MISSION SANDAKFU
লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ
মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব
পরিচয়
-ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে ।
-তো, কি হয়েছে? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে।
-ওরে তুই জুতো টা পর রে।
-এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার।
-দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে ।
-ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে।
-ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে।
-Get ready boys.
এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি । তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম ।
সেদিনটা ছিল 18/12/16 । সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে । সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী । ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা । অ্যাথলেটিক ফিগার । হাইট আন্দাজ 5'8"। মনে হচ্ছিল এই বুঝি NJP স্টেশন থেকে এক দৌড়ে সান্দাকফুর টঙে গিয়ে বসবে।
সক্কাল সক্কাল ফ্রেশ টেশ হয়ে নামলাম NJP স্টেশনে। স্টেশনের বাইরে এসেই ছোট্ট করে হল একটা ফটো সেশন । স্টেশনে সেশন । খুব ভালো ।গাড়ি আসল। টাটা সুমো। আমাদের প্রথম গন্তব্য মানেভন্জং।মানেভন্জং এর পর থেকে আমাদের ট্রেকিং শুরু হবে ।
মানেভন্জং জায়গাটা INDIA এবং নেপালের মধ্যবর্তী একটি এলাকা । যার ফলে এখান থেকে ফোন করতে গেলে সেটি কখনও কখনও ISD রেট হিসাবে গণ্য হচ্ছিল ।
- যাঃ আমার ষাট টাকা ব্যালান্স কেটে গেল। এক মিনিটও কথা বলিনি ।
তন্ময় বলল। ওর বাড়ি থেকে একটা ফোন এসেছিল সেই সময় । আর ওই ফোন কলেই ওর এই দুর্দশা ।
তন্ময় ।তন্ময় সাহা। শত আর তন্ময়ের হাইট প্রায় একই রকম । উনিশ বিশ হবে বোধহয় । ওই 5'8" মত। গড়ন মোটামুটি । না রোগা না মোটা । তবে ট্রেকিং এর অভিজ্ঞতা রয়েছে বেশ ভালরকম । আদি কৈলাশের মতো দুর্গম পথ অতিক্রম করেছে ও অনায়াসেই।
মানেভন্জং আসার সময়ে সেবক রোডে এবং একবার মিরিকে GOLPAHAR TEA ESTATE এ আমাদের গাড়ি দাড়াল। উদ্দেশ্য সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে ক্যামেরা বন্দি করা। সে উদ্দেশ্য যে সফল তা বলাই বাহুল্য ।কারণ হিসাবে বলতে হয় ফেসবুকে বন্ধুদের লাইকের বন্যা বইয়ে দেওয়া । যাইহোক গাড়ি যতই মানেভন্জং এর কাছাকাছি যাচ্ছিল ঠাণ্ডার প্রকোপ ততই বাড়ছিল ।
-প্রেম ভাই গায়ে সোয়েটার টা চাপিয়ে নাও। সঞ্জীব বলল।
সঞ্জীব সাহা। এরও বেশ ছিপছিপে গড়ন।হাইট 5'9" মতন। ছেলেটির একটি বিশেষ গুণ হল ওর কাছে প্রায় যাবতীয় জিনিস যা কিনা এই ধরনের জার্নিতে প্রয়োজন হতে পারে তার প্রায় সবকিছুই থাকা এবং ও সদা সতর্ক । কখন, কার, কি প্রয়োজন বা দরকার সেদিকে দৃষ্টি এবং যথাসম্ভব তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া । আমাকে তো অনেক বার COCA-30 এবং SPONGIA-30 দিয়ে হেল্প করেছে । এই দুটো কি? হোমিওপ্যাথি ওষুধ। ঠাণ্ডা লাগার জন্য SPONGIA আর পাহাড়ে উঠে শ্বাস প্রশ্বাসের অসুবিধা হলে COCA-30 । ভীষণ POWERFUL. একেবারে মোক্ষম দাওয়াই ।
