাক টু মানেভন্জং। আমি বললাম।
শতদল তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল - শালা তুই যত নষ্টের গোঁড়া। তুই জীবনে আর কোনও দিন ট্রেকিং করতে আসবি না। শালা পলিটিক্স করে দল ভারি করেছিস।
-
আমি আবার কি করলাম? সবাই সবার নিজের মতামতই প্রকাশ করেছে। আমি শুধু সবার হয়ে কথাটা তোকে জানালাম। আরে ভাই না পারলে কি করব? দ্যাখ্ আমি দার্জিলিং মেলে ওঠা থেকেই বলে এসেছি যে আমাদের এই জার্নিটা হল "মিশন সান্দাকফু" এটা নিয়ে আমি ভবিষ্যতে লেখালেখিও করব। শুধু শুধু আবার ফালুটকে টেনে আনা কেন?
-
রাখ তোর লেখালেখি। তন্ময় তুই কি করবি? শতদল জিজ্ঞাসা করল।
-
হ্যাঁ গ্যাস কাকুর মতামতটাও জরুরি। সর্বাশীষ বলল। পাশ থেকে সঞ্জীব টোন কেটে সুর করে বলল " উত্তমম্ দদ্দাতি পাদম্, মধ্যম পাদম্ থুচুক থুচুক, কনিষ্ঠং থুরথুরি পাদম্, সুড়সুড়ি প্রাণঃ কাটকম্" গ্যাস কাকু ফালুটে গিয়ে গ্যাস ছাড়বে আর এই ডায়লগটা বলবে।
সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম একমাত্র শতদল ছাড়া।
তখন তন্ময় বলল - না না তোকে এতটা পথ একা ছাড়া যাবে না। আমি তোর সাথে আছি।
-
তোরা যাস আর না যাস, আমি এই পুরো রেঞ্জটা কভার করে আসতে চাই। শতদল বলল রেগেমেগে
এইবেলা আপনাদের জানিয়ে রাখি শতদল একাই পরের দিন 21কিমি পথ অতিক্রম করে ফালুট গিয়েছিল। আর আমরা চারজনে একটা ল্যান্ড রোভার গাড়ি ভাড়া করে সান্দাকফু থেকে মানেভন্জং ফিরে এসেছিলাম
মানুষ বলে থাকে স্বর্গ, নরক,পৃথিবী সব আলাদা আলাদা। আমি বলব আমাদের এই ধরাধামেই স্বর্গ, নরক সব আছে। আপনি চাইলেই স্বর্গ দেখতে পারেন। পরের দিন ভোরবেলা আমরা যখন সান্দাকফুর TOP VIEW POINT থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখছি মনে হল ভগবান বুদ্ধদেবকে দর্শন করছি। 'স্লিপিং বুদ্ধ ' কাঞ্চনজঙ্ঘার এই দৃশ্য হয়ত অনেকেরই জানা। মনে হচ্ছিল ভগবান বুদ্ধদেব পরম শান্তিতে ধরাধামে শুয়ে আছেন। অসামান্য সানরাইজ দেখার পর আপনার মনে হবেই যে আপনি স্বর্গে আছেন। সেই কারণে বারবার মনে হতে লাগল প্রকৃতিই স্বর্গ, প্রকৃতিই ঈশ্বর। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে আমরা সেই স্বর্গ, সেই ঈশ্বরকে চাক্ষুষ দর্শন করলাম। এই প্রকৃতিকে আমরা যেন হেলায় না হারাই
সমাপ্ত

Comments

Popular posts from this blog

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব পরিচয় - ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে । - তো , কি হয়েছে ? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে। - ওরে তুই জুতো টা পর রে। - এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার। - দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে । - ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে। - ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে। -Get ready boys. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম । সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8" । মনে হচ্ছিল এই ...

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...