#কালেশ্বরমের ইতিহাস
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে
দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে থাকার সুবাদে এই কালেশ্বরম মন্দিরে যাওয়ার সুযোগ
মিলেছে তিন তিনবার। কালেশ্বরম মন্দির করিমনগর জেলা থেকে প্রায় ১৩০ কিমি দূরে ঈশান
কোণে মহাদেবপুর মণ্ডলে অবস্থিত। মন্থনী গ্রাম থেকে ৬৫ কিমি এবং ওয়ারাঙ্গল শহর থেকে
১১০ কিমি দূরে এই মন্দিরের অবস্থান। ত্রিবেণী সঙ্গম সম্পর্কে অনেকেই হয়তো অবগত
আছেন। তাও বলি – প্রাণহিতা যার আদি নাম পেনগঙ্গা, গোদাবরী এবং সরস্বতী এই তিন নদীর
সঙ্গম স্থলকেই ত্রিবেণী সঙ্গম বলা হয়ে থাকে। কথিত আছে এই স্থানেই শ্রী কালেশ্বর ও
মুক্তিশ্বর স্বামীর দিব্যক্ষেত্র কালেশ্বরম নদী গতিপথের ঠিক মুখেই প্রকট হয়েছিলেন।
যা কিনা যেকোনো কিছুর জন্যই শুভ প্রদানকারী। গুন্টুর জেলার অমরেশ্বর মন্দিরও নদী
গতিপথের ঠিক মুখেই অবস্থিত। আমাদের এই গোটা ভারতবর্ষে একমাত্র এই কালেশ্বরমেই একটি
পানপত্রের ওপর দুই শিবলিঙ্গ আসীন। একসঙ্গে পাশাপাশি। শুধুমাত্র ভারতবর্ষেই নয়
পৃথিবীর কোনও জায়গাতেই এরকম আশ্চর্য লিঙ্গ আর কোথাও নেই।
মুক্তিশ্বর লিঙ্গের দুই
নাকে দুটো নাসারন্ধ্র আছে। অভিষেকের সময় যে জল দ্বারা এই লিঙ্গকে স্নান করানো হয়
সেই সব জল এই দুই নাসারন্ধ্র দ্বারা নীচে থাকা মাটির মধ্য দিয়ে অন্তর্বাহিনী নদী
সরস্বতীর গতিপথের সাথে মিলিত হয়। এরপর সেই জল ধীরে ধীরে গোদাবরী এবং প্রাণহিতা
নদীতেও মিলিত হয়। এই ব্যাপারে রাজা ভোঁসলে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার জন্য প্রচুর
পরিমাণে দুধ নিয়ে এসে শিবলিঙ্গের নাসারন্ধ্রে ঢালতে থাকেন এবং গোদাবরী নদীর তীরে
এসে দাড়িয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবার পরই গোদাবরীর জলের মধ্যে সাদা রঙয়ের দুধ
দৃশ্যমান হতে থাকে।
পুরাণ কাহিনী অনুসারে
একবার যমরাজ (কাল) কোনও এক কাজ হেতু স্বর্গলোক গিয়েছিলেন। স্বর্গের বিত্ত বৈভব
দেখে যমরাজ ভাবলেন যমলোকেও যদি এরকম সুন্দর এক নগরের স্থাপনা করা যেত তাহলে মন্দ
হতো না। এই ভেবে উনি বিশ্বকর্মার কাছে গিয়ে এক সুন্দর নগর নির্মাণের আর্জি রাখেন।
তখন বিশ্বকর্মা যমরাজ অর্থাৎ কালের জন্য গোদাবরী, প্রাণহিতা ও সরস্বতী নদীর এই
ত্রিবেণী সঙ্গমের পাশে এক সুন্দর নগরী নির্মাণ করলেন। কাল অর্থাৎ যমরাজের জন্য
নির্মিত এই নগরী কালেশ্বরম নামে পরিচিতি পায়। এই কালেশ্বরমের নৈরিৎ কোণে যমকুণ্ড
তীর্থরাজ নির্মিত আছে যাও কিনা বিশ্বকর্মার হাতেই সৃষ্ট। যমকুণ্ডের পশ্চিম ভাগে
তিন ক্রোশ দূরে মন্ত্রকূট নামে এক মুনির আশ্রম ছিল। এই আশ্রমে মহর্ষি গৌতম ওর
পত্নী গৌতমীর সাথে বসবাস করতেন। ওই সময়ে আকালের কারণে খিদের জ্বালায় প্রজারা খুব
কষ্ট পাচ্ছিলেন। সবাই গৌতম মুনির কাছে এসে ওর শরণাপন্ন হয়। সেসময় ঋষি গৌতম আপন
তপোবলে এক ধানক্ষেতের সৃষ্টি করেন। প্রজাদের অন্ন সংস্থান হয়। এর ফলে কিছু মুনির
গৌতমের প্রতি ঈর্ষা চালু হয়। ওরা জাদুবলে এক মায়াবী গরুকে ওই ধানক্ষেতের উপর ছেড়ে
দেয়। গরু সব ধান খেয়ে ছড়িয়ে নষ্ট করে। ঋষি গৌতম একটি ঘাসের ছোঁয়ায় সেই মায়াবী
গরুকে হত্যা করেন। তখন ঋষি গৌতম শিবের তপস্যা করে গোহত্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার
অভিপ্রায় নিয়ে গোদাবরী নদী সৃষ্টির বর প্রার্থনা করেন। মহাদেব মহর্ষি গৌতমের
তপস্যায় খুশি হয়ে ওকে বর প্রদান করেন। সেই গোদাবরী (গৌতমী) নদীতে স্নান করে মহর্ষি
গৌতম নিজের গোহত্যা পাপ থেকে মুক্ত হন। সেই জন্য মনে করা হয় যে ব্যক্তি এই নদীতে
স্নান করবেন সে তার পাপ থেকে মুক্ত হবেন।

Comments
Post a Comment