হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ
হায়দ্রাবাদের MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট
বাসের জন্য যেটা কিনা হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12
বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200
তো
কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি।
মুখার্জি দা, চক্রবর্তী
দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল
আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের
বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা
কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে।
আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত
আলোয় হায়দ্রাবাদ শহরটিকে দেখতে দেখতে, খানিক ঢুলু ঢুলু
চাহনিতে, ঝিমোতে
ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ।
মুখার্জি দা বলেছিলেন :-
মুখার্জি দা বলেছিলেন :-
- এয়ারপোর্ট
গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ডিরেক্ট এয়ারপোর্ট
টার্মিনাল পৌছে দেবে।
- ও আচ্ছা। কত সময় নেবে?
- এই মিনিট পাঁচ কি দশ। ওখানে নেমে সিকিউরিটি চেক করে ডিপারচার সেকশন চলে যাবে। এই চেকিং টা প্রাথমিক।
- তারপর?ওই বোর্ডিং পাসের ব্যাপারে একটু বলবেন।
- হ্যাঁ। তারপর ওই ডিপারচার সেকশনে গিয়ে দেখবে অনেক কাউন্টার। সেখানে অনেক সুন্দরী রমনীরা তোমার টিকিট ও আই ডি কার্ড চেক করে তোমার বোর্ডিং পাসটা করে দেবে। সেই সময় পারলে WINDOW SEAT টা চেয়ে নেবে।
ঠিক সেইমতো আমি প্রাথমিক সিকিউরিটি চেক আপ করিয়ে বোর্ডিং পাস করিয়ে নিলাম। সময় দেখলাম ঘড়িতে। সকাল সাতটা বেজে দশ মিনিট। হাতে অনেক সময় রয়েছে। এদিকে সকাল বেলায় বেলি কলিং। মানে প্রাতঃকৃত্যর সময় হয়েছে। হেঃহেঃ। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে ফাইনাল সিকিউরিটি চেকিংটা করিয়ে নিলাম। ঐ যে যেখানে মোবাইল, ওয়ালেট, ব্যাগ এইসব জমা দিয়ে তারপর মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিং হয় সেখানে। বেশ কড়া চেকিং। আমি তো প্রথমবার। তাই ব্যাগ জমা দিয়েছি তো মোবাইল দিইনি, তারপর মোবাইল দিলাম তো ওয়ালেট জমা দিতে ভুলে গেলাম। মানে প্রথমবার গিয়ে আমার একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা আর কি। তা যাই হোক চেকিং ফেকিং করিয়ে নিয়ে সোজা ছুটলাম টয়লেটে। আহাহা। হাউসকিপাররা সবসময় সে জায়গাটাকে পরিপাটি করে সুসজ্জিত রাখতে সদাই ব্যাস্ত। সঙ্গে সুগন্ধী ছড়ানো হচ্ছে অনবরত। বাতাসে একটা সুবাস বয়ে চলছে। সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেলাম ইনডিগো বিমানসেবিকার সুমধুর কন্ঠস্বর। আমার বিমান ছাড়ার আগেও আরও অনেকগুলো বিমান ছাড়ার পূর্বাভাস ঘোষণা করতে লাগলেন তিনি। ঘোষকের ঘোষণা শুনতে শুনতে তার সুন্দরী চেহারাটা কল্পনা করতে লাগলুম। একবার ভেবে দেখুন মানুষের মন কি বিচিত্র। সকাল সকাল কোনও এক এয়ারপোর্টে সুরভিত শৌচালয়ে বসে বিমানসেবিকার সুমধুর কন্ঠস্বর শুনতে শুনতে ক্যাটরিনা বা দীপিকা বা আলিয়ার কথা ভাবছি। আহা সেইসময়কার কর্মস্থান আর ভাবনার স্থানের কি সুন্দর মেলবন্ধন।
- ও আচ্ছা। কত সময় নেবে?
