আমার ফিল্ম রিভিউ ।
ধোনি ধামাকা
কাট ওয়ান প্রথম দৃশ্য ।
একটি ছেলে খুব জোরে সাইকেল চালিয়ে আসছে ।সামনেই প্রাইম স্পোরট্স শপ। ছেলেটি বলল " পরম ভাইয়া মাহি মার্ রহে হ্যায় ।"
কাট টু দ্বিতীয় দৃশ্য ।
একটি স্কুল বিল্ডিং । ছেলেটি ভীষণ জোরে দৌড়ে এসে teachers room এ ঢুকল এবং বলল " ম্যাম মাহি মার্ রহে হ্যায় " ।
"আরে বাঃ আজ তো পক্কা ছুট্টি বন্তা হ্যায় "। এক শিক্ষিকার মন্তব্য ।
উপরের এই দুটো দৃশ্য যখন দেখছি তখন "MS DHONI - THE UNTOLD STORY " সিনেমার জাস্ট আধঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে। সেই সময় থেকে ধোনি ধামাকা শুরু হল। এরপর থেকে এমন কাণ্ড টাই করল ছেলেটি যে টিভির পর্দায় চোখ একেবারে আটকে গেল ।
যেকোনো বায়োপিক দেখতে বসলে প্রথমেই যেটা মনে হয়, যে হয়ত একটু বোর ফিল করব। কিন্তু না, টানা তিনঘন্টা টান টান উত্তেজনা অনুভব করেছি ধোনি কে নিয়ে । গল্প, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা এবং সর্বোপরি সবার অভিনয় ভীষণ রকম নজর কাড়া । এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে আসছি। তার আগে বরং ধোনির অজানা কিছু দৃশ্য আমার মনে দাগ কেটে গেছে সেগুলো বলি।
বন্ধুত্ব
এই সিনেমায় ধোনির প্রতি ওর বন্ধুদের আত্মত্যাগ ও স্বার্থত্যাগ মনে রাখার মতো । পরমজিত্ নামে সেই পাঞ্জাবি বন্ধু টি দারুণ । সে ধোনি কে ভীষণ হেল্প করে ।সিনেমার একটি ডায়লগ মনে পড়ল এই মুহূর্তে । " ইয়ে ধোনি ক্যায়া তেন্ডুলকর হ্যায়? নেহি পাঁজি ধোনি ব্যস্ ধোনি হ্যায় "। সত্যিই তাই ধোনি তো ধোনিই। আমাদের প্রিয় ধোনি ।
সঠিক পরিকল্পনা
একই দিনে কলেজের পরীক্ষা ও ক্রিকেটের পরীক্ষা । সেই কারণে তিন ঘন্টার পরীক্ষা আড়াই ঘণ্টায় শেষ করে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে স্টেশনে পৌছান এবং তারপর ট্রেনে করে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পৌঁছানো। জীবনে সঠিক পরিকল্পনা নিজেকেই নিতে হয় এবং তার জন্য অক্লান্ত মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম এবং সেই সংগে খুব দরকার নিজেকে শান্ত ও ধীর স্থির রাখা । হবে নাই বা কেন, আমাদের ধোনি তো ক্যাপ্টেন কুল।
হার না মানা মানসিকতা ।
দলীপ ট্রফি তে চান্স পেয়েও সেখানে ধোনি পৌছতে পারেনি ফ্লাইট মিস হওয়ায় । তার জন্য অবশ্য কর্তৃপক্ষই দায়ী ।হয়ত সেটা তাদের ইচ্ছাকৃত । আসলে পরিচালক নীরজ পাণ্ডে খুব সুকৌশলেই এড়িয়ে গিয়েছেন ধোনির ক্রিকেট সংক্রান্ত পলিটিক্যাল ব্যাপার গুলোও । ধোনি অনেক বার পলিটিক্সের শিকার হ য়েছে আমরা জানি কিন্তু পরিচালক সেগুলো অত্যন্ত নিপুণ ভাবে ব্যাবহার করেছেন ।
দলীপ ট্রফি তে চান্স না পাওয়ায় ধোনির জীবনের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যায় । চাকরির অফার আসে রেলওয়ের থেকে ।খড়্গপুর স্টেশনে টিকিট কালেক্টরের চাকরি । টানা তিন বছর ধরে চলে চাকরি ও তার সাথে ক্রিকেট প্র্যাকটিস ।কঠোর অমানুষিক পরিশ্রম । ওর মনে হতে থাকে এভাবে চললে ও খেলাতে ইমপ্রুভমেন্ট করবে কিভাবে । কিভাবে আরও এগিয়ে যাবে ক্রিকেট খেলায় । সেই সময় ধোনির বস্ Mr. A.K. Ganguly র একটি অসামান্য ডায়লগ যা আমি কোনও দিনও ভুলবো না ।"লাইফ মে হর্ বল এক জ্যায়সে থোরি না মিলেগা"। জীবনে ups & downs থাকবেই এবং সেটা নিয়েই আমাদের চলতে হবে । মাঝে মাঝে মনে হয় কি বলব এই সিনেমা টাকে ক্রিকেটিয় সিনেমা না সিনেমিয় ক্রিকেট । আসলে এটা তো ক্রিকেটের মাধ্যমে এক জীবন দর্শন ।
ধোনি এরপর পুরোপুরি ভাবে রেলওয়ের চাকরি ছেড়ে সেন্ট পার্সেন্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেয় এবং ধীরে ধীরে ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন কুল হয়ে ওঠে । খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধোনির লাভ লাইফ এবং বৈবাহিক পর্বটি দেখতেও বেশ ভাল লাগে ।
সিনেমাটিতে প্রত্যেকের অভিনয়ই যথাযথ লেগেছে । কিন্তু ধোনির চরিত্রে সুশান্ত সিং রাজপুত জাস্ট অসাধারণ । নিজের নামটার প্রতি সুবিচার করেছেন উনি । সু - শান্ত অর্থাত্ ভাল (good )এবং শান্ত অর্থাত্ cool । প্রচুর পরিশ্রম করেছেন চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে এবং সক্ষম হয়েছেন। আশা করব উনি বলিউডে আগামী দিনে আরও অনেক চার, ছক্কা হাকাবেন। এক লম্বা রেসের ঘোড়াকে পেলাম বলেই মনে হয়।
Comments
Post a Comment