মিশন সান্দাকফু - চতুর্থ পর্ব
চেতনার চৈতন্য
" কিসকা রাস্তা দেখে, অ্যায় দিল অ্যায় সওদায়ী
মিলো হ্যায় খামোশী, বরসো মে তনহায়ী"-------
গুণগুণ করে গানটা গাইছি আর চড়াই রাস্তায় হাঁটছি। পাশ থেকে সঞ্জীব বলল ---
প্রেম ভাই ট্রেকিং করার সময় কথা বা গুণগুণ করে গান যতটা কম করা যায় ততই মঙ্গল ।এতে তোমার দম নিতে অসুবিধা হতে পারে ।
--ও তাই নাকি । আসলে এখন তো বেশ ফুরফুরে মেজাজ ।তাই গায়ক প্রেম কুমার জেগে উঠতে চাইছে ।
-- তুমি এক কাজ কর । এই বাবুলগামটা মুখে পোড় আর চিবোও ।এতে তোমার জল তেষ্টাটা কিছুটা হলেও মিটবে আর.....
--আর? - আমি জিজ্ঞাসা করলাম ।
-- আর যে ব্যাপারটা ঘটবে সেটা হল বাবুলগাম চেবালে আমাদের ব্রেনেতে অক্সিজেনের সাপ্লাইটা ভালরকম হয়। যদিও শোনা কথা ব্যাপারটা যুক্তিগত ভাবে বিচার করে দেখিনি যদিও ।
-- তাতে কি ? চেবাতে তো কোন ক্ষতি নেই।
এই বলে আমি কাগজমোড়া বাবুলগামটা মুখে পুড়ে কাগজটা রাস্তায় ফেলতে যাচ্ছিলাম আমার কুঅভ্যাস বশতঃ । পেছন থেকে তন্ময় বলল......
-- প্রেমাংশু চুইংগাম বা বাবুলগাম যেটাই খাবে, খেয়ে কাগজগুলো নিজের প্যান্টের বা জ্যাকেটের পকেটেই রাখবে । রাস্তার দিকে ভাল করে লক্ষ করে দেখ তুমি কোনও কাগজছেড়া, ঠোঙা বা প্লাস্টিকের প্যাকেট কিছু পাবে না ।খুবই কম, হয়ত খুব ভালো করে দেখলে দু একটা পেতে পার। কিন্তু তার চান্স খুব কম। আসলে পাহাড়ী মানুষজনেরা ওদের এই এলাকাটাকে জান প্রাণ দিয়ে ভালবাসে। ওদের কাছে ঘর মানে শুধুমাত্র নিজের ঘরবাড়ি বা সংসার নয়। ওরা এই পুরো পাহাড়ী অঞ্চলটাকেই নিজের বলে ভাবে । তুমি দেখবে ওদের এখানকার রাস্তা ঘাট, বাড়িঘর, জামাকাপড় সবই খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং ওরা ভীষণ শৌখিন ।
--yes they are very stylish.. পাশ থেকে সঞ্জীব বলল।
-- আমি আরও দেখেছি যে ট্রেকিং করতে এসে অনেকেই এই ফেলে দেওয়া কাগজপত্র, ঠোঙা, প্লাস্টিকের প্যাকেট কুড়িয়ে নেয় এবং তা একত্র জড়ো করে নিজেদের ব্যাগে করে নিয়ে যায় । - তন্ময় বলল।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম -- মানে তারপর ওরা কি কোন নির্দিষ্ট -----
-- হ্যাঁ নিশ্চয়ই ।নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চয়ই আছে যেখানে ওরা সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে রাখে।
-- সত্যিই এরা কত ডিসিপ্লিন্ড। আর আমরা শহুরে হয়েও কত নোংরা । - আমি বললাম ।
-- Thank you Tonmoy.
