Skip to main content

মিশন সান্দাকফু

MISSION SANDAKFU
লেখক : - প্রেমাংশু দেবনাথ

মিশন সান্দাকফু - প্রথম পর্ব
পরিচয়
-ট্রেন টা এক ঘণ্টার উপর লেট আছে
-তো, কি হয়েছে? এই সুযোগে বরং ব্যাগ গুলো গুছিয়ে নে।
-ওরে তুই জুতো টা পর রে।
-এই শত হাত মুখ টা ধুয়ে নে এবার।
-দ্যাখ্ শতদল টা এখনও ঘুমোচ্ছে
-ওর পেছনে একটা ক্যাত করে লাগা দেখবি তিরিং করে উঠবে।
-ওরে শতদল নিউ জলপাইগুড়ি আর পনেরো মিনিটের মধ্যেই ঢুকবে।
-Get ready boys.
এই ভাবেই শুরু হয়েছিল মিশন সান্দাকফু। ট্রেকিংয়ের সময়ে লেখার সময় করে উঠতে পারিনি তাই স্মৃতি রোমন্থনের মধ্যে দিয়ে লেখাটি আবার শুরু করলাম
সেদিনটা ছিল 18/12/16 সকাল সাড়ে আটটা কি নটা হবে সেদিন সকালে সবচেয়ে লেটে ঘুম থেকে উঠল আমাদের শত। মানে শতদল জানা। কিন্তু সান্দাকফু পৌঁছাল সবার প্রথমে। শতদল কে বলা যেতে পারে আমাদের কাণ্ডারী বা পথের দিশারী ওই হল আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ছিপছিপে চেহারা অ্যাথলেটিক ফিগার হাইট আন্দাজ 5'8" মনে হচ্ছিল এই বুঝি NJP স্টেশন থেকে এক দৌড়ে সান্দাকফুর টঙে গিয়ে বসবে
সক্কাল সক্কাল ফ্রেশ টেশ হয়ে নামলাম NJP স্টেশনে। স্টেশনের বাইরে এসেই ছোট্ট করে হল একটা ফটো সেশন স্টেশনে সেশন খুব ভালো গাড়ি আসল। টাটা সুমো। আমাদের প্রথম গন্তব্য মানেভন্জং।মানেভন্জং এর পর থেকে আমাদের ট্রেকিং শুরু হবে
মানেভন্জং জায়গাটা INDIA এবং নেপালের মধ্যবর্তী একটি এলাকা যার ফলে এখান থেকে ফোন করতে গেলে সেটি কখনও কখনও ISD রেট হিসাবে গণ্য হচ্ছিল
- যাঃ আমার ষাট টাকা ব্যালান্স কেটে গেল। এক মিনিটও কথা বলিনি
তন্ময় বলল। ওর বাড়ি থেকে একটা ফোন এসেছিল সেই সময় আর ওই ফোন কলেই ওর এই দুর্দশা
তন্ময় তন্ময় সাহা। শত আর তন্ময়ের হাইট প্রায় একই রকম উনিশ বিশ হবে বোধহয় ওই 5'8" মত। গড়ন মোটামুটি না রোগা না মোটা তবে ট্রেকিং এর অভিজ্ঞতা রয়েছে বেশ ভালরকম আদি কৈলাশের মতো দুর্গম পথ অতিক্রম করেছে অনায়াসেই।
মানেভন্জং আসার সময়ে সেবক রোডে এবং একবার মিরিকে GOLPAHAR TEA ESTATE আমাদের গাড়ি দাড়াল। উদ্দেশ্য সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে ক্যামেরা বন্দি করা। সে উদ্দেশ্য যে সফল তা বলাই বাহুল্য কারণ হিসাবে বলতে হয় ফেসবুকে বন্ধুদের লাইকের বন্যা বইয়ে দেওয়া যাইহোক গাড়ি যতই মানেভন্জং এর কাছাকাছি যাচ্ছিল ঠাণ্ডার প্রকোপ ততই বাড়ছিল
-প্রেম ভাই গায়ে সোয়েটার টা চাপিয়ে নাও। সঞ্জীব বলল।
সঞ্জীব সাহা। এরও বেশ ছিপছিপে গড়ন।হাইট 5'9" মতন। ছেলেটির একটি বিশেষ গুণ হল ওর কাছে প্রায় যাবতীয় জিনিস যা কিনা এই ধরনের জার্নিতে প্রয়োজন হতে পারে তার প্রায় সবকিছুই থাকা এবং সদা সতর্ক কখন, কার, কি প্রয়োজন বা দরকার সেদিকে দৃষ্টি এবং যথাসম্ভব তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাকে তো অনেক বার COCA-30 এবং SPONGIA-30 দিয়ে হেল্প করেছে এই দুটো কি? হোমিওপ্যাথি ওষুধ। ঠাণ্ডা লাগার জন্য SPONGIA আর পাহাড়ে উঠে শ্বাস প্রশ্বাসের অসুবিধা হলে COCA-30 ভীষণ POWERFUL. একেবারে মোক্ষম দাওয়াই
-এই প্রেমাংশু ওই দিকটা ঘুরে দাড়া। হ্যাঁ হ্যাঁ পাহাড়ের দিকটা পিঠ দিয়ে আর আকাশের দিকটা মুখ করে হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে সর্বাশীষ বলল। ওর ফোটোগ্রাফির শখ।ভালো ছবি তোলে।আমাদের এই পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে সর্বাশীষ এবং তন্ময় দুজনেই খুব ভালো ছবি তোলে। সিকিম টুরে সর্বাশীষের তোলা ছবি গুলো আজও আমার মনে দাগ কেটে রেখেছে আমাদের এই টুরেও সর্বাশীষ এবং তন্ময় দুজনেই খুব ভালো ছবি তুলেছে। ভবিষ্যতে এটা প্রমাণিত হবে যে স্মৃতি বড়ই মধুর হ্যাঁ কথায় কথায় ভুলেই গিয়েছিলাম সর্বাশীষের পরিচয়টা এই বেলা দিয়ে রাখি।
সর্বাশীষ দে। হাইট 5'10" হবে শারীরিক গড়ন একটু ভারী। তবে লম্বা হওয়ার দরুন ট্রেকিং টা মন্দ করেনি
