প্রসঙ্গ
প্যাডম্যান
তাহলে
এভাবেও ফিরে আসা যায়? আর
শুধু ফিরে আসা নয় একেবারে দেশ শুদ্ধু মানুষের বিশেষত মহিলাদের হৃদয় জয় করে ফিরে
আসা। ফিরে আসলেন প্যাডম্যান ওরফে লক্ষ্মী কান্ত চৌহান ওরফে আমাদের প্রিয় খিলাড়ী
অক্ষয় কুমার। দারুণ খেল দেখিয়েছেন তিনি এই ছবিতে। না আমি কোনও কাঁটা ছেড়াতে বসছি
না এই ছবিটাকে নিয়ে। সেসব কাজ সিনে বিশেষজ্ঞদের। আমি শুধু ছবিটার পজিটিভ দিকটা
নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একটা অসম্ভব লড়াইয়ের কথা বলতে চাই। যে লড়াই নিজের
সাথে, নিজের
পরিবারের সাথে, যে
লড়াই আশেপাশের প্রতিবেশী তথা সমাজের সাথে, যে লড়াই নিজের দেশের
সাথে, যে
লড়াই কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস
ও ভ্রান্ত ধারণার সাথে। এমনই এক লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন ছবির মুখ্য চরিত্র লক্ষ্মী
কান্ত চৌহান।
মধ্যপ্রদেশের
এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করে লক্ষ্মী কান্ত এবং ওর স্ত্রী গায়ত্রী। সদ্য
বিবাহিত। ঘরে বুড়ি মা এবং অনেকগুলো বোন রয়েছে লক্ষ্মীর। লক্ষ্মী একটি কারখানায়
কাজ করে। অভাবের সংসার হলেও বর বউয়ের মধ্যে প্রেম ভালবাসা ও শান্তি বেশ ভালরকম
বিরাজমান। এরকম এক সময়ে গায়ত্রী ঋতুমতী হয়। লক্ষ্মী দেখে গায়ত্রী কিছু
অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে যা কিনা শারীরিক দিক দিয়ে অস্বাস্থ্যকর। ওতে
যেকোনোরকম সংক্রমণ ঘটতে পারে শরীরে। পাঠককে এখানে বলে রাখি এই ছবির মুখ্য বিষয়
ঋতুমতী মহিলা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন। সমাজে যে বিষয়টাকে এখনও এই একবিংশ
শতাব্দীতেও 'ছি
ছি' সহকারে
দেখা হয়। কেমন একটা ঢাক ঢাক গুড় গুড় ভাব। একদিন গায়ত্রীর স্বামী লক্ষ্মী 55টাকা ব্যয় করে
গায়ত্রীর জন্য একটি স্যানিটারি প্যাড এনে দেয় যেটা ওদের মতো গরীব পরিবারের কাছে
অত্যধিক ব্যয়বহুল। গরীব পরিবারে সেই অতি দামি প্যাড ব্রাত্য হয়ে যায় গায়ত্রীর
জোড়াজুড়িতে। এদিকে লক্ষ্মীও নাছোড়বান্দা। ও কখনওই স্ত্রী এর এই অস্বাস্থ্যকর
কাপড় চোপড় ব্যবহার করাকে সমর্থন করতে পারে না। বাজার থেকে তুলো কিনে , তাকে প্লাস্টিকের মধ্যে
মুড়িয়ে, কখনও
গাছের পাতার সাহায্যে, আরও
বিবিধ উপায়ে গায়ত্রীর জন্য প্যাড তৈরি করার চেষ্টা করে লক্ষ্মী। কিন্তু
প্রত্যেকবার ও ব্যর্থ হয় প্যাড তৈরি করার ক্ষেত্রে। এখান থেকেই শুরু হয় লক্ষ্মীর
সংগ্রাম। শুরু হয় এক অবাস্তব (আমাদের মতো শিক্ষিত অবুঝদের জন্য ) স্বপ্নময় জীবন।
চলতে থাকে কঠিন থেকে কঠিনতর পরীক্ষা। দিতে হয় একের পর এক ভুলের মাশুল। কখনও চরম
অপমান স্ত্রী এর কাছে, কখনও
তীব্র লাঞ্ছনা, গঞ্জনা
মা বোনেদের কাছে। কখনও আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব ও
সর্বোপরি সমাজের কাছে। ধীরে ধীরে ওদের কাছে লক্ষ্মী হয়ে যায় এক বদ্ধ উন্মাদ, দুশ্চারিত্রিক
ব্যক্তিত্ব। আসে এক চরম সংকটের দিন। যখন লক্ষ্মীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গায়ত্রীকে
নিয়ে চলে যায়। লক্ষ্মীও তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দেয় নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে। কিন্তু
দুচোখে স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। নিঃসঙ্গ হয়েও মনের মধ্যে এক অটুট স্বপ্নকে আঁকড়ে
ধরে থাকে লক্ষ্মী। ওর বিশ্বাস ওর স্ত্রী, আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব ও সমাজ ওর