-এই প্রেমাংশু ওই দিকটা ঘুরে দাড়া। হ্যাঁ হ্যাঁ পাহাড়ের দিকটা পিঠ দিয়ে আর আকাশের দিকটা মুখ করে ।হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে । সর্বাশীষ বলল। ওর ফোটোগ্রাফির শখ।ভালো ছবি তোলে।আমাদের এই পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে সর্বাশীষ এবং তন্ময় দুজনেই খুব ভালো ছবি তোলে। সিকিম টুরে সর্বাশীষের তোলা ছবি গুলো আজও আমার মনে দাগ কেটে রেখেছে । আমাদের এই টুরেও সর্বাশীষ এবং তন্ময় দুজনেই খুব ভালো ছবি তুলেছে। ভবিষ্যতে এটা প্রমাণিত হবে যে স্মৃতি বড়ই মধুর । ও হ্যাঁ কথায় কথায় ভুলেই গিয়েছিলাম । সর্বাশীষের পরিচয়টা এই বেলা দিয়ে রাখি।
সর্বাশীষ দে। হাইট 5'10" হবে । শারীরিক গড়ন একটু ভারী। তবে লম্বা হওয়ার দরুন ট্রেকিং টা মন্দ করেনি ।
আর সবার শেষে আমি। আপনাদের কাছে নিজের আর কি পরিচয় দেব বলুন । তবুও পরিচয় পর্ব যখন চলছেই তখন বলি।
হাইট 5'4"। ওজন 67 কিলো।বয়স 34. চেহারা নাদুসনুদুস ভেতো বাঙালি টাইপ । এই ট্রেকিং এ সবচেয়ে কম পারদর্শী যদি কেউ হয় তো সেটা আমি। THE LAST BENCHER. আমার এক বন্ধু অয়ন তো বলেই ফেলল যে আমাকে নাকি দিন দিন লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর মতো দেখতে হয়ে যাচ্ছে । মাথার চুল অনেকটাই হাল্কা হয়ে এসেছে । পেটে সামান্য একটু মেদও এসেছে । ভাবছি সন্দীপ রায় কে গিয়ে বলব কিনা যে "জটায়ু কি কম পড়িয়াছে? " তবে এই ট্রেকে কিছু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন যে হয়েছি তা জটায়ুর ভাষায় HIGHLY SUSPICIOUS. সেগুলো ধীরে ধীরে আপনাদের কাছে তুলে ধরব । ও হ্যাঁ একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম । আমাদের ট্রেকিং গ্রুপের সবার বয়স ওই 34 থেকে 37 এর মধ্যে । মন্দ নয় কি বলুন;
চলবে ।
মিশন সান্দাকফু - দ্বিতীয় পর্ব
মানেভন্জং এর মাস্টার জী, মোমো এবং মাউন্টেন
- ভাইয়া ইয়ে GTA কা হোটেল কিধর মিলেগা?
- পতা নেহি। আগে জাকে দেখিয়ে । মিল সকতাহে ।
মানেভন্জং এ এসে আমরা হোটেল খোজবার জন্য গাড়ির মধ্যে থেকেই বিভিন্ন পথচারীদের জিজ্ঞাসা করতে থাকলাম । আমরা হোটেলের নামটাই ভুলে গিয়েছিলাম । ভুল করে GTA অর্থাত্ GORKHALAND TERRITORIAL ADMINISTRATION এর নাম বলছিলাম । সেই নামে কোনও হোটেল মানেভন্জং এ নেই । তবে অফিস আছে ।যেখান থেকে TREKKERS দের PORTER CUM GUIDE নিয়ে, FULL & FINAL PAYMENT করে তারপর যাত্রা শুরু করতে হয়। যাইহোক কিছুটা আগে গিয়ে গাড়ি দাড় করানো হল। আমরা সবাই নামলাম গাড়ি থেকে । তারপর ............................
- এই শত হোটেলের কাগজটা তো তোর কাছেই ছিল সেটা কোথায়?
- ওটা আমার কাছে কোথায়, ওটা তো সর্বার কাছেই আছে ।
- ভাইয়া ইয়ে মাস্টার জী কা হোটেল কৌনসা হ্যায়?