-- Welcome. .নাও চল এবার পা চালিয়ে।
আমি চলতে চলতে মনে মনে ভাবতে থাকলাম যে দুটো জিনিস মানুষকে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এনে দিতে পারে । প্রথমত তার চেতনা । সাধে কি আর পরমহংসদেব বলে গিয়েছেন যে " তোদের চৈতন্য হোক "। আর দু নম্বর হল গিয়ে পরিবেশ । সত্যিই এই পাহাড়ী পরিবেশে এই পাহাড়ী মানুষেরা এরা নিজেদেরকে কত সুন্দর করেই না রেখেছে । আর সৌন্দর্য মানেই যে শুধু নিজের শরীরের বা পোশাকের সৌন্দর্য তা তো নয়। এদের কাছে সুন্দরতার অর্থ সামগ্রিক ভাবে একটা পরিবার, পরিবেশ, জাতি ও সর্বোপরি প্রকৃতির সৌন্দর্য । যা কিনা আমাদের মতো শহুরে বাবুরা ঠিকমতো কল্পনাই করতে পারি না ।
আমাদের মধ্যে তন্ময়ের রুকস্যাক ব্যাগটা সবচেয়ে ভারি ছিল ।কারণ ও নিজের ব্যাগটাকে তো আর পোর্টারের কাছে দেয়নি। ও নিজেই বহন করছিল । যার ফলে চিত্রে পর্যন্ত প্রথম 2 কিমি চড়াই রাস্তায় ওকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। মাঝে মাঝেই পিছিয়ে পড়ছিল ও রাস্তায় । আমারও প্রায় একই অবস্থা ।যদিও আমার পিঠের ব্যাগটা খুবই হাল্কা ছিল । কিন্তু চড়াই রাস্তায় উঠতে কষ্টই হচ্ছিল ।
আমি, তন্ময় ও সঞ্জীবের মধ্যে কখনও কখনও সঞ্জীব তো কখনও আমি তো কখনও তন্ময় আগে, এই ভাবে আমরা আগুপিছু চলছিলাম । আর একজন আমাদের সাথে সাথে কখনও দৌড়ে, কখনও লাফিয়ে, কখনও মুখের দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে তার লেজ নেড়ে জানান দিচ্ছিল যে সে আছে । হ্যাঁ পাঠকগণ ঠিকই ধরেছেন । আমাদের লাইকা আমাদের সাথে সাথেই চলছিল। প্রায় 1 কিমি চলবার পর................
-- ওরে আমার চুন্নুমুন্নু , নে লজেন্স খা।
শতদল লাইকার দিকে একটা লজেন্স দেখিয়ে বলল। আমরা পাহাড়ী রাস্তার একটা বাঁকে এসে দাঁড়ালাম। একেই আমরা চড়াই রাস্তায় উঠে পরিশ্রান্ত। তার উপর এই জায়গাটা থেকে খুব ভালো কিছু ছবি উঠবে এই ভেবে দাঁড়ালাম। সর্বাশীষ ও তন্ময় খচাখচ্ করে সেই সুন্দর মুহূর্তগুলি ক্যামেরা বন্দি করল।
শতদল আমার দিকে ফিরে বলল - এই তোর ব্যাগ থেকে কেক বা বিস্কুটের প্যাকেট একটা দে তো। আমার চুন্নুমুন্নুকে খাওয়াই।
-- ও চুন্নুমুন্নু নয়।ওর নাম লাইকা ।
-- চুন্নুমুন্নু আঃ আঃ হা হা হা এই নে খা।
এই বলে শতদল বিস্কুটের প্যাকেট থেকে একটা বিস্কুট বার করে লাইকাকে খাওয়াতে লাগল।
-- আহা রে কতটা পথ আমাদের সঙ্গে সঙ্গে এসেছে বেচারি ।
-- ও তো আমাদের সঙ্গে সান্দাকফু যাবে।
কিরে লাইকা যাবি তো?