আর সবার শেষে আমি। আপনাদের কাছে নিজের আর কি পরিচয় দেব বলুন তবুও পরিচয় পর্ব যখন চলছেই তখন বলি।
হাইট 5'4" ওজন 67 কিলো।বয়স 34. চেহারা নাদুসনুদুস ভেতো বাঙালি টাইপ এই ট্রেকিং সবচেয়ে কম পারদর্শী যদি কেউ হয় তো সেটা আমি। THE LAST BENCHER. আমার এক বন্ধু অয়ন তো বলেই ফেলল যে আমাকে নাকি দিন দিন লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর মতো দেখতে হয়ে যাচ্ছে মাথার চুল অনেকটাই হাল্কা হয়ে এসেছে পেটে সামান্য একটু মেদও এসেছে ভাবছি সন্দীপ রায় কে গিয়ে বলব কিনা যে "জটায়ু কি কম পড়িয়াছে? " তবে এই ট্রেকে কিছু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন যে হয়েছি তা জটায়ুর ভাষায় HIGHLY SUSPICIOUS. সেগুলো ধীরে ধীরে আপনাদের কাছে তুলে ধরব হ্যাঁ একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম আমাদের ট্রেকিং গ্রুপের সবার বয়স ওই 34 থেকে 37 এর মধ্যে মন্দ নয় কি বলুন;
চলবে
মিশন সান্দাকফু - দ্বিতীয় পর্ব
মানেভন্জং এর মাস্টার জী, মোমো এবং মাউন্টেন
- ভাইয়া ইয়ে GTA কা হোটেল কিধর মিলেগা?
- পতা নেহি। আগে জাকে দেখিয়ে মিল সকতাহে
মানেভন্জং এসে আমরা হোটেল খোজবার জন্য গাড়ির মধ্যে থেকেই বিভিন্ন পথচারীদের জিজ্ঞাসা করতে থাকলাম আমরা হোটেলের নামটাই ভুলে গিয়েছিলাম ভুল করে GTA অর্থাত্ GORKHALAND TERRITORIAL ADMINISTRATION এর নাম বলছিলাম সেই নামে কোনও হোটেল মানেভন্জং নেই তবে অফিস আছে যেখান থেকে TREKKERS দের PORTER CUM GUIDE নিয়ে, FULL & FINAL PAYMENT করে তারপর যাত্রা শুরু করতে হয়। যাইহোক কিছুটা আগে গিয়ে গাড়ি দাড় করানো হল। আমরা সবাই নামলাম গাড়ি থেকে তারপর ............................
- এই শত হোটেলের কাগজটা তো তোর কাছেই ছিল সেটা কোথায়?
- ওটা আমার কাছে কোথায়, ওটা তো সর্বার কাছেই আছে
- ভাইয়া ইয়ে মাস্টার জী কা হোটেল কৌনসা হ্যায়?
- হামলোগোকো ওহি জানা হ্যায়
- ইয়ে হি তো হ্যায় মাস্টার জী কা ঘর। হোটেল EXOTICA.
- হ্যাঁ রে শত পেয়েছি আমার ব্যাগেই ছিল হোটেল EXOTICA স্লিপ টা।
- দেখেছিস তোরা, সর্বাটা এতক্ষণ আমার উপর চেঁচাচ্ছিল
- ওরে ব্যাগ গুলো নামা। এটাই মাস্টার জী কা হোটেল
- বেশ ভালো রকম ঠাণ্ডা লাগছে কিন্তু এখানে তাই না সঞ্জীব?
- হ্যাঁ এই বেলা তিনটে সাড়ে তিনটের সময়ও ভালো কাঁপুনি দিচ্ছে
- কি যে তোরা GTA, GTA করছিলিস। আর দাড়াস না প্রেমাংশু গাড়ির পেমেন্ট পুরোটা ক্লিয়ার করে দিয়ে উপরে আয়।
- হুম্ আসছি
সামনের বেশ খাড়াই সিঁড়িটা দিয়ে আমরা পঞ্চপাণ্ডব একে একে উপরের দিকে উঠে এলাম। আসলে এটা নামেই হোটেল এর থেকে খুব সাধারণ HOME STAY বা নিদেনপক্ষে নিজেদের বাড়িও অনেক ভাল হয় দেখতে কি আর করা যাবে শুধু মাত্র একটা রাতের ব্যাপার পরের দিন (19/12/16) সকাল থেকে তো আমাদের ট্রেকিং শুরু হবে ওপরে উঠে আসবার পর পুরো জায়গাটা আমাদের ভীষণ অন্ধকার অন্ধকার লাগল। পুরনো বাড়ির একটা স্যাঁতসেঁতে ভাবও আছে পাহাড়ের গায়ে লাগোয়া বাড়ির ধরন গুলো একটু অন্যরকম হয়। খাঁড়াই সিঁড়ি ভারি ভারি ব্যাগগুলি পিঠে বয়ে উঠতে উঠতে হাঁপ ধরে এল। মনে মনে ভাবলাম এখনই এই অবস্থা। সামনের দিন গুলোয় কি হবে?
- ইয়ে মাস্টার জী কা হোটেল হ্যায় না?
- হা হা মাস্টার জী কা হি হ্যায় ম্যায় হু মাস্টার জী বলিয়ে।
- জি হমলোগ কোলকাত্তাসে আয়ে হ্যায় ইয়ে লিজিয়ে ওহ বিল কা কপি।
- হা হা ঠিক হ্যায় আইয়ে আইয়ে। ইহাপে থোড়া রুকিয়ে। ম্যায় এক মিনিট আতা হু।
এই বলে মাস্টার জী একদম উপরের ঘরটাতে চলে গেলেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাতে চাবি নিয়ে ফিরে এলেন
- ইয়ে লিজিয়ে চাবি উসকে বাজু বালা রুমমে চলে জাইয়ে।
- মাস্টার জী থোড়াসা গরম জল মিলেগা?