- এই মিনিট পাঁচ কি দশ। ওখানে নেমে সিকিউরিটি চেক করে ডিপারচার সেকশন চলে যাবে। এই চেকিং টা প্রাথমিক।
- তারপর?ওই বোর্ডিং পাসের ব্যাপারে একটু বলবেন।
- হ্যাঁ। তারপর ওই ডিপারচার সেকশনে গিয়ে দেখবে অনেক কাউন্টার। সেখানে অনেক সুন্দরী রমনীরা তোমার টিকিট ও আই ডি কার্ড চেক করে তোমার বোর্ডিং পাসটা করে দেবে। সেই সময় পারলে WINDOW SEAT টা চেয়ে নেবে।
ঠিক সেইমতো আমি প্রাথমিক সিকিউরিটি চেক আপ করিয়ে বোর্ডিং পাস করিয়ে নিলাম। সময় দেখলাম ঘড়িতে। সকাল সাতটা বেজে দশ মিনিট। হাতে অনেক সময় রয়েছে। এদিকে সকাল বেলায় বেলি কলিং। মানে প্রাতঃকৃত্যর সময় হয়েছে। হেঃহেঃ। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে ফাইনাল সিকিউরিটি চেকিংটা করিয়ে নিলাম। ঐ যে যেখানে মোবাইল, ওয়ালেট, ব্যাগ এইসব জমা দিয়ে তারপর মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিং হয় সেখানে। বেশ কড়া চেকিং। আমি তো প্রথমবার। তাই ব্যাগ জমা দিয়েছি তো মোবাইল দিইনি, তারপর মোবাইল দিলাম তো ওয়ালেট জমা দিতে ভুলে গেলাম। মানে প্রথমবার গিয়ে আমার একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা আর কি। তা যাই হোক চেকিং ফেকিং করিয়ে নিয়ে সোজা ছুটলাম টয়লেটে। আহাহা। হাউসকিপাররা সবসময় সে জায়গাটাকে পরিপাটি করে সুসজ্জিত রাখতে সদাই ব্যাস্ত। সঙ্গে সুগন্ধী ছড়ানো হচ্ছে অনবরত। বাতাসে একটা সুবাস বয়ে চলছে। সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেলাম ইনডিগো বিমানসেবিকার সুমধুর কন্ঠস্বর। আমার বিমান ছাড়ার আগেও আরও অনেকগুলো বিমান ছাড়ার পূর্বাভাস ঘোষণা করতে লাগলেন তিনি। ঘোষকের ঘোষণা শুনতে শুনতে তার সুন্দরী চেহারাটা কল্পনা করতে লাগলুম। একবার ভেবে দেখুন মানুষের মন কি বিচিত্র। সকাল সকাল কোনও এক এয়ারপোর্টে সুরভিত শৌচালয়ে বসে বিমানসেবিকার সুমধুর কন্ঠস্বর শুনতে শুনতে ক্যাটরিনা বা দীপিকা বা আলিয়ার কথা ভাবছি। আহা সেইসময়কার কর্মস্থান আর ভাবনার স্থানের কি সুন্দর মেলবন্ধন।
তারপর
:-
ধুকপুক
ধুকপুক ধুকপুক ধুকপুক। ক্রমশ সেই অন্তিমকাল আসন্ন। আমি বোর্ডিং পাসটা নিয়ে 30B
গেটের
সামনে গিয়ে বসে আছি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেও কপালে যেন বিন্দু বিন্দু ঘাম
অনুভূত হল। মাঝে মাঝে মনে হতে লাগল আমি কি স্বপ্ন দেখছি না কি সত্যিই এই রাজীব
গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে 30B নং গেটে অপেক্ষা করছি
সেই ইনডিগো হাওয়াই জাহাজের জন্য। না না না। স্বপ্ন নয়। ওই তো হায়দ্রাবাদ কোলকাতা