-- তুই চুপ কর । বাজে বকিস না ।
এই বলে শতদল ওকে আস্তে আস্তে বিস্কুট খাওয়াতে লাগল। আমরা সেই সুযোগে আর এক খেপ ফটো সেশন চালাতে লাগলাম ।পাহাড়ী খাদের ধার দিয়ে গাছপালা গুলো নীচ থেকে নীচে আরও নীচে চলে গেছে । আমি বোঝবার চেষ্টা করছি যে মানেভন্জং জায়গাটা কতটা নীচে রয়েছে । ঠিক কোন জায়গায় মানেভন্জং এর অবস্থান। আমরা চড়াই পথ দিয়ে অনেকটা পথ ওপরে উঠে আসাতে ক্রমে কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে থাকল। কুয়াশার মধ্যে দিয়েই দেখতে পেলাম পাহাড়ের গায়ে দারুণ সব চিনা প্যাটার্নের ছাদওয়ালা ঘরবাড়ি গুলো। এখনও সব পরিস্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে। একটা সময় আসবে যখন এগুলো ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে হতে মিলিয়ে যাবে।আরেকটু ওপরের দিকে উঠতে থাকলে জঙ্গলের ঘনত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল। বিভিন্ন রকমের পাহাড়ী গাছ যেমন পাইন, ফার, ওক, ম্যাপল, দেবদারু ও ঝাউ ওরা যেন আমাদেরকে একসঙ্গে ওপর থেকে দেখছে। ওদের ঘনত্ব গুলো ওপরে ওঠার সাথে সাথে আরওই বাড়তে থাকল । সাথে কুয়াশাও।যার ফলে সুয্যিমামা আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা শুরু করল। একটা সময় সে খেলাও সাঙ্গ হল। কারণ আমরা পাঁচ ভাগ্নে আর মামাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না । মামা হয়ত তখন কোনও এক গহীন অন্ধকারে লুকিয়ে পড়েছেন । আমরাও ধীরে ধীরে হাঁটছি। সাথে লাইকা ।হঠাত্ খেয়াল হল আমাদের দুই জন গাইড কাম পোর্টার বুদ্ধ এবং যোগেন ওদেরকে দেখা যাচ্ছে না ।ওরা গেল কোথায়? আমি তন্ময়কে জিজ্ঞাসা করতে যাব এমন সময় দেখি ওরা দুজন আমাদের রাস্তার পাশ দিয়ে একটা এবরো খেবড়ো খাঁড়াই সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছে । আমার সাথে চোখাচোখি হতেই যোগেন বলল---
স্যার জি আপলোগ প্লেন রাস্তা সে হি আইয়ে। ইয়ে শর্ট রূট গাইড লোগো কা হি হ্যায় । হামলোগোকো ইসমে চড়না practice হ্যায় । আপলোগ মত আইয়ে। শ্বাস লেনে মে দিক্কত হো সকতা হ্যায় । ধীরে ধীরে সামনে বালা রাস্তা সে হি আইয়ে। উপরমে মিলেঙ্গে।
_____________ হা উপরমে হি মিলেঙ্গে লেকিন _________ পঞ্চম পর্বে।
চেতনার চৈতন্য
" কিসকা রাস্তা দেখে, অ্যায় দিল অ্যায় সওদায়ী
মিলো হ্যায় খামোশী, বরসো মে তনহায়ী"-------
গুণগুণ করে গানটা গাইছি আর চড়াই রাস্তায় হাঁটছি। পাশ থেকে সঞ্জীব বলল ---
প্রেম ভাই ট্রেকিং করার সময় কথা বা গুণগুণ করে গান যতটা কম করা যায় ততই মঙ্গল ।এতে তোমার দম নিতে অসুবিধা হতে পারে ।
--ও তাই নাকি । আসলে এখন তো বেশ ফুরফুরে মেজাজ ।তাই গায়ক প্রেম কুমার জেগে উঠতে চাইছে ।
-- তুমি এক কাজ কর । এই বাবুলগামটা মুখে পোড় আর চিবোও ।এতে তোমার জল তেষ্টাটা কিছুটা হলেও মিটবে আর.....
--আর? - আমি জিজ্ঞাসা করলাম ।
-- আর যে ব্যাপারটা ঘটবে সেটা হল বাবুলগাম চেবালে আমাদের ব্রেনেতে অক্সিজেনের সাপ্লাইটা ভালরকম হয়। যদিও শোনা কথা ব্যাপারটা যুক্তিগত ভাবে বিচার করে দেখিনি যদিও ।
-- তাতে কি ? চেবাতে তো কোন ক্ষতি নেই।
এই বলে আমি কাগজমোড়া বাবুলগামটা মুখে পুড়ে কাগজটা রাস্তায় ফেলতে যাচ্ছিলাম আমার কুঅভ্যাস বশতঃ । পেছন থেকে তন্ময় বলল......