- আরে দাদা, বাংলাতেই বলুন না তিরিশ বছর ধরে বাঙালি বউয়ের সাথেই ঘর করছি আমি। জল গরম করে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
- মাস্টার জী এখন লাঞ্চে কি পাব?
- এখন আর কি পাবেন? এখন কি আর লাঞ্চ টাইম আছে? এখন তো আমি রাতের রান্না বসাবো। সাড়ে সাতটার মধ্যে ডিনার খেয়ে নিতে হবে কিন্তু
- অ্যাঁ
- অ্যাঁ নয় হ্যাঁ এখানে আমরা সবাই রাত আটটার মধ্যে শুয়ে পড়ি। রাতে আন্ডাকারী, সবজি ভাত,ডাল করে দেব খন।ঠিক তো?
- কিন্তু এখন যে খিদেয় পেট চো চো করছে।
- এক কাজ কর না তোমরা ওই নীচে রাস্তায় নেমে যাও। দুটো দোকান পর পাশের দোকানটায় সুপ, চাউমিন আর মোমো পাবে।খেয়ে দেখো। ভালো লাগবে। এই বেলা চালিয়ে নাও রাতে ভালো করে খাওয়াবো খন আন্ডাকারী এই বুদ্ধ তোমাদের দোকানটায় নিয়ে যাচ্ছে
মাস্টার জীর পাশে একটি ফর্সা, ছিপছিপে মাঝারি হাইটের ছেলে দাঁড়িয়েছিল ওর নাম বুদ্ধ মাস্টার জী বললেন
- ওর সাথে চলে যাও তোমরা, খেয়ে এসো। কাল তোমাদের সাথে যাবে। PORTER CUM GUIDE তোমাদের চাই তো?
- হ্যাঁ তা তো লাগবেই
- ঠিক আছে যাবে আমার লোক কোনও অসুবিধা হবে না
- যা যা বুদ্ধ, নিয়ে যা এদের
আমরা সবাই নিচে নেমে এলাম। বুদ্ধ আমাদেরকে ওই দোকানটায় নিয়ে এল।আমরা ওকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম per day PORTER CUM GUIDE চার্জ 800 টাকা করে মনে মনে একটা হিসেব করতে থাকলাম পাঁচ জনের পাঁচটা ব্যাগের জন্য মিনিমাম দুটো PORTER কে তো নিতেই হবে কিন্তু দুজন PORTER কি ওরা রাজি হবে?
এই রকম আগু পিছু ভাবতে ভাবতেই আমরা গরম গরম সুপ, চাউমিন আর মোমোর অর্ডার দিলাম যথা সময়ে খাবার এল
- বাঃ বাঃ মুমমমহাহা, আহাহাহা। কি টেস্ট মোমোটার।
- আহাহাহা করছিস কেন? চুপচাপ খেতে পারছিস না?
-ভাবছি ঘাটের মড়া তেলেঙ্গানার চাকরি টা ছেড়ে এই মানেভন্জং একটা মোমোর দোকান খুলব দোকানের নাম দেব "মোমো মুমমহাহা।"
-তুই জানিস কি, এখানে দোকান চালাতে গেলে তোকে এখানকার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে
- না করার কোনও কারণ নেই আমি তো রাজি।তাছাড়া মেয়ের বাপেরা আমার মতো নির্ভেজাল ব্যাচেলর কটা পাবে?
- কেন রে? আমরা কি ভেজাল নাকি?
- সে তো তোরাই জানিস।ভেজাল না নির্ভেজাল তাছাড়া তোরা তো আর এখানে এসে থাকবি না আমি থাকব।পাহাড়ী গান গাইব পাহাড়ী মেয়েদের সাথে নাচব। আহা দারুণ
- আর কি কি করবি?
-ঠাণ্ডার সময় ওর আর মুখ খোলাস না শত। প্রেম ভাই এখন দিবা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে নির্ভেজাল স্বপ্ন
এইরকম হাসি মজা চলতে চলতে আমাদের খাওয়া শেষ হল। তারপর আমরা GTA OFFICE আসলাম সমস্ত নিয়মকানুন জানার পর আমরা দুজন PORTER CUM GUIDE নেব ঠিক করলাম। যদিও আমাদের মিশন ছিল সান্দাকফু ট্রেকিং করে যাওয়া, কিন্তু আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর শতদল জানা সেটিকে আরও এগিয়ে নিলেন SINGALILA RANGE টাকে উনি পুরো কভার করে আসতে চাইলেন তাই প্রাথমিক শর্তে ঠিক হল আমরা ফালুট পর্যন্ত যাব
মানেভন্জং থেকে ফালুট পর্যন্ত দূরত্ব হল 52 কিমি যেটা কিনা চড়াই, উতরাই মাঝে মাঝে সমতল পথ।সেখান থেকে আমাদের ট্রেকিং করে আসতে হবে SRIKHOLA যেটা কিনা নিচের দিকে অর্থাত্ উতরাই পথ প্রায় 30কিমি অর্থাত্ আমাদের মোট 82কিমি (প্রায় ) পথ ট্রেকিং করতে হবে 5/6 দিনে বিস্তারিত ভাবে একটি নমুনা দিলাম নিচে
প্রথম দিন - মানেভন্জং থেকে টোংলু - 11কিমি
দ্বিতীয় দিন - টোংলু থেকে কালীপোখারি - 13কিমি
তৃতীয় দিন - কালীপোখারি থেকে সান্দাকফু - 7কিমি চড়াই পথ।
চতুর্থ দিন - সান্দাকফু থেকে ফালুট - 21কিমি
পঞ্চম ষষ্ঠ দিন - ফালুট থেকে শ্রীখোলা - 30কিমি যা কিনা অনেকেই শেষ করতে পারেন না
GTA OFFICE আমরা FULL & FINAL PAYMENT করে দিয়ে পরের দিন অর্থাত্ 19/12/16 তারিখে দুজন PORTER কে আসতে বলে হোটেলে ফিরে আসলাম
.............চলবে ........................