ফ্লাইটের নামটা কানে স্পষ্ট উচ্চারিত হতে শুনলাম। এবার এবার, এবার কি করতে হবে? না ব্যাগটা একবার দেখে
নি। হ্যাঁ মোটামুটি সব ঠিকই আছে। আমার ছোট্ট ব্যাগটাতে যাবতীয় জিনিসপত্র
দেখেনিলুম। ঠিক ঠাক আছে। তারপরই দেখলুম 30B গেট দিয়ে লোকজনের
লম্বা লাইন ও শম্বুক গতিতে সামনের দিকে প্রবেশ। আমিও গেলুম বুকের মধ্যে ধুকপুকানি
উত্তেজনা নিয়ে। বেশ কিছুটা যাওয়ার পর দুবার টিকিট চেক হল। আরও কিছুটা যাওয়ার পর
সেই টানেলের মধ্যে প্রবেশ ও দূরে সহাস্য ও সুমিষ্ট বদনে স্বাগতম জানাতে দেখলুম এক
সদ্য যৌবনা বিমানবালিকাকে। বালিকা বলাই শ্রেয় মনে হল। কারণ এই ইনডিগো বিমানে
বেশিরভাগ বিমানসেবিকাই খুব কমবয়সী। বিমানটিকে যদি একটি গাছ হিসাবে কল্পনা করেন তো
বিমানবালিকারা একেকটি সদ্য ফোঁটা ফুল। বিমানের দোড়গোড়াতে পা রাখতেই সহাস্য বদনে
ও মোহময়ী চাউনিতে স্বাগতম জানাল সে আমাকে। আহা আবার যেন স্বপ্ন দেখতে লাগলুম।
ভাবলুম একটা সেলফি তোলার জন্য অনুরোধ করব। ঠিক সেইসময় পেছন থেকে "ভাইসাব জরা
অন্দর চলিয়ে জল্দি" বলাতে আমার সেই সেলফি তোলার স্বপ্ন ভঙ্গ হল। বিমানবালিকার
সহিত সেলফি তোলার বাসনা আমার অধরাই থেকে গেল। মনে মনে ভাবলুম কুছ পরোয়া নেহি
বেটা। আসছে বছর আবার হবে।
SEAT NO 19F. ওহো এ যে জানালার পাশে। গিয়ে বসলুম। আমার পাশে একটি 7/8
বছরের
বাচ্চা মেয়ে ও তার পাশে ওর মা। বাচ্চাটা জানালার পাশে বসতে চাইল কিন্তু আমি ওই
সিটে বসার লোভটা ছাড়তে পারলুম না। তাই ওকে বললাম যে FLIGHT
TAKE OFF করলে
জানালার ধারটা দিয়ে দেব। কিন্তু একথা শোনার পর বাচ্চাটির মা একটু মিটি মিটি হাসতে
লাগল। আমি ওনার হাসির কারণ বুঝতে পারলাম। আসলে বিমান চালু হবার পর সিটবেল্ট খুলে
সিট চেঞ্জ করাটা বেশ সমস্যার সেটা আমি বেশ বুঝতে পারলাম। বিমানে প্রথমবার চড়বার
অভিজ্ঞতা উনি হয়ত বুঝতে পারলেন। আমিও একটা শুষ্কং,কাষ্ঠং হাসি হেসে দিলুম
ওনার দিকে তাকিয়ে।
তারপর? তারপর আর কি। পাইলটের
ভাষণ, বিমানবালিকার
নিয়মমাফিক কিছু শর্তাবলি যা কিনা ওরা ওদের হাত পায়ের অঙ্গভঙ্গিতে করে দেখাল।
বিমান তখন ALREADY TAKE OFF STAGE এ পৌছে গেছে। আমি আমার গালে ও
মুখে হাত দিয়ে দেখতে লাগলাম আমার মুখটা বেঁকে বা কুঁচকে গেছে কিনা। কারণ
লালমোহনবাবু ওরফে জটায়ুর মতে বিমান যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে যেতে থাকে তখন
নাকি মানুষের মুখ বেঁকে যায়। তাই হাত দিয়ে দেখেনিলুম। না ঠিকই ছিল আমার মুখটা।

এরপরের পর্বের নাম দিও হায়দ্রাবাদে হনিমুন।
ReplyDelete