এই চিন্তা ভাবনার কদর করবে। সেই আশা নিয়েই ও কঠোর অমানুষিক পরিশ্রমের মাধ্যমে
ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে। অভীষ্ট লক্ষের দিকে লক্ষ্মী কিভাবে
পৌছায় সেটা আমি এখানে আর লিখছি না। কারণ সেই সংগ্রামটাই আমাদের সবার দেখা উচিত
পাঠক। শুন্য থেকে শুরু করে একজন কিভাবে সমাজের এক উচ্চপর্যায়ে বিচরণ করে সেটাই
দেখার।
এখানে
একটি ঘটনা একটু উল্লেখ না করলেই নয় যে যখন লক্ষ্মী কান্ত চৌহান সেরা আবিষ্কারক
হিসাবে শ্রী অমিতাভ বচ্চনের থেকে পুরস্কার পাচ্ছেন, প্যাডম্যান হিসাবে
নির্বাচিত হচ্ছেন তার পরেও লক্ষ্মীর আবিষ্কৃত প্যাড সমাজ ব্রাত্য করে দিচ্ছে।
লক্ষ্মী কান্ত এমনই এক প্যাড মেশিন তৈরি করে যেখানে প্রত্যেক প্যাডের দাম পড়ে
মাত্র দু'টাকা।
ও চায় গরীব ঘরগুলিতে মেয়েরা সেই প্যাড ব্যবহার করুক। সমাজের মধ্যে যে কুসংস্কার ও
ছি ছি কার রয়েছে ও চায় সেইগুলো দূর করতে। কিন্তু পাঠক আমাদের সমাজ বড়ই জটিল।
অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মানুষের মনে এমনভাবেই দানা বেঁধে বসে আছে যে আজও সমাজে
বাবা অথবা দাদা তাদের মেয়ে বা বোনকে ঋতুকালে প্যাড হাতে তুলে দিতে কুণ্ঠিত বোধ
করে। যেন ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম মহিলাদের সমস্যা মহিলারাই বুঝবে, মহিলারাই শুনবে। এ
বিষয়ে কোনও পুরুষ মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ আজও সমাজ মেনে নিতে চায় না।
এবার
শেষ পর্যায়ে আসি। বিদেশে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির মেশিনের দাম দু কোটি টাকা
সেখানে লক্ষ্মী কান্ত চৌহান মাত্র নব্বই হাজার টাকায় তৈরি করেছে সেই মেশিন।
বিভিন্ন মহিলাদের দিয়ে সেই ন্যাপকিন বা প্যাড বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। ধীরে ধীরে
লক্ষ্মী কান্ত হয়ে উঠেছে একজন ENTREPRENEUR. যে কোনওদিন স্কুলের
গন্ডিই পেরোয় নি। একদিন সে ডাক পায় UNITED NATIONS থেকে। শোনায় তার SAD
STORY তার
প্যাড বানানোর গল্প। এই লক্ষ্মী কান্ত চৌহানের চরিত্রটি তৈরি হয়েছে যাকে নিয়ে
তার নাম 'অরূনাচলম
মুরুগুনাথম'। কোয়েম্বাটুরের লোক। যিনি কিনা THE
REAL PADMAN OF INDIA.
আপনি যখন নিঃস্ব রিক্ত হয়ে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে
নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন সেরকম সময়ে কোনও একজনকে ঠিক উপরওয়ালা আপনার
কাজে সাহায্যের জন্য ঠিক করে দেন। সমমনোভাবাপন্ন ব্যক্তির সাহায্য বোধহয় তাই
মানুষ সঠিক সময়ে পেয়েও যায়। সেরকমই এক বন্ধুর সাহায্য পেয়েছিল লক্ষ্মী কান্ত।
সেই বন্ধুটির নাম পরী। পরীর চরিত্রে খুব সাবলীলভাবে অভিনয় করেছেন সোনম কাপূর।
অক্ষয় কুমারকে নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি এই চরিত্রে অনবদ্য।
গায়ত্রীর চরিত্রে রাধিকা আপ্তে যথাযথ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি পরিচালক R
BALKI এক
সুন্দর ছবি উপহার দিয়েছেন আমাদের, বিশেষত মহিলাদের। দেখুন
এবং শিখুন। উপলব্ধি করুন যে এভাবেও ফিরে আসা যায়।
খুব ভালো।।।পরের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।।😙😊
ReplyDeleteThank You........
DeleteSundor review. Intereste ta bariye dile movie ta dekhar. Ebar bhabchi time bar kore ei movie ta dekhe felte hobe. Amar akhono dekha hoyni movie ta.
ReplyDeleteএকদম দেখে ফেল। ভালো লাগবে।
Delete