মিশন সান্দাকফু - তৃতীয় পর্ব
যাত্রা শুরু - মহাপ্রস্থানের পথে
রাতে মাস্টার জীর হাতে রান্না করা গরম ভাত, ডাল, আন্ডাকারী সাথে কাঁচা পেঁয়াজ লঙ্কা একসঙ্গে খেলাম। দারুণ উপভোগ্য। কনকনে ঠান্ডায় ( প্রায় 3/4 ডিগ্রি ) গরম ভাতের ধোঁয়া একটা দারুণ ব্যাপার সামান্য লাইটের আলোয় আবছায়া অন্ধকারে পাঁচমূর্তি গরম গরম খাবার আহার করছি।বাইরে তাকালে ঘুটঘুটে অন্ধকার খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা পাঁচজনে পাঁচটি বিছানা দখল করলাম লেপের সুন্দর প্রলেপ দিয়ে পুরো শরীরটাকে আঁটোসাটো করে রাখলাম সর্বা এবং সঞ্জীব ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে SLEEPING BAG এর মধ্যে ঢুকে পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবার পর তন্ময় লেপের ভেতর থেকে ঢুশ ঢাশ শব্দে গ্যাস নির্গমন করতে থাকল। যার ফলে আমি ওর নামটাই দিয়ে দিলাম গ্যাস কাকু
ভোরবেলা আমার যখন ঘুম ভাঙল তখন 5টা বাজে। এমনিতে আমার রোজ ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা অভ্যাস টয়লেটে গেলাম হাতে জল লাগতেই প্রচন্ড ঠাণ্ডা অনুভব করলাম দুহাতে আর সারবস্তু নেই। একদম অসাড় জল লাগা অংশতে সপর্শ করলে টের পাচ্ছিলাম না সেই অংশ টা। হাতের আঙুলের হাড়ে সংগে সংগে ব্যথা অনুভব করলাম রুমে এসে সঙ্গে সঙ্গে হাত দস্তানা বার করে পড়ে ফেললাম তারপর আবার লেপের প্রলেপ দিলাম গায়ে
- কিরে তোর পটি হল? - শতদল জিজ্ঞাসা করল।
-
হ্যাঁ হল তবে ঠান্ডায় পাথর হয়ে গেছে একদম চিরে বের হল।
-
আরে আমার তো ঠান্ডায় চাপই আসছে না
-
আমারও একই অবস্থা - পাশ থেকে সঞ্জীব বলল।
-
গ্যাসকাকুর কি অবস্থা?
গ্যাস কাকু মানে তন্ময় তখনও ঘুমে তন্ময়াচ্ছন্ন হয়েই ছিলেন আমাদের ডাকাডাকিতে ধীরে ধীরে উঠে বসলেন
-
কিরে তাড়াতাড়ি ওঠ রেডি হতে হবে তো?
এরপর ধীরে ধীরে এক এক করে আমরা সবাই উঠলাম প্রাতঃকৃত্যাদি সেরে মোটামুটি সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে রেডি হয়ে গেলাম আমরা পাঁচ জনে নিজেদের ব্যাগগুলোকে এমনভাবে ভর্তি করেছিলাম যাতে এক একটি ব্যাগের ওজন 7 থেকে 8 কেজির বেশি না হয়। কারণ এক একজন পোর্টার 15 কেজির বেশি ওয়েট কখনওই বইতে চায় না। দুজন পোর্টার বুদ্ধ এবং যোগেন দুখানা করে ব্যাগ (7+8)=15 কেজি করে ওয়েট বইবে। সেই হিসাবেই আমরা আমাদের ব্যাগগুলোকে ভর্তি করেছিলাম শুধুমাত্র তন্ময় নিজে ওর নিজের ব্যাগটা ক্যারি করেছিল অধিক জিনিসপত্র মানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন জ্যাকেট, টুপি, গ্লাভস, মাফলার, ওষুধপত্র, জল, টুকটাক খাবার দাবার ইত্যাদি আমরা আমাদের হাল্কা ব্যাগগুলোতে ভরে নিয়েছিলাম ট্রেকিং করতে গেলে পিঠে হাল্কা ওয়েট ক্যারি করা বাঞ্ছনীয় এতে চড়াই রাস্তায় ব্যালান্স টা ভালো পাওয়া যায় আমরা সেটাই করেছিলাম