-- প্রেমাংশু চুইংগাম বা বাবুলগাম যেটাই খাবে, খেয়ে কাগজগুলো নিজের প্যান্টের বা জ্যাকেটের পকেটেই রাখবে । রাস্তার দিকে ভাল করে লক্ষ করে দেখ তুমি কোনও কাগজছেড়া, ঠোঙা বা প্লাস্টিকের প্যাকেট কিছু পাবে না ।খুবই কম, হয়ত খুব ভালো করে দেখলে দু একটা পেতে পার। কিন্তু তার চান্স খুব কম। আসলে পাহাড়ী মানুষজনেরা ওদের এই এলাকাটাকে জান প্রাণ দিয়ে ভালবাসে। ওদের কাছে ঘর মানে শুধুমাত্র নিজের ঘরবাড়ি বা সংসার নয়। ওরা এই পুরো পাহাড়ী অঞ্চলটাকেই নিজের বলে ভাবে । তুমি দেখবে ওদের এখানকার রাস্তা ঘাট, বাড়িঘর, জামাকাপড় সবই খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং ওরা ভীষণ শৌখিন ।
--yes they are very stylish.. পাশ থেকে সঞ্জীব বলল।
-- আমি আরও দেখেছি যে ট্রেকিং করতে এসে অনেকেই এই ফেলে দেওয়া কাগজপত্র, ঠোঙা, প্লাস্টিকের প্যাকেট কুড়িয়ে নেয় এবং তা একত্র জড়ো করে নিজেদের ব্যাগে করে নিয়ে যায় । - তন্ময় বলল।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম -- মানে তারপর ওরা কি কোন নির্দিষ্ট -----
-- হ্যাঁ নিশ্চয়ই ।নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চয়ই আছে যেখানে ওরা সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে রাখে।
-- সত্যিই এরা কত ডিসিপ্লিন্ড। আর আমরা শহুরে হয়েও কত নোংরা । - আমি বললাম ।
-- Thank you Tonmoy.
-- Welcome. .নাও চল এবার পা চালিয়ে।
আমি চলতে চলতে মনে মনে ভাবতে থাকলাম যে দুটো জিনিস মানুষকে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এনে দিতে পারে । প্রথমত তার চেতনা । সাধে কি আর পরমহংসদেব বলে গিয়েছেন যে " তোদের চৈতন্য হোক "। আর দু নম্বর হল গিয়ে পরিবেশ । সত্যিই এই পাহাড়ী পরিবেশে এই পাহাড়ী মানুষেরা এরা নিজেদেরকে কত সুন্দর করেই না রেখেছে । আর সৌন্দর্য মানেই যে শুধু নিজের শরীরের বা পোশাকের সৌন্দর্য তা তো নয়। এদের কাছে সুন্দরতার অর্থ সামগ্রিক ভাবে একটা পরিবার, পরিবেশ, জাতি ও সর্বোপরি প্রকৃতির সৌন্দর্য । যা কিনা আমাদের মতো শহুরে বাবুরা ঠিকমতো কল্পনাই করতে পারি না ।
আমাদের মধ্যে তন্ময়ের রুকস্যাক ব্যাগটা সবচেয়ে ভারি ছিল ।কারণ ও নিজের ব্যাগটাকে তো আর পোর্টারের কাছে দেয়নি। ও নিজেই বহন করছিল । যার ফলে চিত্রে পর্যন্ত প্রথম 2 কিমি চড়াই রাস্তায় ওকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। মাঝে মাঝেই পিছিয়ে পড়ছিল ও রাস্তায় । আমারও প্রায় একই অবস্থা ।যদিও আমার পিঠের ব্যাগটা খুবই হাল্কা ছিল । কিন্তু চড়াই রাস্তায় উঠতে কষ্টই হচ্ছিল ।
আমি, তন্ময় ও সঞ্জীবের মধ্যে কখনও কখনও সঞ্জীব তো কখনও আমি তো কখনও তন্ময় আগে, এই ভাবে আমরা আগুপিছু চলছিলাম । আর একজন আমাদের সাথে সাথে কখনও দৌড়ে, কখনও লাফিয়ে, কখনও মুখের দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে তার লেজ নেড়ে জানান দিচ্ছিল যে সে আছে । হ্যাঁ পাঠকগণ ঠিকই ধরেছেন । আমাদের লাইকা আমাদের সাথে সাথেই চলছিল। প্রায় 1 কিমি চলবার পর................