- হামলোগোকো ওহি জানা হ্যায় ।
- ইয়ে হি তো হ্যায় মাস্টার জী কা ঘর। হোটেল EXOTICA.
- হ্যাঁ রে শত পেয়েছি । আমার ব্যাগেই ছিল । হোটেল EXOTICA র স্লিপ টা।
- দেখেছিস তোরা, সর্বাটা এতক্ষণ আমার উপর চেঁচাচ্ছিল ।
- ওরে ব্যাগ গুলো নামা। এটাই মাস্টার জী কা হোটেল ।
- বেশ ভালো রকম ঠাণ্ডা লাগছে কিন্তু এখানে । তাই না সঞ্জীব?
- হ্যাঁ এই বেলা তিনটে সাড়ে তিনটের সময়ও ভালো কাঁপুনি দিচ্ছে ।
- কি যে তোরা GTA, GTA করছিলিস। আর দাড়াস না । প্রেমাংশু গাড়ির পেমেন্ট পুরোটা ক্লিয়ার করে দিয়ে উপরে আয়।
- হুম্ আসছি।
সামনের বেশ খাড়াই সিঁড়িটা দিয়ে আমরা পঞ্চপাণ্ডব একে একে উপরের দিকে উঠে এলাম। আসলে এটা নামেই হোটেল । এর থেকে খুব সাধারণ HOME STAY বা নিদেনপক্ষে নিজেদের বাড়িও অনেক ভাল হয় দেখতে । কি আর করা যাবে । শুধু মাত্র একটা রাতের ব্যাপার । পরের দিন (19/12/16) সকাল থেকে তো আমাদের ট্রেকিং শুরু হবে । ওপরে উঠে আসবার পর পুরো জায়গাটা আমাদের ভীষণ অন্ধকার অন্ধকার লাগল। পুরনো বাড়ির একটা স্যাঁতসেঁতে ভাবও আছে । পাহাড়ের গায়ে লাগোয়া বাড়ির ধরন গুলো একটু অন্যরকম হয়। খাঁড়াই সিঁড়ি । ভারি ভারি ব্যাগগুলি পিঠে বয়ে উঠতে উঠতে হাঁপ ধরে এল। মনে মনে ভাবলাম এখনই এই অবস্থা। সামনের দিন গুলোয় কি হবে?
- ইয়ে মাস্টার জী কা হোটেল হ্যায় না?
- হা হা । মাস্টার জী কা হি হ্যায় । ম্যায় হু মাস্টার জী । বলিয়ে।
- জি হমলোগ কোলকাত্তাসে আয়ে হ্যায় । ইয়ে লিজিয়ে ওহ বিল কা কপি।
- হা হা ঠিক হ্যায় ।আইয়ে আইয়ে। ইহাপে থোড়া রুকিয়ে। ম্যায় এক মিনিট আতা হু।
এই বলে মাস্টার জী একদম উপরের ঘরটাতে চলে গেলেন ও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাতে চাবি নিয়ে ফিরে এলেন ।
- ইয়ে লিজিয়ে চাবি । উসকে বাজু বালা রুমমে চলে জাইয়ে।
- মাস্টার জী থোড়াসা গরম জল মিলেগা?
- আরে দাদা, বাংলাতেই বলুন না ।তিরিশ বছর ধরে বাঙালি বউয়ের সাথেই ঘর করছি আমি। জল গরম করে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
- মাস্টার জী এখন লাঞ্চে কি পাব?
- এখন আর কি পাবেন? এখন কি আর লাঞ্চ টাইম আছে? এখন তো আমি রাতের রান্না বসাবো। সাড়ে সাতটার মধ্যে ডিনার খেয়ে নিতে হবে কিন্তু ।
- অ্যাঁ ।
- অ্যাঁ নয় হ্যাঁ ।এখানে আমরা সবাই রাত আটটার মধ্যে শুয়ে পড়ি। রাতে আন্ডাকারী, সবজি ভাত,ডাল করে দেব খন।ঠিক তো?