সকাল 9 টার পর হাল্কা কিছু BREAKFAST খেয়ে GTA OFFICE থেকে PASS COLLECT করে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। দিনটা ছিল সোমবার 19 শে ডিসেম্বর 2016 আমাদের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হল।মানেভন্জং থেকে প্রথম 2 কিমি চিত্রে পর্যন্ত পথটা বেশ চড়াই যদিও রাস্তাটা ভাল। প্লেন পিচের রাস্তা এই রাস্তা দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করলাম
আমাদের আর এক পোর্টার যোগেন আমাকে বলল যে আমি আমার মাথার টুপি যেন খুলে চলি। এতে প্রথমে হয়ত একটু ঠাণ্ডা লাগবে কিন্তু ওপরে উঠতে থাকলে অক্সিজেনের যে অভাব ঘটে বা তারতম্য লক্ষ করা যায় তাতে খুব একটা অসুবিধা হবে না খুব শক্ত করে মাফলার বাঁধা থাকলে বা আঁটোসাটো টুপি সবসময় পড়া থাকলে শ্বাস প্রশ্বাসে অসুবিধার সম্ভাবনা থাকে আমি সেইমতো মাথার টুপি খুলে ফেললাম হাতে SLEEPING BAG নিয়ে চলতে শুরু করলাম
কিছুক্ষণ হাঁটার পর আমরা তিনজন মানে আমি , সর্বাশীষ শতদল একটা করে লাঠির অভাব অনুভব করলাম আমাদের পাঁচ জনের মধ্যে তন্ময় সঞ্জীব ট্রেকিং স্টিক নিয়ে এসেছিল বাকি তিনজনের সেটা না থাকায় আমরা তখন বাঁশঝাড় থেকে একটা কচি সরু বাঁশ জোগাড় করে সেটাকে মোটামুটি একটা সমান সাইজমতো তিন টুকরো করে তিনজনে নিয়ে নিলাম আমাদের ট্রেকিং করার সময় আমাদের সাথেই আর একটা তিনচারজনের লোকাল মহিলা ট্রেকিং দল যাচ্ছিল ওরাই এই বাঁশের লাঠির বন্দোবস্ত করেছিল ওদের সাহায্যার্থেই আমরা উপকৃত হয়েছিলাম
কথায় আছে পেছনে আছলা বাঁশ কিন্তু আমরা কিছুক্ষণ হাঁটার পর অনুভব করেছিলাম যে এই আছলা বাঁশ না থাকলেই বরং আমাদের পেছন এমনি এমনি ফেটে যেত। আমাদের এই যাত্রা শুরুর ঠিক পরে পরেই একটি পাহাড়ী সারমেয়(কুকুর ) , বেশ মোটাসোটা আমাদের সঙ্গ নিল। আমরাও হাঁটছি সেও আমাদের সাথে সাথে হাঁটছে কখনও দৌড়াচ্ছে। হঠাত্ করে আমার মনে হল যেন আমরা পাঁচজনে অর্থাত্ পঞ্চপাণ্ডব মহাপ্রস্থানের পথে বেরিয়েছি। মহাভারতে আছে না পঞ্চপাণ্ডবের সাথে এক সারমেয়র যাত্রা মহাভারতের সেই সারমেয়টির নাম আমি ভুলে গিয়েছি। আমি ওর নাম রেখেছিলাম লাইকা লাইকা নামে একটি সারমেয়কে প্রথম পৃথিবীর বাইরে অর্থাত্ মহাবিশ্বে মহাকাশ যানে করে পাঠানো হয়েছিল আমি সেই মুহূর্তে ভাবতে থাকলাম আমাদের এই আদরের লাইকাকে সান্দাকফুর শৃঙ্গ দেখাতেই হবে
তারপর কি হল....................জানাব চতুর্থ পর্বে।................