-- ওরে আমার চুন্নুমুন্নু , নে লজেন্স খা।
শতদল লাইকার দিকে একটা লজেন্স দেখিয়ে বলল। আমরা পাহাড়ী রাস্তার একটা বাঁকে এসে দাঁড়ালাম। একেই আমরা চড়াই রাস্তায় উঠে পরিশ্রান্ত। তার উপর এই জায়গাটা থেকে খুব ভালো কিছু ছবি উঠবে এই ভেবে দাঁড়ালাম। সর্বাশীষ ও তন্ময় খচাখচ্ করে সেই সুন্দর মুহূর্তগুলি ক্যামেরা বন্দি করল।
শতদল আমার দিকে ফিরে বলল - এই তোর ব্যাগ থেকে কেক বা বিস্কুটের প্যাকেট একটা দে তো। আমার চুন্নুমুন্নুকে খাওয়াই।
-- ও চুন্নুমুন্নু নয়।ওর নাম লাইকা ।
-- চুন্নুমুন্নু আঃ আঃ হা হা হা এই নে খা।
এই বলে শতদল বিস্কুটের প্যাকেট থেকে একটা বিস্কুট বার করে লাইকাকে খাওয়াতে লাগল।
-- আহা রে কতটা পথ আমাদের সঙ্গে সঙ্গে এসেছে বেচারি ।
-- ও তো আমাদের সঙ্গে সান্দাকফু যাবে।
কিরে লাইকা যাবি তো?
-- তুই চুপ কর । বাজে বকিস না ।
এই বলে শতদল ওকে আস্তে আস্তে বিস্কুট খাওয়াতে লাগল। আমরা সেই সুযোগে আর এক খেপ ফটো সেশন চালাতে লাগলাম ।পাহাড়ী খাদের ধার দিয়ে গাছপালা গুলো নীচ থেকে নীচে আরও নীচে চলে গেছে । আমি বোঝবার চেষ্টা করছি যে মানেভন্জং জায়গাটা কতটা নীচে রয়েছে । ঠিক কোন জায়গায় মানেভন্জং এর অবস্থান। আমরা চড়াই পথ দিয়ে অনেকটা পথ ওপরে উঠে আসাতে ক্রমে কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে থাকল। কুয়াশার মধ্যে দিয়েই দেখতে পেলাম পাহাড়ের গায়ে দারুণ সব চিনা প্যাটার্নের ছাদওয়ালা ঘরবাড়ি গুলো। এখনও সব পরিস্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে। একটা সময় আসবে যখন এগুলো ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে হতে মিলিয়ে যাবে।আরেকটু ওপরের দিকে উঠতে থাকলে জঙ্গলের ঘনত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল। বিভিন্ন রকমের পাহাড়ী গাছ যেমন পাইন, ফার, ওক, ম্যাপল, দেবদারু ও ঝাউ ওরা যেন আমাদেরকে একসঙ্গে ওপর থেকে দেখছে। ওদের ঘনত্ব গুলো ওপরে ওঠার সাথে সাথে আরওই বাড়তে থাকল । সাথে কুয়াশাও।যার ফলে সুয্যিমামা আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা শুরু করল। একটা সময় সে খেলাও সাঙ্গ হল। কারণ আমরা পাঁচ ভাগ্নে আর মামাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না । মামা হয়ত তখন কোনও এক গহীন অন্ধকারে লুকিয়ে পড়েছেন । আমরাও ধীরে ধীরে হাঁটছি। সাথে লাইকা ।হঠাত্ খেয়াল হল আমাদের দুই জন গাইড কাম পোর্টার বুদ্ধ এবং যোগেন ওদেরকে দেখা যাচ্ছে না ।ওরা গেল কোথায়? আমি তন্ময়কে জিজ্ঞাসা করতে যাব এমন সময় দেখি ওরা দুজন আমাদের রাস্তার পাশ দিয়ে একটা এবরো খেবড়ো খাঁড়াই সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছে । আমার সাথে চোখাচোখি হতেই যোগেন বলল---
স্যার জি আপলোগ প্লেন রাস্তা সে হি আইয়ে। ইয়ে শর্ট রূট গাইড লোগো কা হি হ্যায় । হামলোগোকো ইসমে চড়না practice হ্যায় । আপলোগ মত আইয়ে। শ্বাস লেনে মে দিক্কত হো সকতা হ্যায় । ধীরে ধীরে সামনে বালা রাস্তা সে হি আইয়ে। উপরমে মিলেঙ্গে।
_____________ হা উপরমে হি মিলেঙ্গে লেকিন _________ পঞ্চম পর্বে।

কেমন লাগল পড়ে জানাবেন বন্ধুরা।
ReplyDelete