- কিন্তু এখন যে খিদেয় পেট চো চো করছে।
- এক কাজ কর না তোমরা । ওই নীচে রাস্তায় নেমে যাও। দুটো দোকান পর পাশের দোকানটায় সুপ, চাউমিন আর মোমো পাবে।খেয়ে দেখো। ভালো লাগবে। এই বেলা চালিয়ে নাও । রাতে ভালো করে খাওয়াবো খন আন্ডাকারী । এই বুদ্ধ তোমাদের দোকানটায় নিয়ে যাচ্ছে ।
মাস্টার জীর পাশে একটি ফর্সা, ছিপছিপে মাঝারি হাইটের ছেলে দাঁড়িয়েছিল । ওর নাম বুদ্ধ । মাস্টার জী বললেন
- ওর সাথে চলে যাও তোমরা, খেয়ে এসো। কাল তোমাদের সাথে ও যাবে। PORTER CUM GUIDE তোমাদের চাই তো?
- হ্যাঁ তা তো লাগবেই ।
- ঠিক আছে । ও যাবে । আমার লোক । কোনও অসুবিধা হবে না ।
- যা যা বুদ্ধ, নিয়ে যা এদের ।
আমরা সবাই নিচে নেমে এলাম। বুদ্ধ আমাদেরকে ওই দোকানটায় নিয়ে এল।আমরা ওকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম per day PORTER CUM GUIDE চার্জ 800 টাকা করে । মনে মনে একটা হিসেব করতে থাকলাম । পাঁচ জনের পাঁচটা ব্যাগের জন্য মিনিমাম দুটো PORTER কে তো নিতেই হবে । কিন্তু দুজন PORTER এ কি ওরা রাজি হবে?
এই রকম আগু পিছু ভাবতে ভাবতেই আমরা গরম গরম সুপ, চাউমিন আর মোমোর অর্ডার দিলাম ।যথা সময়ে খাবার এল।
- বাঃ বাঃ মুমমমহাহা, আহাহাহা। কি টেস্ট মোমোটার।
- আহাহাহা করছিস কেন? চুপচাপ খেতে পারছিস না?
-ভাবছি ঘাটের মড়া তেলেঙ্গানার চাকরি টা ছেড়ে এই মানেভন্জং এ একটা মোমোর দোকান খুলব । দোকানের নাম দেব "মোমো মুমমহাহা।"
-তুই জানিস কি, এখানে দোকান চালাতে গেলে তোকে এখানকার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে ।
- না করার কোনও কারণ নেই । আমি তো রাজি।তাছাড়া মেয়ের বাপেরা আমার মতো নির্ভেজাল ব্যাচেলর কটা পাবে?
- কেন রে? আমরা কি ভেজাল নাকি?
- সে তো তোরাই জানিস।ভেজাল না নির্ভেজাল ।তাছাড়া তোরা তো আর এখানে এসে থাকবি না ।আমি থাকব।পাহাড়ী গান গাইব ।পাহাড়ী মেয়েদের সাথে নাচব। আহা দারুণ ।
- আর কি কি করবি?
-ঠাণ্ডার সময় ওর আর মুখ খোলাস না শত। প্রেম ভাই এখন দিবা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ।নির্ভেজাল স্বপ্ন ।
এইরকম হাসি মজা চলতে চলতে আমাদের খাওয়া শেষ হল। তারপর আমরা GTA OFFICE এ আসলাম ।সমস্ত নিয়মকানুন জানার পর আমরা দুজন PORTER CUM GUIDE নেব ঠিক করলাম। যদিও আমাদের মিশন ছিল সান্দাকফু ট্রেকিং করে যাওয়া, কিন্তু আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর শতদল জানা সেটিকে আরও এগিয়ে নিলেন । SINGALILA RANGE টাকে উনি পুরো কভার করে আসতে চাইলেন । তাই প্রাথমিক শর্তে ঠিক হল আমরা ফালুট পর্যন্ত যাব।
মানেভন্জং থেকে ফালুট পর্যন্ত দূরত্ব হল 52 কিমি ।যেটা কিনা চড়াই, উতরাই ও মাঝে মাঝে সমতল পথ।সেখান থেকে আমাদের ট্রেকিং করে আসতে হবে SRIKHOLA যেটা কিনা নিচের দিকে অর্থাত্ উতরাই পথ প্রায় 30কিমি ।অর্থাত্ আমাদের মোট 82কিমি (প্রায় ) পথ ট্রেকিং করতে হবে 5/6 দিনে । বিস্তারিত ভাবে একটি নমুনা দিলাম নিচে।
প্রথম দিন - মানেভন্জং থেকে টোংলু - 11কিমি ।
দ্বিতীয় দিন - টোংলু থেকে কালীপোখারি - 13কিমি ।
তৃতীয় দিন - কালীপোখারি থেকে সান্দাকফু - 7কিমি চড়াই পথ।
চতুর্থ দিন - সান্দাকফু থেকে ফালুট - 21কিমি ।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিন - ফালুট থেকে শ্রীখোলা - 30কিমি । যা কিনা অনেকেই শেষ করতে পারেন না ।
GTA OFFICE এ আমরা FULL & FINAL PAYMENT করে দিয়ে পরের দিন অর্থাত্ 19/12/16 তারিখে দুজন PORTER কে আসতে বলে হোটেলে ফিরে আসলাম।
.............চলবে ........................