Top of Form
Bottom of Form



Comments

  1. Vai osob kaj taj a besi manojog na diye kalam tai pakapaki kore ne,lekhak sulav sob kichui to tor moddhe dekhi.valo,bes valo.chaliye jao boss.

    ReplyDelete
  2. অশেষ ধন্যবাদ ভাই। নিয়মিত ফলো করবার অনুরোধ করলাম। মাঝে মধ্যে একটু নেড়ে চেড়ে দেখা আরকি।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ভাইজ্যাগ ২০৪০

ভাইজ্যাগ ২০৪০ অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের নিজস্ব রিসর্টের দোতলার বিশাল বারান্দা থেকে রুশিকোনডা বিচটাকে খুব সুন্দর লাগে দেখতে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সমুদ্রের স্রোত ও বৃষ্টির মনোরম দৃশ্যকে প্রাণভরে উপভোগ করছেন আটান্ন বছরের প্রৌঢ় অংশুমান রায়। কিন্তু বারেই বারেই যেন মনে হচ্ছে এই ২০৪০ সালের ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান ২০১৮ সালের ভাইজ্যাগের থেকে। আজ থেকে দীর্ঘ ২২ বছর আগে কোন এক শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষায় যুবক অংশুমান ভাইজ্যাগে এসেছিল। সাথে ছিল ওর স্ত্রী কঙ্কণা। সদ্যবিবাহিত দম্পতি। শরীরে ও মনে ভরা যৌবন। সামনে থেকে দ্যাখা উদ্দাম সমুদ্রের মতই তখন ওদের মনের গতিবেগ। সর্বদা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু আজ অংশুমান এসেছেন রোজকার সেই একঘেয়ে জীবন থেকে একটু মুক্তির খোঁজে। সঙ্গে স্ত্রী কঙ্কণাও আছেন। সমুদ্রের উদ্দামতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু এই প্রৌঢ় দম্পতির জীবনে সেই আবেগ, সেই উচ্ছ্বাস আর আগের মত নেই। একটু শান্তির খোঁজে, একটু নিরালায়, একটু বিশ্রামের অভিপ্রায় নিয়েই এখানে আসা। দোতলার এই বিশাল বারান্দায় মাঝখানে রাখা একটা মাঝারি সাইজের টি টেবিল। টেবিলের দুপাশে রাখা দুটো বেশ বড় আরাম কেদারা। আরাম কেদ...

ভগবান ও শয়তানের লড়াই

ভগবান ও শয়তানের লড়াই ভগবানঃ- পৃথিবীটাকে কেন ধীরে ধীরে শেষ করে দিতে চাইছিস? আর কত! থামা এবার! প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রকৃতির উপর নিজের প্রতিশোধস্পৃহা ব্যক্ত করছিস ক্রমাগত। ওরে শয়তান কবে শেষ হবে তোর এই লীলা খেলা? শয়তানঃ- তুই শালা নিজেকে কি ভাবিস বে? শালা উদগান্ডু। অনেক ক্ষমতাবান না তুই! আর আমি পৃথিবীটাকে শেষ করে দিতে চাইছি? ঠিক আছে, তাহলে তাই। বেশ করেছি। এই পৃথিবী, এই জগৎ, এই মহাজাগতিক সব কিছুকে সৃষ্টি করতে কে বলেছিল? জানিস না যেই মুহূর্তে সৃষ্টির জন্ম সেই মুহূর্ত থেকেই ধ্বংসের দিন, ক্ষণ সব শুরু হয়ে যায়। আর এই কাজটি করি আমি। করছি এবং করতেই থাকব। তোর যখন এত ক্ষমতা, মানুষ যখন তোকে এত পুজো করে, তখন আটকে দেখা দেখি। কিভাবে পারিস দেখি ধ্বংসকে রুখতে। ভগবানঃ- ভুল বলছিস। সৃষ্টি অর্থাৎ জন্ম এবং মৃত্যু, দুটোই আমার নিয়ন্ত্রণে। একটা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টির কাজ করে থাকি আমি। আমার কাজ মানুষকে চিন্তা, ভাবনা ও যুক্তির মাধ্যমে সঠিক কাজে প্রয়োগ করা। আমি চাই না যে মানুষ আমাকে অন্ধ বিশ্বাসের মতো পুজো করুক। আমি চাই সঠিক আলো, সঠিক পথ অবলম্বন করে এক মানুষ অপর মানুষকে সাহায্য করুক, দুস্থদের...

আমার জীবনে তিন নারী

আমার জীবনে তিন নারী যে কোনও পুরুষের জীবনেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর শুধু পুরুষ কেন একজন নারীর জীবনেও নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। না এক্ষেত্রে অন্যরকম করে ভাবার কিছু নেই। আমার জীবনের গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে যে তিনজন নারীর ভূমিকা রয়েছে আমি আজ সেটাই আলোচনা করতে যাচ্ছি। যে কোনও মানুষের জীবন শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে নারী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিভাবে? যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের মায়ের কথা ভাবি তাহলে বুঝব যে মাতৃশক্তি কিরকম ভাবে আমাদের ছোটবেলাগুলোকে ঘিরে রাখত। একজন বাচ্চার জন্মের আগে থেকে সেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার যে সময়কাল সেটাতে একজন নারী বা বলাউচিত একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করা থেকে শুরু করে তাকে পরম মমতায় লালন পালন করা, তার প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা, তার বেড়ে ওঠাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এগুলোর মাধ্যমে নারীশক্তির পরিচয় আমরা পেয়ে থাকি। সেই জন্য বলা যেতেই পারে “কোন একজন মানুষের বেড়ে ওঠাতে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য”। পৃথিবীতে নারীর ভুমিকাই প্রধান। এছাড়া আমরা তো এও জানি যে আমাদের ধরিত্রী বা বসুমতীকে একজন নারী বা একজন মা ...

