প্রেমের কিছু কথা ও গান
আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে
দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে
থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে
দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো,
মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে
হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত।
দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ
যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে।
“হামেশা তুমকো চাহা, অউর
চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই
গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে
তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে
সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ
পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে
গেলে। বিদ্ধ হলাম আমি। তোমাকে না পাওয়ার বেদনা যেন গ্রাস করতে থাকল আমায়। কেন এমন
করে মিলিয়ে যাও তুমি বারবার? দ্যাখা দাও, কিন্তু ধরা নাহি দাও। কেন? বলো কেন?
রোববারের বিকেলে যখন
তোমার ওড়না ও আমার জামা একসাথে একই দড়িতে পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে ঝুলতে থাকে তখন
আমার বেশ লাগে সেটা দেখতে। মনে হয় যেন তুমি ও আমি পাশাপাশি বসে দুজনে মিলে খুনসুটি
করছি। অথবা বাগানের গাছে একই বৃন্তে থাকা টগর ফুল দুটো। মনে হয় যেন তুমি আর আমি।
সেদিনও তো তুমি এসেছিলে। সেবারও সেই আরশির সামনে। তোমার ঠিক পেছনে আমি দাড়িয়েছিলাম।
খুব কাছে। আরেকটু হলেই যেন তোমার স্পর্শ পাব। তুমি একটা সাদা পোশাকে দাড়িয়ে। বোধহয়
সাদা সালোয়ার। জরির কাজ করা। মনে হচ্ছিল স্বর্গের কোনও দেবী আমার সামনে এসে
দাঁড়িয়েছেন। “দাড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে”। আমি স্থির হয়ে তোমার সামনে
দাড়িয়েই রইলাম। চিত্ত চঞ্চল, কিন্তু একটুও নড়বার ক্ষমতা আমার নেই। আমার হাতে তোমার
জন্য রাখা নেকলেস। তুমি তো আমায় কত কিছু দিয়েছ। না চাইতেই। এই প্রথম আমি চাইলাম
তোমায় কিছু দিতে। নেকলেসটা তোমার গলায় পড়াতে যাব আবারও তুমি হারিয়ে গেলে। আবারও। তোমাকে
ছোঁয়া মাত্রই তোমার অবয়বটা কেমন যেন খসে খসে পড়ে যেতে থাকল।
আজও, আজও আমি তোমায় ধরতে
ব্যর্থ হলাম।
“তারে ধরি ধরি, মনে করি,
ধরতে গেলেম, আর পেলেম নাআআআ, দেখেছি, দেখেছি রুপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা,
দেখেছি রুপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা............
বহুদিন ভাবতরঙ্গে, ভেসেছি
কতই রঙ্গে, সুজনের সঙ্গে হবে দেখাশোনা,
তারে আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে, আর হইল না.........
দেখেছি, দেখেছি রুপ সাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা............”।
আজ যে বিছানায় আমি শুয়ে আছি
তার প্রতিটা প্রান্তে, সর্বত্রই যে তুমি বিরাজমান। বালিশে, চাদরে, তোয়ালেতে
সবখানেই যেন তোমার পরশ লেগে আছে। তবে আমি কেন সে পরশ হতে ব্রাত্য? এমনি করে তবে কেন
ফেলে রেখে গেলে আমাকে? সম্পূর্ণ একা করে দিয়ে। এমন তো কথা ছিল না। জানি তোমার
প্রতি আমি কিঞ্চিত হলেও অবিচার করেছি। কিন্তু আর কিই বা পারতাম আমি! তুমি তো সবই জানো,
সবই বোঝ। আমার ভেতরের শিশুটাকে যে একমাত্র তুমিই পারো আগলে রাখতে। দয়া করে ছেড়ে
চলে যেও না আমায়। ফিরে এসো, আবারও, বারবার ফিরে এসো। বাস্তবে না হলেও স্বপ্নতেই
যেন হয় আজীবন।
“ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে, ওহে ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে,
ওহে হারাই হারাই সদা হয়
ভয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে, আশ না মিটিতে হারাইয়া, পলক না পড়িতে হারাইয়া, হৃদয় না
জুড়াতে হারাইয়া ফেলি চকিতে,
মাঝে মাঝে তব দ্যাখা পাই,
চিরদিন কেন পাই না? মাঝে মাঝে তব দ্যাখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে,
তোমারে দেখিতে দেয় না,
মোহ মেঘে তোমারে দেখিতে
দেয় না, অন্ধ করে রাখে তোমারে দেখিতে দেয় না.........”
যখনই তোমাকে দেখতে পাই
তখনই কেমন যেন হারাবার ভয় পাই তোমায়। সেই জন্য তোমার কথা ভেবে মনে মনে গুনগুণ করে
আবারও গেয়ে উঠি.........
“ভ্রমর কইয়ো গিয়া, শ্রীকৃষ্ণবিচ্ছেদের
অনলে আমার,
অঙ্গ যায় জ্বলিয়ারে,
ভ্রমর কইয়ো গিয়া............
কইয়ো কইয়ো কইয়ো রে ভ্রমর,
কৃষ্ণ রে বোঝাইয়া,
মুহি রাধা মইরা যাইমু,
কৃষ্ণহারা হইয়ারে, ভ্রমর কইয়ো গিয়া............
ভাইবে রাধারমণ বলে শোনরে
কালিয়া, নিভভা ছিল মনের আগুন,
কি দিলা জ্বালাইয়ারে,
ভ্রমর কইয়ো গিয়া...............”
A sweet composition enriched with blooming endearment...
ReplyDeletebah........... tuio blog create korechis..........
ReplyDelete