মিশন সান্দাকফু - তৃতীয় পর্ব
যাত্রা
শুরু
- মহাপ্রস্থানের পথে
রাতে
মাস্টার জীর
হাতে
রান্না
করা
গরম
ভাত,
ডাল,
আন্ডাকারী সাথে
কাঁচা
পেঁয়াজ ও
লঙ্কা
একসঙ্গে খেলাম।
দারুণ
উপভোগ্য। কনকনে
ঠান্ডায় ( প্রায়
3/4 ডিগ্রি
) গরম
ভাতের
ধোঁয়া
একটা
দারুণ
ব্যাপার ।
সামান্য লাইটের
আলোয়
আবছায়া অন্ধকারে পাঁচমূর্তি গরম
গরম
খাবার
আহার
করছি।বাইরে তাকালে
ঘুটঘুটে অন্ধকার ।
খাওয়া
দাওয়া
শেষ
করে
আমরা
পাঁচজনে পাঁচটি
বিছানা
দখল
করলাম
। লেপের সুন্দর
প্রলেপ
দিয়ে
পুরো
শরীরটাকে আঁটোসাটো করে
রাখলাম
। সর্বা এবং
সঞ্জীব
ঠাণ্ডা
থেকে
বাঁচতে
SLEEPING BAG এর
মধ্যে
ঢুকে
পড়ল।
বেশ
কিছুক্ষণ শুয়ে
থাকবার
পর
তন্ময়
লেপের
ভেতর
থেকে
ঢুশ
ঢাশ
শব্দে
গ্যাস
নির্গমন করতে
থাকল।
যার
ফলে
আমি
ওর
নামটাই
দিয়ে
দিলাম
গ্যাস
কাকু
।
ভোরবেলা আমার
যখন
ঘুম
ভাঙল
তখন
5টা
বাজে।
এমনিতে
আমার
রোজ
ভোর
সাড়ে
পাঁচটায় ঘুম
থেকে
ওঠা
অভ্যাস
। টয়লেটে গেলাম
। হাতে জল
লাগতেই
প্রচন্ড ঠাণ্ডা
অনুভব
করলাম
। দুহাতে আর
সারবস্তু নেই।
একদম
অসাড়
।জল
লাগা
অংশতে
সপর্শ
করলে
টের
পাচ্ছিলাম না
সেই
অংশ
টা।
হাতের
আঙুলের
হাড়ে
সংগে
সংগে
ব্যথা
অনুভব
করলাম
। রুমে এসে
সঙ্গে
সঙ্গে
হাত
দস্তানা বার
করে
পড়ে
ফেললাম
। তারপর আবার
লেপের
প্রলেপ
দিলাম
গায়ে
।
- কিরে তোর
পটি
হল?
- শতদল
জিজ্ঞাসা করল।
- হ্যাঁ হল তবে ঠান্ডায় পাথর হয়ে গেছে । একদম চিরে বের হল।
- আরে আমার তো ঠান্ডায় চাপই আসছে না ।
- আমারও একই অবস্থা । - পাশ থেকে সঞ্জীব বলল।
- গ্যাসকাকুর কি অবস্থা?