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব

তিরুপতিতে তিনজন – দ্বিতীয় পর্ব -        দেবু বাবু শুনছেন! দেবু আচমকা পিছন ঘুরে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল। ও এ তো ওর অফিসের একজন সাপ্লায়ার। বাঙালি। দেবুর হটাৎ করে মনে হয়েছিল ট্রেনে যাওয়া সেই লোকটির কথা। না এ লোকটি সেই লোক নয়। ইনি রায়বাবু। উনিও তিরুপতি ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। দেবু ওনার বিল পেমেন্ট করে থাকে বলে রায়বাবু দেবুকে বেশ খাতির যত্ন করে। এখানেও তাই রায়বাবুকে দেবুর প্রতি বেশ একটু যত্নশীল মনে হল। যদিও দেবু ওদের সাথে সময় নষ্ট না করে সামান্য কথাবার্তা শেষ করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চকু দা এবং পালবাবু দুজনেই বেশ তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলেন। দেবু পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে ওর চোখ দুটো সেই ট্রেনের লোকটিকে খুঁজতে লাগল। চকু দা পিছন থেকে তাড়া দিতে থাকছে বারবার। জিজ্ঞাসা করাতে বলল, কে এক ভদ্রলোক নাকি ওদের সেই লজের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছে যেখানে গেলে মন্দির দর্শনের স্পেশাল টিকিট ও লজে থাকার ফ্রি টিকিট ওদের তিনজনকে দেওয়া হবে। দেবু এই ব্যাপারটা ঠিকমত জানত না। তাই ও চকু দা’কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল। চকু দা বলল মিস্টার সুব্রমনিয়াম বলে একজন আছেন য...

মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব

MISSION SANDAKFU - 5TH EDITION মিশন সান্দাকফু - পঞ্চম পর্ব টোংলুর পথে ওপরে উঠতে উঠতে আরও দুটো পাহাড়ী বাঁকের পথ শেষ করলাম । সামনেই বাঁ দিকের ধারটাতে একটু সমান জায়গা রয়েছে । ঘাসের জমি । এই দশ ফুট বাই বারো ফুট জায়গার জমি হবে । সেখানেই দেখলাম বুদ্ধ এবং যোগেন কে। ওরা দুজন আমাদের বড়ো বড়ো চারখানা রুকস্যাক ব্যাগের ওপর মাথা রেখে অর্ধশায়িত হয়ে আছে । আর ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । সর্বাশীষ জিজ্ঞাসা করল - তুমলোগ কিতনা টাইম সে ইহা বেয়ঠে হো? - দশ মিনিট হুয়া হ্যায় । আপ লোগ আগে যাতে রহিয়ে। হমলোগ তুরন্ত পহুচ জায়েঙ্গে। - বুদ্ধ বলল। - ভাইয়া রাস্তে মে কোয়ি চায়ে বায়ে কা ইন্তেজাম হো সকতা হ্যায়? - শতদল জিজ্ঞাসা করল। - জরুর হো সকতা হ্যায় । চলিয়ে না । আচ্ছা চায়ে পিলায়েঙ্গে আজ। - যোগেন বলল। ও আরও বলল - দাদা ইয়ে ব্যাগসে অগর কুছ সামান আপলোগ লে লেতে তো আচ্ছা হোতা । ওহ্ ক্যায়া হ্যায় না, দো দো ব্যাগ বহুত জাদা ভারি হো গয়া। চলনে মে দিক্কত হো রহা হ্যায় । - তুমলোগ চলতে রহো । কুছ টাইম বাদ খানে কা যো সামান হ্যায় না ওহ্ হম লে লেঙ্গে । - আমি বললাম । এই বলে আমরা আবার চলতে শুরু কর...

প্রেমের কিছু কথা ও গান

প্রেমের কিছু কথা ও গান আজ হঠাৎ করেই যেন তোমাকে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে। তুমি একটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছ। বাইরে থেকে আলো এসে তোমার মুখেতে পড়েছে। দুলছে হাওয়ায় তোমার খোলা চুল। আমার ঘর আলো করে দাড়িয়ে রয়েছ তুমি। হাল্কা করে ঘাড় ঘুরিয়ে তুমি দেখছিলে আমাকে। তোমার সেই প্রাণভোলানো, মনজুড়ানো, সারল্যমাখা হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। যা আজও দিচ্ছে। অনেকসময়েই। মনে হচ্ছিল এক ছুটে চলে যাই তোমার কাছে। কিন্তু কেমন করে যাই। আমি যে অথর্ব। এক জড়ভরত। দেখলাম সারা ঘরময় তুমি হেঁটে বেড়াচ্ছ। শিশুর মতো খেলে বেড়াচ্ছ। কি এক অপার্থিব সুখ যেন আমার শরীরে অনুভূত হচ্ছে তোমাকে দেখতে পেয়ে। “হামেশা তুমকো চাহা, অউর চাহা, চাহা, চাহাআআআ...............” গুনগুণ করে গাইতেই থাকছি দেবদাস সিনেমার এই গানটি। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। দেখছি আরশির মধ্যে দিয়ে তুমি আমার দিকে মিটিমিটি হাসছ। সেই তোমার মুক্ত ঝরানো হাসি। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর দিচ্ছ তুমি। জানি তা আমারই উদ্দেশ্যে। খুবই ইচ্ছে করছিল জানো তোমার পরশ পেতে। কিন্তু যখনই আরশির কাছে গেলাম ও হাতটা বাড়ালাম, তুমি কেমন যেন ধোঁয়া হয়ে উবে গেলে।...