গ্যাস কাকু মানে তন্ময় তখনও ঘুমে তন্ময়াচ্ছন্ন হয়েই ছিলেন ।আমাদের ডাকাডাকিতে ধীরে ধীরে উঠে বসলেন ।
- কিরে তাড়াতাড়ি ওঠ । রেডি হতে হবে তো?
- হ্যাঁ হল তবে ঠান্ডায় পাথর হয়ে গেছে । একদম চিরে বের হল।
- আরে আমার তো ঠান্ডায় চাপই আসছে না ।
- আমারও একই অবস্থা । - পাশ থেকে সঞ্জীব বলল।
- গ্যাসকাকুর কি অবস্থা?
গ্যাস কাকু মানে তন্ময় তখনও ঘুমে তন্ময়াচ্ছন্ন হয়েই ছিলেন ।আমাদের ডাকাডাকিতে ধীরে ধীরে উঠে বসলেন ।
- কিরে তাড়াতাড়ি ওঠ । রেডি হতে হবে তো?
এরপর
ধীরে
ধীরে
এক
এক
করে
আমরা
সবাই
উঠলাম
ও
প্রাতঃকৃত্যাদি সেরে
মোটামুটি সকাল
সাড়ে
সাতটার
মধ্যে
ব্যাগপত্তর গুছিয়ে রেডি
হয়ে
গেলাম
। আমরা পাঁচ
জনে
নিজেদের ব্যাগগুলোকে এমনভাবে ভর্তি
করেছিলাম যাতে
এক
একটি
ব্যাগের ওজন
7 থেকে
8 কেজির
বেশি
না
হয়।
কারণ
এক
একজন
পোর্টার 15 কেজির
বেশি
ওয়েট
কখনওই
বইতে
চায়
না।
দুজন
পোর্টার বুদ্ধ
এবং
যোগেন
দুখানা
করে
ব্যাগ
(7+8)=15 কেজি
করে
ওয়েট
বইবে।
সেই
হিসাবেই আমরা
আমাদের
ব্যাগগুলোকে ভর্তি
করেছিলাম ।
শুধুমাত্র তন্ময়
নিজে
ওর
নিজের
ব্যাগটা ক্যারি
করেছিল
। অধিক জিনিসপত্র মানে
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন
জ্যাকেট, টুপি,
গ্লাভস,
মাফলার,
ওষুধপত্র, জল,
টুকটাক
খাবার
দাবার
ইত্যাদি আমরা
আমাদের
হাল্কা
ব্যাগগুলোতে ভরে
নিয়েছিলাম ।
ট্রেকিং করতে
গেলে
পিঠে
হাল্কা
ওয়েট
ক্যারি
করা
বাঞ্ছনীয় ।
এতে
চড়াই
রাস্তায় ব্যালান্স টা
ভালো
পাওয়া
যায়
। আমরা সেটাই
করেছিলাম ।
সকাল
9 টার
পর
হাল্কা
কিছু
BREAKFAST খেয়ে
GTA OFFICE থেকে
PASS COLLECT করে
আমরা
যাত্রা
শুরু
করলাম।
দিনটা
ছিল
সোমবার
। 19 শে ডিসেম্বর 2016 আমাদের
স্বপ্নের যাত্রা
শুরু
হল।মানেভন্জং থেকে
প্রথম
2 কিমি
চিত্রে
পর্যন্ত পথটা
বেশ
চড়াই
। যদিও রাস্তাটা ভাল।
প্লেন
পিচের
রাস্তা
। এই রাস্তা
দিয়ে
আমরা
যাত্রা
শুরু
করলাম
।
আমাদের
আর
এক
পোর্টার যোগেন
আমাকে
বলল
যে
আমি
আমার
মাথার
টুপি
যেন
খুলে
চলি।
এতে
প্রথমে
হয়ত
একটু
ঠাণ্ডা
লাগবে
কিন্তু
ওপরে
উঠতে
থাকলে
অক্সিজেনের যে
অভাব
ঘটে
বা
তারতম্য লক্ষ
করা
যায়
তাতে
খুব