মরীচিকা

মরীচিকা উফফ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন গার্গী। রোজ সকাল বেলা এই সময়টায় খুব তাড়াহুড়ো পড়ে যায় ওর। সকাল সাড়ে আটটার পর একটু রিলিফ পায় যেন। ছ’টার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ টাশ করবার পর ঘর ঝাড়া, মোছা করে পূর্বায়ণের জন্য সকাল বেলার ব্রেকফাস্ট ও অফিসের লাঞ্চ বানিয়ে তবেই ওর মুক্তি। গার্গীর স্বামী পূর্বায়ণ একটি মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে পোস্টেড। পূর্বায়ণ ঘড়ি ধরে, সময় মেনে কাজ করতে পছন্দ করে। সময়ের একটু নড় চড় হলেই দুম করে মাথাগরম, চেঁচামেচি চলতে থাকে ওর। আজ আট মাস হল গার্গীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে জীবন সম্পর্কে ওর যে ধারণা ছিল, বিয়ের পর থেকে সেই ধারণাটা যেন বদলাতে শুরু করেছে। পূর্বায়ণ যে ওকে খুব কষ্টে রেখেছে এমনটা মোটেও নয়। বরং পূর্বায়ণের মতে বেশ ভালোই রেখেছে ও গার্গীকে। কিন্তু গার্গীর মধ্যে কেমন যেন একটা শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে দিন কে দিন। বিয়ে হওয়ার পর পরই পূর্বায়ণ গার্গীকে নিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে অফিসের ফ্ল্যাটে। দুজনের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কিন্তু তবুও গার্গীর যেন মন পুরোপুরি ভরে না। দুজনের সংসার বলে পূর্বায়ণ কোনও কাজের লোক রাখেনি। গার্গীও চায় না। ...

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ

হায়দ্রাবাদের হাওয়াই জাহাজ হায়দ্রাবাদের  MGBS STOPPAGE পৌঁছানোর পর প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করলাম নেক্সট বাসের জন্য যেটা কিনা  হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট পৌছবে। তার মধ্যে নয় নয় করে প্রায় 10/12 বার অটোয়ালারা আমার সাথে দরদাম করে গেছে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ বলে 200 তো কেউ 150 তো কেউ আবার 300 ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখার্জি দা , চক্রবর্তী দা বলেই রেখেছিলেন যে ভুল করে কক্ষনো অটোতে চাপতে যাবে না। তোমার ফ্লাইট যখন সকাল আটটার পর তখন তুমি ভোর চারটে থেকে ছটা পর্যন্ত MGBS এ অপেক্ষা করবে পরের বাসের জন্য। বাস এসে পড়লে তাতে উঠে পড়বে। ভাড়া হয়তো নেবে পঁচিশ থেকে তিরিশ টাকা কিংবা বড়জোর চল্লিশ টাকা। তাছাড়া অটোর থেকে অনেকগুণ আগেই গন্তব্যে পৌছে যাবে। আমিও তাই করলুম। বাস আসলো পাঁচটা দশ নাগাদ ভোরবেলায়। ভোরবেলার সদ্য প্রস্ফুটিত আলোয়  হায়দ্রাবাদ  শহরটিকে দেখতে দেখতে , খানিক ঢুলু ঢুলু চাহনিতে , ঝিমোতে ঝিমোতে পৌছে গেলাম হায়দ্রাবাদ  এয়ারপোর্ট সকাল ছটা পনেরো নাগাদ। মুখার্জি দা বলেছিলেন :- - এয়ারপোর্ট গিয়ে দেখবে লোকাল কিছু বাস দাড়িয়ে আছে। সেগুলো তোমাকে ড...

মুঠো ফোন

মুঠো ফোন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি । তার পাশে কমন স্পেস দিয়ে ঘরে যাওয়ার রাস্তা । দোতলায় উঠে সিঁড়ির ঠিক দ্বিতীয় কি তৃতীয় ধাপে বসে থাকে ও। মানে অসীম , আমাদের অসীম কুমার । হাতে একখানা স্মার্ট ফোন সঙ্গে একটা হেডফোন , কানে গোঁজা ।রোজ রাত দশটার পর থেকে চলে গল্প কথন , মন দেওয়া নেওয়ার খেলা , হাসি , ঠাট্টা , মুখ ভেংচানো , দূরভাষ যন্ত্রে একে অপরের চলচ্ছবি দেখা । স্মার্ট ফোনের দৌলতে এখন তো শুধু শোনা নয় বরং একে অপরকে বেশ ভালভাবেই কাছে পান প্রেমিক যুগল বা আত্মীয় স্বজন , বন্ধু বান্ধব , বাবা মা ইত্যাদি ইত্যাদি । একতলার সিঁড়ি থেকে দোতলায় আসবার সময় কোন একজনের পদচারণার শব্দ । রমিত চাটুজ্জের প্রবেশ ।দোতলায় অসীম কুমারের সামনে আসে রমিত ।ওকে জিজ্ঞাসা করে .........."বলি হ্যাঁরে হতভাগা , আর কত কষ্ট দিবি ক তো ওই যন্তরটারে ? " " রমিত দা আবার এসে শুরু করলে ? খাওয়া হয়ে গেছে যখন , যাওনা গিয়ে শুয়ে পর এবার।" - অসীম বলল। রমিত - " হ্যাঁরে পোড়ারমুখো আমারে দেইখ্যা জ্বলন তো হইবই। অহন তুই চাইনার মাইয়াটার লগে প্রেম করতাছস্ , আমি হইলাম গিয়া কাবাব মে হাড্ডি , জ্বলন তো হইবই।...