একটা
অসুবিধা হবে
না
। খুব শক্ত
করে
মাফলার
বাঁধা
থাকলে
বা
আঁটোসাটো টুপি
সবসময়
পড়া
থাকলে
শ্বাস
প্রশ্বাসে অসুবিধার সম্ভাবনা থাকে
। আমি সেইমতো
মাথার
টুপি
খুলে
ফেললাম
ও
হাতে
SLEEPING BAG নিয়ে
চলতে
শুরু
করলাম
।
কিছুক্ষণ হাঁটার
পর
আমরা
তিনজন
মানে
আমি
, সর্বাশীষ ও
শতদল
একটা
করে
লাঠির
অভাব
অনুভব
করলাম
। আমাদের পাঁচ
জনের
মধ্যে
তন্ময়
ও
সঞ্জীব
ট্রেকিং স্টিক
নিয়ে
এসেছিল
। বাকি তিনজনের সেটা
না
থাকায়
আমরা
তখন
বাঁশঝাড় থেকে
একটা
কচি
সরু
বাঁশ
জোগাড়
করে
সেটাকে
মোটামুটি একটা
সমান
সাইজমতো তিন
টুকরো
করে
তিনজনে
নিয়ে
নিলাম
। আমাদের ট্রেকিং করার
সময়
আমাদের
সাথেই
আর
একটা
তিনচারজনের লোকাল
মহিলা
ট্রেকিং দল
যাচ্ছিল ।
ওরাই
এই
বাঁশের
লাঠির
বন্দোবস্ত করেছিল
। ওদের সাহায্যার্থেই আমরা
উপকৃত
হয়েছিলাম।
কথায়
আছে
পেছনে
আছলা
বাঁশ
। কিন্তু আমরা
কিছুক্ষণ হাঁটার
পর
অনুভব
করেছিলাম যে
এই
আছলা
বাঁশ
না
থাকলেই
বরং
আমাদের
পেছন
এমনি
এমনি
ফেটে
যেত।
আমাদের
এই
যাত্রা
শুরুর
ঠিক
পরে
পরেই
একটি
পাহাড়ী সারমেয়(কুকুর
) , বেশ
মোটাসোটা আমাদের
সঙ্গ
নিল।
আমরাও
হাঁটছি
সেও
আমাদের
সাথে
সাথে
হাঁটছে
।কখনও
দৌড়াচ্ছে। হঠাত্
করে
আমার
মনে
হল
যেন
আমরা
পাঁচজনে অর্থাত্ পঞ্চপাণ্ডব মহাপ্রস্থানের পথে
বেরিয়েছি। মহাভারতে আছে
না
পঞ্চপাণ্ডবের সাথে
এক
সারমেয়র যাত্রা
। মহাভারতের সেই
সারমেয়টির নাম
আমি
ভুলে
গিয়েছি। আমি
ওর
নাম
রেখেছিলাম লাইকা
। লাইকা নামে
একটি
সারমেয়কে প্রথম
পৃথিবীর বাইরে
অর্থাত্ মহাবিশ্বে মহাকাশ
যানে
করে
পাঠানো
হয়েছিল ।
আমি
সেই
মুহূর্তে ভাবতে
থাকলাম
আমাদের
এই
আদরের
লাইকাকে সান্দাকফুর শৃঙ্গ
দেখাতেই হবে
।
তারপর
কি
হল....................জানাব চতুর্থ পর্বে।................
Waiting for 4th part
ReplyDeleteআসছে খুব শিগগিরই।
DeleteVai osob kaj taj a besi manojog na diye kalam tai pakapaki kore ne,lekhak sulav sob kichui to tor moddhe dekhi.valo,bes valo.chaliye jao boss.
ReplyDeleteঅশেষ ধন্যবাদ ভাই। নিয়মিত ফলো করবার অনুরোধ করলাম। মাঝে মধ্যে একটু নেড়ে চেড়ে দেখা আরকি।
ReplyDelete